বাথরুমে উলঙ্গ হয়ে গোসলের বিধান।
বাথরুমে উলঙ্গ
হয়ে গোসলের বিধান।
বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহিম
সম্মানিত দর্শক শ্রোতা মন্ডলী, আধুনিক যুগের ছোয়ায় এসে মানুষের মধ্যে দেখা গেছে বাথরুমে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার প্রবণতা। বর্তমানে এটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
ইদানিং আমরা সব কিছুতে ফতোয়া তালাশ করি, তাকওয়া কিসে বেশী খোদা
ভিতি কিসে বেশী সেদিকে আমাদের খেয়াল থাকে না, তেমনি একটি বিষয় হল বাথরুমে গোসল করার
সময় উলঙ্গ হয়ে গোসল করা, এ বিষয়ে ফতোয়াও আছে আবার তাকওয়াও আছে, আসুন আমরা জেনে নিই
ফতোয়া কি আর তাকওয়া কি?
প্রথমে কিছু আলেমের ফতোয়া জেনে নিই- ফতোয়া হল-
যদি অন্য কারো দেখার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে প্রয়োজনে পাকা গোসল খানায় বা বাথরুমে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা জায়েজ। গোসলখানায় চতুষ্পার্শ্বে দেওয়াল থাকা জরুরি। ছাদ না থাকলে সমস্যা নেই। তবে প্রয়োজন ছাড়া এভাবে গোসল করা অনুচিত।
এবার আসুন হাদীস শরীফের আলোকে জানা যাক তাকওয়া
কি
হাদীস শরীফে এসেছে, লজ্জা করার ব্যপারে মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই বেশি হকদার। তাই গোসলের সময় পুরোপুরি উলঙ্গ হয়ে যাওয়া অনুত্তম।
এক হাদিসে বলা হয়েছে, মুয়াবিয়া বিন হাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সর্বদা হেফাজত করো (অর্থাৎ ঢেকে রাখো)।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে! (তখনো কি তা ঢেকে রাখতে হবে?)।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কেননা আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৬৯)
আবু দাউদ শরীফ ও তাহতাবী শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারীদের পছন্দ করেন। তাই তোমাদের কেউ যখন গোসল করে তখন সে যেন পর্দা করে নেয়। (তাহতাবী)
তিরমিযি শরীফের ২৮০০ নং হাদীসে আছে- ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা নগ্নতা হতে বেঁচে থাক। কেননা তোমাদের এমন সঙ্গী আছেন (কিরামান-কাতিবীন) যারা পেশাব-পায়খানা ও স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের সময় ছাড়া অন্য কোন সময় তোমাদের হতে আলাদা হন না। সুতরাং তাদের লজ্জা কর এবং সম্মান কর। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৮০০]
তেমনি ভাবে তিরমিযি শরীফের ২৮০১ নং হাদীস হল
জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ও পরকালের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে সে যেন ইযার (লুঙ্গি) পরিহিত অবস্থা ছাড়া গোসলখানায় প্রবেশ না করে।
সুতরাং
সব মিলে কথা হচ্ছে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা কারো কারো ফতোয়ায় জায়েজ আছে, তবে এটা একেবারে অনুত্তম কাজ, সুন্নতের পরিপন্থী। আল্লাহর রাসুল সা: কখনো এরকম করেনি। মোস্তাহাব ও উত্তম হল লুঙ্গি ইত্যাদি বেঁধে গোসল করা ও মেয়েরা নিচে পায়জামা বা উড়না সাদৃশ্য ও বুকে গামছা সদৃশ্য কিছু রাখবে।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে সঠিক আমলটি করার তৌফিক দান করুন আমিন।

কোন মন্তব্য নেই