মাত্র ১টি বিশ্বাস আপনার সকল দুঃখ দুর করে দিবে। তকদীরের আলোচনা।







তাকদীর
#তাকদীর কতবছর আগে লিখিত হয়েছে?
আল্লাহ
তায়ালা আসমান ও জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে কলম সৃষ্টি করলেন।(অন্য হাদীসে আছে লৌহ
বা তকতা সৃষ্টি করলেন) এরপর আল্লাহ তায়ালা কলমকে বললেন তুমি লিখ। তখন কলম প্রশ্ন করল
এয়া রব কি লিখব? তখন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করলেন তুমি মাখলুকের তাকদীর লিখে দাও। যা
হয়েছে এবং যা হতে থাকবে সবকিছু লিখে দাও। অতঃপর কলম আল্লাহর হকুমে সবকিছু লিখে দিলেন।
#লৌহে মাহফুজ নামের রহস্য কি?
আর
এ লৌহ তথা তকতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা কখনো পরিবর্তন হবে না। আর যাতে কোন পরিবর্তন
পরিবর্দ্ধন হয়না তাকে মাহফুজ বলে তাই এ তকতাকে বলা হয় লৌহে মাহফুজ।
#তাকদীরে কি কি লিখা হয়েছে
আমাদের
এ আকিদা যে যেহেতু আল্লাহ তায়ালা এ তকতায় সবকিছু লিখে দিয়েছেন তাই এসবই নির্ধারিত।
যেমন কে কখন জন্ম হবে, কখন মৃত্যু বরণ করবে। হায়াত কতদিন পাবে। চেহেরা সুরত কেমন হবে।কার
কার সাথে আত্মিয়তা হবে। কোন বংশে বিয়ে হবে। কোন নারীর সাথে বিয়ে হবে। তালাক হবে কি
হবে না। কতজন সন্তান হবে। মেয়ে কয়জন হবে। ছেলে কয়জন হবে। কে কোন উপায় উপার্জন করবে।
আয় রোজগার কত হবে। সারা জীবনে কতটুকু কামাবে। কতটুকু খাবে।কি কি খাবে। কোন কোন স্থানে
খাবে। কিভাবে মৃত্যু বরণ করবে। কোথায় মৃত্যুবরণ করবে। কোথায় দাফন হবে। কাফন নসিব হবে
কি  হবে না। আল্লাহ তায়ালা এ সবকিছু লিখিয়ে
দিয়েছেন।
এর
সাথে সাথে এটাও লেখা হয়েছে যে কে যেনা করবে, কে চুরি করবে, কে মিথ্যা বলবে, কে ফ্রট
করবে, কে হালাল কামাবে, কে হারাম কামাবে, সবকিছুই লিখে দেয়া হয়েছে। আর এর মধ্যে কোন
পরিবর্তন হবে না।
#তাকদীর নিয়ে যে সব মারাত্মক
প্রশ্নের উদয় হয়।
১।
তাকদীরের বিষয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন মনে উদিত হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হল, যেহেতু
আল্লাহ তায়ালা আসমান ওজমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে তাকদীরে সব লিখে রেখেছেন সে সুবাদে
উদাহারন স্বরুপ যায়েদ চুরি করেছে যা আল্লাহ লিখে রেখেছেন তােই পুরণ হয়েছে তাতে যায়েদ
কেন অপরাধি হবে? দোষি হবে?
২।
তেমনি ভাবে একজন কত টাকা উপার্জন করবে তা তার রিযিকে যে কোন ভাবে আসবেই আর যদি না আসে
তাহলে আল্লাহর লেখা ভুল প্রমাণিত হবে। যদি নির্ধারিত রিযিক ১০০% আসার নিশ্চয়তা থাকে
তাহলে তার কাজকর্ম করার চাকরী বাকরী করার দরকার কি?
এসব
বিষয়ে ইনশা আল্লাহ বিস্তারিত জবাব দেয়া হবে। তার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরী।
#তাকদীরের আকিদা
কি কুরান হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?
কুরান-
আল্লাহ তায়ালা সুরা ক্বামারে এরশাদ করেন
وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ
فِي الزُّبُرِ
তারা যা কিছু করেছে, সবই এক তক্তিতে লিপিবদ্ধ আছে।সুরা ক্বামার ৫৪:৫২ ]
 (ওয়াকুল্লু ছাগিরিন ওয়াকাবিরিন মুসতাতার) প্রত্যেক ছোট বড় বিষয় লিখিয়ে দেয়া
হয়েছে।
সুতরাং
প্রমাণিত হল সকল ছোট বড় বিষয় আল্লাহর এলম এর বাহিরে নাই, যেহেতু বাহিরে নাই তাই আল্লাহ
তায়ালা সবকিছু লিখিয়ে দিয়েছেন।
إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي
الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ
فِي إِمَامٍ مُبِينٍ
আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।সুরা ইয়া-সীন ৩৬:১২ ]
এখানে শায়য়্যিন এর
আগে কুল্লু বলে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে যা কিছুকে শায় বলা যায় সব কিছুই আল্লাহ
লিখিয়ে দিয়েছেন। আমাদের খানা দানা, শোয়া বসা, চলাফেরা, আয় রোজগার, স্ত্রী পুত্র, সন্তান,
হায়াত মউত, এ সবই শায়য়্যিন আর আল্লাহ তায়ালা এ সবকিচুই লিখিয়ে দিয়েছেন।
কুরান
সুরা আনয়াম আয়াত নং ৫৯ আল্লাহ এরশাদ করেন (ওয়ালা রাতাবিন ওয়ালা এয়াবিছিন ইল্লা ফি কিতাবিন
মুবিন) কোন ভিজা ও কোন শুস্ক জিনিষ এমন নাই যা আল্লাহ তায়ালা লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে দেননি।

আয়াতেও বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা সকল ভিজা সকল শুকনা জিনিষের বর্ণনা লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে
দিয়েছেন।
ওয়াকিয়া
-৬০ (নাহনু কাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওত) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য মৃত্যুকে নির্ধারিত
করে দিয়েছি।
অথ্যাৎ
কে কখন মৃত্যু বরণ করবে, কোথায় মৃত্যু বরণ করবে, কত বছরে মৃত্যু বরণ করবে। সব কিছু
আল্লাহ লিখিয়ে দিয়েছেন।
مَا أَصَابَ مِن
مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ
أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।সুরা হাদীদ ৫৭:২২ ]
لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى
مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ
مُخْتَالٍ فَخُورٍ
এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না, [ সুরা হাদীদ ৫৭:২৩ ]
এসব আয়াত দ্বারা বিভিন্নভাবে
তাকদীর লিপিবদ্ধ হওয়ার নির্ধারিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া। আমরা আগামী কাল কি হবে তা বলা
সম্ভব নয়, কিছুক্ষন পর কি হবে সে ব্যপারে আমাদের কারো ধারনা নাই। কিন্তু মহান আল্লাহর
এলমের ব্যপকতা দেখুন আসমান ও জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে যখন কোন প্রাণী সৃষ্টিও
হয়নি তখনই আল্লাহ তায়ালা যা কিছু ঘটবে সব কিছুই লিখিয়ে দিয়েছেন। এটা কতই কঠিন কাজ,
কিন্তু আল্লাহর জন্য তা কোনভাবেই কঠিন নয়।

#তাকদীর কেন লিখে দেয়া হয়েছে?
আল্লাহ
তায়ালা তাকদীর কেন লিখিয়ে দিয়েছেন এর কারন হিসেবে স্বয়ং আল্লাহ বলেন (লি কায়লা তাছাও
আলা মা ফাতাকুম) যাতে যা কিছু তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে যায় ধ্বংস হয়ে যায়, মরে যায়, তাতে
তোমরা নিরাশ হয়ে না যাও।
দেখুন
কোরান হাদীস পড়লে কিভাবে মানসিক প্রশান্তি অর্জন হয়, যদি একজন লোক তাকদীরের উপর ঈমান
রাখে, আর তার যদি অনেক টাকা পয়সা নষ্ট হয়ে যায় সে তাতে কোন ধরনের পেরেশান বা আফসোস
করবে না কারন সে জানে এ ক্ষতিটা তার তকদীরে আগে থেকেই লিপিবদ্ধ ছিল, তাই সে বলবে যেহেতু
আল্লাহ আমার হকে এ ফয়সালা করেছেন সেহেতু আমি নিরাশ না হয়ে আল্লাহর এ ফয়সালায় রাজি থাকলাম।
(ওয়ালা
তাফরাহু বিমা আতাকুম) এবং আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতে সে অহংকারী হবে না, কেননা অনেকে আল্লাহ
পক্ষ থেকে পাওয়া নেয়ামত নিয়ে অহংকার করে বসে, বলতে থাকে দেখ (আই এম গ্রেড) আমার যোগ্যতায়
আমি এমন করেছি। আমার এমন ক্ষমতা ইত্যাদি। কিন্তু যিনি তকদীরে বিশ্বাস করেন তিনি চিন্তা
করবেন আমি সফল হচ্ছি এর পিছনে আমার কামালিয়ত নাই বরং আমার তকদীরে এ সফলতা আল্লাহ তায়ালা
লিখে দিয়েছেন বলেই আমি সফলতা হাছিল করছি।
সুতরাং
যদি মানুষ তাকদীরের উপর ঈমান আনে তাহলে সে কখনো অহংকারে লিপ্ত হবে না। যাদের এ ঈমান
নাই তারাই বলে দেখেছ আমি এমন করেছি তাই এমন হয়েছে, এ কথা বলেছি বলে এমনটি হয়েছে, আমি
দায়িত্ব নেয়ার পর এমন উন্নতি হয়েছে। অথচ তাঁর এ জ্ঞান নাই যে আসমান ও জমিন সৃষ্টির
৫০ হাজার বছর আগেই আল্লাহ তায়ালা এসব উন্নতি এসব সফলতা লিখিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং এতে
আমাদের অহংকারের কিছুই নাই বরং এ সবই আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানী।
(লা
ইউহিব্বু কুল্লা মুখতালিন ফাখুর) নিশ্চয় আল্রাহ তায়ালা কোন অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
সুতরাং
যারা তাকদীরের মাসায়ালা বুঝবে তারা কখনো অহংকার করে আল্লাহর বিরাগভাজন হবে না।
#তাকদীরে বিশ্বাস সব দুঃখ
দুর করে দেয় কিভাবে?
সুরা তাওবা ৫১-  ]
قُل لَّن يُصِيبَنَا
إِلاَّ مَا كَتَبَ اللّهُ لَنَا هُوَ مَوْلاَنَا وَعَلَى اللّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ
الْمُؤْمِنُونَ
আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন; তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।সুরা তাওবা :৫১ ]
এটি অত্যন্ত পেয়ারা
একটি কালাম, যদি আমরা এ পয়েন্টে সামান্য চিন্তা ভাবনা করি তাহলে আমাদের অন্তরে প্রচন্ড
রকমের প্রশান্তি হাছিল হয়। মানুষ যে সামান্য বিপদে ডিপ্রেশনের শিকার হয় যে আগামী কাল
কি হবে? ঘরের মধ্যে জোয়ান মেয়ে তাঁর বিয়ে শাদির কি হবে? মনে রাখবেন তাই হবে যা লৌহে
মাহফুজে আল্লাহ তায়ালা লিখিয়ে দিয়েছেন।
তবে
এখানে একটা কথা সব সময় জেহেনে রাখতে হবে, যা লৌহে মাহফুজে আছে তার উপর ভরসা করে কোন
ধরনের চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকা যাবে না। বিশ্বাস করতে হবে আপনার নসিবে যদি চাকরী
লিপিবদ্ধ থাকে তাহলে চাকরী হবে, আর যদি নসিবে না থাকে তাহলে আল্লাহ তায়ালার ফয়সালার
উপর রাজি থাকতে হবে, এখন চাকরীর জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে যদি হয়ে যায় তা আপনার তকদীরে
ছিল, যদি না হয় তাও আল্লাহর ফয়সালা সুতরাং তখন আর আপনার মনে কোন পেরেশানি আসবে না,
কো ধরনের ডিপ্রেশনের শিকার আপনি হবেন না। বরং আল্লাহ আমার জন্য যা ফয়সালা করেছেন আমি
তাতেই রাজি এমন মানসিকতা যদি থাকে তাহলে আপনার মনে এক অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করতে
থাকবেন। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনি সব ধরনের পেরেশানী থেকে বেঁচে যেতে পারেন। অনেকে
সন্তান হচ্ছে না পেরেশান, অনেকে ছেলে হচ্ছে না মেয়ে হচ্ছে পেরেশান, অনেকে রুজী রোজগার
ভাল হচ্ছে না পেরেশান, অনেকে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসছে না পেরেশান, অনেকে ব্যবসা জমছে
না পেরেশান, এ সব পেরেশানি একটাই চিকিৎসা তা হল তাকদীরের উপর পাক্কা ঈমান। আমাদের কাজ
হল চেষ্টা করে যাওয়া যা হওয়ার তা আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা মোতাবেক হবে, সুতরাং আপনি
যেমনটি চাচ্ছেন তেমনটি যদি হয়ে যায় আলহামদুল্লিাহ, আর যদি তেমনি না হয় তাহলেও আলহামদুলিল্লাহ।

#এক্সিডেন্ট মৃত্যু হঠাৎ
মৃত্যুর পেরেশানী দুর করবে তকদীরের বিশ্বাস
অনেক
সময় মা তাঁর ছেলেকে বাহিরে খেলতে পাঠালেন আর বাচ্চা পানিতে পরে মৃত্যু বরণ করল, তখন
মা সারা জীবন আফসোস করতে থাকে যে হায় হায় আমি যদি আমার ছেলেকে বাহিরে খেলতে না পাঠাতাম
তাহলে সে পানিতে পরে মৃত্যু বরণ করত না। এ ব্যপারে সুরা আলে এমরানের ১৫৪ নং আয়াতে আল্লাহ
তায়ালা মুনাফিকদের একটি কথার উপর ভিত্তি করে বয়ান করেন, যেমন মুনাফিকরা কোন যুদ্ধে
যাওয়ার ব্যপারে বলাবলি করল যদি আমরা সেখানে না যেতাম তাহলে এমন ক্ষতির সম্মুখিন হতাম
না। কিন্তু আল্লাহ বলছেন কিভাবে যাবে না অথচ তারা সেখানে যাওয়ার কথা আগে থেকেই লৌহে
মাহফুজে লিপিবদ্ধ আছে, যেহেতু তা তোমাদের তকদীরে লিপিবদ্ধ আছে তা তোমাদের দ্বারা হবেই
এখন যদি বরে পসতাতে থাক হায় আমরা যদি সেখানে না যেতাম এমন হত না, এসব বলে কোন লাভ নাই।
সুতরাং
বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের মৃত্যুর সময় স্থান ধরন সব লিখিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং
কোন এক্সিডেন্টে, হঠাৎ, পানিতে পরে, দুর্ঘটনায় কারো যদি মৃত্যু হয় তার জন্য অধৈর্য্য
হয়ে বিলাপ করা পাগল পারা হয়ে বুক চাপড়াতে থাকার কোন যুক্তি নাই,
নবী
করিম (দঃ) এরশাদ করেন, মানুষ যে জায়গায় মৃত্যু বরণ করবেন মৃত্যুর আগে সে ব্যক্তির জন্য
সে স্থানে আল্রাহ এমন কাজ তৈরী করেন যে সে লোক নিজে সে স্থানে চলে যায় এবং সে মৃত্যুর
শিকার হয়ে যায়। সুতরাং যদি তাকদীরের উপর যদি আমাদের ঈমান পাকা পোক্ত হয়ে যায় তাহলে
এ ধরনের হতাশা, দুঃখ, পেরেশানি থেকে মুক্তি পাব।

# আপনার হায়াত বৃদ্ধি করে
দিক বলে দোয়া করা কেমন
উপরোক্ত
কোরান ও হাদীসের আলোকে আমরা জানতে পারলাম যে মানুষের মৃত্যু নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত
জায়গায় নির্ধারিত নিয়মে হবে, সুতরাং যদি কেহ দোয়া করে আল্লাহ আপনার হায়াত বৃদ্ধি করে
দিক, এমন দোয়া না করে বরং এমন বলা যে আল্লাহ তায়ালা আপনার হায়াতে বরকত দান করুন এমন
বলা অধিক সুন্দরও যুক্তিযুক্ত।

#মেয়ে হলে মায়ের দোষ কেন
হয়?
মুসলিম
শরীফের হাদীস ৪৭৮৩ নাম্বার হাদীস- নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন মায়ের পেটে যখন নুতফা ৪২
রাত অতিবাহিত হয়ে যায়, (অন্যান্যা রেওয়ায়েতে ৪ মাসের কথা আছে) তখন আল্লাহ তায়ালা মায়ের
গর্ভে থাকা এ বাচ্চার কাছে একজন ফেরেশতাকে প্রেরণ করেন এ ফেরেশতা সে বাচ্চার চেহেরা
সুরত বানান, এবং আল্লাহর হকুমে তার শ্রবণ শক্তি স্থাপন করেন, তার দৃষ্টি, তার চামড়া,
তার গোস্ত, এবং তার হাড্ডিসমুহ তৈরী করেন, অতএব সে ফেরেশতা আরজকরেন, হে প্রভু এ বাচ্চা
পুলিঙ্গ হবে নাকি স্ত্রী লিঙ্গ? তখন আল্লাহ তায়ালা ফয়সালা ফরমান যা তিনি চান।

সুতরাং
এ থেকে বুঝা যায় ছেলে হওয়া মেয়ে হওয়া এসবই আল্লাহরই কুদরত এতে মায়ের কোন দোষ নাই। কিছু
জাহেল ধরনের লোক কোন মেয়ে যদি শুধু কন্যা সন্তান প্রসব করে তাকে ধিক্কার দিতে থাকে,
এমনকি অনেক মেয়েকে মুর্খ স্বামীরা তালাক পর্যন্ত দিয়ে দেয় শুধু কন্যা সন্তান জন্মের
কারনে। অথচ উপরোক্ত হাদীসে দেখা যায় ছেলে হওয়া মেয়ে হওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে, মায়ের
কোন হাত বা শক্তি নাই যে সে ছেলে জন্ম দিবে।
সুতরাং যারা মেয়ে হলে মাকে দোষারোপ করে তা মুর্খতাসুলভ আচরণ।
হাদীসের
শেষে আছে সে ফেরেশতা এসব কিছু লিখে সে লিখিত কিতাব নিয়ে চলে যায়,
সুতরাং
প্রথমে লৌহে মাহফুজে লিখেছিলেন এবার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় ফেরেশতাদের সহিফাতে লিখিয়ে
দেয়া হল। নবী করিম (দ) বলেন সে ফেরেশতা তাকে যা হকুম দেয়া হয়েছে তা থেকে কোন কিছু বৃদ্ধিও
করেন না কোন কিছু কমও করেন না।
মুসলিম
শরীফের ৪৭৮৪ নং হাদীস- হযরত আবু তুফায়েল এ হাদীসের রাবি, তিনি বলেন আমি হযরত হুযায়ফা
আছিদ গিফারী (রাঃ) নিকট প্রবেশ করলাম উনার উপনাম হল আবু সারিহা। তিনি বলেন আমি নবী
করিম (দঃ) থেকে আমার এ দুই কানে শুনেছি তিনি বলেন নিশ্চয় নুতফা মায়ের পেটে থাকে ৪০
রাত পর্যন্ত থাকে, এরপর এক ফেরেশতা সে বাচ্চার ছুরত বানিয়ে দেন,

#লৌহে মাহফুজের
লিখা কি পরিবর্তন হয়?
আমরা
কোরান ও হাদীসের দ্বারা জানতে পারলাম আল্লাহ তায়ালা তকদীর লিখিয়ে দিয়েছেন আসমান ও জমিনের
সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে, িএখন এই যে লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে দিয়েছেন তা কি পরিবর্তন
যোগ্য কিনা তা জানতে হলে আমাদের জানতে হবে লৌহ মাহফুজের প্রকারভেদ।
মনে রাখবেন লৌহে
মাহফুজ ২ ধরনের
(১)
যা যেমন লিখিত তেমনই হবে তাতে আমাদের বেশ কম করার কোন এখতিয়ার নাই, সবই লিখা মোতাবেক
হবে
 (২) যাতে মানুষের এখতেয়ার আছে আর তা হল ইসলাম, কুফুর,
নেকি, গুনাহ, ভাল, খারাপ, নেক আমল, বদ আমল, আল্লাহ তায়ালা এসব ব্যপারে আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে
এখতিয়ার দিয়েছেন।
যেমন
ইসলাম ও কুফুর ২টি বিষয় সামনে আসল এখন আমাদের ইচ্ছা শক্তি আছে যে কোন ১টি গ্রহণ করার,
যদি ইসলাম গ্রহণ করি তাহলে নাজাত আর যদি কুফুরী গ্রহণ করি তাহলে জাহান্নাম।
তেমনি
ভাবে নেকি, গুনাহ, ভাল খারাপ, সব বিষয়ে আমাদের স্বাধিনতা আছে।

তকদীরের উপর বিশ্বাসের
অভিযোগের খন্ডন
আমরা
মোটামোটি জানলাম তকদীর আসমান জমিনের ৫০ হাজার বছর আগে লিখা হয়েছে, আর এই তকদীরে কিছু
জিনিষ আছে যা পরিবর্তন হবে না, আর কিছু বিষয় আছে যাতে আমাদের স্বাধিনতা আছে। আর যে
সব বিষয়ে স্বাধীনতা আছে তা হল ইসলাম কুফুর, নেকি গুনাহ, নেক আমল বদ আমল এসব। আল্লাহ
তায়ালার জ্ঞান যেহেতু অসীম তাই তিনি এসব কাজে সকল সৃষ্টির ভবিষ্যৎ কর্মকান্ডের দিকে
নজর দিলেন  আর তিনি নিজের জ্ঞান দ্বারা জানতে
পারলেন একজন লোক অমুক সময় চুরি করবে তাই আল্লাহ তায়ালা লিখিয়ে দিয়েছেন যে এ লোক চুরি
করবে। মোট কথা আল্রাহ তায়ালা নিজের কুদরতের দ্বারা আগে থেকেই যা যা জানতে পেরেছেন সব
কিছুই তিনি লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং কেহ এ কথা বলতে পারবে না যে যেহেতু
আল্লাহ আগে থেকেই আমি চুরি করব সেটা লিখে দিয়েছে সে জন্য আমি তাতে মজবুর হয়ে গেছি,
তাতে আমার স্বাধীনতা ছিল না। বরং সে চুরি করবে তা আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই জানত তাই
আল্লাহ তায়ালা নিজের ভবিষ্যৎ জ্ঞান থেকেই লিখে দিয়েছেন।
শুধু বুঝানোর জন্য
বেলা তামছিল
- ১টি ভিডিওর উদাহারন দিলে
বিষয়টি বুঝতে
পারবেন যেমন আপনার একজন বন্ধু ১টি ভিডিও দেখল আর ভিডিওতে
যা দেখল তাই সে ১টি কাগজে লিখে রাখল। এখন সে ভিডিওর ঘটনার কথা যে আপনি কাগজে লিখেছেন
তা আপনার বন্ধুকে পড়তে বললেন, আপনার বন্ধু পড়ল যে এ ভিডিওতে একজন লোক লাঠি নিয়ে দৌড়াবে,
কিছু দুর গিয়ে সে হুচট খাবে, তারপর সে যে পাথরে হুচট খেয়েছে সে পাথরের মালিককে গালি
দিবে, পাথরের মালিক যখন গালি শুনবে তার সাথে ঝগড়া হবে আর ঝগড়ার এক পর্যায়ে সে পাথরওয়ালাকে
হত্যা করবে।
এবার
আপনি সে ভিডিওটি আপনার বন্ধুকে দেখতে দিলেন বন্ধু ভিডিওতে দেখতে পেল আপনি যা যা লিখেছেন
তা তা হুবহু ভিডিওতে হচ্ছে। এবং আপনার বন্ধু দেখলেন যে আপনার লেখা মত লোকটি শেষ পর্যন্ত
মৃত্যু বরণ করল। এখন বলুন আপনার বন্ধু যদি আপনাকে বলে ভাই তুমি কাগজে কেন লিখেছ যে
ও মরে যাবে? যদি তুমি না লিখতে তাহলে সে মরত না। তখন আপনার বন্ধু জবাব দিবে আরে পাগল
আমি লিখেছি বলে সে মরেনি বরং আমি আগে থেকে জানি সে মরে যাবে তাই লিখেছি, কারন আমি তোমার
আগেই ভিডিওতে সব দেখেছি আর তা দেখে দেখেই আমি কাগজে লিখে দিয়েছি। আমি লিখেছি বলে সে
মনে নি।
সুতরাং
একজন লোক ২০ বছর বয়সে খুন করবে তা আল্লাহ আগে থেকেই জানেন নাই তিনি লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে
দিয়েছেন, অতএব কেহ বলতে পারবে না যে আল্লাহ লিখে দিয়েছেন নাই সে খুন করেছে বরং সে খুন
করবে তা আল্লাহ আগেই জানেন তাই লিখে দিয়েছেন।
সুতরাং
কোন খুনী বলতে পারবে না আল্লাহ আমার তকদীরে লেখেছেন তাই আমি খুন করেছি
কোন
চোর এ দাবী করতে পারবে না যে আল্লাহ আমার তকদীরে লেখে দিয়েছেন তাই আমি চুরি করেছি।
সারকথা
হল ভাল মন্দ বিচার করার ক্ষমতা আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন সুতরাং কেহ যদি মন্দ করে তা
সে নিজের শক্তিতেই করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে বাধ্য করে দেননি যে সে মন্দ করবে। বরং সে
যে মন্দ করবে সেটা আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই জানেন তাই তিনি সেটা লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে
দিয়েছেন।
তাকদীরের
ব্যপারে এতটুকু বিশ্বাসই আমাদের জন্য যথেষ্ট এ ব্যপারে বেশী ঝগড়া করা উচিত নয়।
তাকদীর নিয়ে ঝগড়া:  নবী
করিম (দঃ) একদিন সাহাবায়ে কেরামকে এরশাদ করেন আগের কউমরা এ জন্যই ধ্বংস হয়েছে যে তারা
তকদীরের মাসায়ালা নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে ঝগড়া করেছে বিতর্ক করেছে।
সুতরাং
এ বিষয়ে বেশী গবেষনা না করে মনের ভিতর নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক না করে কারো সাথে
বেহুদা বাড়াবাড়ি না করে চুপ থাকাই হল বুদ্ধিমানের কাজ।
তকদীর বিশ্বাস
না করার হকুম কি?
যদি
কেহ তকদীর বিশ্বাস না করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। তার বিগত সকল নেক আমল বরবাদ হ?য়ে
যাবে, বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে, তাকে পুনরাং কলমা পড়ে মুসলমান হতে হবে এবং ইমান
নবায়ন করার সাথে বিবাহও নবায়ন করতে হবে।
আবু দাউদ ৪০৭১: হযরত ইবনে উমর (রাঃ) হাদীসের রাবি, তিনি
বলেন যে নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেছেন (আল কাদরু হিয়্যাতু মজুছু হাজিহিল উম্মত) কাদরীয়া
ফেরকা যারা তারা আমার উম্মতের মুর্তিপুঁজারী। নবীর যুগে কদরিয়া ফেরকার উৎপত্তিও হয়নি,
কিন্তু বিশ্বনবী আগে থেকেই এ কদরিয়া দলকে মুর্তিপুঁজারীর সাথে তুলনা করে গেছেন। আর
কদরিয়া বলা হয় যারা তকদীরে বিশ্বাস করে না।
বিশ্বনবী
আরো বলেন (ইন মারিদু) যদি তারা অসুস্থ হয়ে যায়। (ফালা তাউদুহুম) তোমরা তাদের সেবা শস্রুশা
করিও না। (ওয়া ইন মাতু) যদি তারা মৃত্যু বরণ করে (ফালা তাশহাদুহুম) তারা মুসলমান হওয়ার
স্বাক্ষি দিও না।অথ্যাৎ তারা ইসলামী আকিদার উপর মৃত্যু বরণ করেনি, বরং তাকদীরের প্রতি
আকিদা না রাখার কারনে তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে।
আবু দাউদ ৪০৭২: হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন (লি কুল্লি উম্মাতিন
মাজুসুন) প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একটি মুর্তিপুঁজারী দল হয়, আর আমার এ উম্মতের মধ্যে
মাজুস বা মুর্তিপুঁজক সে সমস্ত লোক যারা বলে তকদীর বলতে কিছু নাই। (মান মাতা মিনহুম)
যে কেহ এসব লোক থেকে মৃত্যু বরণ করে। (ফালা তাশহাদু জানাযাতাহু) তোমরা তার জানাযায়
হাজির হইও না। (ওয়ামাম মারিদা মিনহুম) আর কেহ যদি তাদের মধ্য থেকে রোগাক্রান্ত হয়
(ফালা তাউদুহুম) তোমরা তার সেবা শশ্রুষা করিও না। (ওয়াহুম শিয়াতুদ দাজ্জাল) এরা দাজ্জালের
সাথী (ওয়া আক্কুন আলাল্লাহে) আর আল্লাহ তায়ালা নিজের জিম্মায় আবশ্যক করে নিয়েছেন যে
এদেরকে দাজ্জালের সাথে মিলিয়ে দিবেন।

হাদীসে বুঝা যায় তকদীর অস্বিকারী কারী কদরীয়া সম্প্রদায় দাজ্জালের সাথে সাক্ষাত হবে।
এবং এ থেকে আরো বুঝা যায় তাকদীরের উপর ঈমান রাখা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয। যদি কেহ
তকদীরে অবিশ্বাস করে তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে তার জানাযায় যাওয়া যাবে
না, তার সেবা করা যাবে না, বরং তার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে দিতে হবে।
আমার নসিব খারাপ,
আমার কপাল খারাপ বলা কেমন?
আমরা
সাধারণত কথায় কথায় বলে থাকি যে আমার নসিব খারাপ, আমার ভাগ্য খারাপ, আমার কপাল খারাপ
এমন বলার ব্যপারে শরীয়তের হকুম কি তা আমাদেরকে জানতে হবে,
মনে
রাখবেন তকদীর হল মুলত আল্লাহর ফয়সালা কেহ যদি বলে আমার তকদীর খারাপ তাহলে মুলত সে আল্লাহর
ফয়সালার উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করল, যা মুলক অনেক বড় গুনাহের কাজ। যা থেকে প্রত্যেক
মুসলমানকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সুতরাং
সাবধান কোনভাবে বলা যাবে না যে আমার নসিব খারাপ, আমার কপাল খারাপ, আমার ভাগ্য খারাপ।
যদি পূর্বে এমন কথা বলে থাকেন তাহলে তার জন্য তওবা করতে হবে। এবং এ মানসিকতা বানাতে
হবে যে আল্লাহ তায়ালা যে ফয়সালা আমার ভাগ্যে লিখে দিয়েছেন তার উপর আমি মন প্রাণ দিয়ে
রাজি আছি।

আমেল বৈদ্ধ কি
তকদীরের ফয়সালা বন্ধ করে দিতে পারে?
আমাদের
তাকদীরের প্রতি যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে আমরা বিশ্বাস করব জন্ম মৃত্যু, বিয়ে শাদি, সন্তান
সন্তুতি, রুজি রোজগার এসবই আল্লাহ ফয়সালা করে রেখেছেন, এখন মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না চলে
গেল আমিলিনের কাছে আর আমেলিন বলে দিল বন্ধ করে রেখেছে, সন্তান হচ্ছেনা আমেল বলে দেয়
বন্ধ করে রেখেছে, চাকরী হচ্ছে না আমেল বলে বন্ধ করে রেখেছে, দোকানে বেঁচা কেনা কম আমেল
বলে বন্ধ করে রেখেছে আর এসব কাটাতেহবে কাটালে ৫ হাজার টাকা যদি আমেলকে দেয় আমেল কাটিয়ে
দিবে।
এই
যে বিশ্বাস তা মুলত সম্পূর্ণ তাকদীরের বিপরীত একটি বিশ্বাস। কারন আমরা কোরান ও হাদীসের
আলোকে জানতে পারলাম বিয়ে শাদী, সন্তান, আয় রোজগার, জন্ম মৃত্যু এসব আল্লাহ ফয়সালা করে
রেখেছেন আসমান জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে, তাহলে এটা কিভাবে হতে পারে যে দুনিয়ার
মামুলি একজন লোক আল্লাহর সে ফয়সালাকে বন্ধ করে রাখতে পারে? তেমনি ভাবে সন্তান না হওয়া,
বেঁচা কেনা না হওয়া এসবইতো তাকদীরের মামলা যা আসমান জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে
থেকেই নির্ধারিত তাহলে তা কিভাবে কোন আমেল বা কোন বৈদ্ধ বন্ধ করে রাখতে পারে? তাহলে
কি আল্লাহর ফয়সালার চাইতে সে বৈদ্ধর শক্তি বেশী যে আল্লাহ কৃর্তক নির্ধারিত একটি কাজকে
বন্ধ করে দিতে পারে? নাউজুবিল্লাহ।
যদি আয় রোজগার
বিয়ে শাদি সব আগে থেকেই ফয়সালা হয়ে থাকে তাহলে আমরা এত চেষ্টা এত কষ্ট করার দরকার কি?
অনেকেই
এ প্রশ্ন করে থাকেন যদি আমার রিযিক আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে এত কষ্ট করার দরকার
কি? এর উত্তর হল আল্লাহ যদিও তকদীরে আমাদের জন্য রিযিক লিখে দিয়েছেন কিন্তু সাথে সাথে
চেষ্টা করারও হকুম দিয়েছেন এবং আমাদের নবী করিম (দঃ) হাত বন্ধ করে বসে থাকেননি তিনি
তা প্রেকটিকেলি দেখিয়ে দিয়েছেন, যা ফয়সালা তা হবে ঠিক কিন্তু আমাদেরকে হাত পা বন্ধ
করে বসে থাকলে চলবে না বরং আমাদেরকে কাজ করতে হবে চেষ্টা করে যেতে হবে। তাছাড়া কাজ
না করে বসে থাকলে তাতে নিজের চাহিদা মত যদি না আসে তাতে বান্দা হতাশ হয়ে যাবে, তাই
চেস্টা করতে থাকলে সহজে হতাশা গ্রাস করে না।
আমরা
এটা চিন্তা করি যে আমরা যেমন চাই তেমন হউক, অথচ আমাদের চিন্তা এমন হওয়া উচিত যে আল্লাহ
যেমন চাহে তাতেই আমরা রাজি থাকি।
তকদীর লেখা থাকলেও
আমাদের কৌশিশ করতে হবে?
তকদীর
লেখা থাকলেও আমাদেরকে কৌশিশ করতে হবে চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, চাকরী, ব্যবসা,
করতে হবে এ ব্যপারে সুরা নজম আয়াত
وَأَن لَّيْسَ
لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে, [ সুরা নাজম ৫৩:৩৯ ]
وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ
يُرَى
তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।সুরা নাজম ৫৩:৪০ ]
ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاء
الْأَوْفَى
অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।সুরা নাজম ৫৩:৪১ ]
ইবনে মাজা ২১৩৩ হুমায়দ
সাঈদী (রাঃ) বলেন (কালা রাসুলুল্লাহি ছাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম আজমিলু ফি তালাবিদ
দুনিয়া) তোমরা দুনিয়াদারীর ব্যপারে ভাল পদ্ধতি অবলম্বন কর কেননা প্রত্যেকের জন্য সে
কাজ সহজ করে দেয়া হয় যে জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

হাদীসে দেখা যায় নবী করিম (দঃ) দুনিয়াদারীর ব্যপারেও আমল করা এবং ভাল পদ্ধতি অবলম্বন
করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রিযিক কি নিজের
টেলেন্ট দ্বারা হাছিল হয়?
হযরত সুফিয়ান সাওরী
(রহঃ) বলেন যদি রিযিক জ্ঞান দ্বারা অর্জিত হত তাহলে দুনিয়ার সকল বেওকুফ ক্ষুধায় মারা
যেত। পাগল খানায় গেলে দেখবেন সেখানে সকল পাগলের খেদমত তারাই করছে যারা বড় বড় ডাক্তার
বড় বড় জ্ঞানী।এটাই হল মুলত আল্লাহর হেকমত ও কুদরত।
অনেক
সময় দেখা যায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পড়ালেখায় রেজাল্টে টপে থাকে একজন কোনমতে পাশ
করে কিন্তু যখন কামাই রুজিতে তারা ছড়িয়ে পরে তখন দেখা যায় টপ রেজাল্ট করা সে কলেজের
অধ্যাপক যা বেতন পাই তা দিয়ে কোন মতে চলে আর যে সকলের পিছন থেকে রোল নাম্বার ১ হয় সে
গাড়ী বাড়ীর মালিক হয়ে যায়। এ থেকেও বুঝা যায় রিযিক জ্ঞান দ্বারা অর্জিত হয় না বরং আল্লাহর
ফয়সালা যা তাই রিযিকে আসবে। আমাদের কাজ হল শুধু চেষ্টা করে যাওয়া।

তকদীরে বিশ্বাস
থাকলে অনেক পেরেশানী দুর করা সহজ
তকদীরে
বিশ্বাস থাকলে মুলত অনেক পেরেশানী দুর হয়ে যায়, যেমন আপনি চাচ্ছেন অমুক জায়গায় আপনার
বিয়ে হউক কিন্তু সেখানে হল না, এখন আপনি যদি চিন্তা করে ওখানে বিয়ে আমার নসিবে নাই
তাই হয়নি, তাহলে আপনার আর আফসোস থাকবে না। কারন আপনি চিন্তা করবেন সেখান বিয়ে না হওয়াটা
হয়ত আমার জন্য মঙ্গলজনক তাই আল্লাহ তায়ালা আমার তকদীরে সেখানে বিয়ে হওয়া লিখেন নাই।এই
বিশ্বাস এই আকিদা আপনার সকল পেরেশানি দুর করে দিবে।
যেমন
কেহ ছিনতাই করে আপনার দামী মোবাইটি নিয়ে গেল, তখন যদি আপনি তকদীরের কথা ভাবেন যে আল্লাহ
তায়ালার ফয়সালা এমনই ছিল যে আমার কাছ থেকে মোবাইটি ছিনিয়ে যাবে তাহলে আপনি আর আফসোস
করবেন না, আর যে নিয়ে গেল মুলত তার রিযিকে সে মোবাইটি ছিল তবে সে মোবাইলটি অর্জন করতে
সে ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সে যদি সঠিক পথ অবলম্বন করত তবুও আল্লাহ তায়ালা তাকে
সে রকম একটি মোবাইলের মালিক বানিয়ে দিতেন।
তকদীরের ব্যপারে
মনে শান্তি দানকারী ১টি হাদীস
নবী
করিম (দঃ) হযরত ইবনে আব্বাসকে বললেন হে ইবনে আব্বাস যদি সারা দুনিয়ার মানুষ তোমার উপকার
করতে চায় তারা ততটুকু উপকার করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তায়ালা তোমার কিসমতে লিখেছেন।
আর যদি সারা দুনিয়া তোমাকে যদি ক্ষতি পৌঁছাতে চায় তাহলে ততটুকু ক্ষতি পৌঁছাতে পারবে
যতটুকু আল্লাহ তায়ালা তোমার কিসমতে রেখেছে।
যদি
এসব হাদীস ও তকদীরের বিষয়ে আমরা পাকা পোক্ত জ্ঞান রাখি তাহলে দুনিয়ার অসংখ্য পেরেশানি
আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।

তদবীর দ্বারা দোয়া
দ্বারা কি তকদীর পরিবর্তন করা সম্ভব?
আমাদের
সমাজে একটা কথা প্রচলন আছে যে তদবীর তকদীরকে পরিবর্তন করে দেয়। অনেকে বলেন গাউছে পাক
লৌহে মাহফুজের লেখা পরিবর্তন করতে পারেন, এখন প্রশ্ন হল আসলেই কি লৌহে মাহফুজে কি পরিবর্তন
করা সম্ভব?
এর
জবাবে সকলেই একমত যে, যা আল্লাহ তাবারাক ওয়াতায়ালা লৌহে মাহফুজে লিখিয়ে দিয়েছেন তা
বিলকুল পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়। লৌহে মাহফুজে যা লেখা হয়েছে তা আল্লাহ তায়ালা নিজ জ্ঞান
দ্বারা লিখেছেন, এখন তাতে যদি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় তাহলে নাউজুবিল্লাহ আল্লাহর জ্ঞানে
অপূর্ণতা বুঝা যায়।
সুতরাং
মোট কথা লৌহে মাহফুজে যা লিখা হয়েছে তাতে কোন ধরনের কম ও বেশ হওয়া অসম্ভব ।
লৌহে
মাহফুজে লেখা বদল হওয়ার ব্যপারে সকল ওলামায়ে কেরাম একমত যে তা কিছুতেই পরিবর্তন সম্ভব
না, এমনকি ওলামায়ে মুতাকাল্লিমিন বলেছেন যদি কোন নবিও লৌহে মাহফুজে লেখার বিপরীত দোয়া
করে আল্লাহ তায়ালা সে নবীকে সে ধরনের দোয়া করা থেকে নিষেধ করেন। যেমন আল্রাহ তায়ালার
ফরমান (লা তাবদিলা লি কালিমাতিল্লাহ, ওয়ালা মুবাদ্দিলা লি কালিমাতিল্লাহ) আল্লাহর কালিমাত
কখনো পরিবর্তন হয় না। এবং আল্লাহর কালিমা বদল করতে পারে এমন কেহ নাই। সুতরাং সাফ কথা
লৌহে মাহফুজে লেখা বিলকুল পরিবর্তন হবে না ।
দোয়া দ্বারা তকদীর
বদল হয় হাদীসের ব্যখ্যা
তিরমিযির
২০৬৫ হযরত সালমান (রাঃ) বলেন (কালা রাসুলুল্লাহে ছাঃ লা এয়ারুদ্দুল কাদাআ ইল্লাদ্দোয়া)
দোয়া ছাড়া তকদীরকে কোন কিছু বদলাতে পারে না। এবং বয়সকে বাড়াতে পারে না নেকী ছাড়া কোন
কিছু।

হাদীসের জবাবে ওলামায়ে মুতাকাল্লিম বলেন- তাকদীর মুলত ২ প্রকার (১) তকদীরে মুবরাম-
যা পাকা পোক্ত পরিবর্তন হয় না (২) তকদীরে মুয়াল্লাক- লটকানো তকদীর আর এ তকদীরে পরিবর্তন
সম্ভব। সুতরাং লৌহে মাহফুজে যা লিখে দেয়া হয়েছে তা হল তকদীরে মুবরাম বা কাজায়ে মুবরাম।
আর যা /ফেরেশতাদের খাতায় লিখে দেয়া হয় তা পরিবর্তন হতে পারে। যেমন আপনারা জানেন ১৫
শাবান  ফেরেশতাদের হাতে ছহিফা দেয়া হয় আগামী
১ বছর কাকে কি দেয়া হবে, কে কে মৃত্যু বরণ করবে, কে জন্ম গ্রহণ করবে এসব এসব ছহিফাতে
লিখে দেয়া হয়, এই যে ছহিফা এগুলিও আল্লাহর একপ্রকার ফয়সালা এ ছহিফাতে যা লেখা থাকে
তাকে তকদীরে মুয়াল্লাক বলা হয় কেননা তাতে কিছু অপশন লিখা হয়, যেমন এ লোক যদি মায়ের
খেদমত করে মা যদি দোয়া করে তাহলে এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে যাবে নতুবা এক্সিডেন্টে   মৃত্যু বরণ করবে। এখন ফেরেশতার ছহিফায় ২টারই সম্ভাবনার
কথা লটকানো অবস্থায় লেখা আছে, চেএখন সে যদি মায়ের খেদমতকরে মা যদি দোয়া করে তাহলে সে
এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে যাবে েএতে তিরমিযির হাদীসে যে বলা হয়েছে দোয়া তকদীর বদলায় তা
এ ধরনের তকদীরে মুয়াল্লাকের বেলায় প্রযোজ্য। আর নেকি হায়াত বাড়ায় এর ব্যাখ্যা হল তার
হায়াতে অনেক বরকত হবে।
সারসংক্ষেপ
হল- আল্লাহ তায়ালা আসমান জমিন সৃষ্টীর ৫০ হাজার বছর আগে আল্লাহ তায়ালা কলম দ্বারা লৌহে
মাহফুজে আমাদের পুরা তাকদীর লিখিয়ে দিয়েছেন।
যা লিখিয়ে দিয়েছৈন তাতে ২ হিচছা আছে প্রথমত
যাতে কোন ধরনের পরিবর্তন হবে না এবং তাতে আমাদের কোন এখতিয়ারও নাই বরং আল্লাহ তায়ালা
যা আমাদের জন্য নির্ধারন করছেন তাই হবে।
আর ২য় প্রকার হল এমন কিছু বিষয় আছে যাতে
বান্দার কুদরত ওে এখতেয়ার আছে, তা হল গুনাহ সাওয়াব, নেকিবদি, হেদায়েত গুমরাহি, ঈমান
কুফুরী এসবে বান্দার নিজস্ব কুদরত ও এখতেয়ার আছে। এগুলি ছাড়া বাকী সবকিছুতে আমাদের
কোন এখতেয়ার নাই বরং আমাদের জন্য তাই হবে যা আল্লাহর ফয়সালা।
হেদায়েত ও গুমরাহিতে যেহেতু আমাদের কুদরত
ও এখতেয়ার আছে সেহেতু কেহ এ কথা বলার সুযোগ নাই যে চুরি ডাকাতি যেনা আমি এ জন্য করেছি
যে আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই তা নির্ধারন করে রেখেছে। আল্লাহ লিখিয়েছেন ঠিক কিন্তু তা
হকুম নয় এমন কাজ করার জন্য আমাদেরকে মজবুর করা হয়নি বরং আল্লাহ তায়ালা নিজের এলেম দ্বারা
জেনেছেন যে এ লোক চুরি করবে তা লিখে দিয়েছেন, এ লোক যেনা করবে তা লিখে দিয়েছেন। একজন
রাতে তাহাজ্জুদ পড়বে জেনেছেন তা লিখিয়ে দিয়েছেন। এখন কেহ যদি বলে আল্লাহ লেখে দিয়েছে
তাই আমি এমনটি করছি এমন বলা মুর্খতা। সুতরাং নিজের কুদরত ও এখতেয়ারে নেক আমল করলে তার
জন্য ছাওয়াব পাবে আর যদি গুনাহ করে তা হলে তার শাস্তি পাবে।
 


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.