শেষ বিচার দিনে ৯ ধরনের লোকের বিচার ফয়সালা







আজ আমি পবিত্র হাদীস শরীফের আলোকে হাশরের মাঠে প্রকার লোকের শিউড়ে উঠার মত ভয়াবহ পরিণতির চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করব




প্রথমত হযরত মুসা (আঃ) এর চাচা/পিতার হাশর
বুখারী-৩১১৩। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পিতা/চাচা আযরের দেখা পাবেন। আযরের মুখমণ্ডল কালিমা এবং ধুলাবালি থাকবে। তখন ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) তাকে বলবেন, আমি কি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা/চাচা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না। এরপর ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) (আল্লাহর কাছে) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা/চাচা আজ আপনার দয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার থেকে অধিক অপমান আমার জন্য আর কি হতে পারে? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইব্রাহীম! তোমার পদতলে কি? তখন তিনি নিচের দিকে তাকাবেন। হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার/চাচার স্থানে সর্বশরীরে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে।





, বহু বিবাহকারীর হাশর
তিরমিযী ১১৪১, আবূ দাঊদ ২১৩৩, ইবনু মাজাহ ১৯৬৯, নাসায়ী ৩৯৪২, আহমাদ ৭৯৩৬,
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো পুরুষের দুজন সহধর্মিণী থাকে আর সে তাদের মধ্যে যদি ন্যায়বিচার না করে, তবে সে কিয়ামতের দিন একপাশ ভঙ্গ (অঙ্গহীন) অবস্থায় উঠবে
ব্যাখ্যা: যার দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকবে তার জন্য ওয়াজিব স্ত্রীদের খাদ্য বস্ত্র এবং তাদের কাছে রাত্রিযাপনে
ন্যায়বিচার বা সমতা রক্ষা করা। যে এটা করবে না, সে গুনাহগার হবে। হাদীসে বলা হয়েছে, সে কিয়ামতের দিন একদিকে অবশ তথা প্যারালাইসিসগ্রস্ত হয়ে উঠবে




, ভিক্ষুকের
হাশর
বুখারী ১৩৮৯।আবদুল্লাহ ইবনুউমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি সবসময় মানুষের কাছে চাইতে থাকে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোন গোশত থাকবেনা। তিনি আরো বলেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্য তাদের অতি কাছে আসবে, এমনকি ঘাম কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছবে। যখন তারা এই অবস্থায় থাকবে, তখন তারা সাহায্য চাইবে আদম (‘) এর কাছে, তারপর মূসা (‘) এর কাছে, তারপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে
আবদুল্লাহ (রহঃ) লায়স (রহঃ) এর মাধ্যমে ইবনু আবূ জাফর (রহঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তারপর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি যেতে যেতে জান্নাতের ফটকের কড়া ধরবেন। সেদিন আল্লাহ তাঁকে মাকামে মাহমূদে পৌঁছে দিবেন। হাশরের ময়দানে সমবেত সকলেই তাঁর প্রশংসা করবে।



,চিত্রশিল্পি ঘরে ছবি টানানো ওয়ালাদের
হাশর
মুয়াত্তা মালেক ১৮০২ নং হাদীস
নবী-পত্নী আয়েশা (রাঃ) একটি ছোট বালিশ ক্রয় করেছিলেন। তাতে ছবি অঙ্কিত ছিল। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাহির হতে এসে ঘরে প্রবেশ করার সময়) যখন তা দেখিলেন, তখন ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন না। আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারকে তা অপছন্দ হওয়ার লক্ষণ দেখিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহ তাহার রাসূলের কাছে তওবা করছি, আমি অপরাধ করেছি অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি কি রকম গদি ? আয়েশা (রাঃ) উত্তর দিলেন, এই গদিটি আমি আপনার জন্য ক্রয় করিয়াছি যে, আপনি এর উপর বসবেন এবং হেলান দিবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ছবি অঙ্কনকারীকে রোজ হাশরে আযাব দেওয়া হইবে এবং তাহাদেরকে বলা হইবে যে, তোমরা যা সৃষ্টি করিয়াছ, তা জীবিত কর (অর্থাৎ তাতে প্রাণ সঞ্চার কর) অতঃপর তিনি বলিলেন, যেই ঘরে ছবি থাকে, সেই ঘরে ফেরেশতা আসে না




, ইয়াজুজ মাজুজের হাশর
বুখারী-৩১১১। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ (হাশরের দিন) ডাকবেন, হে আদম (আলাইহিস সালাম)! তখন তিনি জবাব দিবেন, আমি হাযির আমি সৌভাগ্যবান এবং সকল কল্যাণ আপনার হাতেই। তখন আল্লাহ বলবেন জাহান্নামী দলকে বের করে দাও। আদম (আলাইহিস সালাম) বলবেন, জাহান্নামী দল কারা? আল্লাহ বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। সময় (চরম ভয়ের কারণে) ছোটরা বুড়ো হয়ে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী তাঁর গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুতঃ আল্লাহর শাস্তি কঠিন (২২ঃ ) সাহাবাগণ বলবেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (প্রতি হাযারের মধ্যে একজন) আমাদের মধ্যে সেই একজন কে? তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা তোমাদের মধ্য থেকে একজন আর এক হাযারের অবশিষ্ট ইয়াজুজ-মাজুজ হবে।
তারপর তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রান, তাঁর কসম। আমি আশা করি, তোমরা (যারা আমার উম্মত) সমস্ত জান্নাতবাসীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন আমরা সুসংবাদ শুনে) আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। এরপর তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে। আমরা পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। একথা শুনে আমরা আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা তো অন্যান্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কাল পশম অথবা কালো ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি সাদা পশম
, মুরদাতদের নাস্তিকের হাশর
বুখারী-৬০৮২। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে খুৎবা দিতে দাঁড়ালেন। এরপর বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের হাশর করা হবে খালি পা, উলঙ্গ খাতনাবিহীন অবস্থায়। আয়াতঃ ‏كَمَا بَدَأْنَا
أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ‏
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলেন যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছি তেমনিভাবে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করব। আর কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) কে পোশাক পরিধান করানো হবে। আমার উম্মাত থেকে কিছু লোককে আনা হবে আর তাদেরকে আনা হবে বামওয়ালাদের
(
বাম হাতে আমলনামা প্রাপ্ত) ভিতর থেকে। তখন আমি বলব, হে প্রভু। এরা তো আমার উম্মাত। এরপর আল্লাহ বলবেনঃ নিশ্চয়ই তুমি জানো না তোমার পরে এরা কি করেছে। তখন আমি আরয করব, যেমন আরয করেছে নেককার বান্দা অর্থাৎ ঈসা (আলাইহিস সালাম) আয়াতঃ ‏وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ
شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ‏}‏ ... ‏الْحَكِيمُ
অর্থাৎ যতদিন আমি ছিলাম আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম ... الْحَكِيمُ পর্যন্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর জবাব দেওয়া হবে। এরা সর্বদাই দ্বীন থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শনের ওপর বিদ্যমান ছিল।





, জালেমের হাশর
বুখারী-৬০৯০। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি তার ভাই এর ওপর যুলুম করেছে সে যেন তা থেকে মাফ নিয়ে নেয়, তার ভাই এর জন্য তার কাছ থেকে নেকী কেটে নেওয়ার পূর্বে। কেননা সেখানে (হাশরের ময়দানে) কোন দীনার বা দিরহাম পাওয়া যাবে না। তার কাছে যদি নেকী না থাকে তবে তার (মাজলুম) ভাই এর গোনাহ এনে তার উপর ছুঁড়ে মারা হবে




, ব্যবসায়ীদের হাশর
সহীহ : তিরমিযী ১২১০, ইবনু মাজাহ ২১৪৬, দারিমী ২৫৮০
উবায়দ ইবনু রিফাআহ্ তাঁর পিতার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে ব্যবসায়ীগণ বদকাররূপে উপস্থিত হবেন। অবশ্য যারা মুত্তাক্বী, পরহেযগার, নেককার সত্যবাদী হবেন তারা এরূপ হবেন না।




কাযীইয়ায বলেনঃ যেহেতু ব্যবসায়ীদের
লেনদেনের মধ্যে প্রকৃত বিষয় গোপন করে ধোঁকা দেয়ার প্রবণতা বেশী এবং পণ্য কাটতির জন্য মিথ্যা শপথের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে, তাই তাদেরকে পাপী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে যারা হারাম কার্য পরিহার করে, শপথ করলে সত্য শপথ করে এবং শপথ পূর্ণ করে, আর সাধারণভাবে সত্য কথা বলে তাদেরকে পাপীদের দল থেকে পৃথক করেছেন।





, ভুমি দস্যুদের
হাশর
আহমাদ ১৭৫৫৮, সহীহ আত্ তারগীব ১৮৬৮
ইয়ালা ইবনু মুররাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো কোনো জমিন নিয়ে নিয়েছে, তাকে তার মাটি হাশরের মাঠে নিতে বাধ্য করা হবে
ত্ববারানী এবং যিয়া (রহঃ) হাকাম বিন হারিস (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তির কোনো পথ গ্রাস করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে, সাত জমিনসহ সে তা বহন করবে
মসনদে আহমাদ এর ১৭৫৭১ নং হাদীস


হযরত [ইয়ালা ইবনু মুররাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে কেউ অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত জমি নিয়ে নেয়, আল্লাহ তাকে তার জমিনের সাত তবকের শেষ পর্যন্ত খুঁড়তে বাধ্য করবেন। অতঃপর তার গলায় তা শিকলরূপে পরিয়ে দেয়া হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের (হাশরের) বিচার শেষ করা হয়

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.