২০২০ সালের প্রথম জুমা। কবর জীবনের ১০টি ঘটনা। New Bangla Waz 2020|| Life ...







জমাদিউল আউয়্যাল-১ম জুমার খুতবা
কবর আযাবের ১৯টি কারন

কবর আযাব সত্য এর পক্ষে শক্তিশালী দলিল হল মুর্তিপুঁজারী ৩টি মাথার খুলিঃ
ঘটনাঃ এক
অগ্নি পুঁজারী আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর (রাঃ)
এর খেদমতে ৩টি মৃত ব্যক্তি মাথার খুলি নিয়ে উপস্থিত হল, আর বলল
হে ওমর তোমার নবী বলেন যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের উপর মৃত্যুবরণ করে তাঁকে আগুনে জ্বালানো হবে সে এই আয়াতটি পাঠ করে (আন্নারু ইউরাদুনা আলাইহা গুদুওয়্যান ওয়া আশিয়্যান) অর্থাৎ
সকাল সন্ধ্যা এদেরকে (ভিন্ন ধর্মীদেরকে) আগুনের সামনে আনা হবে
তখন হযরত
ওমর বললেন নিশ্চয়ই আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর দাবী
সত্য এটা শুনে অগ্নি পুঁজারী তাঁর থলে থেকে ৩টি মাথার খুলি বের করল, এবং বলল
এটা আমার বাবার মাথা, এটা আমার মায়ের মাথা, এটা আমার বোনের মাথা আমি এদের মাথার খুলিতে এখন হাত রেখেছি কিন্তু তাতে আমি গরম অনুভব করছি না হে ওমর তোমাদের দাবী মোতাবেক এই খুলি গুলি থেকে গরম বের হওয়া উচিত ছিল কারন এসব অগ্নিপুঁজারীর মাথার খুলি
এমন প্রশ্ন
শুনে হযরত ওমর আলী (রাঃ)
কে ডেকে পাঠালেন- হযরত আলী তশরীফ আনলে সে অগ্নিপুঁজারীকে তাঁর প্রশ্নটা পুনরায় হযরত আলীর সামনে পেশ করার জন্য নির্দেশ দিলেন, অগ্নিপুঁজারী প্রশ্নটি আবার করলেন, হযরত আলী প্রশ্ন শুনে ১টি পাথর ১টি হাতুরি
আনতে বললেন আর সে পাথর হাতুরি সে
অগ্নিপুঁজারীকে দিয়ে বললেন িএগুলি ধরে দেখ এগুলিকি ঠান্ডা নাকি গরম? অগ্নি পুঁজারী
বলল ঠান্ডা, তখন হযরত আলী সে হাতুড়ি দিয়ে পাথরের উপর মারতে লাগলে কিছুক্ষন পিঠানোর পর সে পাথর থেকে আগুনের স্ফুলিংগ বের হতে লাগল, এবার আলী (রাঃ)
সে অগ্নিপুঁজারীকে বললেন যদি ঠান্ডা লোহা পাথর থেকে
আগুন বের হতে পারে, তাহলে আল্লাহ কেন মৃত ব্যক্তি হাঁড় থেকে আগুন বের করতে পারবে না? আল্লাহ কাফেরদেরকে
আগুন দিয়েই শাস্তি দিয়ে থাকে যদিও তা তোমার কাছে লোহা পাথরের মত
ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে, এমন যুক্তি শুনে সে অগ্নিপুঁজারী লা জাওয়াব হয়ে গেলেন
#কবর আযাব পশু পাখি দেখে
ইবনে আবি
শায়বা ইমাম মুসলিম
হযরত যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) হতে বর্ণনা
করেন- নবী করিম (দঃ) একবার বনু
নাজ্জারের এক বাগানে খচছরের উপর সওয়ার ছিলেন, বর্ণনাকারী বলেন আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম হঠাৎ নবীজির খচ্ছরটি ভিষন নড়াচড়া আরম্ভ করে দিল,  সামনে কয়েকটি কবর দেখা যাচ্ছে, নবী করিম (দঃ) সকলকে জিজ্ঞেস
করলেন কবরের পরিচয়
কে জানে? সকলে বলল এগুলি মুশরিকদের কবর, তখন নবী
করিম (দঃ) এরশাদ করলেন
এদের কবরে আযাব হচ্ছে আর আমার খচ্ছরটি তা দেখতে পাচ্ছে তাই এভাবে নড়াচড়া করছে যদি তোমরা এই আযাব দেখতে পেতে তাহলে তোমরা সকলে মারা যেতে
১৯টি কারনে কবর আযাব হয়
কুফুরীর কারনে
আযাবঃ আল্লাহর বাণী (কামা এয়াঈছাল কুফফারা মিন আছহাবিল কুবুর) কাফেরেরা যখন আযাবের সম্মুখিন হবে তারা রহমতের ঘ্রাণও পাবে না
মসনদে আহমদের
হাদীসঃ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণনা
করেন, কাফেরদের জন্য কবরে সর্বদা ২টি সাপ থাকবে একটি মাথার দিকে আরেকটি পায়ের দিকে কিয়ামত না হওয়া পর্যন্ত তারা কবরে অবস্থান করবে
মুনাফেকির কারনে
আযাবঃ শবে মেরাজে নবী করিম (দঃ) কিছু লোকের
পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের চোখ, কান এবং
নাক দিয়ে আগুনের স্ফুলিংগ বের হচ্ছে এবং তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য ২জন ফেরেশতা হাঁতুড়ি নিয়ে দন্ডায়মান রয়েছে হাঁতুড়ি যদি আবু কুবাইছ পাহাড়ে রাখা হয় তাহলে তা র্চুণ বির্চুন হয়ে যাবে নব করিম (দঃ) যখন
লোকদের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন জিব্রাইল থেকে জানতে চান এরা কারা? জিব্রাইল উত্তর দেন এরা হল মুনাফেক (মাদারেজুন্নবুয়ত)
#নবী করিম (দঃ) বলেন মুনাফেকদেলেনর
আগুনের ২টি জিহ্বা হবে  
হত্যার কারনে
আযাবঃ নবী করিম (দঃ) মেরাজের রাত্রে
এমন কতগুলি লোকদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদেরকে ফেরেশতারা আগুনের ছুরি দিয়ে জহেব করছিল আর তাদের রক্ত ছিল কালো, জিবরাইলকে প্রশ্ন করা হল এরা কারা জিবরাইল উত্তর দিল এরা হল তারা যারা মুসলমানদেরকে হত্যা করত
আল্লাহ তায়াল
এরশাদ করেন (মান কাতালা মুমিনান মুতায়াম্মিদান ফাজাজাউহু জাহান্নাম) অথ্যাৎ যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে তার জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম
নামাজে অলসতার
কারনে আযাবঃ মিরাজের রাতে নবীজি দেখেন কিছু লোকের মাথা আঘাতে চুর্ণ বিচুর্ন হয়ে যায় আবার ঠিক হয় জিবরাইল বলেন এরা ঠিক মত নামাজ পড়ত না
সুরা মাউন- (ফাওয়াইলুলিল মুছাল্লিনাল্লাজিনা হুম আন ছালাতিহিম ছাহুন) সমস্ত নামাজির
জন্য জাহান্নাম যারা নামাজে অলসতা করে
রোজা না
রাখার কারনে আযাবঃ ইবনে যওজী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনে
মুহাম্মদ মাদানি (রহঃ) থেকে বর্ননা
করেন তিনি নিজের জীবনের একটি বাস্তব ঘটনা বর্ণানা করে বলেন একবার আমি এক সফরে বের হলাম পথে এক জায়গায় মাগরিবের ওয়াক্ত হলে আমি একটি জায়গায় নামাজে দাঁড়ালাম পাশে ছিল একটি কবরস্থান আমি কবর থেকে আওয়াজ ভেসে আসতে শুনলাম কে
যেন বলছে হায় আফসুস আমি দুনিয়ায় থাকতে নামাজও পড়তাম না রোজা রাখতাম না, তখন এই
আওয়াজ আমি আমার সফর সঙ্গী এক সাথীকেও শুনালেন, কবর থেকে এমন কাতর করুন স্বরে
কথাগুলি ভেসে আসছিল যা একেবারে কলিজায় আঘাত করছিল মুলত নামাজ রোজা না
রাখার কারনে তার কবরে আযাব হচ্ছিল
জাকাত
না দেয়ার আযাবঃ আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (রহঃ) স্বী
কিতাব জাওয়াজেরে বর্ননা করেন- তাবেয়ীনদের একটি দল তৎকালীন সময়েল এক বুজুর্গ হযরত আবু সিনান (রহঃ) এর সাথে
সাক্ষাতের জন্য গেলেন আবু সিনান বলেন আমার এক প্রতিবেশী ইন্তেকাল করেছেন তাঁর পরিবারকে সান্তনা দিতে যাচ্ছি, তাবেয়ীনগন বললেন আমরাও আপনার সাথে যাব, আবু সিনানের
সাথে তাবেয়ীনগনও গেলেন, সেখানে গেলে মৃত ব্যক্তির ভাই আবু সিনানকে বলেন হুযুর আমার ভায়ের কবরে আযাব হচ্ছে, আমার ভাইকে দাফন করার পর যখন সকলে ফিরে যায় আমি কবরের পারে দোয়া করছিলাম, তখন শুনতে পেলাম হায় আফসুস হায় আফসুস বলে কবর থেকে আওয়াজ ভেসে আসছে, তখন আমি কবরের মাটি সরালাম দেখি আমার ভায়ের গলায় একটি আগুনের বেড়ি পরিয়ে দেয়া হয়েছে, আমি সে আগুনের বেরি সরাতে চাইলে আমার হাত জ্বলে যায়, তখন আমি
কবরে মাটি ঝাপিয়ে ভয়ে চলে আসি তখন আবু সিনান প্রশ্ন করেন তোমার ভায়ের আমল কি ছিল? লোকটি বলেন
আমার ভাই নামাজ রোজা করত কিন্তু জাকাত দিত না কথা শুনে
আবু সিনান সুরা আল ইমরানের আয়াত তেলাওয়াত
করলেন
(ওয়ালা এয়াহছাবান্নাল্লাজিনা এয়াবখালুনা বিমা আতাহুমুল্লাহু মিন ফাদলিহি হুয়া খাইরুল্লাহুম বাল হুয়া শাররুল্লাহুম)
অর্থ্যাৎ- আল্লাহ
তাদেরকে নিজের অনুগ্রতে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপনতা করে এই কাপর্ন্য তাদের জন্য সাফল্যজনক হবে বলে তারা যেন ধারনা না করে, বরং এটা
তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে
যেনা বদমাশের
কারনে আযাবঃ মেরাজের রাতে নবীজি দেখেন ১টি হাড়িতে ভাল গোস্ত, অপর হাড়িতে দুগন্ধযুক্ত গোস্ত কিছু লোক ভাল গোস্ত না খেয়ে সে দুগন্ধযুক্ত গোস্ত খাচ্ছে, নবীজীর প্রশ্নের জবাবে জিবরােইল বললেন এরা হল যাদের ঘরে স্ত্রী রেখে পরনারীর সাথে গুনাহে লিপ্ত হত যেনায় লিপ্ত হত
আ্ল্লাহ এরশাদ
করেন (ওয়ালা তাকরাবুজ জেনা, ইন্নাহু কানা ফাহেশাতান ওয়া ছাআ ছাবিলা) তোমরা
যেনার নিকটেও যেও না এটা বড়ই লজ্জার কাজ এবং খারাপ পথ
শরাব পান
কারীদের আযাবঃ কুররাতুল উয়ুন নামক কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে- কেয়ামতের দিন শরাবীরা শরাবের পাত্র গলায় ঝুলন্ড অবস্থায় উঠবে, শরাব পান কারীর কবরে আযাব হয় এমনকি তাদের চেহেরা কেবলা থেকে ফিরে যায়
মেরাজের রাতে
নবীজি দেখেন এক দল লোক যাদের উপরের ঠোট মাথার সাথে নিচের ঠোট পায়ের সাথে ঝুলন্ত, আর তাদেরকে গরম পুঁজ খেয়ে দেয়া হয়েছে, জিবরাইল বলেন এরা হল শরাবখোর
তারগীব নামক কিতাবে ১টি ঘটনা - এক লোক প্রতিদিন আসরের সময় কবর ফেটে যায় তা থেকে গাধার মত ৩টি আওয়াজ বের হয়, মুলত সে
ছিল মদপানকারী তার মা মদ পানে বাধা দিলে সে গাধার মত মাকে ধমক দিত একদিন সে আসরের সময় মারা গেল আর সেদিন থেকৈ প্রতিদিন তার কবর আসরের সময় ফেটে যায় আর তা থেকে গাধার মত ৩টি চিৎকার শুনা যায় পরে কবর আবার বন্ধ হয়ে যায়
বাহলুল ও হারুন এবং মদ হারাম হওয়ার কারন
একদিন হারুন রশিদ শরাব খানায় সঙ্গী সাথীদের নিয়ে শারাব পানে
মত্ত, এমন সময় বাহলুল দানা সেখানে উপস্থিত, খলিফা বাহলুলকে দেখেই  প্রশ্ন করল বাহলুল আমার ১টি প্রশ্নের জবাব দিতে
পারবে? বাহলুল বলল জরুর, আপনি প্রশ্ন করুন, হারুন প্রশ্ন করল আচ্ছা বল আঙ্গুর
খাওয়া কি হারাম? বাহলুল জবাব দিল না, হারুন আবার প্রশ্ন করল আচ্ছা এবার আঙ্গুর
খেয়ে পান পান করা কি হারাম? বাহলুল জবাব দিল না। হারুন আবার প্রশ্ন করল আঙ্গুর ও
পানি পান করে মানুষ যদি রোদে বসে থাকে তা কি হারাম? বাহলুল জবাব দিল বিলকুল হারাম
নয়। সে যতক্ষন ইচ্ছা ততক্ষন রোগে বসে থাকতে পারবে। হারুন এবার প্রশ্ন করল আচ্ছা
তাহলে এই আঙ্গুর এর সাথে পানি মিক্স করে সেটাকে কিছুদিন রোদে রাখলে তা খাওয়া কেন
হারাম হবে?
বাহলুল মুচকি হেসে বলল জাহাপনা আপনার এই প্রশ্নে জবাবে আমি
আপনাকে উল্টা প্রশ্ন করব তার সঠিক জবাব দিতে পারলে তার মধ্যেই আপনি এই প্রশ্নের
উত্তর খুঁজে পাবেন।
বাদশা বলল ঠিক হ্যায় বল- বাহলুল বলল একজন মানুষের মাথায় যদি
কেহ সামান্য মাটি দেয় তাতে কি মানু্ষের মাথার ক্ষতি হবে? বাদশা বলল না, বাহলুল
আবার প্রশ্ন করল এবার সে মাটির উপর সামান্য পানি দিলে কি মানু্ষের মাথার ক্ষতি
হবে? বাহলুল বলল না, এবার বাহলুল প্রশ্ন করল যদি সে মাটি ও পানি সহ সে মানুষকে
রোদে শুকাতে দিলে কি ক্ষতি হবে? বাদশা বলল না, বাহলুল বলল তাহলে বলুন এই মাটি
পানিকে মিক্স করে যদি রোদে শুকানো হয় তা শক্ত ইটে পরিনত হবে এই ইট দিয়ে যদি
মানুষের মাথায় আঘাত করি তাতে কি ক্ষতি হবে? বাদশা বলল কি বলল বাহলুল কেন ক্ষতি হবে
না? এই ইটের আঘাতে সে লোকের মাথা ফেটে যাবে, তখন বাহলুল বলল বাদশাজি, যদি তাই হল
তাহলে আঙ্গুর, পানির মিশ্রন যখন রোদ শুকিয়ে নেশাদ্রব্য হয়ে যায় তাও মানুষের ভিতর
প্রবেশ করলে মানুষের দেমাগকে নষ্ট করে দিবে।

সুদের কারনে
আযাব- মেরাজের রাতে নবী করিম (দঃ) দেখেন এক
দল লোক যাদের মোটা মোটা পেট আর হলদে চেহেরা, যাদের হাতে পায়ে, গর্দানে বেড়ি পরানো, তারা বসা থেকে দাঁড়াতে চাইলে পেটের কারনে দাঁড়াতে পারবে না, জিবরাইল বলেন
এরা হল সুদখোর
১০ মিথ্যাবাদীর কবরেও
আযাব হবে মিথ্যা হল মুলত মুনাফেকির আলামত, আর মুনাফেক এর ব্যপারে আল্লাহ বলেন (ইন্নাল মুনাফিকিনা ফিদ দারকিল আছফালি মিনান নার) নিশ্চয়ই মুনাফিক
জাহান্নামের সবনিন্ম স্তরে দাখিল হবে
১১
১২ গিবতের কারনে পেশাবের ছিটার
কারনে আযাব- মেশকাত শরীফের হাদীস- ২টি কবরের পাশে নবী করিম (দঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন
আর বললেন ( আন্নাহুমা ইউয়াজ্জিবানে ওয়ামা ইউয়াজ্জিবানে ফি কাবিরিন ইম্মা আহাদুহুমা ফাকানা এয়াগতাবান ন্নাছ- ইলা আখেররিল হাদিস)
জনের
কবরে আযাব হচ্ছিল ১জন গীবত করত অন্যজন পেশাব থেকে পাক পবিত্রতার ধার ধারত না, ফলে নবীজি
খেজুরের কাচা ঢাল দ্বিখন্ডিত করে ২টি কবরে পুঁতে দিলেন এবং বললেন যতদিন এই ঢাল শুকাবে না ততদিন আযাব হালকা করা হবে কেননা কাঁচা ঢাল আল্লাহর তসবিহ পড়ে
গীবত হল
অপরের দোষ যেটা আছে সেটা বয়ান করা, আর যে
দোষ নাই সেটা বলা হল তোহমত
তোহমতের শাস্তি কি?
এক গোসল দাতা নারীর হাত মৃতের সাথে আটকে যাওয়ার ঘটনা
ইমাম মালেক (রহঃ) এর জামানাতে
মদিনায় এক মহিলার ইন্তেকাল হয়, গোসল দেয়ার
সময় মদিনার এক গোসলদাতা নারী সে মুর্দা নারীর রানে হাত রেখে কয়েকটি কথা বলেন, বলেন- এই নারীর অমুক পুরুষের সাথে নাজায়েজ সম্পর্ক ছিল, এই কথা
বলার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তার রশি ধরে টান দিলেন,
সে নারীর
ইন্তেকাল মদিনার এক বস্তিতে হয়েছিল, গোসলের সময় যখনই এই কথাটি বলল তার হাত সে মুর্দা নারীর রানের সাথে আটকে গেল, হাত এমন
শক্ত ভাবে আটকে গেল, সে নারী
তার হাত ছুটাতে চাই কিন্তু হাত কিছুতেই ছুটে না, জানাযার ওয়াক্ত
ঘনিয়ে আসছে, এদিকে অনেক চেষ্টার পরও সে হাত পৃথক করা যাচ্ছিল না, সকল মহিলারা
তার হাত ধরে অনেক টানা হেঁচড়া করে দেখল কিন্তু কিছুতেইকিছু হল না, জানাযার ওয়াক্ত
পার হয়ে গেল, দিন গেল
রাত এল ২য় দিনও চলে গেল কিন্তু হাত ছুটে না, এদিকে মৃতের
শরির থেকে গন্ধ ছড়াতে শুরু করল, গোটা শহরে
কথা প্রচার
হয়ে গেল, মদিনার সকল
আলেম ওলামা অবশেষে ফতোয়া দিল যে নারী গোসল দিয়েছেন তার হাত কেটে পৃথক করে দিতে হবেএবং সে হাত সহ মৃতকে দাফন করে দিতে হবে কিন্তু এই ফয়সালাকে গোসল দাতা মহিলার খান্দানের লোকেরা এই বলে নাকচ করে দিল আমরা আমাদের খান্দানের মেয়ের কোন ক্ষতি হতে দিব না
তখন ওলামায়ে
কেরাম ফয়সালা দিল তাহলে মৃত মেয়েটির যে অংশে হাত লেগে আছে সে অংশ কেটে গোসলদাতার হাতটি ছাড়িয়ে নিয়ে মৃতকে দাফন করে দিতে হবে, কিন্তু এবার
মৃতের খান্দানের লোকেরা মানতে রাজি হল না, তারা বলল
আমরা আমাদের মৃতকে কিছুতেই অসম্মান হতে দিব না,
অবশেষে উভয়
পক্ষের লোক ইমাম মালেক (রহঃ) কাছে উপস্থিত
হয়ে গেল, আরজ করল- আপনি এর ফয়সালা করে দেন, ইমাম মালেক (রহঃ) সে ঘরে
পৌঁছলেন আর ছুরতহাল দেখে সে গোসলদাতা নারীকে প্রশ্ন করলেন তুমিকি গোসল দেয়ার সময় এই মৃতের ব্যপারে কোন কথা বলেছ?
গোসলদাতা নারী
সব কথা ইমাম মালেক (রহঃ)কে
সত্য সত্য বলে দিল, সে বলল
আমি গোসল দেয়ার সময় বলেছি এই নারীর সাথে অমুক লোকের নাজায়েজ সম্পর্ক ছিল ইমাম মালেক (রহঃ) প্রশ্ন করল
তুমি যে কথাটি বলেছ তার পক্ষেকি তোমার কাছে কোন স্বাক্ষি আছে? নে গোসলদাতা
নারী বলল কোন স্বাক্ষী নাই, ইমাম মালেক
আবার প্রশ্ন করলেন সে নারী তার জীবনে এই ব্যপারে কি নিজের মুখে কিছু বলেছিল? মহিলা জবাব দিল না
এবার ইমাম
মালেক (রহঃ) শরীয়তের বিধান
মত ফয়সালা শুনিয়ে দিলেন যে এই গোসলদাতা নারী এই মৃত নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, সুতরাং গোসলদাতাকে ইসলামী বিধান মত ৮০টি দোররা মারা হউক,  ফয়সালা অনুযায়ী দোররা মারা শুরু হল, ৭০টি নয়, ৭৫টি নয় বরং পুরা ৮০ দোররা মারার পর সে নারীর হাত মুর্দারের রান থেকে পৃথক হয়ে গেল

১৩ জানাবাতের গোসল না করার কারনে আযাব- হাফেজ
ইবনে রজব, হায়শম বিন
আদি (রহঃ)
থেকে বর্ণনা করে যে, তারা বলেন
একবার আমরা আমাদের এক প্রতিবেশীর কবর খনন করলাম সেখানে বিড়ালের মত ভয়ংকর ধরনের ১টি কালো অদ্ভুৎ প্রাণি দেখলাম, তাকে কিছুতেই কবর থেকে দুর করতে পারলাম না, ফলে অন্য
১টি কবর খুরলাম সেখানেও একই প্রাণী, তখন আমরা তার স্ত্রীকে মৃতের আমলের ব্যপারে প্রশ্ন করলাম স্ত্রী বলল আমার স্বামী জানাবাতের গোসল করত না, তখন আমরা
বুঝতে পারলাম এটা তার কু আমলের কারনেই কবরে উপস্থিত হচ্ছে, সুতরাং আমরা তাকে সে
কবরেই দাফন করে দিলাম

১৪ মা বাবার
নাফরমান- নবী করিম (দঃ) বলেন যারা
মা বাবার নাফরমান যখন তাদেরকে কবরে রাখা হবে তখন কবর তাদেরকে এমন চাপ দিবে তাদের ডান পাশের হাড় বামে বামের হাড় ডানে চলে যাবে, আর হাশরের মাঠে প্রকার লোকের
আযাব বেশী হবে ()
মা বাবার অবাধ্য () জেনাকারী () মুশরিকের
১৫ নাফরমান স্ত্রীদের আযাব- আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন (আররিজালু কাওয়্যামুনা আলান নিছা) পুরুষগন মহিলাদের উপর হাকিম হবে
মেরাজের রাতে
মহানবী (দঃ) একদল নারীকে
দেখেণ যাদের মুখ কালো চোখ নীল, আগুনের পোষাক
পরিধান করানো আগুনের লাঠি দ্বারা ফেরেশতারা তাদের পিটাচ্ছে আর তারা গাধার কুকুরের মত
চিৎকার করছে নবীজির প্রশ্নের জবাবে জিবরাইল বলল এরা সব নারী
যারা স্বামীর নাফরমানি করত
(আররিজালু কাওয়্যামুনা আলান নিছা) আয়াতের শানে নুযুল হল- হযরত যায়েদ
বিনজুহাইর তার
মেয়েকে নিয়ে হুযুরের কাছে মেয়ের জামাইর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে আমার মেয়েকে জামাই বাবু থাপ্পর মেরেছে, নবীজি বললেন তোমার মেয়েকে বল সেও যেন তার স্বামীকে থাপ্পর মারে, তখন সাথে সাথে এই আয়াত নাজিল হল, তখন নবীজি
তাদের আবার বললেন স্ত্রী স্বামীর বদলা নিক সেটা আল্লাহ পছন্দ করেন না, তাই স্ত্রীদেরকে স্বামীদের ফরমাবরদারী করতে হবে এবং
স্বামীদেরকেও স্ত্রীর হকের ব্যপারে সচেতন থাকতে হবে
১৬ আত্মিয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কারনে আযাব- মক্কায়
এক তেলাওয়াতকারী প্রতিদিন রাতে কাবা ঘরের পাশে বসে তেলাওয়াত
করত, এক
লোক
তার কিছু আমানত সে তেলাওয়াতকারীকে দিয়ে ইয়েমেনে চলে গেল, সেখান থেকে
এসে শুনে সে তেলাওয়াতকারী মারা গেছে, লোকটি তার পরিবারের লোকদের কাছে তার সে আমানতের কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে আমরা জানি না,
তখন বুযুর্গ
হযরত মালেক বিন দিনারের কাছে ঘটনা বললে মালেক বিন দিনার বলেন তুমি রাত গভির হলে কাবা ঘরের মকামে ইবরাহিমের কাছে বৃহসপতিবার দিবাগত রাতে গিয়ে সে তেলাওযাতকারীর নাম ধরে
ডাক দিবে কেননা প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত কাবা চত্বরে নেককার

মৃতদের রুহ জমা হয়, যদি তুমি তখন তার নাম ধরে ডাক দাও সে জবাব দিবে, এবং তোমার প্রশ্নের জবাব দিবে, লোকটি
সে মোতাবেক কাজ করল কিন্তু কারো পক্ষ থেকে কোন
জবাব মিলল না,
তখন মালেক
বিন দিনার এর কাছে লোকটি আবার গেল বলল মক্কায় সে তেলাওয়াতকারীর কোন জবাব পাইনি, তখন মালেক
বিন দিনার বললেন ইন্নালিল্লাহ! তাহলে সে জান্নাতি নয়, সে আযাবে লিপ্ত তুমি তাকে

ইয়েমেনের বরহুত নামক গর্তের কাছে গিয়ে ডাক দিলে সে জবাব দিবে, লোকটি মালেক বিন দিনারের কথামত ইয়েমেনের বরহুত নামক গর্তের নিকট গিয়ে গভীর রাতে   ডাক
দিলেন গর্তের ভিতর থেকে সে তেলাওয়াতকারী লোকটি জবাব দিল আর বলে
দিল তার গচ্ছিত মাল কোথায় রেখেছে,
লোকটি সে
তেলাওয়াতকারীকে প্রশ্ন করল তুমিতো এবাদতগুজার তাহলে তোমার আজ এই আযাব কেন? সে জবাব
দিল আমি সম্পদশালী ছিলাম, আমার কোন অভাব ছিল না, এবাদত গুজারও
ছিলাম, নামাজ কালাম সব পালন করতাম কিন্তু
 আমার
এক গরীব বোন ছিল যে শ্বাশুড়বাড়ীতে স্বামীর ঘরে খুবই অভাব অনটনে কষ্টে
দিনগুজার করত, আমি বিয়ের পর তার আর কোন খোঁজ খবর রাখতাম না, তাঁকে কোস সাহায্য
সহযোগীতাও করতাম না, তাই আমি ‍দুনিয়ায় প্রচুর এবাদত করার পরও আত্মিয়তার সম্পর্ক
যথাযথ বজায় না রাখার কারনে আযাবে লিপ্ত আছি।
যাদের আত্মিয়স্বজন গরিব তাদের উচিত বেশী বেশী তাঁদের খবর নেয়া সাহায্য
সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।

১৭ খেয়ানতের কারনে
আযাব - মেরাজের রাতে প্রিয় নবী দেখেন এক দল লোক যারা অনেক বোঝা বহন করছে পারছেনা তবুও বলছে আমাকে আরো বোঝা দাও, জিবরাইল বললেন
এরা হল খেয়ানতকারী
১৮সাহাবীদের
অপমানের কারনেও কবর আযাব হয়
১৯ সুন্নতের উপর আমল না করার কারনে আযাব হয় - ইমাম আউযায়ী এক কাফন চোরের কাছে প্রশ্ন করেন তুমি যখন কাফন চুরি কর মুসলমানের চেহেরা কি সব সময় কেবলার দিকে পাও? কাফন চোর
জবাব দিল কোন কোন মুসলমানের চেহেরা আমি কেবলা থেকে ঘুরানো পাই, তখন ইমাম
আউযায়ী কথা হযরত
আবু ইসহাকের কাছে জানালে আবু ইসহাক বলেন নিশ্চয়ই তারা সুন্নতের উপর আমল করত না তাই কবরে তাদের চেহেরা কেবলা থেকে ঘুরে যায় নাউজুবিল্লাহ, আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নতের উপর আমল করার তৌফিক
দান করুন।


প্রকার
লোকের চেহেরা কবরে কেবলা থেকে ঘুরে যায়
মদপানকারী
মানুষ কেনাবেচাকারী
মিথ্যা স্বাক্ষীদাতা
সুদের কারবারী
মৃত ব্যক্তির
জন্য বিলাপ করে কান্নাকারী
গুদামজাতকারী
জামাতে নামাজ
তরকারী


  

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.