জুমা খুতবা। সরাসরি আল্লাহর রহমত লাভের উপায়। Friday Juma Lecture Live All...







আপনার উপর আল্লাহর রহমত নাযিল
হচ্ছে বুঝার ১৭টি উপায়
১। আল্লাহ আপনার উপর রহমত নাজিল করছেন তার
প্রথম প্রমাণ হল আপনি নিজের দোষ নিজে দেখতে পাবেন
বনি ইসরাইলের এক লোক ৯৯টি খুন করেছে, অবশেষে সে তওবা করার
জন্য স্থানীয় এক পাদ্রীর কাছে গেলেন সে বলল তুমি অনেক পাপ করেছ তাই তোমার ক্ষমা
নাই, তখন সে লোক বলল ৯৯টি খুন করেছি পাপ যখন ক্ষমা হবে না তাহলে তোমাকে দিয়েই
সেঞ্চুরি পুরন করি, বলে সে পাদ্রিকেও হত্যা করে ফেলল- অবশেষে সে তওবার নেশায় ক্ষমা
লাভের আশায় অন্য একজন বুযুর্গের দরবারের দিকে রওয়ানা হয়ে গেল, আল্লাহ এমন লোককেও
ক্ষমা করে দিলেন, সে নিজের অপরাধ বুঝতে পেরেছে তাই তার প্রতি আল্লাহর রহম করেছে
২। যখন আপনার চোখ দিয়ে নিজের কৃত কোন ভুলের জন্য পানি গড়িয়ে
পরে তখন বুঝে নিন আপনার উপর রহমত বর্ষিত হচ্ছে।
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনেছি
, তিনি
বলেছেন
, ‘সাত
ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন
; যেদিন
তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে ওই ব্যক্তি একজন
, যে
নির্জনে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে
; আর তার চোখ থেকে পানি ঝরে।’ (বুখারি
ও মুসলিম)
৩। যদি আপনি মা বাবার খেদমত করতে পারেন তাহলে বুঝে নিন
আল্লাহ আপনার উপর রহমত নাজিল করছেন
হুযুর (দঃ) এরশাদ করেন সে দুর্ভাগা! সে দুর্ভাগা! সে দুর্ভাগা!
উপস্থিত সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন
, সে কে? উত্তরে তিনি বললেন, যে
ব্যক্তি মাতা-পিতা উভয়কে অথবা যে কোনো একজনকে বৃদ্ধ পেয়েও (তাদের সেবা করে)
জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।
’- সহিহ মুসলিম: ৬৬৭৫
৪। যদি আপনি রমজান মাস পাওয়ার পর সে মাসের যথাযথ ইজ্জত করতে
পারেন, গুনাহ মাফ করাতে পারেন, ঈমানের সাথে শবে ক্বদর পালন করতে পারেন তাহলে মনে
করুন আল্লাহ আপনার উপর রহমত বর্ষন করছেন
৫। যদি আপনি হুযুর (দঃ) এর নাম শুনে দরুদ পড়তে পারেন তাহলে
বুঝে নেন আপনার উপর রহমত বর্ষণ হচ্ছে
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন (মান ছাল্লা আলাইয়্যা ছালাতান ওয়াহিদাতান, ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
আশরা ছালাতিন)
অথ্যাৎ যে আমার উপর ১ বার দরুদ পাক পড়ে তার প্রতি আল্লাহর
১০ রহমত নাজিল করেন।
৬। যদি নেয়ামতের শোকর আদায়ের সুযোগ হয় -আল্লাহ বলেন (লাইন শাকারতুম
লা আজিদান্নাকুম) যদি শোকর কর তাহলে আমার


নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিব।
সহিহ বুখারীর ৩৪৬৪ নং হাদীসে বনি ইসরাইলের ৩ ব্যক্তির ঘটনা
এ ব্যপারে প্রনিধান যোগ্য একজন শ্বেতরোগী তাকে উট, একজন টাকওয়ালা তাকে গরু, একজন
অন্ধ তাকে ছাগল দিয়ে পরীক্ষা করা হল অন্ধলোকটি সে নেয়ামতের শোকর আদায় করল আর তার
উপর আল্লাহ রহমত করল।
৭। যদি
দান সদকার সুযোগ হয়- মেশকাত শরীফের রেওযায়েত (ইন্নাস সাদাকাতা তুদফিউ গাদাবার
রাব্বি)নিশ্চয়ই সদকা আল্লাহর রাগকে দমন করে (ওয়া তাদফাউ মি তাতাস সুঈ) এবং খারাপ
মৃত্যু থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে ফেলে।
সামেরীর নাম সকলেই শুনেছেন সে মুসা (আঃ) এর কওমকে
গরুর পুঁজায় লাগিয়ে দিয়েছিল
, যারা পুঁজা করেছে সকলের শাস্তি হয়েছিল একে
অপরকে হত্যা করা
, কিন্তু যখন সামেরির পালা আসল তখন জিবরাইল
এসে হযরত মুসাকে নিষেধ করল যেন সামেরিকে হত্যা না করে তখন হযরত মুসা (আঃ) প্রশ্ন
করলেন এয়া রব যে সকলকে কাফের বানালো মুশরিক বানালো তাকে কেন ছেড়ে দিব
? তখন
আল্লাহ তায়ালা বললেন সে খুবই দানশীল তাই তাকে হত্যা করিও না। একজন মুশরিক দানশীল
হওয়ার কারনে আল্লাহ তায়ালা যদি তাকে দুনিয়ার মুসিবত থেকে রক্ষা করেন
, তাহলে
একজন মুমিন যদি দানশীল হন তার মর্যাদা কেমন হবে একবার চিন্তা করে দেখুন।
৮। যদি
আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে সম্পর্ক রাখা সম্ভব হয় - আল্লাহ তায়ালা বলেন (ইন্না
রাহমাতাল্লাহে কারিবুম মিনাল মুহসিনিন) নিশ্চিয়ই আল্লাহর রহমত নাজিল হয় মুহছিন
বান্দাদের নিকট
পক্ষান্তরে
আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে দুষমনি করলে পরিনাম কি জানেন
শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ، ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ


ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَﻯ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻴًّﺎ ﻓَﻘَﺪْ ﺁﺫَﻧْﺘُﻪُ

ﺑِﺎﻟْﺤَﺮْﺏِ
হজরত আবু হুরাইরা রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত , রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন
, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ঘোষণা
করেন
, যে বাক্তি আমার অলির সাথে শত্রুতা করে , আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি | বুখারী: ৬৫০২]
ইমামে নববী এই জন্য বলতেন

"لحوم العلماء مسمومة"

 (লুহুমাল
ওলামায়ে মাছমুমা)
ওলামায়ে কেরাম
এর গোস্ত খুবই বিষাক্ত, গোস্ত দ্বারা তিনি মুরাদ নিয়েছেন গীবত অর্থ্যাৎ ওলামাদের গীবত করা খুবই বিষাক্ত ইমাম নববী আরো বলেন যে ওলামা কেরামের গোস্তের সামান্য ঘ্রাণ গ্রহণ করে অর্থ্যাৎ সামান্যতম গীবতও করার নিয়ত করে তখন থেকেই সে ঈমানীভাবে দুর্বল হতে শুরু করে আর যে ওলামাদের গীবত করে ফেলে তাহলে সে ঈমানের দিক থেকে মৃত্যু বরণ করে অর্থ্যাৎ তাঁর ঈমান ধ্বংস হয়ে যায়
কিছু আলেম
সাহাবী বসে বসে কুরান তেলাওয়াত করছেন তাঁদের ব্যপারে কিছু লোক গীবত করলেন তখন আল্লাহ তায়ালা সে সব আলেম সাহাবীর গীবতকারীদের ব্যপারে 
সুরা তওবার
৬৫-৬৬
নং আয়াতে ঘোষনা করেন
قُلْ أَبِاللّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ
كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ
আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? [ সুরা তাওবা ৯:৬৫ ]
لاَ تَعْتَذِرُواْ قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ
إِيمَانِكُمْ
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার
পর।  [
 সুরা তাওবা ৯:৬৬ ]
তারা অপমান করেছেন
কিছু আলেম সাহাবীকে
কিন্তু আল্লাহ ঘোষণা
করলেন তাঁরা মুলত
আল্লাহ তাঁর
রাসুলকে অপমান করেছে
আয়াত নাজিল
হলে রাসুলুল্লাহ (দঃ)
সেখান থেকে চলে
যাওয়ার জন্য উটে
ছওয়ার হয়ে গেলেন,
তখন সে সব
সমালোচনাকারীরা হুযুরের কাছে
অনুরোধ করলেন এয়া
রাসুলাল্লাহ আপনি যাবেন
না আমরাতো এমনিই
কথার কথা বলেছি,
কিন্তু হুযুর (দঃ)
উটে বসে দ্রুত
সেখান থেকে চলে
যেতে যেতে এই
আয়াত পড়ছেন আর
বলছেন তোমাদের কোন
কথাই শুনব না
কারন তোমরা গীবত
করেছ জ্ঞানীদের কুরআন
ওয়ালাদের, আমি সে
জায়গায় বসা পছন্দ
করিনা যেখানে জ্ঞানীদের
কুরআন ওয়ালাদের অপমান
করা হয়,

৯। যদি আপনার হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হয়
-আল্লাহ


তায়ালা এরশাদ করেন (ইউহিব্বুহুম ওয়া ইউহিব্বুনাহু) আল্লাহ তাদের
মহব্বত করে আর তারা আল্লাহকে মহব্বত করে। আপনি আল্লাহকে যদি মহব্বত করেন তাহলে সে
মহব্বতের প্রভাব আপনার অন্তরে আপনি অনুভব করবেন।
১০। যদি আপনি যেনা ও অশ্লিলতা থেকে বেঁচে থাকতে পারেন-  (ওয়ানাহান নাফসি আনিল হাওয়াফাইন্নাল জান্নাতা হিয়াল মাওয়া) যে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং নিজের
খাহেশাতে নফসকে দমন করে তার ঠিকানা জান্নাত।
হাদীস শরীফে আছে যে লোককে কোন উচ্চবংশের মেয়ে সুন্দরী রমনী গুনাহের দিকে ডাকে
আর সে বলে দেয় আমি আল্লাহকে ভয় পাই তাহলে সে আমলই তাকে কেয়ামতের দিন আরশের ছায়া
দান করবে।
১১। আযানের সময় আযানের জবাব দেয়ার এবং আযানের দোয়া পড়ার তৌফিক নসিব হলে-
বুখারী শরীফের হাদীস নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন যে আযানের পর  দোয়া পাঠ করবে (হাল্লাত লাহু শাফাআতি) কেয়ামতের
দিন সে বান্দার আমার শাফায়াত নসিব হবে।
যারা আযানের সময় কথা বলে তাঁরা মৃত্যুর সময় কলমা নসিব হবে না।
১২। যারা বিচারক তারা যদি ন্যায় বিচার করার তৌফিক পায়-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ
إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ
تُرْحَمُونَ
মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে
ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও। [
 
সুরা হুজুরাত ৪৯:১০ ]


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.