স্বামী কি স্ত্রীর খেদমত করতে (পা টিপতে) পারবে? কোরান ও হাদীসের আলোকে জবাব।
স্বামী কি স্ত্রীর খেদমত করতে (পা টিপতে) পারবে?
কুরআন এবং হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, উত্তম স্ত্রী হলো তারা, যারা স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে কারণ পরস্পরের প্রতি যথাযথ সম্মানই দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের উপায়।
অতঃপর স্বামীর ধন-সম্পদ সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নিজেদের সতীত্ব রক্ষায় সতর্ক থাকে। স্বামীর উপস্থিত কিংবা অনুপস্থিতিতে এ দুটি কাজ স্ত্রীর প্রধান কর্তব্য।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কতটা গাঢ় তার প্রমাণ কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা তা ঘোষণা করেন-
‘তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭)
‘তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭)
সুতরাং স্ত্রীর উচিত স্বামীর উপস্থিত-অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় নিজের ইজ্জত আব্রুর হেফাজত করা। স্বামীর আনন্দে নিজেকে সম্পৃক্ত করা। হাদিসে পাকে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী হলো (সে-ই, যে) যখন তুমি তার দিকে তাকাও তখন সে তোমাকে আনন্দিত করে। যখন তাকে আদেশ কর তখন সে আনুগত্য করে আর যখন তুমি স্থানান্তরে যাও তখন সে তার ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে এবং সম্পদ হেফাযত করে।’
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী হলো (সে-ই, যে) যখন তুমি তার দিকে তাকাও তখন সে তোমাকে আনন্দিত করে। যখন তাকে আদেশ কর তখন সে আনুগত্য করে আর যখন তুমি স্থানান্তরে যাও তখন সে তার ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে এবং সম্পদ হেফাযত করে।’
তাছাড়া যে স্ত্রী ইসলামি শরিয়তের হুকুম-আহকাম মেনে চলে, স্বামীর আনুগত্য করে, তার খেদমত করে এবং নিজের সতীত্ব রক্ষা করে হাদিসে পাকে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমজান মাসের রোযা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে; তাকে বলা হবে- তুমি যে দরজা দিয়ে চাও জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (মুসনাদে আহমদ)
আবার যে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে না এবং স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে তার সম্পর্কে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তার কোনো নামাজ কবুল হয় না, কোনো নেক আমল ওপরে উঠানো হয় না; যতক্ষণ স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হবে।’ (ইবনে হিব্বান)
স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরণ কেমন হবে তা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এক নারীর আলাপচারিতায় ফুটে ওঠেছে। হাদিসে এসেছে-
হজরত হুসাইন ইবনে মুহসিন থেকে বর্ণিত, তাঁর এক ফুফু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো প্রয়োজনে এসেছিলেন। তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ হলে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি বিবাহিতা? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি স্বামীর সঙ্গে কেমন আচরণ করে থাক? তিনি বললেন, আমি একেবারে অপারগ না হলে তার সেবা ও আনুগত্যে ত্রুটি করি না।
তখন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘স্বামীর সঙ্গে তোমার আচরণ কেমন তা ভেবে দেখ। কারণ স্বামীই তোমার জান্নাত কিংবা জাহান্নাম।’ (মুসনাদে আহমদ
এতক্ষন যে সব হাদীস শুনলেন তাতে স্বামীর মর্যাদা ফুটে উঠেছে,
স্বামীর অনুগত হওয়া, স্বামীর সাথে উত্তম আচরন করা, স্বামীর খেদমত করার কথা স্পষ্ট
হয়েছে। এখন এত মর্যাদার আসনে আসিন যে স্বামী সে স্বামীকে যদি কোন স্ত্রী অসম্মান
করে, চাপ প্রয়োগ করে কোন কাজ করায়, তা ইসলাম সমথন করে না।
স্বামীর অনুগত হওয়া, স্বামীর সাথে উত্তম আচরন করা, স্বামীর খেদমত করার কথা স্পষ্ট
হয়েছে। এখন এত মর্যাদার আসনে আসিন যে স্বামী সে স্বামীকে যদি কোন স্ত্রী অসম্মান
করে, চাপ প্রয়োগ করে কোন কাজ করায়, তা ইসলাম সমথন করে না।
তবে স্ত্রী যেমন খুশী মনে স্বামীর খেদমত করেন, ঠিক প্রয়োজনে যদি
স্বামীও স্ত্রীর খেদমত করেন তাতে দোষের কিছুই নাই বরং একজন রোগীর সেবা করাতে রয়েছে
অফুরন্ত নেকী। তাই স্ত্রী যেমন স্বামীর খেদমত করতে পারেন স্বামীও স্ত্রীর খেদমত
করতে পারেন। তাছাড়া বিশ্বনবি মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে রয়েছে স্ত্রীকে সহযোগিতায় এক অনুকরণীয় উত্তম আদর্শ। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হলো-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে কী কাজ করতেন? উত্তরে হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরের মানুষদের সেবায় নানা কাজে অংশ নিতেন। নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন। (বুখারি)
স্বামীও স্ত্রীর খেদমত করেন তাতে দোষের কিছুই নাই বরং একজন রোগীর সেবা করাতে রয়েছে
অফুরন্ত নেকী। তাই স্ত্রী যেমন স্বামীর খেদমত করতে পারেন স্বামীও স্ত্রীর খেদমত
করতে পারেন। তাছাড়া বিশ্বনবি মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে রয়েছে স্ত্রীকে সহযোগিতায় এক অনুকরণীয় উত্তম আদর্শ। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হলো-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে কী কাজ করতেন? উত্তরে হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরের মানুষদের সেবায় নানা কাজে অংশ নিতেন। নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন। (বুখারি)
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তাঁর কাপড় সেলাই করতেন; নিজের জুতা মেরামত করতেন এবং সাংসারিক যাবতীয় কাজে অংশ গ্রহণ করতেন। (ফতহুল বারি)
অতএব আমাদেরও উচিত সব ক্ষেত্রে নবীর আদশকে অনুসরন
করা নবীজি স্বামীর খেদমতের যেরুপ ফজিলত বণনা করেছেন, তেমনি স্ত্রীদের কাজে নিজে
অংশ গ্রহণ করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন,
করা নবীজি স্বামীর খেদমতের যেরুপ ফজিলত বণনা করেছেন, তেমনি স্ত্রীদের কাজে নিজে
অংশ গ্রহণ করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন,
সংসারের সুখ-শান্তির জন্য স্ত্রীদের কাজের মৌখিক প্রশংসা নয় সরাসরি হাতের কাজে সহযোগিতা করে বিশ্বনবির সুন্নাত পালনে এগিয়ে আসা আবশ্যক। খাবারের পর নিজের প্লেটটা নিজেই ধুয়ে রাখা। স্ত্রীদের কাজের সময় শিশু সন্তানকে সামলিয়ে রাখা। ঘুমানোর সময় স্ত্রীরা যখন খাবার গুছানোর কাজে ব্যস্ত থাকে তখন স্বামীরা বিছানাটা পরিষ্কার করে মশারি টাঙানোর কাজটা সেরে ফেলা। বিশ্বনবি সাংসারিক কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করেছেন ভেবে কাজগুলো করলে সংসার জীবনে দুনিয়ার শান্তি আসবে তেমনি পরকালীন জীবনও হবে সাফল্যমণ্ডিত।


কোন মন্তব্য নেই