জিলহজ্ব মাসের ফজিলত আমল ও কুরবানীর মাসায়ালা
জিলক্বদ মাসের ৪র্থ খুতবা
জিলহজ্ব মাসের ফজিলত আমল ও কুরবানীর মাসায়ালা
(ওয়াল ফজরি ওয়ালায়ালিন
আশরিন)
শপথ
ফজরের এবং ১০ রাতের । মুফাসিরিন একরাম ফজর বলতে কুরবানির দিন অথ্যাৎ ১০ জিলহজ্বের ফজরের
কথা উল্লেখ করেছেন এবং ১০ রাত বলতে জিলহজ্বের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখের রাত বলে উল্লেখ
করেছেন।
আল্লাহ
তায়ালা যখন কোন কিছুর শপথ করেন তখন এর গুরুত্ব বুঝানোর জন্যই শপথ করেন এখানে দেখা যাচ্ছে
আল্লাহ তায়ালা কুরবানির দিনের সকালের এবং জিলহজ্ব মাসের ১ম ১০ রাতের শপথ করছে। সুতরাং
আমাদের জানতে হবে এ ১০ দিনের ফজিলত কি এবং এ ১০ দিনে আমাদের কিভাবে কাটাতে হবে।
জিলহজ্ব মাস ইসলামের আগেও সম্মানিত ছিল
মনে
রাখবেন জিলহজ্ব মাস শুধু মুসলমানদের জন্যই সম্মানের মাস নয় বরং এ মাসকে কাফেরেরাও সম্মান
করত, এ মাসটি ৪টি হারাম মাসের অন্যতম যেমন জিলক্বদ, জিলহজ্ব, মহররম ও রজব এ ৪টি মাসে
ইসলাম পূর্বে কাফেরেরাও এ ৪ মাসের সম্মানার্থে কোন ধরনের যুদ্ধ বিগ্রহ, ঝগড়া বিবাদ
করত না। সে ব্যপারে একটি হাদীস দেখা যায় যার মাফহুম কিছুটা এমন যে
হাদীসের মাফহুম- একদিন বিশ্বনবীর কাছে একটি দল
এসে ইসলাম কবুল করল আর ইসলাম কবুল করে আরজ
করল এয়া রাসুলাল্লাহ আমরা যখন আপনার কাছে আসি তখন আমাদের পথে থাকে মুদার গোত্র তারা
হারাম মাস তথা জিলক্বদ জিলহজ্ব মহররম ও রজব মাস ছাড়া অন্য মাসে আমাদেরকে আসতে দেয় না,
তাই আমাদেরকে এমন কিছু আমল বলুন যা করলে আমরা জান্নাত লাভ করব।
দেখুন
এ হাদীসে বুঝা যায় মুদার গোত্র একটি কাফের গোত্র তারাও এ ৪ মাসকে সম্মান করত এবং এ
মাস সমুহে কারো সাথে কোন দ্বন্দ্বে লিপ্ত হত না।
এখন
আমরা মুসলমান হিসাবে এ মাসসমুহকে আরো বেশী সম্মান করা উচিত।
জিলহজ্বের ১০ দিনের আমল আল্লাহর প্রিয়
বুখারী হাদীস ৯৬৪৯
হাদীসের মাফহুম- অন্যান্য দিনের নেক আমল এর চাইতে
জিলহজ্বের ১ম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়। সাহাবাগন প্রশ্ন করল এয়া রাসুলাল্লাহ
(দঃ) জিহাদও কি নয়? তখন নবীজি ফরমালেন এ ১০ দিনের আমলের তুলনায় আল্লাহর কাছে জিহাদও
প্রিয় নয় তবে যে ব্যক্তি নিজের জান মাল দিয়ে জিহাদ করে সেটা শুধু আফযল, বাকী কোন আমল
এ ১০ দিনের আমলের তুলনায় আফযল নয়।
তিরমিযি হাদীস নং ৭৫৮
হাদীসের মাফহুম- হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত
বিশ্বনবী (দঃ) বলেন জিলহজ্বের ১০ দিনের এবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের তুলনায় বেশী
প্রিয়, প্রত্যেক দিনের রোযা ১ বছরের ন্যায় আর প্রত্যেক রাতের এবাদত শবে কদরের এবাদতের
ন্যায়। (বায়হাকী হাদীস নং ৩৭৫৭)
মনে রাখবেন- যদিও এ ১০ দিনের অসংখ্য
ফজিলত রয়েছে তবুও এ ১০ দিন রমজানের শবে কদরের সমান ফজিলতময় হবে না।
সব এবাদতের সমাবেশ
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহঃ) উনার কিতাব ফতহুল
বারীতে লিখেন যে আল্লাহ তায়ালা জিলহজ্বের প্রথম দশকের এত বেশী ফজিলত রাখার কারন হল
এ ১০ দিনে সকল এবাদত একত্রিত হয়ে যায়, যেমন কুরবানী, হজ্ব, আরাফার দিনের রোযা, ১থেকে
৯ তারিখের রোযা, সদকা, নামাজ সব ধরনের এবাদত এ ১০ দিনে একত্রিত হয়ে যায়, পক্ষান্তরে
অন্যান্য দিবস সমুহে রোযা নামাজ থাকলেও হজ্ব কুরবানী নাই।
জিলহজ্বের ১-১০ তারিখের তাকবীরের ফজিলত
আমরা সাধারনত ৯-১৩ তারিখ তাকবীর বলি যা নির্ধারিত
প্রত্যেক ফরয নামাজের পর পড়তে হয়, অথচ হাদীস শরীফে জিলহজ্ব মাসের ১ তারিখ থেকে সব সময়
তকবীর বলার গুরুত্বারুপ করা হয়েছে। যেমন মসনদে আহমদের ২য় খন্ডে ৭৫ নং হাদীস বিশ্বনবী
(দঃ) এরশাদ করেন অন্যান্য দিনের তুলনায় জিলহজ্ব মাসের নেক আমল আল্লাহর কাছে বেশী মর্যাদাবান
সুতরাং তোমরা এ দিনসমুহে বেশী বেশী আল্লাহর একত্ববাদ বয়ান কর, আল্লাহর বড়ত্ব বয়ান কর
এবং আল্লাহ হামদ বয়ান কর।
সাহাবাদের তাকবীর পড়া
বুখারীর হাদীস নং- ৯৬৯
হযরত
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) জিলহজ্ব মাসের ১-১০ তারিখ বাজারে যাওয়ার
সময়ও উচ্চস্বরে তাকবীর পড়ত।
জিলহজ্ব মাসের জিকির/তাকবীর
আমরা সাধারণত ৯ তারিখের ফযর থেকে ১৩ তারিখের আছর
পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করি যা সকলেই আমল করি যা মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৪থ খন্ডের ১৯৪
নং হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যেমন তাকবীর (আল্লাহু
আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল
হামদ) এ তাকবীর সব সময় হাটতে বসতে পাঠ করতে পারেন,
আরো একটি তাকবীর- (আল্লাহু আকবার কাবিরা ওয়ালহামদুলিল্লাহে
কাছিরা ওয়া ছুবহানাল্লাহে বুকরাতাও ওয়া আছিলা)
ফতহুল বারীতে রয়েছে (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার কাবিরা
আল্লাহু আকবার)
অথবা
(সুবহানাল্লাহে ওয়ালহামদুলিল্লাহে ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল
হামদ)
আরাফার দিনের দুয়াঃ
ইখলাছ ও বিশ্বাসের সাথে এ দিনে এ কালিমাটি বেশী বেশী পড়া উচিত। নবীজীআরাফার দিন এ কালিমাটি খুব বেশী পড়তেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯২২ )
لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ
وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلٰى كُلَّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ
বাংলা উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহুওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মূলকু ওয়া লাহুলহামদুবিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্কদির।
১ম ৯ দিনের রোযা
আবু
দাউদ শরীফের ২৪৩৭ নং হাদীসের মাধ্যমে জানা যায় বিশ্বনবী (দঃ) জিলহজ্ব মাস আসলে ১থেকে
৯ তারিখ পর্যন্ত নফল রোযা, মহররমের ১০ তারিখের রোযা, আইয়্যামের বীজ তথা চন্দ্র মাসের
১৩,১৪,১৫ তারিখের রোযা কখনো ছাড়তেন না।
মসনদে
আহমদের ৬/২৮৭- বিশ্বনবী (দঃ) ৪টি কাজ কখনো ছাড়তেন না আশুরার রোযা, জিলহজ্বের ১-৯ তারিখের
মোট ৯টি রোযা, মাসের ৩ রোযা এবং ফজরের ২ সুন্নত এ ৪ আমল কখনো ছাড়তেন না।
নফল নামাজের ফজিলত
মুসলিম ৪৪৮ নং হাদীস- বিশ্বনবী (দঃ) এর্রশাদ করেন
আল্লাহর জন্য তোমরা নিজেদের সিজদাকে আবশ্যক করে নাও কেননা যখন বান্দা আল্লাহ কে সিজদা
করে তখন আল্লাহ তায়ালা সে সেজদার বদলায় বান্দার ১টি মর্যাদা বৃদ্ধি ১টি গুনাহ মাফ করে
দেন।
সুতরাং
এ আফযল দিনসমুহে বেশী বেশী নফল নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন।
বিশেষ করে এশার নামাজ জামাতে পড়বেন এ ১০ দিন তাহাজ্জুদ
নামাজ, সালাতুল তাসবিহ, কুরান তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ, বেশী বেশী এসতেগফার, এর মাধ্যমে
রাতের বেশীর ভাগ অংশ কাটাবেন এবং ফজরের নামাজ জামায়াতে অবশ্যই পড়বেন। এবং নিজের সকল
নেক মকসদের জন্য দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ শবে কদরের পর সবচেয়ে মর্যাদাবান এ ১০ রাতে আপনি
আপনার মকসদ পুরনের বেশী বেশী দোয়া করতে পরেন।
গুনাহে কবিরা ও হারাম
কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে
কুরবানীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
“ইবরাহিমি জজবা”
জিলহজ্ব মাসে কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ এবাদত,
এটি হল মুলত হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর নকল, ইবরাহিম (আঃ) যে ত্যাগ করেছেন তা আল্লাহর কাছে
বেশী পছন্দ হয়েছে, সুতরাং ইবরাহিমি সে সুন্নতকে জীবিত রাখতে কেয়ামত পর্যন্ত উম্মতে
মুহাম্মদীর উপর কুরবানী ওয়াজিব করা হয়েছে, এখন
কারো উপর যখন কুরবানী ওয়াজিব হয় তখন তার সে কুরবানীতে দেখা হবে তাতে সে ইবরাহিম
(আঃ) এর নিয়তের যে পিউরিটি ছিল তা আছে কিনা? ইবরাহিম (আঃ) শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির
জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় আদরের ছেলেকে কুরবানী করেছিলেন, কোন ধরনের দ্বিধা ছাড়া আজো
যদি কেহ অনুরুপ আন্তরিকতার সাথে একমাত্র আল্লাহকে খুশী করার নিমিত্তে কেহ কুরবানী করে
তা আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কবুল করবেন।
লোক দেখানো/ফেসবুকের কুরবানী গুনাহ
কেহ যদি বাজারের সবচেয়ে বড় পশুটি কিনে আনে শুধু
ফেইসবুকে ছবি দিয়ে মানুষের ভালো ভালো কমেন্ট পাওয়ার জন্য, কিংবা এলাকার সকলের মুখে
এ কথা শুনার নিয়তে যে চৌধুরী সাহেব অনেক বড় গিরু কিনেছে, যদি এমন লোক দেখানো কিংবা
বাহবা পাওয়ার নিয়তে কেহ কুরবানী করেন তা কখনো কবুল হবে না। শুধু হতে হবে আল্লাহর জন্য।
আল্লাহকে রাজি/খুশী করার জন্য।
বেয়াই বাড়ীতে পশু দেয়া নেয়া
আমাদের দেশে বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটি রেওয়াজ
আছে কুরবানী আসলে মেয়ের শশুড় বাড়ীতে পশু দিতে হবে, এখন ধনী বাবা তার মেয়ের জন্য স্বইচ্ছায়
কোন ধরনের প্ররোচনা ছাড়া, কোন ধরনের পেরেশানি ছাড়া, ভালো সামর্থ আছে এমন লোক তাঁর মেয়ের
জন্য হাদীয়া তোহফা হিসেবে কিছু দিতেই পারে, কিন্তু এই দেয়াটা কিন্তু অন্য একজন যিনি
দরিদ্র পিতা তার জন্য অনেক বড় পেরেশানীর কারন হয়ে থাকে, তাই এই রছম আমাদের সমাজ থেকে দুর হওয়া উচিত। এমন রছম চালু করা
যা অন্যের পেরেশানী ও দুঃখের কারন হয় তা পাপ, তেমনি কেহ যদি এমন পাপ কাজের জন্য চাপাচাপি
করে যেমন অনেকে নানান ভাবে চাপ সৃষ্টি করে যে কুরবানীর সময় গরুদিতে হবে, ছাগল দিতে
হবে, এসব বলা আরো বড় পাপ। তাই ধনীরা সামর্থ থাকা সত্বেও এ কাজটি থেকে বিরত থাকতে হবে
সমাজের গরীব বাবাদের কল্যানে।
এবার আসুন মাসায়ালা জানা যাক:
মেয়ের বাবার বাড়ী থেকে যদি স্বইচছায়
খুশীতে পশু দেয় সে পশু দিয়ে যদি কুরবানী করে কুরবানী হবে কিনা?
মনে রাখবেন একটি হল তাকওয়া অন্যটি হল ফতওয়া, তাকওয়া
হল নিজে টাকা খরচ করে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী দেয়া এতেই বেশী নেকী, আর ফতোয়া হল যদি
কেহ মেয়ের বাবার বাড়ী থেকে যে পশু দিয়েছে তা দিয়ে কুরবানী করে তাতেও কুরবানী আদায় হয়ে
যাবে, কারন সে পশুটি মুলত উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে আর সে উপহার যখন ছেলে গ্রহণ করে
নিল িএখন সেটি তার মালিকানায় চলে আসল এখন সেটি যদি সে চায় বিক্রী করতে পারে, চাইলে
সে জবেহ করে মানুষকে খাইয়ে দিতে পারে অথবা চাইলে সে এ পশু দিয়ে কুরবানীও করতে পারে।
যে ভুলে ভাগে কুরবানী
কবুল হয়না (শেষ)
হারাম
উপার্জনের টাকায় কুরবানী: যদি কারো উপার্জন স্পষ্ট হারাম হয় যেমন ঘুষের
টাকা, সুদের টাকা, চুরির টাকা, প্রতারনার টাকা, সে টাকা দিয়ে যদি সে কুরবানীর পশু ক্রয়
করে আনে তাহলে তার সে হারাম টাকার পশু দিয়ে কুরবানী করলে তার উপর থেকে কুরবানীর জিম্মদারী
আদায় হলেও সে কুরবানী কিন্তু আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। যেমন কেহ কারো কাছ থেকে কাপড়
চুরি করে নিয়ে আসল আর সে কাপড় পরিধান করে সে নামাজ পড়ল, যে নামাজ সে পড়েছে সে নামাজের
দায়িত্ব বা জিম্মাদারী তার উপর থেকে আদায় হয়ে গেলেও চুরির কাপড় পরিধান করে নামাজ পড়ায়
সে নামাজ আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
সুতরাং যারা অংশীদারী কুরবানী
করেন তাদের এ ব্যপারে খুবই সতর্ক থাকা দরকার যে যাকে কুরবানীতে শামিল করছেন তার রোজগার
হালাল কিনা হারাম সেটা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে নিবেন।
যদি
কারো নিয়ত হয় গোস্ত খাওয়ার: ভাগে কুরবানী যারা করবেন যখন আপনি কাউকে সাথে
অংশীদার নিবেন দেখতে হবে আপনার সে অংশীদার আদৌ কুরবানীর নিয়তে কুরবানী করছে নাকি গোস্ত
খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করছে, যদি ৭ জনে মিলে ১টি গরু কিনে আর সে ৭ জনের ১ জনও যদি গোস্ত
খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করেন তাহলে বাকী ৬ জনের কুরবানীও হবে না। তাই এ ব্যপারে বিশেষ
সতর্ক থাকতে হবে।
কুরবানী কাদের উপর ওয়াজিব?
নারীরা জানেনা! ৯০% নারীর কুরবানী ওয়াজিব
কুরবানী করার সময় হল ১০, ১১,
১২ জুলহিজ্জা এ ৩ দিনের মধ্যে ঘরের যে ব্যক্তির কাছে কুরবানীর শর্ত শরায়েত পাওয়া যাবে
তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। চাই তিনি নারী হউক চাই পুরুষ।
কুরবানীর শর্তসমুহ হল
১। মুসলমান হওয়া, সুতরাং কোন অমুসলমানের উপর কুরবানী ওয়াজিব
নয়,
২। জ্ঞানবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, সুতরাং পাগল ও অপ্রাপ্তবয়স্কের
উপর ওয়াজিব নয়
৩। মুকিম হওয়া, সুতরাং মুফাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়
৪। নেসাবের মালিক হওয়া। আর মালেকে
নেসাব বলা হয় যার কাছে ৭.৫ তোলা স্বর্ণ কিংবা ৫২.৫ তোলা রুপা অথবা ৫২.৫ তোলা রুপার
সমপরিমান নগদ অর্থ থাকে কিংবা ৫২.৫ তোলা রুপার সমপরিমান ব্যবসার সম্পদ থাকে, অথবা প্রয়োজনীয়
মালামাল থেকে অতিরিক্ত কোন মালামাল যদি থাকে যার মুল্য ৫২.৫ তোলা রুপার সমপরিমান হয়,
অতিরিক্ত মালামাল বলতে যা আপনার
নিত্য প্রয়োজনে লাগে তা ছাড়া অতিরিক্ত কিছু থাকলে যেমন আপনার কাছে ৫ জোড়া কাপড় ব্যবহার
হয় বাকী ২০ জোড়া কাপড় আলমারিতে এমনিতেই পড়ে আছে তা অতিরিক্ত মাল হবে, তেমনি আপনার কাছে
ইমিটেশনের পাথরের এমন কিছু সেট আছে যার মুল্য হিসাব করলে প্রায় লক্ষ টাকা হবে তাহলে
সেগুলিও অতিরিক্ত মালামালের লিস্টে যাবে, জাকাতের বেলায় মাসায়ালা হল কারো কাছে যদি
থাকার জন্য ২টি ঘর থাকে তাহলে সে ঘরের হিসাব হবে না কিন্তু কুরবানীর বেলায় মাসায়ালা
হল যদি কারো কাছে থাকার জন্য ২টি ঘর থাকে তাহলে
১টি নিজের প্রয়োজন ধরা হবে অন্যটি অতিরিক্ত ধরা হবে এবং সেটির মুল্য হিসাব করে যদি
দেখা যায় ৫২.৫ তোলা রুপার সমপরিমান হয় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। তাছাড়া
কুরবানীর জন্য সম্পদ ১ বছর পর্যন্ত মালিকানায় থাকা শর্ত নয়, বরং কুরবানীর ৩ দিনে যদি
নিসাবের সমপরিমান মাল মওজুদ থাকে তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হবে।
সুতরাং মুল কথা হল ঘরের সকলে
আজই কাগজ ও কলম নিয়ে বসে হিসাব করুন লিখুন আপনার মালিকানায় কি কি আছে
স্বর্ণ কতটুকু আছে পাশে লিখুন না থাকলে ক্রস দিয়ে দিন
রুপা কতটুকু লিখুন
ক্যাশ কতটাকা আছে লিখুন
ব্যবসায়র মালামাল কতটুকু লিখুন
এরপর আপনি যদি কাউকে কর্জ দিয়ে থাকেন সব লিখুন
এরপর ঘরে জীবনের প্রয়োজনে লাগে এমন মালামাল ছাড়া অতিরিক্ত যতগুলি
মালামাল আছে সবগুলি লিখে তার মূল্য লিখুন
মোটকথা স্বর্ণ, রুপা, ক্যাশ,
ব্যবসার মাল, যা ধার দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত মালামাল এ ৬ ধরনের জিনিষের মূল্য হিসাব করে
নিন এবার কেহ যদি আপনার কাছে পাওনা থাকে সেটা আপনার সম্পদের মোট হিসাব থেকে মাইনাস
করুন এবার আপনার সামনে যে এমাউন্ট এসেছে তা যদি ৫২.৫ তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমান হয়
(বর্তমান বাজার দরে ৫২.৫ তোলা রুপার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা) অথ্যাৎ আপনার কাছে
যদি ৬০ হাজার টাকা মুল্যের সম্পদ কুরবানীর
৩ দিন মওজুদ থাকে তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব। যদি আপনি মুসলিম, সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক
ও মুকিম হয়ে থাকেন। আর যদি তেমন সম্পদ না থাকে তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হবে না।
এখন ঘরের মহিলারা কুরবানী করেন
না অথচ যদি হিসাব করা হয় প্রায় ৯০% মহিলার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায়, যেমন ধরুন একজন
মহিলার কাছে ১ তোলা স্বর্ণ আছে যা মূল্য ৪০ হাজার, তারপর ধরুন ৪ তোলা রুপা আছে যার
মুল্য ৫ হাজার এরপর তার কাছে কিছু অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পাথরের গহনা আছে যার মুল্য ১০
হাজার এবং আরো আছে নগদ ১০ হাজার টাকা এখন সব মিলিয়ে ৬৫ হাজার টাকা হয়ে যায় ফলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে গেল, কিন্তু
অতি দুঃখ জনক হলেও সত্যি আমাদের দেশের মহিলারা কুরবানী করে না। এবং তারা সবসময় গরীব
হয়ে থাকে, যদি সৌভাগ্যক্রমে স্বামী তার পক্ষ থেকে কুরবানী করেও তাতেই রাজি, যদি স্বামী
নাও করে তাতেও কোন আপত্তি নাই।
কুরবানীর আগে নখ কাটা গুনাহ
কুরবানীর আগে নখ কাটা সাওয়াব (শেষ)
নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন যে
যদি , কেহ কুরবানী করতে চাই, যতক্ষন কুরবানী না হয় ততক্ষন পর্যন্ত যেন নিজের নখ অপ্রয়োজনীয়
চুলসমুহ না কাটে , এ হকুমটি মুলত মুস্তাহাব, ফরয ওয়াজিব নয়, এখানে একটি বিষয় স্মরণ রাখতে হবে কেহ যদি জিলহিজ্জার
চাঁদ উঠার আগে নিজের নখগুলি কেটে নেয় তাহলে ঠিক আছে তাহলে আর জিল হজ্বের চাঁদ উঠলে
নখ কাটতে হবে না,
কিন্তু কেহ যদি জিলহজ্বের চাঁদ
উঠার আগে চুল নখ এগুলি না কাটে এখন জিলহজ্ব এর চাঁদ উঠার পর তার এসব কিছুর বয়স ৪০ দিন
অতিক্রম করতে থাকে যেমন ধরুন জিলহজ্বের ১০ তারিখ কুরবানী এখন জিলহজ্বের ৫ তারিখ তার
নখ অবাঞ্চিত চুল এসব এর মেয়াদ ৪০ দিন হয়ে গেল এখন যদি সে ১০ জিলহজ্ব কুরবানীর পর নখ
চুল কাটার নিয়তে বসে থাকে তা মকরুহে তাহরিমি হবে, কেননা নখ অবাঞ্চিত চুল ৪০ দিনের
ভিতর কেটে ফেলা জরুরী ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে মকরুহে তাহরিমি, এখন মুস্তাহাব পালন
করা তার জন্য জায়েজ নয়, মকরুহে তাহরিমি থেকে বাঁচার জন্য তাঁকে জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখের
আগেই ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই নখ ও অবাঞ্চিত চুল কেটে ফেলতে হবে।
যারা কুরবানী করবে যারা করবে না উভয়েই নখ কাটবে না
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
عن ام
سلمة رضى الله تعالى عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من راى هلال ذى
الحجة واراد ان يضحى فلا ياخذ من شعره ولا من اظفاره.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখলো এবং কুরবানী করার নিয়ত করলো, সে যেন (কুরবানী না করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে।” (মুসলিম শরীফ)
মূলত: ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই উক্ত আমল মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। আর এ ব্যাপারে দলীল হলো এ হাদীছ শরীফ-
যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
عن
عبد الله بن عمرو رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم امرت
بيوم الاضحى عيدا جعله الله لـهذه الامة قال له رجل يا رسول الله صلى الله عليه
وسلم ارايت ان لم اجد الا منيحة انثى افاضحى بـها قال لا ولكن خذ من شعرك واظفارك
وتقص شاربك وتحلق عانتك فذلك تمام اضحيتك عند الله.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্ পাক-উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ পাক উক্ত দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহ পাক-উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি একটি মাদী মানীহা (উটনী) ব্যতীত অন্য কোন পশু কুরবানীর জন্য না পাই, তাহলে আপনি কি (আমাকে) অনুমতি দিবেন যে, আমি উক্ত মাদী মানীহাকেই কুরবানী করবো। জবাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না। তুমি উক্ত পশুটিকে কুরবানী করবে না। বরং তুমি কুরবানীর দিনে তোমার (মাথার) চুল ও হাত-পায়ের নখ কাটবে। তোমার গোঁফ খাট করবে এবং তোমার নাভির নিচের চুল কাটবে, এটাই আল্লাহ পাক-উনার নিকট তোমার পূর্ণ কুরবানী অর্থাৎ এর দ্বারা তুমি আল্লাহ পাক-উনার নিকট কুরবানীর পূর্ণ ছওয়াব পাবে।” (আবু দাউদ শরীফ)
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, যারা কুরবানী করবে না, তাদের জন্যও যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নিজ শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি কুরবানীর ছওয়াব পাবে। {দলীলসমূহ: নাসায়ী, মিশকাত, শরহে নববী, বজলুল মাযহুদ, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ, মুযাহেরে হক্ব ইত্যাদি।
গরীব লোকের উপর কুরবানী কখন ওয়াজিব
কুরবানীর বিভিন্ন প্রকারের আছে।
কখনো কুরবানী ওয়াজিব হয়ে থাকে কখনো সুন্নত ও নফল হয়ে থাকে। এর কয়েকটে ধরন হতে পারে
।
প্রথম ধরন হল- যেমন কেহ কুরবানী
করার মান্নত করে মুখে বলল যে আমি এ বছর কুরবানী করব চাই সে ধনী হউক কিংবা ফকির হউক
উভয়ের জন্য কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে।
তেমনিভাবে কেহ যদি শর্ত সাপেক্ষে
মান্নত করে যেমন সে বলল যে আমার অমুক কাজ হয়ে গেলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ১টি কুরবানী
করব। যদি সে কাজটি হয়ে যায় তাহলে কুরবানী ওয়াজিব।
২য় ধরন হল যদি কোন গরীব লোক, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় কিন্তু সে কুরবানীর নিয়তে
কোন প্রাণী ক্রয় করে আনে, এমতাস্থায় তার উপর সে প্রাণীটি কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
তবে যদি কোন ধনী লোক ১টি প্রাণী ক্রয় করে কুরবানীর জন্য তার জন্য সে প্রাণীটিই কুরবানী
করতে হবে এমনটি নয়। বরং ধনী কোন পশু কুরবানীর জন্য ক্রয় করার পর চাইলে সেটি আবার বিক্রী
করে অন্য প্রাণীও ক্রয় করতে পারবে। পক্ষান্তরে কোন গরীব লোক যার উপর কুরবানী ওয়াজিব
নয় সে যখনই ১টি প্রাণী ক্রয় করে আনবে তার উপর সে প্রাণীটিই কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে
যায়। এখন সে গরীব লোক প্রাণীটি পরিবর্তনও করতে পারবে না বিক্রীও করতে পারবে না।
৩য় ধরন হল- যে মালিকে নেসাব তথা
নেসাবের মালিক হয় তার উপর কুরবনী ওয়াজিব।
সাম্প্রতিক
বিষয় -গণপিটুনি
গণপিটুনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আল্লাহ তাআলা একসঙ্গে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু সাইদ খুদরি ও হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সবাই মিলিত হয়ে যদি একজন মুমিনকে মেরে ফেলার কাজে শরিক হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে উপুর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (তিরমিজি)
এ হাদিসে আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী বলতে কী বুঝানো হয়েছে? জমিনের অধিবাসী হলো সব মানুষ ও জিন এবং আসমানের অধিবাসী বলতে ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে। যদি তারা সবাই কোনো একজন মানুষকে হত্যার কাজে লিপ্ত হয় তবে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন নিরাপরাধ ব্যক্তির রক্তের মূল্যের ব্যাপারে নসিহত করে বলেছেন, ‘৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানের সময়, মাস ও স্থান যতবেশি মূল্যবান; আল্লাহর কাছে মুমিন নিরাপরাধ ব্যক্তির রক্ত আরও বেশি মূল্যবান।’
‘যে ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে একটি থাপ্পড় দেবে, সেও সমান অপরাধী। যে ব্যক্তি একটি লাথি মারবে সেও সমান অপরাধী। যে ব্যক্তি কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করবে, সেও সমান অপরাধী। আবার যে বা যারা সেখানে থেকে এ দৃশ্য দেখবে কিন্ত প্রতিরোধ করবে না তারাও সমান অপরাধী।’
নিরাপরাধ মানুষের রক্ত আল্লাহর কাছে কত মূল্যবান তা পবিত্র কুরআনের আয়েতে সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে। নিরাপরাধ ব্যক্তি হত্যার পরিণামে আল্লাহ তাআলা অনেকগুলো শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا
مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ
وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হবেন, তাকে লানত (অভিশাপ) করবেন। আর তার জন্য কঠিন আজাব প্রস্তুত করে রাখবেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৯৩)
এ আয়াতে নিরাপরাধ মানুষের রক্তপাত তথা হত্যার শাস্তির ৫টি ধরণ উল্লেখ করেছেন। অথচ যার একটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট ছিল। হত্যার শাস্তি যে জঘন্য তা প্রমাণেই আল্লাহ তাআলা এ সুস্পষ্ট তাগিদ দিয়েছেন। আর তাহলো-
>> হত্যার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম।
>> হত্যাকারী জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবেন।
>> আল্লাহ হত্যাকারীর ওপর রাগান্বিত হবেন।
>> আল্লাহ হত্যাকারীর প্রতি লানত তথা অভিশাপ দেবেন।
>> হত্যাকারীর জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি।
>> হত্যাকারী জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবেন।
>> আল্লাহ হত্যাকারীর ওপর রাগান্বিত হবেন।
>> আল্লাহ হত্যাকারীর প্রতি লানত তথা অভিশাপ দেবেন।
>> হত্যাকারীর জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি।
সম্প্রতি যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাহলো ‘গণপিটুনি’। ইসলামে গণপিটুনি হারাম ও সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজ। ইসলাম কোনোভাবেই গণপিটুনিকে সমর্থন করে না। তা চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপ ও কঠিন শাস্তি ভোগের অন্যতম কারণও বটে।
কোনো মানুষ যদি অপরাধী হয় তবে তার জন্য বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করতে দেখলেই সবাই মিলে তাকে পেটাতে হবে কিংবা শাস্তি দিতে হবে, ইসলাম এমনটি সমর্থন করে না। বরং ইসলামে রয়েছে অপরাধের শাস্তি প্রদানের সুস্পষ্ট বিধান।
আর অপরাধী কিংবা নিরাপরাদ যেই হোক না কেন, দেশের আইনেও কোনো মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা কিংবা যখম করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ দেশব্যাপী মহাসমারোহে চলছে গণপিটুনি। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গণপিটুনিতে যারা যেভাবেই অংশগ্রহণ করুক না কেন, সবাই সমান অপরাধী। গণপিটুনি হারাম ও সবচেয়ে বড় গোনাহ।
গণপিটুনিতে জড়িত কোনো মানুষই জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অন্যায়ভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

কোন মন্তব্য নেই