বেনামাজীর শাস্তি। Punishment Who Not Perform Namaz|| Islamic Knowledge ...





বে নামাজীর ভয়াবহ আযাব

#আল্লাহ যখন কারো উপর অসন্তুষ্ট হন রিযিক ছিনিয়ে নেন না, খাদ্য পানি বন্ধ করে দেন না, সূর্যকে এই হকুম দেন না যে একে আলো দিও না, চাঁদকে বাঁধা দেন না যে তোমার কিরন যেন এর ঘরে না পৌঁছে, বরং আল্লাহ যখন কারো উপর নারাজ হন সিজদার তৌফিক ছিনিয়ে নেন। সুতরাং সিজদার তৌফিক ছিনিয়ে নিলে বুঝে নাও আল্লাহ তোমার উপর নারাজ।

#কেহ প্রশ্ন করল আমরা কিভাবে বুঝব যে আমাদের নামাজ কবুল হয়েছে? ফরমান এক নামাজের পর যদি ২য় ওয়াক্ত পড়তে পার বুঝে নাও প্রথমটি কবুল হয়ে গেছে। নামাজ পড়ার তৌফিক হল আল্লাহর সন্তুষ্টির দলিল। আর সিজদার তৌফিক ছিনিয়ে যাওয়া আল্লাহর অসন্তুষ্টির দলিল

# আল্লাহ দৌলত তাকেও দেন যার উপর সন্তুষ্ট, তাকেও দেন যার উপর অসন্তুষ্ট। কিন্তু সিজদার তৌফিক শুধু তাকে দেন যার উপর তিনি সন্তুষ্ট। তাই ৫ ওয়াক্ত নামাজ জীবনের শেয়ার বানিয়ে নিন, নামাজ যেন কাজা না হয়।

#কেয়ামতের দিন বেনামাজি সে কাতারে দাঁড়াবে যে কাতারে নমরুদ দাঁড়াবে।যে কাতারে হামান দাঁড়াবে,  কারুন দাঁড়াবে, সাদ্দাদ দাঁড়াবে, আমাকে বলুন আমাদের মধ্যে কেহ কি এটা কামনা করে আমাদেরকে সে কাতারে দাঁড় করানো হকউ যাতে আল্লাহর দুশমন দাঁড়াবে?

#আজ কেহ নামাজ পড়ে আর না পড়ে হাশরের দিন হকুম হবে আল্লাহর সামনে সিজদা কর, সকলে সেদিন সিজদা করতে চাইবে, যে নামাজ পড়ে না সেও সেজদা করতে চাইবে কিন্তু বে নামাজির কোমর শক্ত হয়ে যাবে, সে আরজু রাখালেও সেদিন সেজদা করতে পারবে না।

সুরা কালাম এর ৪২-৪৩ নং আয়াতে এরশাদ হচ্ছে

يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ

গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না। [ সুরা কালাম ৬৮:৪২ ]

خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ

তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে; তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হত। [ সুরা কালাম ৬৮:৪৩ ]



#কুরান বলে কিছু লোককে জাহান্নামে ঢালা হবে তখন তাদের বলা হবে (মা ছালাকাকুম ফি সাকার)  তোমরা জাহান্নামে কেন যাচ্ছ? তারা জবাব দিবে (লাম নাকুম মিনাল মুছাল্লিন) আমরা নামাজ পড়তাম না।

# হাশরের মাঠে আল্লাহর হকের প্রথম হিসাব বান্দা থেকে হবে তা হবে নামাজের হিসাব। প্রথম প্রশ্নই হবে নামাজের ব্যপারে। যদি নামাজের হিসাব সঠিক হয় তবে বাকি সব আমল তার ঠিক হবে। আর যদি নামাজ বিনষ্ট হয় তাহলে বাকি সবআমলই তার বিনষ্ট হবে

# যখন চিড়িয়াও  তসবিহ বলে, সেখানে আশরাফুল মাখলুকাত শুয়ে থাকবে? কেমনে এটা হতে পারে?

#যখন সকাল হয় তখন সকল কিছু আল্লাহর তসবিহ পড়তে থাকে, গাছের শাখার পাখ পাকালিরাও আল্লাহর তসবিহ পড়ে, জমিন ও সমুদ্রের সকল প্রাণীও মহান প্রভুর গান গাইছেন কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত শুয়ে আছে।

#আজ এই মজলিশে যদি কোন বে নামাজি থাকেন তাহলে আজই এখান থেকে শপথ করুন আজকের পর আর নামাজ ছাড়ব না , এবং আপনার বন্ধুদের ও ঘরে এমন জোর তাকিদ দিবেন যেন সে পাক্কা নামাজি হয়ে যায়,

#বান্দা বন্দেগি দ্বারা সাজে, (জিন্দেগী আমদ বরায়ে বন্দেগি) যদি জীবনে এবাদত না থাকে তাহলে জীবনে আর আছেই বা কি?

#ওলামায়ে কেরাম লিখেছেন  সকল গাছপালা কিয়ামের হালতে আছে, যত খাট পালং রুকুর হালতে আছে, ব্যাংগজাতি তাশাহুদের হালতে, আর বিচ্ছু পোকারা সিজদার হালতে আছে।

#মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত তাই তার এবাদতে  কিয়াম,  রুকু রাখা হয়েছে, সিজদা, বৈঠকও রাখা হয়েছে যাতে মানুষের এবাদতে সকল সৃষ্টির এবাদত জমা হয়ে যায়।

# খোশনসিব সে লোক যে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর তাহাজ্জুদও কাজা হতে দেয় না,

# বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয় তখন যখন সিজদায় মাথা রাখে,

# মানুষের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গগুলি তার মাথায়, বলার শক্তি জিহ্বা মাথায়, দেখার শক্তি চোখ মাথায়, ঘ্রাণের শক্তি নাক মাথায়, স্বাধ গ্রহণের শক্তি জবান মাথায়, শ্রবণের শক্তি কান মাথায়, চিন্তা করার শক্তি দেমাগ মাথায়, আর সে মাথা প্রভুর দরজায়। সুবহানাল্লাহ

*হুযুর (দঃ) মেরাজের রাতে এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা নিজেদের মাথাকে পাথরের উপর জোরে জোরে মারছিল, ফলে তাদের মাথা সাংঘাতিক ভাবে চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। আবার ভাল হয়ে যাচ্ছিল।হুযুর (দঃ) জিবরাইল থেকে জানতে চাইলেন এরা কারা? জিবরাইল বলেন এরা হল ঐ সমস্ত লোক যারা নামাজে অবহেলা করত।

*আল্লাহ তায়ালা সুরা মাউনে এরশাদ করেন

(ফাওয়াইলুললিল মুছাল্লিনাল্লাজিনা হুম আনছালাতিহিম ছাহুন)

অর্থ্যাৎ ঐ সমস্ত নামাজিদের জন্য জাহান্নাম যারা নামাজে অলসতা করে।

*ইবনে আবিদ্দুনিয়াতে হযরত আমর বিন দিনার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, মদিনা শরীফের এক ব্যক্তির বোন মারা যায় এবং তাকে দাফনের সময় কবরে তার ভায়ের টাকার থলে পরে যায়, পরে তার ভাই টাকার থলেটি নেয়ার জন্য কবর খুলতে গেলে দেখল কবর থেকে প্রচন্ড আগুনের তাপ বের হচ্ছে, তিনি ভয়ে কবর না খুলে আবার মাটি ঝাপিয়ে দিল, আর মাকে প্রশ্ন করল তাঁর বোন কি কোন গুনাহ করত কিনা? মা জবাব দিল তার বোন নামাজ ওয়াক্ত মত পড়ত না, দেরী করে কাজা করে পড়ত।  নামাজ দেরী করে কাজা করার কারনে যদি কবরে আগুন জ্বলে তাহলে যারা নামাজের ধার ধারেন না তাদের কবরে কি অবস্থা হবে? আল আমান আল হাফিজ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিঃসন্দেহে নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে”। (সূরা আল আনকাবূত – ৪৫) সুতরাং যারা নামাজ পড়ে না তারা নানা ধরনের অশ্লিল ও মন্দ কাজে জড়িত হয়ে পরে ফলে তাদের জীবন থেকে বরকত ও আল্লাহর রহমত দুর হয়ে যায়।

“আবু হুরাইরা (রাদি আল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যখন আদম সন্তান সিজদার আয়াত পাঠ করে, অতঃপর সিজদা করে তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে একপাশে সরে দাঁড়ায় এবং বলতে থাকে, হায় আমার পোড়া কপাল, আদম সন্তানকে সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হলো সে সিজদা করলো। ফলে তার জন্য জান্নাত, আর আমাকেও সিজদার নির্দেশ করা হয়েছিল কিন্তু আমি অস্বীকার করেছিলাম, তাই আমার জন্য জাহান্নাম।” (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান অধ্যায়)

পক্ষান্তরে যারা নামাজ পড়ে না তারা মুলত সিজদা থেকে বিরত থাকল যা শয়তানেরই একটি কাজ।

তাই আসুন আমরা আজ থেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি নিজেদের দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর ও বরকতময় করি।

 


1 টি মন্তব্য:

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.