নারীদের কাছে কেয়ামতে সর্বপ্রথম প্রশ্ন কি হবে? Islamic Knowledge Video|| ...
নারীদের কাছে কেয়ামতে
প্রথম প্রশ্ন কি হবে
প্রথম প্রশ্ন কি হবে
মানুষকে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, তার ইবাদত করার জন্যে। তার নির্দেশিত জীবন বিধান ভালোভাবে পালন করার জন্যে। কিন্তু মানুষ পৃথিবীতে এসে আল্লাহকে ভুলে গেছে। এমনকি অনেক মানুষ পৃথিবীতে এসে নিজেকেই ‘আল্লাহ’ দাবি করার দু:সাহসও দেখিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি করুণাময় হয়ে আল্লাহভোলা আবার ইবাদতমুখী করতে নবি-রাসুলদের পাঠিয়েছেন। তারা মানুষকে আল্লাহর কথা বলেছেন। আল্লাহর নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তারা মানুষকে বলেছেন, এই পৃথিবীই তোমার শেষ আবাস নয়। তোমার জন্যে আরো একটি জগত অপেক্ষা করছে। সেখানে তোমাকে তোমার সবকাজের হিসেব দিতে হবে। ভালো করলে পাবে পুরস্কারস্বরূপ জান্নাত, অনাবিল সুখের নিবাস, নয়তো শস্তি হিসেবে পাবে জাহান্নাম, লেলিহান আগুনে ভরা নরক। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি প্রণীকেই মৃতু্যর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে ।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত ৫৭) মৃত্যুর পরে আল্লাহ তায়ালা আবার সবাইকে বিচারের জন্যে সমবেত করবেন । যাকে কোরআনে বলা হয়েছে ‘ইয়াউমুল হাশর’ বা সমবেত হবার দিন । সুরা ফাতেহায় একে ‘ইয়াউমুদ দীন’ বা বিচার দিবসও বলা হয়েছে । রাসুল [স] ইরশাদ করেন, সেই দিন ৫টি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোনো আদম সন্তান তার পা এক কদমও নাড়াতে পারবে না; চাই সে নবি হোক কিংবা অলি হোক। সেই ৫টি প্রশ্ন হলো- ১. সর্ব প্রথম তাকে প্রশ্ন করা হবে, ‘তুমি তোমার সারা জীবন কোন পথে কাটিয়েছো ?’ ২. এরপর প্রশ্ন করা হবে, ‘যৌবনকালে কোন আমল করেছো ?’ এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় । যেহেতু যৌবনে মানুষ সবচে’ বেশি কাজ করতে পারে, তার শক্তিও থাকে অফুরান, তাই বিশেষভাবে এ সময়ের হিসাব চাইবেন আল্লাহ তায়ালা। ৩. তাকে তৃতীয় ও চুতর্থ প্রশ্ন করা হবে তার পর্থিব সম্পদ সম্পর্কে । জিজ্ঞেস করা হবে, ‘ধন-সম্পদ কোন পথে উপার্জন করেছো?’ এবং ৪. ‘কোন পথে ধন সম্পদ ব্যয় করেছো?’ ৫. পঞ্চম প্রশ্ন হবে জ্ঞান সম্পর্কে, ‘দীন ইসলাম সম্পর্কে যতোটুকু জেনেছো, সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছো। (তিরমিযি)
কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাত বা নামাজের হিসাব হবে, যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তিরমিজি ২৭৮)
হযরত
আনাস (রাঃ) হতে বণিত, নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন কেয়ামতের দিন নারীদের কাছে সবপ্রথম
নামাজের ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে, (গুরুত্ব সহকারে ওয়াক্ত মোতাবেক নামাজ আদায় করেছে
কিনা) এরপর স্বামীর ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে যে তার সাথে েকমন আচরন করেছে
আনাস (রাঃ) হতে বণিত, নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন কেয়ামতের দিন নারীদের কাছে সবপ্রথম
নামাজের ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে, (গুরুত্ব সহকারে ওয়াক্ত মোতাবেক নামাজ আদায় করেছে
কিনা) এরপর স্বামীর ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে যে তার সাথে েকমন আচরন করেছে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কথা বলেছেন। জানিয়েছেন অধিকাংশ নারী জাহান্নামি। তাই নারীদেরকে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক সুন্দর ও নিরাপদ করার অনেক নসিহত পেশ করেছেন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যত উত্তম ও মধুর হবে, দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। কুরআন এবং হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, উত্তম স্ত্রী হলো তারা, যারা স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে কারণ পরস্পরের প্রতি যথাযথ সম্মানই দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের উপায়।
যে স্ত্রী ইসলামি শরিয়তের হুকুম-আহকাম মেনে চলে, স্বামীর আনুগত্য করে, তার খেদমত করে এবং নিজের সতীত্ব রক্ষা করে হাদিসে পাকে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমজান মাসের রোযা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে; তাকে বলা হবে- তুমি যে দরজা দিয়ে চাও জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (মুসনাদে আহমদ)
স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরণ কেমন হবে তা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এক নারীর আলাপচারিতায় ফুটে ওঠেছে। হাদিসে এসেছে-
হজরত হুসাইন ইবনে মুহসিন থেকে বর্ণিত, তাঁর এক ফুফু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো প্রয়োজনে এসেছিলেন। তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ হলে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি বিবাহিতা? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি স্বামীর সঙ্গে কেমন আচরণ করে থাক? তিনি বললেন, আমি একেবারে অপারগ না হলে তার সেবা ও আনুগত্যে ত্রুটি করি না।
তখন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘স্বামীর সঙ্গে তোমার আচরণ কেমন তা ভেবে দেখ। কারণ স্বামীই তোমার জান্নাত কিংবা জাহান্নাম।’ (মুসনাদে আহমদ)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব স্বামী-স্ত্রীকে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। স্ত্রীদেরকে স্বামীর হকসমূহ যথাযথ রক্ষা করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই