শবে মেরাজের অলৌকিক ঘটনাসমুহ। মেরাজ ও বিজ্ঞান। Sobe Meraj Lailatul Meraj







শবে
মেরাজের অলৌকিক ঘটনা
সুবহানাল্লাজি আছরা বি আবদিহি
লাইলাম মিনাল মাসজিদিল হারামি ইলাল মাসজিদিল আকছ। আল্লাজি বারাকনা হাউলাহু লিনুরিয়াহু
মিন আয়াতিনা ইন্নাহু হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ্যাৎ-পবিত্র ও মহিমাময় তিনি
যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম হতে মাসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ
আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নির্দন দেখানোর জন্য, তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
xxxগত জুমাতে মেরাজের
আলোচনায় মেরাজ সে স্বশরীরে হয়েছে তার প্রমাণ বিস্তারিত উপস্থাপন করেছি, আজ ইনশাআল্লাহ
পবিত্র মেরাজ রজনী সংক্রান্ত কিছু অজানা তথ্য এবং আশ্চর্য্যজনক কিছু বিষয় জানার চেষ্টা
করব।

মেরাজ বিষয়ে ৩১ জন সাহাবীর নিকট থেকে বিশদ বিবরণ সম্বলিত ৩২টি বর্ণনা রয়েছে এই বিশাল সংখ্যক বর্ণনার সার সংক্ষেপ নিম্নরূপ : রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহানবী সা. কাবা শরিফেরহাতীমনামক স্থানে বা অন্য বর্ণনামতে কাবার অতি সন্নিকটে অবস্থিত উম্মে হানীর রা. ঘরে শায়িত ছিলেন

মেরাজের ঘটনা উম্মে হানি ও নাস্তিকদের নাস্তিকতা
উম্মে হানি হলেন আলী (রাঃ) এর বোন, মহানবীর চাচা আবু তালেব এর মেয়ে আল্লাহর
নবীর চাচাত বোন। দাদা আবদুল মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর মহানবী (দঃ) চাচা আবু তালেব
এর ঘরেই লালিত পালিত হন। কোন কোন বননা মতে মহানবী মেরাজের রাতে উম্মে হানির ঘরে ছিলেন,
সে বর্ননাকে ইহুদিদের তৈরী বনোয়াট ব্লগ ফেইথ ফ্রিডম নামক ব্লগে নানান কল্প কাহিনি লিখে,
আর তা থেকে বাংলার কিছু নাস্তিক অনুবাদ করে ব্লগে পোষ্ট করে, যা খুবই লজ্জাজনক। তাই
ব্লগে গুগুলে চার্চ করে করে যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে চান তাঁদের উচিত ভালো ভাবে বিচার
বিশ্লেষন করা, যাই দেখলেন তাই বিশ্বাস করে নিলেনতো ঈমান বরবাদ হয়ে যাবে।   

মেরাজ এর ঘটনা ও হাতিমে কাবা
হাতিম কিঃ হাতিম হলো পবিত্র কাবা শরিফের মূল ভিতের উত্তর দিকে পরিত্যক্ত অংশের নাম কাবা শরিফের হাত জায়গা বাদ রেখে কাবা শরিফ নির্মাণ কর হয় বর্ধিত হাত জায়গাকে হাতিম বলে এটি বর্তমানে উন্মুক্ত অবস্থায় অর্ধ গোলাকার প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে হজ ওমরা জিয়ারতকারীদের জন্য কাবা শরিফ তাওয়াফের সময় এটিকে তাওয়াফ করতে হয়
তাওয়াফের সময় হাতিমকে বাদ দিয়ে কাবা ঘর তাওয়াফ করলে তাওয়াফ সহিহ হবে না

৩ ফেরেশতার আগমন ও বক্ষ বিদারণ
সময় হযরত জিব্রাইল ., হযরত মিকাইল . হযরত ইসরাফিল . এসে নবীকে জাগ্রত করলেন বক্ষ-বিদারণ করে কলব জমজমের পানিতে ধুয়ে তাঈমান হেকমত দ্বারা পরিপূর্ণ করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করে দিলেন বক্ষ-বিদারণ করার সময় মহানবী সা. কোনো রকম ব্যথা অনুভব করেননি এবং কোনো রক্তপাতও হয়নি
মহানবীর বক্ষ বিদারণ বনাম ওপেন হার্ট সার্জারী
মহানবীর বক্ষবিদারণ
দুধ মা হালিমার ঘরে ৪ বছরে ১ বার, অহি নাজিলের আগে হেরা পর্বতে একবার এবং মেরাজের রাতে
১ বার হয়েছে।
এই বক্ষ বিদারণ
আগে মানুষের কাছে অদ্ভুৎ মনে হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে তা এখন সকলের
বোধগম্য। যার নাম আমরা জানি ওপেন হার্ট সার্জারী।
তবে নবীজি
(সা.) এর বেলায় ব্যাপারটি ছিল অলৌকিক। এর পেছনে আয়োজন ছিল অতি-প্রাকৃতিক। সার্জন ছিলেন
আল্লাহর ফেরেশতা। অপারেশনের আগে চেতনা বিলোপের ঔষধ প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি। ফলে ঘটনার
আদ্যোপান্ত হযরতের গোচরেই সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি একটুও অচেতন হননি। আবার অপরেশন-উত্তর
তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ, আগের চাইতে প্রাণবন্ত।
মেরাজ ও বোরাক
মহানবীর বক্ষ-বিদারণের পর তার সামনেবোরাকনামের এক আশ্চর্য স্বর্গীয় বাহন উপস্থিত করা হয়
বুরাকের ছটফটানি শান্ত হয়ে গেল
তিরমিযির ৩১৩১ নং হাদীস- হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, মিরাজের রাতে উর্ধ্বাকাশে গমনের
জন্য বুরাকের লাগাম এবং জিন বা গদি প্রস্তুত করে রাখা ছিল। রাসুলুল্লাহ (দঃ) এর সওয়ার
হওয়ার সময় সে ছটফট করতে থাকে। তখন জিবরাইল (আঃ) তাকেবলেন তুমি এটা কি করছ? আল্লাহর
শপথ তোমার উপর ইতোপূর্বে তাঁর চেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কখনো সওয়ার হয়নি। এ কথা শুনে বুরাক
শান্ত হয়ে গেল।
তাতে জিন লাগাম লাগানো ছিলো বাহনটি গাধা হতে উঁচু এবং খচ্চর হতে নিচু তার গতি অকল্পনীয় দ্রুত তানিজ দৃষ্টির সীমানায় পদক্ষেপ করে থাকে যেমন এক কদমে পৃথিবী থেকে প্রথম আসমান বা নিম্নতম আসমানে পৌঁছে যায় পলকের মধ্যে জাতীয় ভ্রমণ কাজ সম্পন্ন হয় বাহনে আরোহণ করে তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস পৌঁছেন
মেরাজের ঘটনা বিজ্ঞানিদের জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিয়ে
গেছে-
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মহাকাশ অভিযান শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। এ অভিযানে প্রথম সফলতা
আসে ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই। ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল ভ্রমণ শেষে (অ্যাপোলো ১১ নভোযানে) নীল
আর্মস্ট্রং চাঁদের বুকে প্রথম পা রাখেন। কিন্তু তারও ১৪০০ বছর আগে রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর আরশ পর্যন্ত ৫ হাজার বছরের পথ মুহূর্তেও মধ্যে ভ্রমণ করে
ফিরে আসেন, যা জগতের চিন্তাশীল ও বিজ্ঞানীদের মনের দুয়ার খুলে দিয়েছে। আজ মঙ্গলগ্রহেও
বসবাসের চিন্তা করছে মানুষ। যার দূরত্ব পৃথিবী থেকে সাড়ে ৩ কোটি মাইল।
আলবার্ট আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি অফ টাইম তথা সময়ের আপেক্ষিকতার থিওরিটিও মেরাজের
ঘটনা বুঝতে সহায়ক হয়। দ্রুতগতির একজন রকেট আরোহীর সময়জ্ঞান আর একজন স্থিতিশীল পৃথিবীবাসীর
সময়জ্ঞান এক নয়। রকেট আরোহীর দুই বছর পৃথিবীর দুশ’ বছরের সমানও হতে পারে।
 তাছাড়া মেরাজে বাহন হিসেবে বোরাক ব্যবহৃত হয়েছিল। ‘বোরাক’ আরবি ‘বারকুন’
শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো বিদ্যুত । এটা নূরের তৈরি জান্নাতি বাহন। বিজ্ঞানীদের
মতে আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬০০০ (এক লাখ ছিয়াশি হাজার) মাইল। শাব্দিক অর্থ বিবেচনায়
বোরাকের গতি অন্তত আলোর গতির সমান ছিল। হয়তো আরও বেশিই ছিল অর্থাৎ এর গতি অকল্পনীয়
দ্রুত। যার কারণেই অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
সপ্তাকাশ ভ্রমণ সম্ভব হয়েছে।
করুনা ভাইরাস
এবার সমসাময়িক ১টি বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা করব
বিষয়টি হল করোনা ভাইরাস, ইতিমধ্যে মহামারীর আকার ধারন করেছে।
মক্কা মদীনায় ওমরা বন্ধ, গত ৫,৬ মার্চ সাময়িকভাবে পরিচ্ছন্ন করার জন্য তাওয়াফও
বন্ধ করে দেয়া হয়। অনেকে কাবা ঘরের তাওয়াফ বন্ধ করে দেয়া ওমরা বন্ধ করে দেয়াকে কেয়ামতের
আলামত বলে মত প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন করোনা ভাইরাস যদি আল্লাহর আযাব হয় তাহলে সে আযাব থেকৈ বাঁচার জন্য
মুসলমানদেরকে দোয়া করার জন্য মক্কা মদীনায় যেতে দেয়া উচিত ছিল, এখন সে রাস্তা বন্ধ
করে দেয়াটা মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারন মহানবী (দঃ)বলেন মুসলমানদের অস্ত্র
হল দোয়া। আর নিঃসন্দেহে কাবার পাশে, মাতাফ, হাতিম, মকামে ইবরাহিম, মুলতাজিম, সাফা মরওয়া,
মসজিদে নববী, রিয়াজুল জান্নাত দোয়া কবুল হওয়ার স্থান। এখন এ কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে
এসব বরকতময় স্থান থেকে দুরে সরিয়ে রাখাটা মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
আবার অনেকে বলেছেন ওমরা করার জন্য শর্ত হল পথ নিরাপদ হতে হবে, আর এই ভাইরাস
নিরাপত্তার জন্য বড় বাঁধা স্বরুপ তাই কিছুদিনের জন্য ওমরাহ বন্ধ করা এটি শরীয়ত সম্মত।
তাদের দলিল হল মহানবী (দঃ) এর ১টি হাদীস যাতে দেখা যায় আল্লাহর হাবিব বলেছেন যে এলাকায়
মহামারী দেখা দিবে তোমরা সে এলাকায় সফর করবে না আর সে এলাকায় যারা আছে তারা সে এলাকা
থেকে বের হবে না। এই স্বাস্থ্য সম্মত বিজ্ঞান সম্মত নির্দেশনা মহানবী (দঃ) ১৪শত বছর
আগেই দিয়ে গেছেন।

তবে সুখের বিষয় হল এই ভাইরাস এর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে গবেষকরা বলছে দৈনিক
৩ থেকে ৫ বার হাত মুখ ধোয়া যা আমাদের ৫ ওয়াক্ত নামাজের অজুর দ্বারা আমরা পেয়ে থাকি।
হাঁচি কাশি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা- এই নিয়মটিও সুন্নত নিয়ম যেমন রদ্দুল মুখতার
৯ম খন্ডের ৬৮৪ নং হাদীসে হাঁচির আদব বর্ণনায় মহানবী (দঃ) বলেন-
হাঁচি আসলে মাথা নিচু কর, মুখ ঢেকে রাখ এবং নিম্ন স্বরে বের কর, উচ্চ স্বরে
হাঁচি দেওয়া বোকামী।
যারা ঘরে কুকুর পালেন তারা সতর্ক থাকবেন- কুকুরের লালায় যে মারাত্মক জিবানু
আছে তা সর্বশ্রেষ্ট বিজ্ঞানী হুযুর (দঃ) ১৪ বছর আগেই বলে গেছেন আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে
বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে
তা সাতবার ধুতে হবে, প্রথম অথবা শেষবার মাটি দ্বারা ঘষতে হবে।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতার পাশাপাশি এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে হেফাজত করুক
اللَّهمَّ إِنِّي أَعُوُذُ بِكَ مِنَ الْبرَصِ، وَالجُنُونِ،
والجُذَامِ، وسّيءِ الأَسْقامِ.
বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নি 'য়ুজুবিকা মিনাল বারাছ, ওয়াল জুনুন, ওয়াল জুযাম, ওয়া সায়্যিইল আসক্বাম
বাংলা অর্থ:

হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ধবল, কুষ্ঠ এবং উন্মাদনা সহ সব ধরনের কঠিন দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে পানাহ চাই। [সুনান আবু দাউদ]

তিরমিজি শরীফের হাদীস
হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে মুসলমান হজরত
ইউনুস (আ.)-এর ভাষায় দোয়া করবে; সে যে সমস্যাতেই থাকুক না কেন- আল্লাহতায়ালা তার
ডাকে সাড়া দিবেন। -তিরমিজি
দোয়া ইউনুস হল
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ
إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ




উচ্চারণ
:
 লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমীন



অর্থ
আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি অবশ্যই আমি পাপী -সূরা আল আম্বিয়া : ৮৭



এই দোয়া ইউনুছের প্রসংশায়
আল্লাহ তায়ালা বলেন
فَاسْتَجَبْنَا
لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ
অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলামযে মুমিনরা এ দোয়াটি পড়বে আমি তাদেরও মুসিবত থেকে মুক্তি দিব।
সুরা আম্বিয়া ২১:৮৮ ]
তিরমিজি শরীফে থেকে আরো ১টি দোয়া পাওয়া যায় তা হল
>>
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ
وَ الْاَدْوَاءِ


উচ্চারণ
:
 ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি

অর্থ
:
 হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই’ (তিরমিজি)

সকাল-সন্ধ্যার বিশেষ দোয়া

হজরত উসমান ইবনে আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন ভোরে প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোনো বান্দা দোয়াটি বার পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট/ক্ষতি করতে পারবে না-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ
فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ


উচ্চারণ
:
 বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস্সামায়ি ওয়া হুয়াস্সামিউল আলিম’ (তিরমিজি)

অর্থ
:
 ‘ওই আল্লাহ তাআলার নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান জমিনের কোনো কিছুই কোনো অনিষ্ট করতে পারে না তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী

আল্লাহ
না করুন কেহ যদি এ মহামারীতে আক্রান্ত হয় তার উচিত ধৈর্য্য ধারন করা, তকদীরে বিশ্বাস
রাখা, কারন আপনার আমার মৃত্যু সময়ের ১ সেকেন্ড আগেও হবে না, পরেও হবেনা (ইজা জায়া আজালুহুম
লা এয়াসতাখিরুনা সায়াতাও ওয়ালা এয়াসতাকদিমুন)

যদি মহামারিতে
মৃত্যু হয়েও যায় তার মৃত্যু শহিদি মৃত্যু হবে বলে আল্লাহর হাবিব সুসংবাদ দিয়েছেন।

সুতরাং
৫ ওয়াক্ত ৫ বার অজু করে নামাজ পড়বেন, এ নামাজে যে সুরা ফাতেহা পড়া হয় এটিও শেফার জন্য
অনেক বড় অছিলা।

আমরা জানি
স্বপ্ন সত্যও হয় মিথ্যাও হয় একটি স্বপ্নের কথা মিডিয়ায় ঘুরছে তা হল করোনা ভাইরাসের
ভেকসিন- তাতে বলা হয় করোনা ভাইরাসের ভেকসিন হল কিউ৭ যার অর্থ হল সুরা ফাতেহা। আর আমরা জানি ৭ আয়াত বিশিষ্ট কুরানে একটি
বরকতময় সুরা আছে যা আমরা নামাজে বার বার তেলাওয়াত করি সেটি হল সুরা ফাতেহা। সুতরাং
সবদিক বিবেচনায় এই মহামারী থেকে বাঁচার একটাই উপায় তা হল খাটি দিলে তওবা করে খাটি মুসলমান
হয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজে কালামের সাথে সুন্নত মোতাবেক ইসলামী জীবন যাপন করা।

তাহাজ্জুদ নামাজে
সম্পদে বরকত, শারিরিক সুস্থতা, মানসিক শক্তি,
এবার আসুন এমন
একটি আমল সম্পর্কে জানি যা দ্বারা আমাদের অসংখ্য উপকার হবে সাথে সাথে নানা ধরনের দুরারোগ্য
ব্যধী থেকেও আমরা বেঁচে যাব এমনকি কেন্সার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে যাবে
নামাজের
উপকারিতা কি শুধুই আখেরাতেই? নয় নয়, আল্লাহ তায়ালা
এর উপকারিতা দুনিয়াতেও রেখেছেন আজ যে সব এক্সেসাইজ হয় তা একটু করে চেক করে দেখবেন যা সায়েন্স এবং ফিজিশিয়ানরা নতুন নতুন আবিস্কার করছেন যার প্রতিটি নামাজের ভিতর পাওয়া যায়
বিশ্বনবীর (দঃ) ফরমান কতইনা মধুর (আলাইকুম বিকিয়ামিল লাইল, ফাইন্নাহু দাবুস ছোয়ালিহিনা কাবলাকুম, ওয়াহিয়া কুরবাতুন ইলা রাব্বিকুম, ওয়া মুকাফফিরু লিস সায়্যিআত, ওয়ামানহা তুল লিল আছান, ওয়া মাতরাদাতুন লিদ্দাঈ আনিল জাসাদ)
রাতের তাহাজ্জুদ
পড়া শুরু করুন, এটি আগেকার নেক লোকদের আমল, এটি গুনাহসমুহকে
ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয় বরং মানুষের মাঝে এমন শক্তি আসে যার ফলে গুনাহ থেকে মানুষ বেঁচে যায় 
এর পরের
বানী কি? (ওয়া মাতরাদাতুন লিদ্দাঈ আনিল জাসাদ) এর দ্বারা মানুষের শরীরের রোগ ব্যধীসমুহ আল্লাহ দুর করে দেনএখানে
কোন রোগ তা নির্ধারন করা হয়নি সুতরাং তা ছোট বড় যে কোন রোগ হতে পারে, তাই হাদীস দ্বারা
নববী প্রেসক্রিপশন দ্বারা অনেকে বড় বড় রোগের চিকিৎসা করে ফল পেয়েছেন, বর্তমান যে সব দুরারোগ্য ব্যধী যার কোন চিকিৎসা নাই এমন রোগের জন্যও অবশ্যই তাহাজ্জুদের আমল
অত্যন্ত ফলপ্রসু হবে

রিয়াদে একজন
ডাক্তার আছেন নাম তার খালেদ আল জুবের, তিনি খুব আল্লাহ ওয়ালাও ছিলেন তিনি বর্ণনা করেন যে আমার কাছে একজন নারী রোগী আসল আর বলতে লাগল, যখন থেকে আমি বুদ্ধি সম্পন্ন হই তখন থেকে আমি আমার জীবনে কোনদিন প্রাণভরে ঘুমাতে পারি না, এবং মানসিক
ভাবে আমার কোন প্রশান্তিও নাই ডাক্তার সাহেব বলেন আমি সে মহিলাকে মেডিসিন না দিয়ে নববী চিকিৎসা দিলাম তাঁকে বললাম তুমি দিন ধারাবাহিক
ভাবে প্রতিদিন রাতে তাহাজ্জুদ পড়বে আর সুরাতুল বাকারা তেলাওয়াত করবে কারন আমি জানি হুযুর পাক (দঃ)
এরশাদ করেন (একরাউ সুরাতুল বাকারা ফাইন্না আখাজাহা বারাকা ওয়া তারাকাহা হাছারা) অথ্যাৎ সুরা বাকারা পাঠ কর তাতে বরকতই বরকত আর তা ছেড়ে দেয়া হল ক্ষতির কারন
মহিলা বলল
সুরা বাকারা অনেক বড় সুরা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যপারে, আমি বললাম আপনার সারা জীবনের পেরেশানী নির্ঘূম রাত কাটানো এটাতো আরো বড় কষ্টের অবশেষে মহিলা নববী প্রেসক্রিপশন নিয়ে চলে গেল ঠিক দিন পর
সে মহিলা ডাক্তারের কাছে কল দিল বলল ডাক্তার সাহেব (ওয়াল্লাহে মা ফারিহতু কাবলা জালিক) আমি নববী প্রেসক্রিমশন ফলো করেছি তাহাজ্জুদ পড়েছি রাতে সুরা বাকারা তেলাওয়াত করেছি, আল্লাহর কসম আমি জীবনে এত শান্তি কখনো অনুভব করিনি
আমরা অনেক
সময় এটা বুঝে নিই যে মনে হয় পেরাসিট্যামল, নাপা, পেনাডল টেবলেটে বেশী শক্তি, এন্টিবায়োটিকে খুব বেশী পাওয়ার, মনে রাখবেন এসব ঔষধে যে পাওয়ার তাতেও রয়েছে আল্লাহর ক্ষমতা, অনেক সময় শক্তি শালী পাওয়ারফুল এন্টিবায়েটিকেও রোগী সুস্থ হননা এটাই তার প্রমান
চিকিৎসা অবশ্যই
করতে হবে, চিকিৎসা করা
হারাম নয়, বরং প্রয়োজনে
চিকিৎসা করা সুন্নত তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করা নিষেধ কেননা আল্লাহ তায়ালা হারাম বস্তুতে শেফা রাখেননি
সাপ যদি
কাউকে কাটে তার চিকিৎসাও সুরা ফাতেহা দিয়ে হয়ে যায়, সহিহ বুখারী
একটি ঘটনা- এক কবিলার সরদারকে সাপে কেটেছে তারা সাহাবাদের কাছে এসে প্রশ্ন করল (হাল ইনদাকুম
রাক্বিন) তোমাদের মধ্যে কেউ কি ফুক দান কারী দম দান কারী আছ? তখন একজন
বলল দম করব তবে শর্ত আছে, আমরা তোমাদের
কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তোমরা আমাদের সাথে মেহমানদারী করনি এখন আমরাও এতগুলি ছাগলের বিনিময়ে দম করব সাহাবা গেলেন শুধু সুরাতুল ফাতেহা পড়লেন (ওয়াকা আন্নানা নুশিতা মিন এক্বাল) সাথে সাথে বিষ চলে গেল যেমন কোন গিড়া লাগানো ছিল তা খুলে গেল এখানে চিন্তার বিষয় সাপে কাটার বিষয় যদি সুরা ফাতেহা দ্বারা দুর হয়ে যায় তাহলে মাথা ব্যথা দুর হতে পারে না?
আজ আমাদের
টপ প্রায়োরিটি পেরাসিট্যামল, নাফা, পেনাডলে কেন? আমি বলছি
না এসব নিষেধ কিন্তু বিশ্বাস বলে একটা কথা আছে তা আমাদের কিছু দ্বীন এবাদত আল্লাহর দিকে
হওয়া উচিত

রাসুলুল্লাহ (দঃ)
এরশাদ করেন তাহাজ্জুদ দ্বারা শরীরের রোগ দুর হয়ে যায়
আরেক ডাক্তার বলেন- এক পাকিস্তানি মহিলা চিকিৎসার জন্য আসল, সে যখন
এসেছিল রিপোর্ট দেখে বুঝলাম এটা তার শেষ সময়, একদম লাষ্ট
ষ্টেইজে কেন্সার রোগ পৌঁছে গেছে মহিলা
আর দেরী করেননি সেখান থেকে সোজা মক্কায় পৌঁছে প্রায় ১০ দিন পর সে মহিলা আবার আমার কাছে আসল, আমি নতুন
করে পরীক্ষা করালাম দেখলাম তার শরীরের মধ্যে কেন্সারের বংশও নাই সুবহানাল্লাহ আমি মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলাম কি ব্যপারে আপনি কি করেছেন? মহিলা বলল আমি যখন আপনার মুখে আমার আখেরী ষ্টেইজের কথা শুনলাম আর দেরী না করে মক্কায় চলে গেলাম ওমরাহ করলাম আর বেশী বেশী কাবা ঘরের তাওয়াফ করতে লাগলাম আর জমজমের পানি পান করতে থাকলাম, আর প্রতিদিন রাতে আমি কাবা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ পড়েছি আমি খালেছ নিয়তে জমজম পান করেছি আর তাহাজ্জুদ পড়েছি আল্লাহ তাতেই আমার জন্য শেফা রেখে দিয়েছেন
আমরা শুধু
ভাবি নামাজ আখেরাতে কাজ দিবে, সেটা ভুল ভাবনা, বরং দুনিয়ার সকল কাজে বরকত, ব্যবসায় তরক্কী, দুনিয়ার সম্মান, শারীরীক সুস্থতা এসব কিছুতেই আপনাকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ এবং তাহাজ্জুদ নামাজ ফায়দা দিবে যা আপনি নিজ চোখে দেখতে পারবেন কোরানে পাকে ব্যপারে আল্লাহ
বয়ান করে দিয়েছে
إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ
هِيَ أَشَدُّ وَطْءًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
নিশ্চয়
এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।
অতএব (রাতের আধারে
আল্লাহ সামনে দাঁড়িয়ে
যান এর দ্বারা আপনার দিল মজবুত হবে, তাহাজ্জুদ দ্বারাই যতসব মজবুত দিল ওয়ালা মানুষ
তৈরী হয়

১৪শত বছরের ইতিহাস
দেখুন দুষমনের সামনে
পাহাড়ের মত যারাই
দাঁড়িয়ে গেছেন তারা সবাই
তাহাজ্জুদ গুজার ছিলেন
ওয়া আকওয়ামু এটি সুপারলেটিব ডিগ্রী যাকে কেউ ফেলতে পারে না এসবই হল দুনিয়ার জন্য উপকার, আখেরাতেতো উপকার আছেই
আল্লাহ তায়ালা আমাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের কল্যাণ দান করুন আমিন

--------


বোরাকে চড়ার সময় ডানে বামের ডাক
হুযুর (দঃ) বলেন আমি যখন সে
বোরাকে পা রাখছিলাম তখন আমাকে ডান দিক থেকে এক লোক ডাক দিল বলল হে মুহাম্মদ আমি তোমার
কাছে কিছু চাই তুমি আমার দিকে দেখ, ডান দিক থেকেও একই আওয়াজ আসল কিন্তু আমি তাদের ডাকা
জবাব দিলাম না।
সফরে এক সুন্দরী মহিলার ডাক
এভাবে যখন ভ্রমণ শুরু হল তখন এক সুন্দরী রমণী সাজগোজ করে দাঁড়িয়ে আছে আর বলছে
হে মুহাম্মদ চাই আপনি আমার দিকে তাকান, আমি তার দিকেও তাকালাম না। বরং বায়তুল মুকাদ্দাস
পৌঁছে গেলাম।
হুযুর (দঃ) যখন জিবরীলকে এসব দেখার বয়ান দিলেন তখন জিবরীল বললেন আপনার ডান দিক
থেকে যারা ডেকেছে তাদের ডাকে যদি আপনি সাড়া দিতেন তাহলে আপনার উম্মত ইহুদী হয়ে যেত।
বাম দিক থেকে যে ডাক দিয়েছে যদি তার ডাক সাড়া দিতেন তাহলে আপনার উম্মত খ্রিষ্টান
হয়ে যেত।
আর অত্যন্ত সুন্দরী রমণী সে হল দুনিয়া যদি তার ডাকে আপনি সাড়া দিতেন তাহলে আপনার
উম্মত দুনিয়ার উপর আখেরাতকে প্রাধান্য দিত।

মেরাজের দীর্ঘ পথে যা দেখলেন তিনি...


মদিনায় নামাজ আদায়

হাদিসের এক রেওয়ায়েতৈ এসেছে, ‘বোরাক নামক কুদরতি বাহনে ভ্রমণের সময় জিবরিল আলাইহিস সালাম এক জায়গায় পিয়নবিকে নামাজ পড়তে বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, জায়গা আপনি চিনেন? প্রিয়নবি বললেন, না হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম বললেন, ‘এটা তায়্যেবা অর্থাৎ মদিনা, এটাই হচ্ছে হিজরতের জায়গা
তুর পাহাড়ে নামাজ

মদিনা অতিক্রম করার পর অন্য এক জায়গায় নামাজ পড়ান এবং বলেন এটা হচ্ছে তুরে সাইনা অর্থাৎ এখানেই আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কথা বলেন
বাইতে লাহামে নামাজ

তুর পাহাড়ের পর প্রিয়নবি বায়তে লঅহামে নামাজ আদায় করে। বায়তে লাহাম হলো হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মস্থান

স্থান মোট ৬ রাকাত, বায়তুল মুকাদ্দাসে ২ রাকাত এরপর প্রত্যেক আসমানে ২ রাকাত করে
মোট ১৪ রাকাত সর্বমোট ২২ রাকাত নামাজ আদায় করেন।
হযরত মুসা (আঃ) এর কবরে নামাজ পড়ছেন
মুসলিম শরীফের ২৩৭৫ নং হাদীস হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ (দঃ)
বলেছেন মিরাজের রাতে আমি মুসার (আঃ) কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তাঁকে ওখানে সালাতে
দন্ডায়মান অবস্থায় দেখতে পাই।
মুসলিম শরীফের এক হাদীসে হযরত ঈসা (আঃ) ও হযরত ইবরাহিম (আঃ) কেও নামাজ রত দেখার
কথা উল্লেখ আছে।
হিজরত কারী কওমের দেখাঃ
হুযুর (দঃ) বলেন সফরের সময় এমন এক কওমের কাছে পৌঁছলাম, যারা ১ দিন ফসল বুনে
২য় দিন সে ফসল কাটে, এবং তারা যতগুলি ফসল কাটত সে তা দ্বিগুন হয়ে যায়। আমি জিবরীলকে
এদের পরিচয় জানতে চাইলে জিবরীল বলল এরা হল যারা আল্লাহর রাস্তায় হিজরত কারী।
বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজ আদায়ঃ
বোরাকে করে বায়তুল মোকাদ্দাস পৌছে সেখানে সকল আম্বিয়াদের দেখতে পাই, আম্বিয়াগন
সকলেই খোতবা পাঠ করেন সবশেষে হুযুর (দঃ) খোতবা পাঠ করেন এবং ২ রাকাত নামাজের ইমামতি
করেন ১ম রাকাতে সুরা কাফেরুন ২য় রাকাতে সুরা এখলাছ পাঠ করেন।
নামাজে ৭টি কাতার হয় ১ম ৩ কাতারে ছিল রাসুল গণ।
নামাজ আদায় শেষে একটি আওয়াজ শুনতে পাইঃ হে মুহাম্মদ এই যে মালিক (জাহান্নামের
রক্ষক) সুতরাং আমি ফিরে তাকালাম এবং তিনি আমাকে প্রথম সম্ভাষন জানালেন।
#কোন কোন বর্ণনায় তিনি নামাজ পড়ান মেরাজ থেকে ফিরে আসার সময়।
নবীগন কবরে জিন্দা হওয়ার প্রমাণ
শবে মেরাজের ঘটনায় আমরা একটি বিষয় বুঝতে পারি তা হল সকল আম্বিয়াগন কবরে জীবিত,
আবার আম্বিয়াগনকে কবরেও দেখেছেন তারা আবার মসজিদেও একত্রিত হয়েছেন পুনরায় তাঁদেরকেই
আসমানের বিভিন্ন স্তরে দেখছেন তাতে প্রমাণ হয় আম্বিয়াগণকে আল্লাহ তায়ালা এমন ক্ষমতা
দিয়েছেন যে তাঁরা একই সময়ে কয়েক স্থানে উপস্থিত থাকতে পারেন।
বায়তুল মুকাদ্দাস বরকতময় মসজিদ
#মসজিদে পূর্ববর্তী সকল আম্বিয়াগনের
এবাদতের স্থান
#মসজিদে সকল আম্বিয়াগনের কেবলা
#মসজিদে আকসা ৩টি শ্রেষ্ঠ মসজিদের
িএকটি মসজিদে কাবা, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা এমন যাতে সফর করা যায়।
# ৪ মসজিদে দাজ্জাল প্রবেশ
করতে পারবে না মক্কা মদীনার মত মসজিদে আকসা ও মসজিদে তুর।
#মসজিদে আকসায় ১ রাকাতে- ১
হাজার রাকাতের সাওয়াব অন্য বর্ননায় ৫০ হাজার রাকাতের সাওয়াব
# ইমাম আহমদ নবী (দঃ) এর কোন
কোন বিবির কাছ থেকে বর্ণনা করেন- তারা বলেন এয়া রাসুলাল্লাহ আমরাতো বায়তুল মুকাদ্দাস
যেতে পারব না, তখন হুযুর (দঃ) ফরমালেন তাহলে তোমরা সেখানে বাতি জ্বালানের জন্য যয়তুন
তেল পাঠিয়ে দাও, আর বায়তুল মুকাদ্দাসে চেরাগ বা লাইট জ্বালানোর দ্বারা সেখানে নামাজ
পড়ার সমান সাওযাব পাওয়া যাবে।
# হযরত আবু যর বলেন আমি হুযুর
(দঃ) প্রশ্ন করলাম পৃথিবীতে ১ম মসজিদ কোনটি তিনি বললেন মসজিদে হারাম, ২য় মসজিদ বায়তুল
মুকাদ্দাস যা মসজিদে হারাম এর ৪০ বছর পর নির্মিত হয়, এ মসজিদ হযরত এয়াকুব (আঃ) তৈরী
করেন এবং হযরত সুলায়মান (আঃ) সংস্কার করেন।

নামাজ শেষে দুধ ও শরাব অফার করা
নামাজ শেষে যখন হুযুর বের হলেন জিবরাইল (আঃ) মহানবী (দঃ) কে দুধ ও শরাব অফার
করলেন তখন হুযুর (দঃ) দুধ গ্রহ্রণ করলেন, তখন হযরত জিবরাইল (আঃ) বললেন আপনি ফিতরত
(প্রকৃতি ) পছন্দ করেছেন। আপনি যদি শরাপ পছন্দ করতেন তাহলে আপনার উম্মত ধ্বংসপ্রাপ্ত
হত। (মুসলিম ১/১৫৪)

অতঃপর বিশেষ সিঁড়ি বেয়ে প্রথম আসমানে ওঠে হযরত আদম. .-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন
*** আদম (আঃ) এর হাসি ও কান্নাঃ নবীজি বলেন হযরত আদম (আঃ) এর ডানে ও বামে বড় বড় দল রয়েছে। ডান দিকে তাকিয়ে তিনি
হাসেন বাম দিকে তাকিয়ে তিনি কাদেন, জিবরাইল (আঃ) এর ব্যাখ্যায় বলে দিলেন উনার ডান দিকের
যারা তারা হল জান্নাতি তাই তিনি ডান দিকে তাকিয়ে হাসেন আর বাম দিকে যারা তারা জাহান্নামি
তাই তাদের দিকে তাকিয়ে তিনি কাদেন।
২য় আসমানে> হযরত ইয়াহইয়া ঈসা ., (হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে হুযুর
(দঃ) বলেন তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির গৌর বর্ণের, তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি এখনই গোসল
করে এসেছেন।)
৩য় আসমানে> হযরত ইউসুফ ., 
৪থ আসমানে> হযরত ইদ্রিস .,
৫ম আসমানে> হযরত হারুন .,
৬ষ্ঠ আসমানে> হযরত মূসা . (হুযুর (দঃ) বলেন মুসা (আঃ)
এর চুল ছিল কোকরানো এবং দেখতে মনে হচ্ছিল শানুআহ গোত্রের লোক।
৭ম  আসমানে>হযরত ইব্রাহীম .-এর সাথে সাক্ষাৎ হয়
(
হুযুর (দঃ) হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর আকৃতির ব্যপারে বলেন
আমার আকৃতি হল হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর আকৃতির মত।
সকলেই মহানবী (দ).কেমারহাবাবলে সম্বর্ধনা জানান
মেরাজ বিভিন্ন আজাব পরিদর্শনঃ
ফরয নামাজে অলসতা কারীদের সাথে সাক্ষাতঃ
হুযুর (দঃ) মেরাজের ঘটনা বননা করতে গিয়ে বলেন- মেরাজের রাতে আমি এমন এক গ্রুপের
পাশে গেলাম যাদের মাথাগুলি পাথর দিয়ে থেতলে ফেলা হচ্ছে। আবার মাথা ঠিক হয়ে যাচ্ছে আবার
থেতলে দেয়া হচ্ছে, জিবরীল বলল এরা হল আপনার উম্মতের সে সব লোক যারা নামাজের ওয়াক্ত
হলে তাদের মাথা ভারি হয়ে যেত। অথ্যাৎ নামাজ নিয়ে অলসতা করত।
রাস্তায় লাকড়িঃ
আল্লাহর হাবিব বলেন এরপর আমি রাস্তায় ১টি লাকড়ি দেখলাম যে লাকড়ি সকলকে আঘাত
করছে কাপড় ছিরে দিচ্ছে, জিবরিইলকে প্রশ্ন করলাম এটা কি? তিনি বললেন এটা আপনার ঐসব উম্মতের
উদাহারন যারা মানুষের রাস্তা বন্ধ করে বসে যায়।
লাকড়ির বোঝা ওয়ালা মানুষঃ
হুযুর (দঃ) বলেন এর পর এমন এক লোক দেখলাম যে লাকড়ি জমা করে বড় একটি বোঝা বানালো,
সে উক্ত বোঝা তুলতে পারছে না তবুও সে আরো লাকড়ি সেখানে যোগ করতে লাগল। জিবরাইল বলল
এ হল আপনার উম্মতের সে লোক যে মানুষের আমানত ফেরত দেয় না তার উপর আরো আমানত নিতে থাকে।
জিহ্বা ও ঠোট কাটা হচ্ছেঃ
হুযুর বলেন- এরপর এমন একটি দলের পাশ দিয়ে গেলাম যাদের জিহ্বা ও ঠোট আগুনের অংগার
দ্বারা কাটা হচ্ছে, জিবরাইল বলল এরা হল আপনার উম্মতের ফিতনা সৃষ্টিকারী বক্তা।
বড় বড় কথা বলাঃ
নবীজি এরশাদ করেন- এরপর ছোট ১টি পাথরের পাশ দিয়ে গেলাম দেখলাম সে পাথরে ছোট
১টি ছিদ্র থেকে বড় একটি ষাড় বের হল আর সেটি যখন আবার তাতে প্রবেশ করতে চাইল পারল না,
- জিবরাইল বলল এটা হল আপনার উম্মতের সে লোকের উদাহারন যারা বড় বড় কথা বলে যখন লজ্জিত
হয়ে সে কথা ফিরিয়ে নিতে চায় আর পারে না।
হারাম ভক্ষণকারীর পরিণাম

নবীজি বলেন আমি আরো দেখলাম -দুনিয়ার আকাশে দুইটি ভাণ্ড ভর্তি গোশ্ত। যার একটি তাজা গোশ্ত। আর অন্যটিতে পঁচা-দুর্গন্ধ গোশ্ত।কিছু মানুষ তাজা গোশ্ না খেয়ে পঁচা গোশ্ খাচ্ছে। প্রিয়নবি জানতে পারলেন এরা হলো দুনিয়ার হারাম ভক্ষণ কারী ব্যক্তিযারা
ঘরে স্ত্রী রেখে বাহিরে পরনারীর সাথে সময় কাটায় জেনা করে।
অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎকারীর পরিণাম

নবীজি আরো বলেন আমি দেখলাম- কিছু লোকের ঠোট উটের মত। ফেরেশতারা তাদের মুখ ফেড়ে (পঁচা-দুর্গন্ধযুক্ত)গোশত তাদের মুখের মধ্যে ভরে দিচ্ছেন; যা তাদের অন্যপথ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আর তাতে তারা ভীষণ চিৎকার করছে এবং আল্লাহর কাছে মিনতি করছে। জানা গেল এরাই হচ্ছে দুনিয়াতে যারা ইয়াতিমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছিল
ব্যভিচারীর পরিণাম

আল্লাহর রাসুল বলেন এরপর আমি দেখলাম- কয়েকজন স্ত্রীলোক বুকের ভারে লটকানো রয়েছে এবং হায়! হায়! করছে। জানা গেল এরা হচ্ছে সব স্ত্রীলোক; যারা দুনিয়াতে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল

সুদ খাওয়ার পরিণাম

নবীজি বলেন এরপর
দেখলাম, কিছু লোকের পেট বড় বড় ঘরের মত। তারা উঠে দাঁড়াতে চাইলেই পড়ে যাচ্ছে আর আল্লাহ তাআলার সামনে হা-হুতাশ করছে। জানা গেলে তারা হচ্ছে দুনিয়ার সুদখোর ব্যক্তি

গিবতকারীর পরিণাম

অতঃপর দেখা গেল- ফেরেশতারা কিছু লোকের পার্শ্বদেশ থেকে গোশত কেটে তাদের নিজেদের খাওয়াচ্ছে আর বলছে, তোমরা দুনিয়াতে যেভাবে নিজের ভাইয়ের গোশত খেতে (গিবত করতে); এখনেও খাও জানা গেল- তারা হল ওই সব লোক; যারা দুনিয়াতে অপরের দোষ অন্বেষণ করে বেড়াত

ছালেহ
(আঃ) এর উট হত্যাকারীঃ
হুযুর আরো এরশাদ করেন আমি মেরাজ
রাতে আজাবে লিপ্ত এক লোককে দেখতে পাই যে দেখতে আগুনের মত লাল ছিল এবং তার চোখ ছিল
টেরা। জিবরাইল বলেন এ হল হযরত সালিহ (আঃ) এর উষ্ট্রি হত্যাকারী।

মেরাজের রাতে দাজ্জালকে স্বচক্ষে দেখাঃ
নাসাঈ ১১৪৪৮ নং হাদীসে উল্লেখ
আছে রাসুল (দঃ) মেরাজ রাতে দাজ্জালকে নিজ চোখে দেখেছেন তিনি বর্ণনা করেন
#দাজ্জাল হল বিশাল দেহী লম্বা
ফর্সা রংয়ের।
# তার ১টি চোখ ঠিকরে বেরিয়ে
এসেছে যা অতি উজ্জল
# চুলগুলি মনে হচ্ছে ঘন গাছের
শাখার মত
----



সপ্তম আকাশে নবীজী বায়তুল মামুর দেখতে পান বায়তুল মামুরে দৈনিক সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তারা (অর্থাৎ যারা একবার প্রবেশ করে) পুনরায় প্রবেশ করার পালা আসবে না অতঃপর নবীজীসিদরাতুল মুনতাহাবা শেষ সীমা নির্দেশক কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে পৌঁছেন ক্রমান্বয়ে তিনি জান্নাত দোজখ পরিদর্শন করেন সিদরাতুল মুনতাহায় গিয়ে বোরাকের গতি থেমে যায় ফেরেশতা জিব্রাঈল . আর এগুতে পারলেন না সিদরাতুল মুনতাহার নিকটেই সবুজ রংয়েররফরফনামের একটি কুদরতি পাল্কী জাতীয় যানবাহন অপেক্ষমাণ ছিলো এতে চড়ে একাই মহানবী সা. আল্লাহ্র সান্নিধ্যে উপস্থিত হন অতঃপর সময়ই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হয় ফেরৎ পথে মুসা .-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তার পরামর্শে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে ফিরে গিয়ে তাকমাবার জন্য সুপারিশ করার পর দশ দশ করে কমতে কমে শেষে পাঁচ ওয়াক্ত এসে দাঁড়ায় মহান আল্লাহ এতে সন্তুষ্ট হয়ে পাঁচ ওয়াক্তে পঞ্চাশ ওয়াক্তের সওয়াবদানে ওয়াদাবদ্ধ হন অতঃপর আসমানে যে সব নবীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিলো, মহানবী সা. তাদের সহকারে বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন তারা তাকে বিদায় সম্বর্ধনা জানাবার জন্য এখান পর্যন্ত আগমন করেন ইতোমধ্যে নামাজের সময় হয়ে গেলে তিনি নবীদের ইমাম হয়ে নামাজ সম্পন্ন করেন অতঃপর তিনি বোরাকে চড়েই রওয়ানা হন এবং অন্ধকার থাকতেই যথাস্থানে ফিরে আসেন


তিনি ফিরে এসে দেখতে পান- তার অজুর পানি তখনো গড়াচ্ছে এবং বিছানা উষ্ণই ছিলো অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল ভ্রমণ তথা মেরাজ সফল সমাপ্ত হয় অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়- মহানবী সা.-এর এই বিস্ময়কর ভ্রমণে দীর্ঘ ২৭ বছর কেটে যায় স্ববিরোধী বক্তব্যের জবাবে মুহাদ্দিসীন বলেছেন, দুনিয়ার রাজা-বাদশাদের আগমনে যেমন জনতা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, তার সম্মানে সব যানবাহন, মানুষের কর্মকান্ড বন্ধ থাকে- তেমনিভাবে মহানবীর সা. আগমনে তামাম ব্রহ্মান্ডের কর্মকান্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল এখানে স্বাভাবিক প্রশ্ন হতে পারে যে, মেরাজের এমন মর্যাদাপূর্ণ সফরে দুনিয়ার সময়ের গতিকে থামানো হলো কেন? এর যৌক্তিক জবাব হলো- যদি দুনিয়ার সময়কে চালু রেখেই আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবের ২৭ বছরের মেরাজের সফরের সময় পার করতেন, তাহলে এই সুদীর্ঘ সময়ে জাতি সম্পূর্ণভাবেই খোদাবিমুখ হয়ে যেত এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগেই ফেতনা-ফাসাদে জড়িয়ে পড়তো কারণ, হযরত মুসা . মাত্র চল্লিশ দিন তুর পর্বতে সাধনা করতে গিয়ে উম্মতের কাছ থেকে দূরে থাকার সময় তার উম্মতেরা বাছুর পূজার ফেতনায় জড়িয়ে ঈমানহারা হয়ে যায় মহানবীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে মুশরিকদের পক্ষে ইসলামের বিপক্ষে হয়তো এমন জনমত গড়ে ওঠতো, যা পরে আর কাটিয়ে ওঠা মুসলমানদের পক্ষে সহজ হতো না ধরনের ঘটনা মহানবীর উম্মতের জীবনে ঘটুক, তা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেননি বলেই তিনি দুনিয়ার সময়ের গতি বন্ধ করে দিয়েছেন


এই মেরাজের প্রতি সকল মুসলিম তথা মানুষের বিশ্বাস আছে তবে বিতর্ক সৃষ্টি হয় এত স্বল্প সময়ে ব্যাপক ভ্রমণ বহুবিধ ঘটনাবলির সংঘটন সংক্রান্ত ব্যাখ্যা যুক্তি নিয়ে কিছু দুর্বলমনা ঈমানদার অবিশ্বাসী অমুসলিমদের কাছে এটা রহস্য হয়ে তাদের মনকে অনেক সময় তোলপাড় করে তোলে তবে খাঁটি ঈমানদার বিশ্বাসীদের দৃষ্টিতে অবশ্য এটা অত্যন্ত সহজ ছিলো কেননা তারা বিশ্বাস করে- হযরত সা. জীবনে মিথ্যা বলেননিআল আমিনছিলো তাঁর উপাধি তাছাড়া সব কথাই যেখানে তার সত্য বলে প্রমাণিত, সেখানে মেরাজের ঘটনা অসত্য হবে কেন?

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.