মহানবীর চুল মোবারকের বিষ্ময়কর ঘটনা



পাক-ভারত উপমহাদেশে যার মাধ্যমে হাদিসে নববির প্রচার-প্রসার ঘটেছে তিনি হলেন তরিকত শরিয়তের ইমাম, উসতাজুল মুহাদ্দিসিন শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহ.)হজরত ওমর (রা.) এর বংশধর ছিলেন বলে জানা যায়সাত বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করেন
১১৪৫ হিজরি থেকে দিল্লির রহিমিয়া মাদরাসায় পাঠদান শুরু করেন সেখানে হাদিস শোনার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মধুমক্ষীকার মতো দলে দলে ছাত্ররা আসতে থাকে  এই মহান ওলি প্রায় শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আল ফাউজুল কবীর ফী উসুলুত তাফসীর, তারাজীমু আবওয়াবুল বুখারি, কওলুল জামীল, হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা, তাবীলুল আহাদীস, ফুয়ুজুল হারামাইন, আল ইতেকাদু আস-সহিহা প্রভৃতি 
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস সম্পর্কেবুস্তানুল মুহাদ্দিসিনগ্রন্থে শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) বলেন, তিনি ছিলেন মহৎ শায়খ, পরিপূর্ণ ব্যক্তি, নিজ সনদে হাদিস বর্ণনাকারী, যুগের মুহাদ্দিস, সেই যুগের হাফেজে হাদিস এবং তিনি ছিলেন সত্যের পক্ষে আল্লাহর দলিল গায়াতুল মাকছুদ গ্রন্থে আজিমাবাদী বলেন, ‘তিনি ছিলেন রঈসুল ফোকাহা এবং রঈসুল মুহাদ্দিস, নিজের সনদে হাদিস বর্ণনাকারী এবং আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন’ 
হযরত শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দেস দেহলভী (রহঃ) এরশাদ করেন আমার পিতা শাহ আবদুর রহিম মুহাদ্দস দেহলভীকে হুযুর (দঃ) স্বপ্নে দিদার দান করেছেন। আর আমার পিতার ইচ্ছা ছিল আকাংখা ছিল হুযুর (দঃ)েএর চুল মোবারক উপহার হিসেবে প্রাপ্ত হওয়ার। তখন হুযুর (দঃ) নিজের দাঁড়িতে হাত ফেরালেন তাতে ২টি দাঁড়ি এসে গেল এবং সে ২টি দাঁড়ি হুযুর (দঃ) আমার পিতাকে হাদিয়া দিয়ে দিলেন। যখন আমার পিতা ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন গোটা রুম খুশবুদার হয়ে গেল আর বালিশের নিচে ২টি দাঁড়ি পড়ে ছিল। তিনি সেটি একটি সুন্দুকে অতি আদবের সাথে রেখে দিলেন আর মানুষ তা দেখার জন্য সেখানে জমা হলে তিনি তা দেখাতেন মানুষ তা দেখে খুবই সম্মান দেখাতেন। হযরত শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দীস দেহলভী (রহঃ) বলেন এগুলি যে সত্যিকারের হুযুরের দাঁড়ি মোবারক তা আমরা প্রমাণ পেতাম যখন সে দাঁড়ি ২টি প্রখর রোদে নিয়ে যেতাম সাথে সাথে কোথা থেকে মেঘ এসে সেগুলিকে ছায়া দিত। একবার ৩ জন লোক আসল হুযুরের সে চুল মোবারক যেয়ারত করার জন্য, আমরা যখন সুন্দুকের তালা খুলতে চিাইলাম কিন্তু তালা খুলছে না অনেকবার চেষ্টা করলাম কিন্তু তালা খুলছে না, তখন সে লোক গুলি চলে গেল কিছুক্ষন পর আবার এসে বলল তালা খুলতে এবার তালা খুলে গেল, আমি তাদের প্রশ্ন করলাম কি ব্যপার? তারা বলল আমরা পরীক্ষা করেছি এগুলিকি আদৌ হুযুরের চুল কিনা, সে জন্য আমরা নাপাক অবস্থায় এসেছি কিন্তু যখন গোসল করে আসলাম এবার তালা খুলে গেল। এবং আমরা বুঝতে পারলাম যে এগুলি সত্যি সত্যি হুযুরের চুল মোবারক। আজো বিভিন্ন জায়গায় আমরা এসব চুলের খবর পাই এমনকি দরুদ পাঠ করলে  হুযুরের চুল মোবারক ঝুমতে থাকে। সুবহানাল্লাহ।
বিদায় হজ্বের সময় অসংখ্য সাহাবী হুযুরের চুল সংগ্রহ করেছিল তা হেফাজত করেছিল অনেক সাহাবী মৃত্যুর আগে অছিয়ত করে গিয়েছে আমার মৃত্যুর পর এ মোবারক চুল আমার মুখের নিচে আমার কাফনে দিয়ে দিও যাতে কবর হাশরে উপকার লাভ হয়। সুবহানাল্লাহ দেখুন সাহাবাদের কেমন নবী প্রেম কেমন আশেকানা আকিদা।

বিদায় হজ্বে হুযুরের হলক ও চুল বন্টনঃ
মহানবী (দঃ) বিদায় হজ্বের সময় ১০০টি উট  থেকে ৬৩টি উট নিজ হাতে জবেহ করলে এবং উট সমুহ মানুষের মাঝে বন্টনে করতে বলে দিলেন সেখান থেকে মসজিদে খায়েফ এর পাশে গিয়ে তাবু খাটালেন এবং চুল কামানোর ইচ্ছা পোষন করলেন। হযরত মামর বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) নিজ হাতে হুজুরের মাথা কামিয়ে দেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। যখন হযরত মামর হুযুরের চুল মোবারক কামালেন হুযুর হযরত আবু তালহা আনসারী (রাঃ) কে ডাকলেন এবং বললেন তুমি এ চুল সমুহ সকল সাহাবাদের মধ্যে বন্টন করে দাও। সাহাবাগন হুযুরের সে চুল মোবারক সংগ্রহের সৌভাগ্য অর্জনের জন্য পাগলের মত প্রতিযোগীতায় লেগে গেল।এখনও বিভিন্ন বড় বড় মিউজিয়ামে হুযুরের সে চুল মোবারক আছে, এখনও এসব চুল লম্বা হয় বৃদ্ধি হয়। কারন আমাদের নবী কবরে আনোয়ারে জিন্দা সুতরাং তাঁর চুল মোবারকও জিন্দা। সুবহানাল্লাহ

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.