এক দরদভরা কাহিনি। মা ফেরেশতা এসেছে। A beautiful Bangla Islamic moral sto...







বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহিমন
জাআল
হকের তামাম বন্ধুদের মুহব্বত ভরা সালাম
ফেরেশতানুমা
মানুষ
আজ
আমার জিবনের প্রথম ইনকাম পাওয়ার কথা, মাসের বেতন একসাথে পেলাম, ঘরে যখন গেলাম যেন ঈদের খুশী অনুভব করলাম, মা বাবা ভাই বোন সকলে খুব বেশী খুশী আমি সবগুলি টাকা মায়ের হাতে রেখে দিলাম, মা জননী সবটাকার ভাগের ভাগ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার জন্য আলাদা করে নিলেন, আমাকে বললেন েএই টাকা দিয়ে এক বিধবা নারীর ঘরে রেশন কিনে পৌঁছে দিবে, যে দুরের এক গ্রামে থাকত, আমি সাথে সাথে সদরে গেলাম আর রেশন কিনে নিয়ে আসলাম, ঘরে আমার জন্য খুব মজাদার খাবারের আয়োজন করা হল, ভাই বোন মা বাবার সাথে মিলে সুস্বাধু খাবারের মজা নিলাম আর সফরের ক্লান্তি দুর করার ইচ্ছায় কম্বলের ভিতর ঢুকে গেলাম, চোখ ক্লান্তিতে বন্ধ হয়ে আসছিল, হঠাৎ করে সে বিধবা নারী তাঁর ঘরের এতিম বাচ্চগুলির কথা মনে পরল, মনে মনে ভাবলাম এখনই যাব আর রেশনের মালগুলি পৌঁছে দিব, কিন্তু ক্লান্তির কারনে অলসতা ভর করল, ভাবলাম কাল পৌঁছে দিব, কিন্তু পরক্ষনে খেয়াল আসল, আমিতো মজাদার খাবারের স্বাধ গ্রহণ করেছি, সে বাচ্চাগুলি হয়ত ক্ষুধার্থ, সে কথা মনে হতেই বিছানা থেকে উঠলাম, একটি চাদর গায়ে দিলাম, বাজারের বস্তা কাঁধের উপর রাখলাম, আর সে ঘরের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলাম, খুবেই ঠান্ডা ছিল, কুয়াশাও বেশী ছিল, আর ভারি বস্তা নিয়ে চলতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছিল,
দুরের
মহল্লায় সে বিধবা নারীর ঘর ছিল, তার স্বামী মজদুরী করত, আর জন সন্তান ছি , এক দুর্ঘটনায় তার স্বামী মৃত্যু হয়ে যায়, এখন এসব এতিম বাচ্চাদের উপর দয়ার হাত রাখার মত কেউ ছিল না, এখন পরিবারের জন্য আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নাই ছোট ১টি ঘর, মাটির ঘর, বস্তা নিয়ে ঘরের দরজায় পৌঁছে গেলাম, দরজার কড়া নারলে এক বছরের মেয়ে বাহিরে আসল, যার চেহেরায় পেরেশানী, ভয় ক্ষুধার চিহ্ন ভেসে উঠেছে,
আর
তার নিস্পাপ চেহেরার দিকে তাকিয়ে রইলাম, সে মেয়েটি এক পুরাতন কাপড় পরেছিল, গায়ে কোন শীতের কাপড় নাই, পায়ে জুতাও নাই, এত ঠান্ডায় যেন জমে যাচ্ছিল, আমি বাজারের বস্তাটি জমিনে রাখলাম, বস্তাটি দেখে মেয়েটি বলল, এতে কি খাবার জিনিষ আছে? আমি মাথা নেরে সাই দিলাম, তাতেই সে বাচ্চা খুশীতে চিৎকার দিয়ে মায়ের দিকে দৌঁড় দিল, সে মাকে বলতে লাগল আম্মু ফেরেশতা এসেছে, আম্মু ফেরেশতা এসেছে, একথা শুনে বাকী জন ছোট ছোট বাচচাগুলিও খুশিতে ফেরেশতা এসেছে ফেরেশতা এসেছে বলে বলে দরজায় চলে আসল, একবার আমার দিকে দেখে একবার বাজারের বস্তার দিকে দেখে, আর খুশীতে লুটিপুটি খাচ্ছে,
আমি
চিন্তার সাগরে ভাসতে লাগলাম কেন মাসুম বাচ্চাগুলি আমাকে ফেরেশতা বলে মনে করছে? এসব চিন্তায় মগ্ন ছিলাম তখন একজন মুহতারামা মহিলা আসলা যিনি এতিম বাচ্চাদের মা, তিনি দরজার পাশে আসলেন আর করুন সুরে বলতে লাগলেন, আমার বাচচাগুলি দিন যাবৎ ক্ষুধার্থ, আমার বিবেক কিছুতেই সায় দিচ্ছেনা কারো কাছে হাত পাতব, আমার মরহুম স্বামী মেহনত মজদুরি করতেন, কিন্তু কখনো কারো সামনে হাত পাতে নি, তাঁর ইন্তেকালের পর বাচ্চাদের খবর নেয়ার কেউ নাই, আত্মিয় স্বজনরাও সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, মহল্লার লোকেরাও সাহায্য করে না, কিন্তু কখনো কখনো আপনার মত কিছু নেকদিল মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন,
আমি
দিন যাবৎ বাচ্চাদের কথা বলে সান্তনা দিচ্ছিলাম যে এক ফেরেশতা আসবে, আর আমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসবে, সে জন্য আমার ক্ষুধাথ বাচ্চারা আপনাকে ফেরেশতা বলে চিৎকার দিচেছ, সে নারী আল্লাহর কাছে শোকরানার কয়েকটি বাক্য আদায় করলেন, আমাকে অফুরন্ত দোয়া দিল, এবং আমার শোকরিয়া আদায় করল,
আমি
খাবারের থলে রেখে সেখান থেকে ঘরের দিকে রওয়ানা হলাম, আমার চোখের পানির বাঁধ যেন আজ ভেঙ্গে গেছে,িএতিম বাচ্চাগুলির এমন দুর্দশার কথা চিন্তা করতে করতে দু চোখের পানি মুছতে মুছতে আমি ঘরে পৌঁছে গেলাম,
জিন্দেগীতে
কখনো নিজের মনে এত বেশী শান্তি অনুভব করিনি, যতটুকু শান্তি আজ আমি অনুভব করছি, বুঝতে পারলাম এক অসহায় মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে যে রুহানি শান্তি পাওয়া যায় তা অন্য কোন কাজে পাওয়া সম্ভব নয়,
আমাদের
আশে পাশে এমন অনেক গরীব লোক বাস করে, যারা প্রচন্ড অভাবে থাকা সত্বেও কারো সামনে হাত পাতে না, কিন্তু বেলার খাবার এসব গরীবদের জন্য সারা জাহানের চেয়ে দামী হয়ে থাকে, এমন লোকদেরকে সাহায্য করা দরকার, চাই তা বেলার খাবারই হউকনা কেন
আমি
ঘরে আসলাম আর আমার মা আমাকে জিজ্ঞেস করল, এত রাতে কোথায় গিয়েছিলে? আমি জবাবে বলে দিলাম মাগো আমি ফেরেশতা হতে গিয়েছিলাম

1 টি মন্তব্য:

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.