Eid ul Adha কত দাম দিয়ে গরু কিনা যুক্তিসংগত হবে।







কত টাকা দিয়ে গরু কিনা যুক্তিসংগত
কুরবানী
মুলত এসেছে হযরত ইবরাহিম (আঃ) থেকে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহিম (আঃ) কে স্বপ্নে
নির্দেশ দিলেন প্রিয় বস্তু আল্লাহকে খুশী করার জন্য কুরবানী দিতে, তিনি ১ম দিন
১০০টি উট কুরবানী দিলেন কিন্তু সে রাতে একই স্বপ্ন পুনরায় দেখলেন এবারও তিনি ১০০টি
উট কুরবানী দিলেন, আবার ৩য় বারের মত স্বপ্ন দেখলেন হে ইবরাহিম তুমি তোমার প্রভুর
খুশীর জন্য তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী কর। এটা ছিল মুলত
হযরত ইবরাহিমের প্রতি আল্লাহর তায়ালা এক কঠিন পরীক্ষা, হযরত ইবরাহিম বুঝতে পারলেন
আল্লাহ তায়ালা প্রাণের চেয়ে প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে কোরবানীর করার ইশারা করছেন,
সে সুবাধে হযরত ইবরাহিম (আঃ) চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আল্লাহর জন্য নিজের প্রানাধিক
প্রিয় সন্তান ইসমাইলের গলায় ছুরি চালিয়ে দিলেন, আর আল্লাহ কর্তৃক নেয়া কঠিন
পরীক্ষায় পাশ করে ফেললেন, আর আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল মারফত ইসমাইলকে ইবরাহিমের
ছুরির নিচ থেকে উদ্ধার করে সেখানে একটি জান্নাতী দুম্বা ঢুকিয়ে দিলেন। এই হল
কুরবানীর উৎপত্তি, এতে আছে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার সর্বশ্রেষ্ট ত্যাগ। এখন আপনি
যদি ধনী হন তাহলে আপনার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব এখন আপনি যদি সে ওয়াজিব আদায় করতে
গিয়ে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ছোট ১টি ছাগল জবেহ করেন তাতে আপনার ওয়াজিব তো আদায় হবে
কিন্তু কুরবানীর যে মহান ত্যাগের শিক্ষা তা আপনার এ ছাগল জবেহের মধ্যে নিশ্চিতভাবে
অনুপস্থিত, তাই আপনি যদি ধনাঢ্য ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনি আল্লাহকে খুশী করার
নিয়তে শুধু আল্লাহকে খুশী করার নিয়তে সম্পদের মায়া ত্যাগ করে যতটুকু সামর্থ সে
অনুযায়ী পশু ক্রয় করবেন। কুরবানী করে সে গোস্ত ৩ ভাগ করে ১ ভাগ গরীবদের কাছে
পৌঁছানো সুন্নত। সুতরাং লোক দেখানোর জন্য যদি ৫ লাখ টাকা দিয়ে ১টি বড় সাইজের পশু
কিনেন তাতে ধরুন ১৫ মন গোস্ত পেলেন, সে ৫ লাখ টাকা দিয়ে যদি আপনি ৫টি গরু কিনেন
১টি ৫ মন করে গোস্ত হলে ৫টিতে ২৫ মন গোস্ত হবে এবার ১টি নিজে আর বাকী ৪টি গরীবদের
মাঝে বন্টন করে দিলেন তাতে গরীবরা বেশী উপকৃত হবে। মনে রাখবেন আমাদের প্রিয় নবী
বিদায় হজ্বের সময় নিজে ৬৩টি উট জবেহ করেছিলেন। সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা
উচিত। আপনি কোটি কোটি টাকার মালিক কিন্তু ৫০/৬০ হাজার দিয়ে গরু একটা কিনে দায়সাড়া
ভাবে যে কুরবানী করছেন তা কতটা যুক্তি সংগত? আমি বলছি না আপনার কুরবানী হচ্ছে না
অবশ্যই আপনার ওয়াজিব আদায় হবে কিন্তু কুরবানীতে যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ত্যাগ
ইবরাহিম (আঃ) দেখিয়েছেন সে ধরনের ত্যাগ এর নজির অত্যন্ত খালেছ নিয়তে প্রত্যেক
সামর্থবানদের নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী দেখাতে হবে তবেই হবে আপনার কোরবানীর
স্বার্থকতা।
আল্লাহ
তায়ালা আমাদেরকে ইবরাহিমি জজবা ইসমাঈলী জজবা ও মুহাম্মদী জজবা নিয়ে কুরবানী করার
তৌফিক দান করুন। আমিন

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.