বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল। ১টি পাখি যে ভুলে কারন। Bangla Islamic Vi...







যখন এক ছোট ভুলের কারনে ৪ কোটি মানুষের প্রাণ গেল

সুপ্রিয়
দর্শকবৃন্দ ভুলভ্রান্তি সব লোকেরই হয়, কিন্তু সে ভুলের ব্যপারে আপনি কি বলবেন? যে ভুল
কোটি কোটি লোকের প্রাণ নিয়েছে। আজ আমি আপনাদেরকে এমন এক বাস্তবীকতার সাথে পরিচয় করাব,
যার ভয়ংকর পরিনতি গোটা দুনিয়াকে এক ছবক দিয়ে গেছে, আল্লাহ তায়ালা কোন কিছুকেই বেকার সৃস্টি করেন নি। আজকের ভিডিও দেখার
পর আপনার ঈমান এ কথার উপর আরো বৃদ্ধি পাবে।
সম্মানিত
দর্শক মন্ডলী, চায়না আজকের জামানায় দুনিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী এডভান্স
হয়ে গেছে। জনসংখ্যার দিক থেকেও এ দেশ দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ। প্রতি দিন নতুন নতুন আবিস্কারের
কারনে চায়না সারা বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু আপনারা কি এ কথা জানেন? এই উন্নতির শিখরে পৌছার
জন্য চায়না কত বড় কুরবানী দিয়েছে? কতলোক তাদের প্রাণ কুরবানী দিয়েছে।
বন্ধুরা
এই ঘটনার শুরু কিছুটা এমন যে ১৯৫৮ সালে চায়নার সরবরাহ মৌজি ডন এই ফয়সালা করেন যে, চীনকেও
আমেরিক ও ইউরোপ দেশের মত এডভান্স বানানো হবে, কেননা এই সময় এই ২টি দেশ বেশী এডভান্স
ও শক্তিশালী ছিল। সেজন্য মৌ এবং তার অনুসারীরা বলল, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে চায়নাকে এই
রকম বানানো হবে যাতে আমেরিকা ও ইউরোপ েথেকেও এগিয়ে যায়।
যে
মৌ চায়নাকে ইউরোপ বানাতে তৎপর, যাকে চায়নার সকলে খুব মান্য করে, সে মৌ থেকেও অনেক বড়
এক ভুল হয়ে গেল। আমেরিকা ও ইউরোপ থেকেও উন্নতি করার জন্য মৌ একটি ফরমান জারি করে, যার
নাম (দি গ্রেট লিভ ফরমেট) রাখা হয়। কিন্তু মৌ এর জানা ছিল না এই ফরমান চায়নার জন্য
ধ্বংস নিয়ে আসবে।

মৌ
এর প্রথম পদক্ষেপ হল চায়নাতে যেহেতু জনসংখ্যার পরিমান বেশী তাই প্রথমে এই বিশাল জনসংখ্যার
খাদ্য নিশ্চিত করতে ফসল এর পরিমান বাড়াতে হবে, আর সে ফসলকে বাড়ানোর জন্য এমন ফরমান
জারি করল যা ৪ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারন হয়ে গেল। সে ফরমানে মশা মাছি ইদুর ও পাখি
সামিল ছিল। মৌ এর ঘোষনা এই ৪টি প্রানি আমাদের চীনের উন্নতির জন্য অনেক বড় বাঁধা, তাই
এই ৪টি প্রাণী চীন থেকে সম্পূণ রুপে বিতাড়িত করতে হবে।
মৌকে
চায়নার বিজ্ঞানীরা একটি হিসাব পেশ করেন যাতে যে চিত্র উঠে আসে তা হল ১টি ছোট পাখি বছরে
৪ থেকৈ ৫ কজি ফসল খেয়ে ফেলে, এবং অনেক ফসল নষ্ট করে থাকে।সে জন্য যদি চীন থেকে এসব
পাখি ও প্রাণীকে মেরে ফেলে হয় তাহলে ফসল অনেক গুন বৃদ্ধি পাবে। আর অতিরিক্ত ফসল রপ্তানি
করে চীন অথনৈতিকভাবে সফল হবে। সে জন্য মৌ এসব মাসুম পাখ পাখালিকে মেরে ফেলার জন্য একটি
ফরমান জারি করেন যার নাম দেয়া হল (গ্রেটস পেরো হান্টিং) আর এই ফরমানের ফলে সবচেয়ে বেশী
মারা পরেছে পাখ পাখালির দল। এ কাজে দেশের জনগন নয় বরং দেশের সৈন্যদেরকেও লাগানো হয়েছে
ফলে প্রথম দিনেই প্রায় ২ লক্ষ পাখিকে মেরে ফেলা হয়। চায়নাকে আমেরিকা থেকেও এডভান্স
বানানোর নেশায় মাত্র ২ বছরের মধ্যেই গোটা চীন সম্পূণরুপে পাখি শূণ্য হয়ে গেল।
কিন্তু
এর পরই চীনের উন্নতির পরিবর্তে অবনতি শুরু হয়ে গেল। তারা ২ বছরেই সকল পাখ পাখালি মারতে
যদিও সক্ষম হয়ে গেল কিন্তু এই কাজ করায় চায়না প্রাকৃতিক ভাবে একটি অপূর্ণাঙ্গ দেশে
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। কেননা পাখীগুলি শুধুই ফসল খায় না বরং বিভিন্ন কীট ক্ষতিকর পতঙ্গ
যা ফসলকে আরো বেশী ক্ষতি করে এমন সব ছোট ছোট প্রাণীকেওে খেয়ে থাকে, যার ফলে যে কোন
দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় না। এটা মুলত একটি সাইকেল যার কারনে মানুষ
উপকৃত হয়। আর চায়নার ইনকেলাবি রাহনুমা মৌ থেকৈ েএটা অনেক বড় ভুল হয়ে গেল। কারন পাখি
শূণ্য হওয়ার পর চায়নার ফসল নষ্ট কারী বিভিন্ন কীট পতঙ্গ এমন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু
করল আর ক্ষীতকর কীটের মধ্যে পাখি ধ্বংস হওয়ার পর পঙ্গপালের পরিমাণ খুব বেশী বৃদ্ধি
পেয়ে গেল। এই পঙ্গপালের দল কোটি কোটি সংখ্যা প্রকাশ হত গোটা দল যেদিকেই যেত  সেদিকেই গোটা এলাকার ফসল নষ্ট করে চলে যেত। পাখি
ধ্বংস করে দেয়ার পর চীনের মানুষ পঙ্গপালের এত বড় হামলা আর কখনো দেখেনি। এই পঙ্গপালের
দল হাজার হাজার একর জমির ফসল কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নষ্ট করে দিয়ে চলে যেত। চায়নার লোক
এই ধ্বংস যজ্ঞ থেকে বাঁচার জন্য অনেক প্রকার চেষ্টা চালিয়ে দেখল কিন্তু কোন ধরনের পদ্ধতিই
কাজ করল না। বরং এই পঙ্গপালের দলকে মারার জন্য যে বিষ ছিটানো হল তাতে আরো বেশী ফসল
নষ্ট হয়ে গেল।
এর
পর চীনের হালাম এতই খারাপ হয়ে গেল যে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিল, অসংখ্য লোক ক্ষুধায়
মারা যেতে লাগল,
যখন
মৌ বুঝতে পারল পাখিগুলি কীট পতঙ্গগুলিকে খেয়ে কুদরতী ভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে
তখন জারী করা পাখি নিধনের ফরমানকে বন্ধ করার ঘোষনা দিয়ে দিলেন।কিন্তু ততক্ষনে অনেক
দেরী হয়ে গেল। কুদরতী যে শৃংখলা চীনের মানুষ যে নিজ হাতে ধ্বংস করে দিল তা ঠিক হতে
অনেক লম্বা সময়ের প্রয়োজন ছিল। আর এরই মাঝে চীনে খাদ্য সংকটে মাত্র ৩ বছরে প্রায় ৪.৫
কোটি লোক মারা পরল।
চায়নার
জন্য এই দুর্ভিক্ষ সবচেয়ে খারাপ ও ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ ছিল। ইতিহাসের কিতাবে এই ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের
কথা বিস্তারিত বননা করা আছে  ১৯৬০ সালের দিকে
এই ভয়ানক পরিস্থিতি চায়নায় সংগঠিত হয়
চায়নিজ
এক রিপোটার এয়াং জি শিয়াংজি তার রিপোটে এই দুর্ভিক্ষের ব্যপারে লিখেন যে মানুষ কখনো
কুদরতের নিয়মকে বুঝতে সক্ষম নয়। নিশ্চয় মানুষের জ্ঞান পরিপূণ নয়, আর চায়নার নেতা মৌ
যে ভুল করেছে, তাকে মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে গন্য করা হয়, এই রিপোটে তিনি
বলেন মুলত এই দুর্ভিক্ষের সময় ৩ বছরেই প্রায় ৬ লক্ষ লোক মারা যায়। কিন্তু চায়নার হকুমত
এই রিপোটের উপর ব্যান্ড লাগিয়ে দেয়। তবে অনেক বছর পর সে রিপোটটি বই আকারে ছাপানো হয়,
মুলত মানুষের ভুলের কারনেই এতবড় ধ্বংস নেমে এসেছিল। এটি এমন একটি ভুল ছিল যা কোটি লোকের
প্রাণ নিয়েছে। চীনের এই ধ্বংস দুনিয়ার মানুষের জন্য একটি শিক্ষনীয় ঘটনা,   কুদরতের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করার ফলে কত বড় ভয়ংকর
ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে, তাই কুদরতের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায়
ছেড়ে দেয়াতেই কল্যান, যে ব্যপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ফরমান সত্য প্রমাণিত
হয় তা হল আল্লাহ বলেন আমি কোন কিছুই বেকার সৃষ্টি করিনি। আশা করি আজকের এই আলোচনায়
আপনাদের কিছু না কিছু ছবক হাছিল হবে। এবং আপনারাও কখনো কুদরতী কাজে কোন ধরনের বাধা
সৃষ্টি করবেন না। কেননা একটি প্রবাদ আছে যদি আপনি আপনার অতীত থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ
না করেন তাহলে আপনার অতীত আপনার কাছে পুনরায় ফিরে আসবে।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.