গাজওয়াতুল হিন্দ। হযরত আবু হুরায়রার (রাঃ) হিন্দুস্থান আসার ইচ্ছা
আবু হুরায়রা সবকিছু বিক্রী করে
হিন্দুস্থানে কেন আসতে চেয়েছিল?
ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন দিন দিন বৃদ্ধি প্রাপ্তহচ্ছেসে সাথে ইদানিং ভারত সরকার কাশ্মিরের ব্যপারে যে পদক্ষেপে নিয়েছেন সে জন্য অনেকের
প্রশ্ন আজ থেকে ১৪ শত বছর পূর্বে বিশ্বনবী (দঃ) যে গায্ওয়াতুল হিন্দ এর সংবাদ
দিয়েছেন তাহলে তা কি শুরু হয়ে গেল?
এ প্রশ্নের জবাব বুঝার আগে আমাদেরকে কয়েকটি হাদীস সম্পর্কে
জানতে হবে। নাসাঈ শরীফের হাদীস নম্বর ৩১৭৬- হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত
তিনি বলেন নবী করিম (দঃ) আমাদেরকে গাযওয়াতুল হিন্দ এর খবর দিয়েছেন, আবু হুরায়রা
(রাঃ) নিজের জজবা বয়ান করে বলেন যদি আমি সে গযওয়াকে পেয়ে যাই তাহলে তাতে আমার জান
ও মাল কুরবান করে দিব। আর আমি যদি নিহত হয়ে যাই তাহলে আমি শহীদগনের মধ্যে সবচেয়ে
উত্তম শহীদ হিসেবে গণ্য হব। আর আমি যদি তা থেকে ফিরে আসতে পারি তাহলে আমি আবু
হুরায়রা স্বাধীন হব।
২য় হাদীস নাসাঈ শরীফের হাদীস নং ৩১৭৫- হযরত ছাওবান (রাঃ) এ
হাদীসের রাবী যিনি নবী করিম (দঃ) এর আযাতকৃত গোলাম। তিনি বলেন নবী করিম (দঃ) এরশাদ
করেন আমার উম্মতের মধ্যে ২টি দল এমন হবে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দোযখ থেকে
বাঁচাবেন। এক দল হবে যারা হিন্দুস্থানে জিহাদ করবে আর এক দল হবে যারা ঈসা বিন মরিয়ম এর সঙ্গী হবে।
এ ২টি হাদীস দ্বারা আমরা গযওয়ায়ে হিন্দ এর প্রমাণ পায় কিন্তু এ
গযওয়া কখন হবে? এ ব্যপারে ওলামায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেন এ গযওয়া হবে কিয়ামতের আগে
যখন হযরত ঈসা (আঃ) দুনিয়ায় পুনরায় তশরীফ আনবেন। দাজ্জাল এর ফিতনা দুনিয়াতে বিস্তার
লাভ করবে, তখনকার ঘটনা।
এ বিষয়টি বুঝতে হলে হযরত আবু আবদুল্লাহ নুয়াইম বিন হাম্মাদ যিনি
২২৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন তিনি একটি কিতাব লিখেছেন কিতাবুল ফিতন তাতে তিনি অনেক
হাদীস জমা করেছেন তাতে গযওয়ায়ে হিন্দ এর সময়ের ব্যপারে ৩টি হাদীস পাওয়া যায়
কিতাবুল ফিতন হাদীস
নং ১২০২- নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন আমার উম্মতের মধ্যে
থেকে একটি দল হিন্দুস্থানে জিহাদ করবে এবং আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে বিজয় দান করবেন।
এমনকি সে সময়কার যিনি বাদশাহ হবেন তাকে শিকল দ্বারা বন্ধী করা হবে। আল্লাহ তায়ালা
এসব জিহাদকারীদের গুনাহসমুহ মাফ করে দিবেন। এরপর এ দল শাম দেশের দিকে ফিরে যাবে
এবং এ দল ঈসা বিন মরিয়ম এর সাথে সাম দেশে মিলিত হবে।
# এ হাদীস থেকেবুঝা যায় গযওয়ায়ে হিন্দ মুলত যখন হযরত ঈসা (আঃ)
দুনিয়ায় পুন তশরীফ আনবেন তার কিছু সময় পূর্বে সংগঠিত হবে।
হাদীস নং ১২১৫- হযরত কাব (রাঃ) বর্ণনা করেন বায়তুল মুকাদ্দাসের একজন বাদশা
হিন্দুস্থানের দিকে একটি বাহিনি প্রেরণ করবেন তারা হিন্দুস্থানকে জয় করে নিবে। এবং
তারা হিন্দুস্থানের সকল খাজানা কব্জা করে নিবে তারা এসব খাজানা বায়তুল মকদসের
অলংকার বানাবে। এরা হিন্দুস্থোনের বাদশাকেও বন্দী করবে। এ বাহিনি হিন্দুস্থানে
দাজ্জালের আবির্ভাব হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান
করবে।
# সুতরাং এ হাদীস থেকেও বুঝা গেল গযওয়ায়ে হিন্দ একদম কেয়ামতের
খুব নিকটেই যখন দাজ্জাল প্রকাশ হবে তার আগে সংগঠিত হবে। এবং তখন বায়তুল মকদসের
বাদশাহ হবে মুসলিম, বায়তুল মকদস মুসলমানদের দখলে থাকবে।
হাদীস নং
১২২৬- হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হযরত
মুহাম্মদ (সাঃ) হিন্দুস্তানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন,
“অবশ্যই আমাদের একটি দল হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্ সেই দলের
যোদ্ধাদের সফলতা দান করবেন, আর তারা রাজাদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে । এবং
আল্লাহ্ সেই যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন (এই বরকতময় যুদ্ধের দরুন)। এবং সে
মুসলিমেরা ফিরে আসবে তারা ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) কে শাম দেশে (বর্তমান সিরিয়ায়)
পাবে”।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,
“আমি যদি সেই গাযওয়া পেতাম, তাহলে আমার সকল নতুন ও পুরাতন সামগ্রী বিক্রি করে
দিতাম এবং এতে অংশগ্রহণ করতাম । যখন আল্লাহ্ আমাদের সফলতা দান করতেন এবং আমরা
ফিরতাম, তখন আমি একজন মুক্ত আবু হুরায়রা হতাম; যে কিনা সিরিয়ায় হযরত ঈসা (আঃ)
কে পাবার গর্ব নিয়ে ফিরত । ও মুহাম্মাদ (দঃ) ! সেটা আমার গভীর ইচ্ছা যে আমি ঈসা
(আঃ) এর এত নিকটবর্তী হতে পারতাম, আমি তাকে বলতে পারতাম যে আমি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর
একজন সাহাবী”।
বর্ণনাকারী বলেন যে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) মুচকি হাসলেন এবং বললেনঃ ‘খুব কঠিন, খুব
কঠিন’।
এসব হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি গযওয়ায়ে হিন্দ সংগঠিত হবে তা
অবশ্যই হবে, এবং তাতে মুসলমানদের সৌভাগ্যবান দল জিহাদে অংশ গ্রহণ করবে যাদের
ব্যপারে বিশ্বনবী নবুয়তের জবানে সুসংবাদ দিয়েছেন যে তারা হিন্দুস্থান বিজয় করবেন,
সেখানকার বাদশাকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলবেন, এসব মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা
করবেন, তাঁরা হিন্দুস্থানের মাল ও দৌলত কজ্বা করে তা বায়তুল মুকদ্দাস নিয়ে যাবেন,
এবং এ দলটি চুড়ান্ত বিজয়ের পর শাম দেশে গিয়ে হযরত ঈসা (আঃ) কে দেখতে পাবেন এবং
উনার সাথে মিলিত হবেন। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় গযওয়ায়ে হিন্দ অবশ্যই হবে তবে তা
কিয়ামতের অতি নিকটবর্তী সময়েই হবে।

কোন মন্তব্য নেই