১২ মে সুরাইয়া তারকা উদিত না হলে মহামারী না গেলে হাদীস কি মিথ্যা হয়ে যাবে...





১২মে সুরাইয়া তারকা উদিত না হলে মহামারী না গেলে কোরান হাদীস
কি মিথ্যা হয়ে যাবে?
সম্মানিত
দশক শ্রোতা মন্ডলী, গত ২২ এপ্রিল আমি আমেরিকা প্রবাসী একজন মুফতি যাকে আমেরিকার মুফতিয়ে
আজম বলা হয় তার নাম হল মুনির আহমদ আকন, উনার একটি আলোচনাকে হুবহু বাংলা পেশ করেছিলাম,
যার সারমম কিছুটা এমন যে আগামী ১২ই মে সুরাইয়া তারকা উদিত হবে আর সে সুবাদে সারা বিশ্বে
যে মহামারী চলছে তা  আল্লাহ তায়ালা দুরিভুত
করে দিবেন।
মুলত সম্পূণ আলোচনাটাই ছিল আমেরিকার
মুফতিয়ে আজম মাওলানা মুনির আহমদ এর আলোচনা, উনার সে আলোচনার ব্যপারে আমাদের শুধু এতটুকুই
আশাবাদ ছিল যেন আল্লাহ তায়ালা সেটাই করেন আগামী ১২ তারিখ যেন সত্যি সত্যিই এই মহামারী
দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেন।
তবে এ ব্যপারে আমার সম্মানিত
শ্রোতাদের ১টি বিষয় আমি জানিয়ে দিতে চাই, মনে রাখবেন কোরান হাদীস হল গবেষনার বিষয়,
গবেষকদের গবেষনার ফলেই ভিন্ন ভিন্ন মতামত সৃষ্টি হয়, তাই দেখবেন ইসলাম ধর্মে ৪টি মাযহাব
রয়েছে সকলেই কোরান ও হাদীসের আলোকেই মতামত পেশ করেছেন।
তাই কোন বিজ্ঞ আলেম যখন কোরান
হাদীস থেকে কোন মতামত পেশ করেন সেটা উনার গবেষনার ফসল, এখন উনার গবেষনা যদি সত্য হয়
তাহলে দ্বিগুন সাওয়াব পান আর যদি গবেষনা ভুল হয় তখনও তিনি গুনাহগার হননা বরং ১ টি সাওয়াব
পান,
যুগে যুগে এই কোরান হাদীস নিয়ে
গবেষনা চলে আসছে, এখন একজন মুফতি বা আলেম যখন হাদীস শরীফের আলোকে ১টি মতামত পেশ করেছেন
সেটা যে ১০০% ঠিক হবে তেমনি নয়, উনার দৃষ্টিতে যেটা সঠিক তিনি সেটাই বননা করেছেন, এখন
আপনি দেখলেন যে উনার সে মতামত সঠিক হয়নি তখনকি কোরান হাদীস বা ইসলাম মিথ্যা হয়ে যাবে?
না কোরান হাদীস ইসলাম ঠিকই আছে বরং আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে ব্যাখ্যা ভুল হয়েছে।
সুতরাং আমেরিকার মুফতি বতমান পরিস্থিতিতে ১টি আলোচনায় যে আশার বাণী শুনেয়ছেন তা অনেক
আশাহত মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছে, উনি চিন্তা করেছেন গবেষনা করেছেন যে গবেষনার
নির্দেশ আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ২৬৬ নাম্বার আয়াতে দিয়েছেন
كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ
لَكُمُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ
এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্যে নিদর্শনসমূহ বর্ননা করেন-যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর [:২৬৬]
কিন্তু যদি উনার সে কথা মত গবেষনা
মত আগামী ১২ মে মহামারী না যায় বরং আরো বেড়ে যায় তখন কি হবে? এমন প্রশ্ন অনেকই করছেন,
তাদের সে প্রশ্ন বা সন্দেহ দুর করার জন্য আমার এই প্রয়াস।
যদি
১২ই মে মহামারী চলে যায় তাহলে আমেরিকার মুফতির গবেষনা সঠিক, আর যদি ১২ই মে মহামারী
না যায় তাহলে মুফতি সাহেবের গবেষনা ভুল। হাদীসের মর্ম বুঝতে উনার ভুল হয়েছে। মুফতি
সাহেব  সুরাইয়া তারা নিয়ে যারা গবেষনা করেন
তাদের মতের উপর ভিত্তি করেই বলেছেন ১২ই মে সুরাইয়া তারা উঠবে, এখন হতে পারে যারা তারকা
নিয়ে গবেষনা করে বলেছেন ১২ই মে সুরাইয়া তারা উঠবে তাদের সে গবেষনাই ভুল।
তাই সবশেষ কথা হল আমরা যারা মুসলমান আমাদেরকে সবসময় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতে
হবে, যা কিছু হয় সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হয়ে থাকে, আল্লাহ যদি চাহে এক মুহুর্তের মধ্যেই
মহামারী দুর করে দিতে পারেন, আর আল্লাহ যদি চাহে হাজারো সুরাইয়া তারা উদিত হওয়ার পরও
এই মহামারী দুনিয়ায় রাখতে পারেন।বাকী আমাদের উচিত বেশী বেশী দোয়া এসতেগফার পড়া, আল্লাহর
উপর পরিপূণ ঈমান রাখা। এবং দোয়া করা আল্লাহ যেন জলদ ছে জলদ এই মহামারী আমাদের থেকে
তুলে নেন। এবং যতদিন না এই বিপদ না কাটে ততদিন আপনারা সতর্কতা অবলম্বন করুন, সরকারী
ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিধি বিধান যথাযথ পালন করুন। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন
এবং সঠিক বুঝ দান করুন আমিন। 

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.