২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর বিশেষ আমল। তাকবীরে তাশরীক।
জিলহজ্ব মাসের ২৩ ওয়াক্ত নামাজে বিশেষ আমল
তাকবীর শব্দের অর্থ হলো- বড়ত্ব ঘোষণা করা। আর তাশরীক শব্দের অর্থ হলো- সূর্যের আলোতে রেখে গোশত শুকানো। আরবগণ তাদের কুরবানীর গোশত ঈদের তিনদিন পর পর্যন্ত রোদে দিয়ে শুকাতো, এজন্য এ দিনগুলো আইয়ামে তাশরীক বলা হয়। তাকবীরে তাশরীক হলো- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’- বাক্য বলা।
বর্ণিত আছে, যখন ইবরাহীম আ. তাঁর পুত্র ইসমাঈল আ. কে জবাই করতে উদ্যত হলেন, তখন জিবরাঈল আমীন বললেন- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। অত:পর ইসমাঈল আ. বললেন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই আর আল্লাহ মহান)। তখন ইরবাহীম আ. বললেন- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ (আল্লাহ মহান আর তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা)। এরপর থেকে এটি ইসলামের বিধান হিসাবে নির্ধারিত হলো। (তাফসীরে কুরতুবী)
বুঝা গেল- ‘তাকবীরে তাশরীক’ হলো ইবরাহীম আ. কর্তৃক তাঁর পুত্র ইসমাঈল আ.কে যবেহকালীন সময়ের কিছু উক্তির স্মৃতিচারণ। যা আজও আমাদের শরীয়তের বিধান হিসাবে প্রচলিত রয়েছে।
জিলহজ মাসের ফযিলতপূর্ণ পবিত্র দিনগুলোতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার মহত্ব বর্ণনা তথা তাকবীর, আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের ঘোষণা তথা তাহলীল এবং আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা তথা তাহমীদ পাঠ করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। যেমন তিনি বলেন- এ দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে তাহলীল, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ কর। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং- ৫৪৪৬) অতএব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ পালনার্থে তাহলীল, তাকবীর ও তাহমীদ সম্বলিত যৌগিক আমল ‘তাকবীরে তাশরীক’- এর গুরুত্ব অপরিসীম।
তাকবীরে তাশরীক হলো কয়েকটি বিশেষ আমলের সমন্বিত রূপ। এতে রয়েছে ০৪ বার তাকবীর, ০১ বার তাহলীল এবং ০১ বার তাহমীদ। তাকবীরে তাশরীকের এ উপাদানগুলো ইসলামী শরীয়তে অত্যন্ত ফযিলতের
০১। ০৯ জিলহজ হতে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরক্ষণেই অনতিবিলম্বে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।
০২। উক্ত দিনসমূহে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর প্রত্যেক মুসলমান, চাই সে গোলাম হোক, কিংবা স্বাধীন হোক, মুসাফির হোক, কিংবা মুকীম হোক, একাকী আদায়কারী হোক কিংবা জামায়াতে আদায়কারী হোক- সবার জন্য তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব।
০৩। পুরুষগণ তাকবীরে তাশরীক জোরে বলবে।
০৪। মহিলাগণ তাকবীরে তাশরীক আস্তে বলবে।
০৫। মাসবুক ব্যক্তি নিজ নামায শেষ করার পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করবে।
০৬। ঈদের নামাযের শেষে তাকবীর বলতে দোষের কিছু নেই। (হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন,খন্ড- ০৩, পৃষ্ঠা নং- ৭২- ৭৫)
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাকবীরে তাশরীক যথাযথভাবে পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
০২। উক্ত দিনসমূহে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর প্রত্যেক মুসলমান, চাই সে গোলাম হোক, কিংবা স্বাধীন হোক, মুসাফির হোক, কিংবা মুকীম হোক, একাকী আদায়কারী হোক কিংবা জামায়াতে আদায়কারী হোক- সবার জন্য তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব।
০৩। পুরুষগণ তাকবীরে তাশরীক জোরে বলবে।
০৪। মহিলাগণ তাকবীরে তাশরীক আস্তে বলবে।
০৫। মাসবুক ব্যক্তি নিজ নামায শেষ করার পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করবে।
০৬। ঈদের নামাযের শেষে তাকবীর বলতে দোষের কিছু নেই। (হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন,খন্ড- ০৩, পৃষ্ঠা নং- ৭২- ৭৫)
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাকবীরে তাশরীক যথাযথভাবে পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

কোন মন্তব্য নেই