লাইলাতুল কদরে মহিলাদের আমল। শবে কদরে পিরিয়ডে নারীদের ১২টি দোয়া ও আমল। L...

আসসালামু আলাইকুম

ওয়ারাহমাতুল্লাহে ওয়াবারকাতুহ



আশা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে আপনারা সকলে ভালো আছেন।

শবে কদর বা লায়লাতুল কদরে মহিলারা কিভাবে আমল করবেন আজ আমি সে বিষয়ে কুরান ও সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করব, শবে  কদর এমন একটি রাত যে রাতের বননা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- লাইলাতুল কদরে খাইরুন মিন আলফি শাহার) এই লায়লাতুল কদর হল হাজার মাস থেকে উত্তম, অর্থ্যাৎ এক রাতের এবাদতে আপনি হাজার মাস রাত জেগে এবাদতের সাওয়াব অর্জন করতে পারবেন। তাছাড়া বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীস হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসুল (দঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে ব্যক্তি কদর রাতে ঈমান ও ইখলাসের সাথে কিয়াম করবে তার পূববর্তী যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

সুতরাং এই রাত যদি পেয়ে যান তাহলে সারা রাত জেগে এবাদত করতে হবে।

তবে মহিলাদের পিরিয়ড কালীন সময় তারাও যেন এই ফজিলতের রাতটিকে উদপান করতে পারে তার জন্য কিছু উপায় আছে যেমন প্রথমত দোয়া করা যা আমাদের প্রিয় নবী হযরত আয়শাকে শিখিয়েছেন তিরমিযি শরীফের হাদীস হযরত আয়শা বলেন আমি হুযুর (দঃ) কে প্রশ্ন করলাম হে আল্লাহর রাসুল যদি আমি শবে কদর সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে কি পড়ব, তখন প্রিয় নবী বললেন এভাবে দোয়া কর (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি) হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, সুতরাং আমাকে ক্ষমা কর।

তাহলে পিরিয়ড কালীন আপনি যেহেতু নামাজ কুরান তেলাওয়াত করতে পারবেন না আপনার জন্য এই ১টি কাজ করা সম্ভব তা হল দোয়া করা, যা নবীজি শিক্ষা দিয়েছেন। আর সে দোয়াতে ১টি বিষয় স্পষ্ট তা হল ক্ষমা চাওয়া, ক্ষমা চাওয়ার এই দোয়াটির পাশাপাশি আপনারা এসতেগফার পড়বেন, আর বেশী বেশী এসতেগফারের দ্বারা আল্লাহ গুনাহ মাফ করেন, রিযিক বৃদ্ধি করে দেন, হায়াতে বরকত দান করেন, শুধু আসতাগফিরুল্লাহ  আসতাগফিরুল্লাহ এভাবে জিকির করতে পারবেন,

অথবা, (আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জানবিয়াউ ওয়াআতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম) পড়বেন। কমপক্ষে ১০০ বার। তাহলে আপনি সুন্দর করে অজু করে এ দোয়া ও এসতেগফার এর আমল করবেন।

২য় আমল হল জিকির- মহিলারা পিরিয়ড অবস্থায় জিকির করতে পারবেন, তাই অজু করে বসে বসে জিকির করবেন - তিরমিযী শরীফের হাদীস হযরত আবুদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (দঃ) এরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন আমল সম্পর্কে সুসংবাদ দিবনা, যা হতে তোমাদের সর্বোত্তম আমল, তোমাদের মুনিবের নিকটও পছন্দনীয় এবং মর্যাদার নিরীখে যা বুলন্দ, স্বর্ণ ও সম্পদ ব্যয় করার চেয়েও উত্তম, এমনকি শত্রুর সাথে জিহাদ করা অপেক্ষাও উত্তম। সাহাবীগন আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসুল আপনি আমাদেরকে বলুন, তখন রাসুল (দঃ) এরশাদ করলেন তা হল আল্লাহর জিকির। তাহলে আপনি পিরিয়ডের কারনে নাপাক হলেও অজু করে বসে বসে আপনি এই উত্তম আমলটি করতে পারেন,

এবার আসুন জিকিরে কি পড়বেন?

তিরমিজি শরীফের হাদীস-

হযরত জাবের (রাঃ) বলেন ,রাসূল (সাঃ) কে আমি বলিতে শুনিয়াছি ,সকল জিকিরের মধ্যে উত্তম জিকির হইতেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং সকল দোয়ার মধ্যে উত্তম দোয়া হইল আলহামদুলিল্লাহ ।-(তিরমিজি)

তাছাড়া এমন ১০টি জিকির আছে যা খুবই সহজ তবে এর প্রতিদান অফুরন্ত সে জিকিরগুলি হল

 (প্রতিদিন ১০০ বার সুবহান আল্লাহ্ পাঠ করলে ১০০০ সাওয়াব লিখা হয় এবং ১০০০ গুনাহ মাফ করা হয় [সহীহ মুসলিম-/২০৭৩

() ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মীযানের পাল্লাকে ভারী করে দেয় [তিরমিযী-/৪৬২,ইবনে মাযাহ-/১২৪৯,হাকিম-/ ৫০৩,] 

() ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহসর্বোত্তম যিকর 

[তিরমিযী-/৪৬২,ইবনে মাযাহ-/১২৪৯, হাকিম-/ ৫০৩,] 

() ‘সুবহান আল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ  ওয়ালা  ইলাহা  ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর’ এই কালিমা গুলি আল্লাহর নিকট অধিক  প্রিয় এবং নবী (সঃ) বলেনঃ পৃথিবীর সমস্ত জিনিসের চইতে আমার নিকট অধিক প্রিয় [ সহীহ মুসলিম -/১৬৮৫,  /২০৭২

 

(যে ব্যক্তি সুবহানাল্লাহি  ওয়া বিহামদিহী  প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করবে সমুদ্রের ফেনা পরিমান (সগীরা) গুনাহ থাকলে  ও তাকে মাফ করে দেওয়া হবে [সহীহ আল-বুখারী-/১৬৮,সহীহ মুসলিম-/২০৭১] 

(নবী (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বি –হামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম’ এই কালীমাগুলি জিহ্বায় উচ্চারনে সহজ,  মীযানের পাল্লায় ভারী, দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রিয় [সহিহ আল- বুখারী-/ ১৬৮,সহীহ মুসলিম-/২০৭২] 

(যে ব্যক্তি সুবহানাল্লাহিল  আযীমি ওয়াবি  হামদিহীপাঠ করবে প্রতিবারে তার জন্য জান্নাতে একটি করে (জান্নাতী) খেজুর গাছ রোপন করা হবে [আত-তিরমিযী-/৫১১,আল-হাকীম-/৫০১, সহীহ আল-জামে’-/৫৩১, সহীহ আত-তিরমিজী-/১৬০] 

(নবী (সা.) বলেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহহচ্ছে জান্নাতের গুপ্তধন সমুহের মধ্যে একটি গুপ্তধন [ সহীহ আল-বুখারী -১১/২১৩, সহীহ মুসলিম-/২০৭৬] 

(নবী (সা.) বলেন, ‘সুবহান আল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকব ওয়ালা হাওলা  ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ এই কালীমাগুলি হচ্ছে অবশিষ্ট নেকআমল সমুহআহমাদ (সহীহ)-৫১৩, মাজমাউজ  জাওয়াঈদ-/২৯৭ ] 

(১০নবী(সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশ বার রহমত বরষন করবেন- আল্লাহুম্মা  সাল্লি ’ আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া ’আলা আলি  মুহাম্মাদিন্  কামা সাল্লায়তা ’ আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ আল্লাহুম্মা বারিক ’আলা  মুহাম্মাদিঁওয়া ’ আলা  আলি  মুহাম্মাদিন্  কামা বারাকতা ’আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ এবং তিনি (সা.) আরো বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি সকালে দশবার এবং বিকেলে দশবার দুরুদ পাঠ করবে সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত পাবে ” [তাবারানী, মাজময়াউজ জাওয়াঈদ-১০/১২০, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব-/২৭৩]

তাহলে হাদীসে বর্ণিত এসব জিকির আপনি ১০০ বার করে পড়তে পারেন, বেশী বেশী দরুদ শরীফ পড়বেন  এরপর নিজ ভাষায়ও দোয়া করবেন, নিজের জন্য নিজের পরিবার পরিজন ও দেশ বাসীর জন্য দোয়া করতে পারেন।

 

 


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.