৪টি অবস্থায় জিন ও শয়তান মানুষের শরীরে ঢুকে যায়। জিন থেকে বাঁচার উপায়। Is...







বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল দশক শ্রোতা মন্ডলীকে
আসসালামু আলাইকুম
,
আপনারা দেখছেন জা আল হক ইসলামীক
চ্যানেল
আজ জানাব জ্বীন ও শয়তান যে
মানুষ ৪টি অবস্থায় থাকে সে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে
সে ৪টি অবস্থার বিস্তারিত বণনা জানা থাকলে আপনিও জ্বীন ও শয়তান
থেকে মাহফুজ থাকতে পারবেন
-    
জ্বীন জাতি
সম্পর্কে অনেকেরই আগ্রহ। জ্বীনরা কেমন কি খায়
,
তাদের জীবন যাত্রা কিরকম।
জ্বীন শব্দের মোটামুটি অর্থ গুপ্ত, অদৃশ্য, লুকায়িত। শয়তানরাও হল একপ্রকার জ্বীন, যারা আল্লাহর অবাধ্য এবং এরা অভিশপ্ত ইবলিশের বংশধরদের অন্তর্গত। হাদীস
তত্ববীদদের মতে জ্বীনদের কয়েক টি শ্রেণী আছে। যেমন সাধারন জ্বীন
, আমির জ্বীন এরা মানুষের সাথে থাকে,
শয়তান এরা অবাধ্য, উদ্ধত, ইফরীত্ব জ্বীন এরা শয়তানের চাইতেও
বিপদজনক।
জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে হযরত আদম আঃ এর ২০০০ বছর
পূর্বে। জ্বীন জাতির আদি পিতা (আবূল জিন্নাত) সামূমকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা
আগুণের শিখা দ্বারা তৈরী করার পর আল্লাহ সামূমকে বলেন তুমি কিছু কামনা কর। তখন সে
বলে আমার কামনা হল আমরা সবাই কে দেখব কিন্তু আমাদের কে কেউ দেখতে পারবে না। আর আমাদের
বৃদ্ধরাও যেন যুবক হয় মৃত্যুর পূর্বে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তায়ালা জ্বীন দের
এই দুইটি ইচ্ছাই পূরণ করেন। জ্বিনরা বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর পূর্বে আবার যুবক হয়।
হযরত উমাইয়া বিন
মুখ্সী (রা:) বলেছেনঃ


একবার রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এর উপস্থিতিতে
একব্যক্তি খানা খাচ্ছিল।


হুযুর (সঃ) প্রত্যক্ষ করলেন খাওয়ার শুরুতে
সে বিসমিল্লাহ্ বলে নি। তো শেষ পর্যন্ত সে সবই খেয়ে ফেলল
,কেবলমাত্র একটি লোকমা বাকি ছিল।

সেই শেষ লোকমাটি মুখে তোলার আগে সে বলল:
"বিসমিল্লাহি্ আউওয়ালাহু অ আখিরহু"--অর্থঃ (
'খাবারের শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর নাম নেওয়া হল')

তখন নবীজি (সঃ) হেসে ফেললেন এবং বললেন:

শয়তান ওর সাথে খাবারে শরীক ছিল,কিন্তু যখনই ও আল্লাহর নাম নিয়েছে অমনই শয়তান যা কিছু তার পেটে গিয়েছিল সব বমি
করে দিয়েছে।।


হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সামনে একবার এক
ব্যাক্তিকে পেশ করা হয়
,যার প্রতি যাদুর অভিযোগ ছিল।

হাজ্জাজ তাকে প্রশ্ন করেন- "তুমি কি
যাদুকর
?"

সে বলে - "না"।

হাজ্জাজ তখন একমুঠো কাঁকর নিয়ে সেগুলো
গণনা করেন।


তারপর প্রশ্ন করেন-"আমার হাতে
কতসংখ্যক কাঁকর আছে
?"

লোকটি বলে -"এত সংখ্যক"

হাজ্জাজ তখন সেগুলো ফেলে দেন।তারপর ফের
একমুঠো কাঁকর নেন তারপর সেগুলো না গুনেই জিজ্ঞেস করলেন-"এখন আমার হাতে কয়টা
কাঁকর আছে
?"

সে বলে- "আমি জানি না"

হাজ্জাজের প্রশ্ন- 'প্রথমবারে তুমি ঠিকঠাক বলে দিলে কিন্তু দ্বিতীয়বার পারলে না কেন?'

লোকটির উত্তর- 'প্রথমবার আপনি জেনে ছিলেন এর দ্বারা আপনার অসওয়াসাও জেনেছে। তারপর আপনার
অসওয়াসা আমার অসওয়াসাকে জানিয়ে দিয়েছে কিন্তু এবারে আপনি জানেননি তাই আপনার
অসওয়াসাও জানতে পারে নি।


ফলে আপনার অসওয়াসা আমার অসওয়াসাকে বলে
নি।যার কারনে আমিও জানতে পারি নি।
জ্বীনদের শরীর মূলত খুব সূক্ষাতি সূক্ষ। জ্বীনরা চাইলে
যেকোন কঠিন পদার্থের বাধা অতিক্রম করতে পারে। জ্বীন দের কে আল্লাহপাক বিশেষ কিছু
কথা ও কাজ শিখিয়ে দিয়েছেন যার দ্বারা জ্বীনরা চাইলে এক আকার থেকে আরেক আকারে
রূপান্তরিত হতে পারে। তবে জ্বীন দের কাছে সবচেয়ে প্রিয় আকার হল সাপের আকার।
জ্বীনরা বেশিরভাগ সময় সাপের আকারে চলাফেরা করতে পছন্দ করে। জ্বীনদের খাবার হল
শুকনা হাড় ও গোবর। সহীহ হাদীসে শুকনা হাড় ও গোবর দ্বারা এসেঞ্জা করতে নিষেধ করা
আছে।
অবাধ্য শয়তান জ্বীন হল মানুষের শত্রু আর এই শয়তান জ্বীন মানুষকে কবজা করে যখন
মানুষ রাগ করে, রাগান্বিত হয়।
দ্বিতীয়ত মানুষ যখন খারাপ কামনা বাসনায় লিপ্ত হয় তখনও এই শয়তান জ্বীন মানুষকে
কবজা করে, মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
তৃতীয়ত মানুষ যখন দুঃখের মধ্যে থাকে, তখনও শয়তান জ্বীন মানুষকে কবজা করে ফেলে,
যেমন যখন কারো কোন আপন জন মৃত্যু বরণ করে তখন দেখবেন অনেকে বেহুশ হয়ে যায় এটা মুলত
তার ভিতর শয়তান প্রভাব বিস্তার করেছেন
চতুর্থতা নাপাক বা নোংড়া অবস্থায় থাকলে তার ভিতর শয়তান প্রবেশ করে, তাই সদা
পাক পবিত্র থাকলে শয়তান বা জ্বীন আছর করতে পারে না।
তাই রাগ আসলে, খারাপ খেয়াল বা কু বাসনা জাগ্রত হলে, আমাদের উচিত আউজু বিল্লাহি
মিনাশ শায়তানির রাজিম পড়া ।
হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ-


আমি ও জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা শরীফের
একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় (দেখলাম) একটি লোকের মৃগী হল। আমি তার কাছে
গিয়ে তার কানে (কোরআনের আয়াত) তেলওয়াত করলাম ফলে সে সুস্থ হলো।


জনাব রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন - তুমি ওর
কানে কী পড়লে
? আমি বললাম- "আফা হাসিবতুম আন্নামা খালাকনাকুম
আবাসাউ্ অ আন্নাকুম ইলাইনা লা তুরজাউন" (সূরাহ মুমিনূন
,আয়াত- ১১৫) থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত তেলওয়াত করেছি। নবীজী বললেন-

যার হাতে আমার জীবন তার কসম! কোনও মুমিন
মানুষ যদি এই আয়াতটুকু কো নও পাহাড়ের উপরেও পড়ে
, তবে সে পাহাড়ও হটে
যাবে।।
সুরা মুমিনুন িএর ১১৫ থেকে শেষ পর্যন্ত মোট ৪টি আয়াত শুনুন
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا
خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
তোমরা কি ধারণা কর যে,
আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে
ফিরে আসবে না
? [ সুরা মুমিনুন ২৩:১১৫ ]
فَتَعَالَى اللَّهُ
الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক,
তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক। [ সুরা মুমিনুন ২৩:১১৬ ]
وَمَن يَدْعُ مَعَ اللَّهِ
إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِندَ رَبِّهِ
إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ
যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, তার কাছে যার সনদ নেই, তার হিসাব তার পালণকর্তার কাছে
আছে। নিশ্চয় কাফেররা সফলকাম হবে না। [
 সুরা মুমিনুন ২৩:১১৭ ]
وَقُل رَّبِّ اغْفِرْ
وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট
রহমকারী। [
 সুরা মুমিনুন ২৩:১১৮ ]
আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন আমিন

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.