জুমার খুতবা। নবী রাসুলের পেশা বনাম আধুনিক পেশা। Maulana Nizam Uddin







নবী রসুলের পেশা
আদম (আ.) ছিলেন একজন
কৃষক। তিনি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর ছেলেদের পেশাও ছিল চাষাবাদ। তা
ছাড়া তিনি তাঁতের কাজও করতেন। কারো কারো মতে
, তাঁর পুত্র হাবিল পশু পালন করতেন।

ইদরিস (আ.)-এর পেশা ছিল
কাপড় সেলাই করা। কাপড় সেলাই করে যে অর্থ উপার্জন করতেন
, তা দিয়ে
তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
  ইদরিস শব্দটি দিরাসা শব্দ থেকে নির্গত। তিনি বেশি পরিমাণে
সহিফা পাঠ করতেন বলে তাঁকে ইদরিস বলা হয়। পড়াশোনার প্রথা তাঁর সময় থেকে চালু হয়।
একদল পণ্ডিত মনে করেন
, হিকমত ও জ্যোতির্বিদ্যার জন্ম ইদরিস (আ.)-এর সময়ই হয়েছিল।

নুহ (আ.) ছিলেন
কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নৌকা তৈরির কলাকৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর
নির্দেশে তিনি নৌকা তৈরি করেছিলেন। আল্লাহর
وَاصْنَعِ الْفُلْكَ
بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلاَ تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُواْ إِنَّهُم
مُّغْرَقُونَ
আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী
করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে। [
 সুরা হুদ ১১:৩৭ ]

তিনি ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত
প্রস্থ
, ৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন।

হুদ (আ.)-এর জীবনী
পাঠান্তে জানা যায় যে তাঁর পেশা ছিল ব্যবসা ও পশু পালন। ব্যবসা ও পশু পালন করে
তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

সালেহ (আ.)-এর পেশাও ছিল
ব্যবসা ও পশু পালন।

ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনো
ব্যবসা
, আবার কখনো পশু পালন করতেন।
ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন। তিনি ও তাঁর পিতা উভয়ই ছিলেন রাজমিস্ত্রি।
পিতা-পুত্র মিলে আল্লাহর ঘর তৈরি করেছিলেন।
#খলিফা হারুন এর ১৬বছরের ছেলে বসরায় আবু
আমেরের কাছে মাটি কাটত কুরান ও আংটি মৃত্যুর সময় দিয়ে দিল
ইয়াকুব (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসা, কৃষিকাজ করা ও পশু পালন।
ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেতন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অর্থ
গ্রহণ করতেন।

শোয়াইব (আ.)-এর পেশা ছিল
পশু পালন ও দুধ বিক্রি। পশু পালন ও দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর
কন্যারা চারণভূমিতে পশু চরাতেন।

দাউদ (আ.) ছিলেন রাজা ও
নবী। সহিহ বুখারির ব্যবসা অধ্যায়ে রয়েছে যে দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।
তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন
, হে আল্লাহ! এমন একটি উপায় আমার জন্য বের করে দিন, যেন আমি নিজ
হাতে উপার্জন করতে পারি। অতঃপর তাঁর দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে লোহা
দ্বারা বর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার কৌশল শিক্ষা দেন। শক্ত ও কঠিন লোহা স্পর্শ
করলে তা নরম হয়ে যেত
যুদ্ধাস্ত্র, লৌহ বর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করা ছিল তাঁর পেশা। এগুলো
বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

মুসা (আ.) ছিলেন একজন
রাখাল। তিনি শ্বশুরালয়ে মাদায়েনে পশু চরাতেন। সিনাই পর্বতের পাদদেশে বিরাট
চারণভূমি মাদায়েনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। লোকজন সেখানে পশু চরাত। তাদের মধ্যে একজন
ছিলেন মুসা (আ.)। আট বছর তিনি স্বীয় শ্বশুর শোয়াইব (আ.)-এর পশু চরিয়েছেন।
জাকারিয়া (আ.) ছিলেন
কাঠমিস্ত্রি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে মহানবী (সা.) বলেছেন
, জাকারিয়া
(আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাই তাঁর শত্রুরা তাঁর করাত দিয়েই তাঁকে দ্বিখণ্ডিত
করে। (সহিহ বুখারি)

মহানবী (সা.) ছিলেন একজন
সফল ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ইরশাদ করেছেন
, ‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীদের হাশর হবে নবী, সিদ্দিক ও
শহীদদের সঙ্গে।
’ (আদ্দুররুল মানসুর, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২০) তিনি গৃহের কাজ নিজ হাতে করতেন। বকরির দুধ দোহন করতেন। নিজের জুতা
ও কাপড় সেলাই ও ধোলাই করতেন
, গৃহ ঝাড়ু দিতেন। মসজিদে নববী নির্মাণকালে শ্রমিকের মতো কাজ
করেছেন। খন্দকের যুদ্ধে মাটি কেটেছেন। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতেন।


1 টি মন্তব্য:

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.