করোনা তহবিলে ভিক্ষুকের দান। বিশ্বসেরা দানশীলের মুকুট এখন ভিক্ষুকের মাথায়...





বিশ্বসেরা দানশীলের মুকুটটি ভিক্ষুকের মাথায়
অনেকে বলছেন যখন কিছু অসাধু দায়িত্বশীলরা গরীবের ত্রাণ আত্মসাৎ করতে ব্যস্ত, চাল তেল চুরিতে ব্যস্ত তখন একজন ভিক্ষুক ইসলামের ত্রানকর্তা হযরত আবু বকরের আদর্শ গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল।
========
ধরুন আপনার কাছে ১০০টাকা আছে আপনি ২০ টাকা দান করলেন আর আপনার ভায়ের কাছে ১০ টাকা আছে সে ১০ টাকাই দান করল কার দানটা বড়? অবশ্যই আপনার ভায়ের দান বড়, কারন সে তার সবটুকুই দান করেছেন। তাবুকের যুদ্ধের সময় মহানবী (দঃ) যখন দান করার আহ্বান জানালেন তখন হযরত ওমর (রাঃ) এর অনেক টাকা পয়সা ছিল তিনি তার টাকা পয়সার অর্ধেক নিয়ে আসলেন, আর আবু বকরের তেমন টাকা পয়সা ছিল না কিন্তু তিনি তার ঘরে যা কিছু ছিল সবকিছুই নিয়ে আসলেন, যদিও মূল্যের বিচারে আবু বকরের সম্পদ কম ছিল কিন্তু দানের বিচার সেদিন আব বকরের দানই সেরা দান হিসেবে বিবেচ্য হয়েছিল।
আজ করোনা ভাইরাসের কারনে সারা বিশ্ব লকডাউন লক্ষ কোটি মানুষ অর্থ ও খাদ্যের অভাবে, আর এমন সময় দিনমজুর অসহায় মানুষের পাশে মানুষ নানান ভাবে দাঁড়াচ্ছেন, সাহায্য করছেন।
কাশ্মিরের এক মহিলা হজ্বের ৫ লক্ষ রুপি ত্রান তহবিলে দিয়ে দিয়েছৈন,
ব্রিটেনের এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসের যারা চিকিৎসক তাদের জন্য তার নিজস্ব বিমানটি দান করে দিলেন
ভারতীয় এক ব্যবসায়ী আদম প্রেমজি ভারতের ত্রান তহবিলে ৫০ হাজার কোটি রুপি দান করেছেন
এভাবে সারা বিশ্বে যে সব দানের খবর এ পযন্ত শুনেছেন সবগুলি দানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দান হল বাংলাদেশের এক ভিক্ষিুকের দান, শ্রেষ্ঠ দানশীলের মুকুটটি এখন তারই মাথায়। নবীদের পর যে মানুষটি সেরা মানুষ তিনি হলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) সে আবু বকর যেমন যা ছিল সবই দান করে কেয়ামত পযন্ত মানুষকে আদর্শ শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে কিভাবে দান করতে হয়,
আজ ২০২০ সালের করোনা ভাইরাসের কারনে অসহায়দের জন্য যারা দান করছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশের এক ভিক্ষুকের দান শ্রেষ্ঠ মানব হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর আদর্শের ফসল।
অনেকে বলছেন যখন কিছু অসাধু দায়িত্বশীলরা গরীবের ত্রাণ আত্মসাৎ করতে ব্যস্ত, চাল তেল চুরিতে ব্যস্ত তখন একজন ভিক্ষুক ইসলামের ত্রানকর্তা হযরত আবু বকরের আদর্শ গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল।
৮০ বছর বয়সী নাজিম উদ্দিন ভিক্ষা করেই সংসার চালান। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতঘর মেরামতের জন্য দুই বছর ধরে ভিক্ষা করে সর্বসাকুল্যে ১০ হাজার টাকা জমালেও আরও টাকার প্রয়োজন।
আরও কিছু টাকা জমানোর অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ঘর মেরামত না করেই জমানো সর্বস্ব সম্বলটুকুই দান করলেন কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য খোলা তহবিলে। তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে।
গত রোববার ইউএনও রুবেল মাহমুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। এ সময় ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিদের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএন’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। কিন্তু ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
উল্টো ওই ভিক্ষুক বলেন, নিজের বসতঘর মেরামত করার জন্য দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য ওই তহবিলে দান করবেন তিনি। পরে মঙ্গলবার ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউএনও’র কাছে নিয়ে আসলে জমানো ১০ হাজার টাকা ইউএনও’র হাতে তুলে দেন ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন।

এই সংবাদ আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে, প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষনাৎ সে ভিক্ষুকের জন্য বিশাল উপহারের ঘোষনা দেন- প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারি জমিতে একটি ঘর, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি দোকান ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ভরণ-পোষণ এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে।




ইসলামের ত্রানকর্তা হযরত আবু বকর সিদ্দিকের আদর্শে আদর্শবান হয়ে এই ভিক্ষুক যেমন নিজের সবকিছুই অসহায়দের জন্য বিলিয়ে দিলেন, সে আদর্শে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে যথাসাধ্য অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে আসার মত আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দান করুন।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.