নামাজের বিষ্ময়কর ফজিলত। Importance of Namaz || Ja al haq







জমাদিউল আউয়্যাল ৪র্থ খুতবা
কুরআন সুন্নাতে নামাজের শিক্ষা
(ওয়ামা খালাকতুল জিন্নাহ ওয়াল ইনছা ইল্লা লিয়াবুদুন)
আল্লাহ তায়ালা মানুষ জ্বীন জাতীকে সৃষ্টি করিনি তবে আমার এবাদত এর জন্য
(জিন্দেগি আমদ বরায়ে বন্দেগি)
নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা কোন কিছু যখন প্রথমে নফি করেন তার পর যখন এছবাত করেন, তখন তার গুরুত্ব বেড়ে যায়। যেমন আমরা কলমা তৈয়্যবে বলি লা ইলাহা এটি হল নফি অর্থ্যাৎ কোন ইলাহ নাই তবে আল্লাহ একজন আছেন এটা হল এছবাত।
আর পবিত্র কুরআনের আয়াতে প্রথমে মানুষ জ্বিনের আমলকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে এরপর একটি আমল এর ঘোষনা করা হয়েছে তা হল এবাদত। সুতরাং এই এবাদতের গুরুত্ব মানব জ্বীনের জন্য খুবই জরুরী
এবাদতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূণ হল নামাজ কারন

#পবিত্র কুরআনে ৬৪ বার সালাহ শব্দটি এসেছে
পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন পদ্ধতিতে নামাজের ব্যপারে বয়ান এসেছে যেমন
# একামত- কুরানে কখনো নামাজ কায়েম করার কথা
# হেফাজত- কোথাও নামাজকে হেফাজতের কথা বলা হয়েছে
# আমর বিস সালাহ- কোথাও নামাজের হকুম দেয়া হয়েছে
# এসতেয়ানাত বিসসালাহ-নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার কথাও এসেছে
# নেদা ইলাস সালাহ- নামাজের দিকে আহ্বান করারে জিকিরও এসেছে
# ফাসআউ ইলা জিকিরিল্লাহ- বলে নামাজের দিকে ধাবিত হওয়ার কথা
এভাবে নানা ভাবে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নামাজের প্রতি বান্দাকে উৎসাহিত করেছেন


কুরানে নামাজে জানাজার বয়ানও আছে, নামাজে কসরের বয়ানও আছে, নামাজে খওফের বয়ানও এসেছে, নামাজে পাঞ্জেগানার জিকিরও আছে। কিয়ামুল লাইল, নামাজে তাহাজ্জুদ এর জিকির এসেছে
নামাজিদের জন্য সুসংবাদ
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব নেয়া হবে। যদি নামাজ ঠিক থাকে তবে অন্যান্য আমলও সঠিক বলে প্রমাণ হবে। আর যদি নামাজের হিসাবে গরমিল হয়, অন্যান্য আমলও ত্রুটিযুক্ত
হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি-:২৪৫পৃ.)
কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিদের প্রতিদান দেবেন। যারা দুনিয়াতে নামাজ কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে, সে দিন তারা আনন্দ-উল্লাস করতে থাকবে। তাদের জাহান্নামের
কোনো ভয় থাকবে না। আর দুনিয়ার বেনামাজিরা, সে দিন হা-হুতাশ করতে থাকবে।
কুরআনে এরশাদ হয়েছে,
وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ
الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللّهِ
إِنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। [ সুরা বাকারা :১১০ ]


নামাজ কবুল না হওয়ার দলিল
(ইন্নাস সালাতা তানহা আনিল ফাহশাঈ ওয়াল মুনকার)
অর্থ্যাৎ - নিশ্চয় নামাজ ফাহেশা অশ্লিল কাজ থেকে বিরত রাখে
আমরা অনেক সময় আযান শুনে মসজিদে চলে আসি, রুকু করি, সিজদা করি, কিন্তু আমার এই নামাজের যে লজ্জত তা আমরা হাছিল করি না, নামাজ পড়ি পাশাপাশি আমরা গুনাহও করি, আমার নামাজ আমাকে গুনাহ থেকে বাচিয়ে রাখতে পারে না, এর পিছনে কারন হল আমদের নামাজ কবুল হয়না, কারন আমরা খুশুর সাথে একাগ্রতার সাথে নামাজ পড়ি না, আল্লাহর জন্য নামাজ পড়ি না, একাগ্রচিত্তে নামাজ পড়িনা, তাছাড়া আমরা নামাজ পড়ি কিন্তু আমার রিযিকও হারাম, পোষাকও হারাম কামায়ের, তাই আমার নামাজ আমাকে গুনাহ থেকে বাঁচাতে পারে না।
নামাজের হেফাজত- মধ্যবর্তী নামাজ
আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন (হাফেজু আলাস সালাওয়াত, ওয়াস সালাতিল উসতা)
তোমরা তোমাদের নামাজের হেফাজত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজ। (ওয়া কুমু লিল্লাহি কানিতিন)
আর তোমাদের পরওয়ারদিগারের সামনে এমন কিয়াম কর যাতে তোমরা অনুগত হয়ে যাও
নামাজ ইবলিসও পড়েছে কিন্তু ইবলিস সে নামাজ হেফাজত করতে পারেনি, তাই সে মরদুদ। আবু বকর নামাজ পড়েছে সাথে সাথে হেফাজতও করেছেন, তাই আবু বকর ছিদ্দিক। আবু বকর জান্নাতের সু সংবাদ প্রাপ্ত

আমাদের নামাজ কেমন হওয়া উচিত?
# খুশু ওয়ালা নামাজঃ (ওয়া ইন্নাহা লা কাবিরাতুন ইল্লা আলাল খাশিঈন)
যাদের অন্তরে আল্লাহর মহব্বত আছে তারা ছাড়া অন্যদের কাছে নামাজ খুবই ভারী কষ্টদায়ক হয়
নামাজে অনেক সময় শরীর আল্লাহর সামনে ঝুকে কিন্তু অন্তর ঝুকে না, তাই বাহ্যিক অঙ্গের সাথে সাথে যদি মানুষের অন্তরও পরওয়ারদিগারের
দরবারে ঝুকে যায় সেটাকে বলে খুশু। আর এই খুশু ওয়ালা নামাজই আল্লাহ বেশী পছন্দ করেন।
ঘটনা- এক নওজোয়ান নামাজ পড়ে কিন্তু পাশাপাশি গুনাহও করে, সে প্রশ্ন করল আমি এত গুনাহ করি কিন্তু তারপরও আমার উপর আল্লাহর কোন আযাব নাজিল হয় না, তখন জবাব দানকারী তাকে বলল তুমি কি নামাজে মজা পাও, নামাজে কি তোমার মন লাগে? নাকি নামাজে কোন মজা পাও না? সে বলল হ্যাঁ আমি ওয়াক্ত নামাজ পড়ি ঠিকই কিন্তু নামাজের যে মজা তা আমি এখন পায়না, তখন জবাবদানকারী তাকে বলল তোমার উপর এটাই হল আল্লাহ আযাব


নামাজে মনযোগ বাড়ানোর ৩টি উপায়
১। নামাজের অথ শিখতেহবে, আপনি সারা জীবন নামাজে প্রভুর প্রসংশা করছেন কিন্তু তাশাহুদে কি বলছেন, রুকুতে কি বলছেন, সিজদায় কি বলছেন, সুরা ফাতেহায় কি বলছেন তা আপনি জানেন না তাহলে আপনার সে নামাজে আল্লাহ কিভাবে খুশী হবেন? ধরুন আপনি রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে প্রতিদিন বার বলে আসেন রাষ্ট্রপতি সাহেব (আই লাভ ইউ) একিদন রাষ্ট্রপতি আপনাকে প্রশ্ন করল আচছা তুমি আমাকে প্রতিদিন বার বল আই লাভ ইউ, তুমি কি জান এর অর্থ কি? আপনি যদি বলেন না আমি জানি না, তখন আপনার এই ভালবাসার কথায় কি রাষ্ট্রপতি খুশি হবেন? তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নামাজে আমরা যা পড়ি তার অর্থ শেখা,
২। মনে করবেন এই নামাজই আমার জীবনের শেষ নামাজ, আজ আমি এশারের নামাজ পড়ছি কাল ফজরের নামাজ আমার নসিব হবে না, আমি কবরে চলে যাব আর মৃত্যুর পর আমার আর নেকি কামানোর সুযোগ বাকী থাকবে না, এই চিন্তা করে যখন নামাজ পড়বেন তখন আপনার নামাজে মনযোগ বৃদ্ধি পাবে
৩। নামাজে দাঁড়ালে মনে মনে চিন্তা করবেন আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সামনে দাঁড়িয়েছি, আমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছি, যদি দেখতে না পারেন তাহলে চিন্তা করতে থাকুন মহান রব আমাকে দেখছেন। ইনশা আল্লাহ নামাজে আপনার একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে।

গুনাহ হয়ে গেলে কি করবেন?
এক সাহাবী গুনাহ করে বলে হদ কায়েম করুন
হাদীস শরীফের মধ্যে এসেছে- একদিন এক লোক এসে বলে এয়া রাসুলাল্লাহ
আমি গুনাহ করেছি, আপনি আমাকে শাস্তি দিন, তখন নামাজের ওয়াক্ত হয়েছিল, প্রিয় নবীজি নামাজের জন্য দাঁড়ালেন, নামাজ শেষে সে লোক আবাার বলল এয়া রাসুলাল্লাহ আমি গুনাহ করেছি আপনি আমাকে সাজা দিন, তখন সে লোককে দয়াল নবী প্রশ্ন করলেন তুমিকি আমার পিছনে নামাজ পড়নি? সে বলল হ্যাঁ পড়েছি। তখন নবীজি ফরমান (ফাইন্নাল্লাহা ক্বাদ গাফারালাকা মা জানবাকা আউ হাদ্দাকা)
আল্লাহ তোমার বিগত জীবনের তামাম গুনাহসমুহকে আমার পিছনে নামাজের কারনে ক্ষমা করে দিয়েছেন
হাদীস দ্বারা আমরা এটাই শিক্ষা পাই যদি আমাদের থেকে কোন গুনাহ হয়ে যায় তার জন্য আমরা যদি লজ্জিত হই, তওবা করি সাথে সাথে নেক আমল করি, নামাজে দাঁড়িয়ে যায় তার বরকতে আল্লাহ আমাদের গুনাহ সমুহ মাফ করে দেন
সালাতুত তওবা
হাদীস শরীফে আছে নবী করিম (দঃ) বলেন- যখন মানুষ থেকে গুনাহ হয়ে যায় তখন সে যেন দাঁড়িয়ে যায় (ফা এয়াতাতাহহারু)
অতঃপর অজু করে, এবং নামাজ আদায় করে এরপর আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চায়, ফলে আল্লাহ তাযালা তার গুনাহসমুহকে মাফ করে দেন


হাদীসে দেখা যাচ্ছে গুনাহ হয়ে গেলে সাথে সাথে নামাজ পড়ে নেয়া আল্লাহর রাসুলের হকুম। এখন নামাজ কিসের নামাজ হবে? প্রশ্নের জবাবে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন নামাজের নাম হল সালাতুত তওবা
এই হকুম দেয়ার পর নবী করিম (দৎ) কুরানের এই আয়াত তেলাওয়াত করেন (ওয়াল্লাজিনা ইজা ফাআলু ফাহিশাতান আউ জালামু আনফুছাহুম জাকারুল্লাহ ফাসতাগফারু লি জুনুবিহিম)
অথ্যাৎ- ঈমানদারদের গুন হল আল্লাহ না করুক কেউ যদি কোন অশ্লিলতায় লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে সে যেন আল্লাহ তায়ালার জিকির করে, এবং আল্লাহর কাছে নিজের কৃত গুনাহের জন্য মাগফেরাত তালাশ করে

নামাজ শুধু গুনাহের কাফফারাই নয় বরং
নামাজ এমন এক ফরয এবাদত একে মুমিন কাফেরের এর মধ্যে পার্থক্য করার একমাত্র মাধ্যম বলা হয়েছে,


বালেগ হওয়ার বয়স কাজা নামাজ
তাই আমাদের নবী করিম (দঃ) বছরে নামাজের শিক্ষা ১০ বছরে সন্তানকে নামাজের জন্য কঠোরতা দেখাতে নির্দেশ দিয়েছেন

বিশেষ করে মেয়েরা বছরে এবং ছেলেরা ১২ বছরে বালেগ হয তখন থেকে এই নামাজ ফরয এখন আর ওয়াক্ত নামাজও ছাড়া যাবে না। আজই ঘরে গিয়ে হিসাব করবেন আপনার ১২ বছরের পর থেকে পযন্ত কত ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়েছে, এখন আপনার ৪০ বছর বা ৫০ বছর আপনি এখন মসজিদে আসছেন, ফরয নামাজ পরছেন, কিন্তু আপনি যে ১২ বছরের পর থেকে নিয়ে ৪০ বছর পযন্ত নামাজ পড়েননি এই ২৮ বছরের নামাজ কি করবেন? কাজা করবেন।


সংক্ষেপে কাজা পড়ার নিয়ম
সময় যেহেতু কম তাই সংক্ষেপ করে হলেও কাজা করবেন, আর নিয়ত করবেন আমি আমার জীবনে প্রথম ফজরের কাজা নামাজ, প্রথম জোহরের কাজা নামাজ, প্রথম বিতিরের কাজা নামাজ, এভাবে পড়তে থাকবেন, যেদিন পূন একিন হবে যে আপনার সারা জীবনের কাজা শেষহয়েছে সেদিন থেকেই আর পড়বেন না
সংক্ষেপ কিভাবে করবেন? রুকুর তসবিহ বার পড়বেন, সিজদার তসবিহ বার পড়বেন, তাশাহুদ পড়ে আল্লাহুম্মা ছাল্লে আলা মুহাম্মাদিন পযন্ত পড়ে সালাম ফিরাবেন, বিতিরে দোয়া কুনুতে বার পড়বেন রাব্বিগফিরলি।


কুরানে নামাজিদের ১টি চমৎকার প্রসংশা আল্লাহ করেছেন যেমন-
ইন্নাল ইনসানা খুলিকা হালুয়া,
মানুষকে বেছবর লোভকারী স্বরুপ সৃষ্টি করা হয়েছে, ইজা মাচ্ছাহুশ শাররু জাজুয়া-
মানুষ যখন ধন সম্পদ মালামালের দিক দিয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হয় তখন মানুষ ভীত হয়, ওয়া ইজা মাচ্ছাহুল খাইরু মানুয়া-
যখন মানুষ স্বচ্ছল হয় তখন কৃপনতা করে, ইল্লাল মুছাল্লিন-
তবে যারা নামাজি তারা ছাড়া।অথ্যাৎ
নামাজি ব্যক্তি কৃপনতা করে না। আল্লাজিনাহুম আলা ছালাতিহিম দাঈমুন -
তারা নিজেদের নামাজে দায়েম কায়েম থাকেন। অথ্যাৎ মাঝে মাঝে যারা নামাজি তারা নয় বরং যারা সদা সবদা নামাজের উপর কায়েম থাকেন আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রসংশা করছেন


যে কোন মসিবত দুঃখ পেরেশানীতে কি করবেন?
#সালাতুল হাজাত
এক হাদীসে নবী করিম () এরশাদ করেন যদি কোন বান্দার কোন হাজত উপস্থিত হয়, কিংবা কোন কষ্টে থাকে, যেমন কুরানে আল্লাহ বলেন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ
اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের
সাথে রয়েছেন। [ সুরা বাকারা :১৫৩ ]


নবীজি বলেন (মান কানাত লাহু হাজাতুন ইলাল্লাহি আউ ইলা আহাদি মিন বনি আদম)
অথ্যাৎ যদি আল্লাহর কাছে কোন প্রয়োজন থাকে কিংবা কোন বান্দার কাছে কোন প্রয়োজন থাকে তার জন্য উচিত হল সে যেন সাথে সাথে ভাল ভাবে অজু করে, এবং রাকাত নফল নামাজ আদায় করে নেয়, আল্লাহর ছানা আমার উপর দরুদ সালাম পাঠ করে , এরপর এই দোয়া যেন করে

দোয়াটি হলো-
لا إله إلا الله الحليم الكريم
سبحان الله رب العرش العظيم الحمد لله رب العالمين. أسالك موجبات رحمتك وعزائم
مغفرتك والغنيمة من كل بر والسلامة من كل إثم لا تدع لي ذنباً إلا غفرته ولا هما
إلا فرجته ولا حاجة هي لك رضا إلا قضيتها يا أرحم الراحمين
উচ্চারণ :
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল
হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আছআলুকা মুজিবাতি রাহমাতিক; ওয়া আজা-ইমা মাগফিরাতিক, ওয়াল গানিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইছমিন লা তাদাউলি- জাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়ালা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়ালা হা-জাতান হিয়া লাকা রিজান- ইল্লা কাদায়তাহা ইয়া আর হামার রাহিমীন। [তিরমিজি, ইবনে মাজা নাসায়ি]

যখন মানুষের কাছে আর কোন আশা বাকি থাকে না, দুনিয়ার কোন মানুষ থেকে সাহায্য সহযোগীতা পাওয়ার আর কোন সুযোগ বাকী থাকে না হাদীস শরীফে এসেছে যদি কেহ এমন অবস্থায় রাকাত নফল নামাজ আদায় করে এবং এই দোয়াটি পড়ে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার দোয়াকে কবুল করে নেন


হাদীসে পাকে আরো এসেছে- হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন (ইজা হাজাবাহু আমরুন ছাল্লা)
যখন আমাদের প্রিয় নবী কোন কারনে দুঃখ পেতেন, মনক্ষুন্ন হতেন তখন নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন, আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হয়ে যেতেন। আবুদাঊদ হা/১৩১৯


হযরত সারার সালাতুল হাজত
হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর স্ত্রী সারা ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। যখন তিনি অপহৃত হয়ে মিসরের লম্পট সম্রাটের নিকটে নীত হলেন অত্যাচারী সম্রাট তার দিকে এগিয়ে গেল, তখন তিনি ওযূ করে ছালাতে রত হয়ে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলেছিলেন,

اَللَّهُمَّ لاَ تُسَلِّطْ عَلَىَّ
هَذَا الْكَافِرَ


হে আল্লাহ! এই কাফেরকে তুমি আমার উপর বিজয়ী করোনা সঙ্গে
সঙ্গে আল্লাহ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং
উক্ত লম্পটের হাত-পা অবশ হয়ে পড়েছিল। তিন-তিনবার ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সে বিবি সারা-কে সসম্মানে মুক্তি দেয় এবং বহুমূল্যবান উপঢৌকনাদি সহ তার খিদমতের জন্য হাজেরাকে তার সাথে ইবরাহীমের নিকট
পাঠিয়ে দেয়। . বুখারী হা/২২১৭ 

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.