মহানবীর জীবনী ১১টি বিষ্ময়কর ঘটনা। শিক্ষনীয় ক্ষমার ঘটনা। 11 Life changing...
বিশ্বনবীর আখলাক হল ক্ষমা কর
মহানবীর ক্ষমার বিষ্ময়কর ১১টি ঘটনা
দুর্ব্যবহারকারীর সাথে আচরণ- ক্ষমার দৃষ্টান্ত
প্রিয় নবী (দ) কখনো কোন দুর্ব্যবহারকারী সাথে প্রতিশোধমুলক দুর্ব্যবহার করতেন না, যেমন
ক্ষমার ঘটনা-১
# খুতবার সময় হুমকিঃ হযরত মুআবিয়া ইবনে হায়দা (রা) হতে বর্ণিত যে, তার গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (দ) এর কাছে হাজির হয়ে বললো, আমার পড়শীদেরকে কোন অপরাধে বন্দী করা হয়েছে, নবীজি তখন খুতবা দিচ্ছিলেন সে নবীজিকে হুমকি দিল, কিন্তু নবীজি (দ) তাঁর সাথে কোন দুর্ব্যবহার করলেন না বরং বন্দীদেরকে ছেড়ে দিতে বললেন।
ক্ষমার ঘটনা-২
#কাফের বলল আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (দ) মাহারিবে খাসফা নামক স্থানে বনু গাতফানের সাথে যুদ্ধ করার জন্য অবস্থান করছিলেন তখনও যুদ্ধ শুরু হয়নি, এক কাফির রাসুলুল্লাহ (দ) এর মাথার পাশে দাঁড়িয়ে বলল এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? নবীজি বললেন আল্লাহ! এটা বলার সাথে সাথে তার হাত থেকে তরবারী পরে গেল। তখন নবীজি তরবারী হাতে নিলেন এবং বললেন এবার বল তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? সে খুবই ভীত হয়ে গেল , কিন্তু তাকে দয়াল নবী ক্ষমা করে দিলেন ফলে সে কলমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেল।
ক্ষমার ঘটনা-৩
# ইহুদী নারীর বিষ মিশ্রণ- ক্ষমা খায়বরের একজন ইয়াহূদী নারী ভুনা-বকরীর সাথে বিষ মিশ্রিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাদিয়া স্বরূপ প্রেরণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রানের গোশত ভক্ষণ করেন এবং সাহাবীদের কেউ কেউ তা ভক্ষণ করে। এ সময় তিনি তাঁর সাহাবীদের বলেনঃ তোমরা তোমাদের হাত উঠিয়ে নাও, (অর্থাৎ তোমরা আর খেয়োনা)। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ইয়াহূদী নারীকে আনিয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এ বকরীর গোশতে বিষ মিশিয়েছ? তখন সে জিজ্ঞাসা করেঃ কে আপনাকে এ খবর দিয়েছে? তিনি বলেনঃ বকরীর এই রানটি। তখন সে নারী বলেঃ হ্যাঁ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার এরূপ করার উদ্দেশ্য কি? সে নারী বলেঃ যদি আপনি নবী হন, তবে এ বিষ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি আপনি নবী না হন, তবে আপনার থেকে পরিত্রাণ পাব, (এ জন্য আমি এরূপ করেছি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহিলাকে ক্ষমা করে দেন এবং তাকে কোনরুপ শাস্তি প্রদান করেননি।
ক্ষমার ঘটনা-৪
#যাদুকারী ইহুদীকে ক্ষমার ঘটনাঃ (বুখারী ৫৩৫১)
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যুরায়ক গোত্রের লাবীদ ইবনু আ'সাম নামক এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যাদু করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেয়াল হতো যেন তিনি একটি কাজ করছেন, অথচ তা তিনি করেননি। এক দিন বা এক রাত্রি তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি বার বার দু’আ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি কি উপলব্ধি করতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
(স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দু'জন লোক আসেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু'পায়ের কাছে বসেন। একজন তাঁর সঙ্গীকে বলেনঃ এ লোকটির কি ব্যথা? তিনি বলেনঃ যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন লাবীদ ইবনু আসাম। প্রথম জন জিজ্ঞাসা করেনঃ কিসের মধ্যে? দ্বিতীয় জন উত্তর দেন চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং এক পুং খেজুর গাছের 'জুব' এর মধ্যে। প্রথম জন বলেনঃ তা কোথায়? দ্বিতীয় জন বলেনঃ 'যারওয়ান' নামক কুপের মধ্যে।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবী সঙ্গে নিয়ে তথায় যান। পরে ফিরে এসে বলেনঃ হে আয়িশা! সে কুপের পানি মেহদীর পানির মত (লাল) এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুতে ফেলা হয়।
ক্ষমার ঘটনা-৫
#হাতিব ইবনু আবি বালতায়া মক্কায় বুড়ির মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ- রওদা খাকে বুড়ি গ্রেফাতর
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আয-যুবাইরকে এবং আল-মিকদাদ (রাঃ)-কে পাঠিয়ে দিয়ে বললেনঃ তোমরা ‘রওদা খাখ’ নামক বাগানের নিকট গিয়ে পৌঁছবে। সেখানে গিয়ে এক বৃদ্ধ মহিলাকে পাবে। তার নিকটে একটা চিঠি রয়েছে, তোমরা তা উদ্ধার করে আনবে। আমাদের ঘোড়াগুলো নিয়ে ‘আমরা দ্রুত ছুটে চললাম এবং রওদায় খাকে পৌঁছে এক বৃদ্ধা মহিলাকে পেয়ে তাকে বললাম, চিঠিটা বের করো। সে বললো, আমার কাছে কোনো চিঠি নেই।
আমি বললাম, হয় চিঠিটি বের করে দাও, নতুবা তোমার পরনের কাপড় খুলে খোঁজ করবো। ‘আলী (রাঃ) বলেন, সে তার চুলের খোপার মধ্য থেকে চিঠিটি বের করে দিলো। ‘আমরা তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম। দেখা গেলো যে, তা হাতিব ইবনু আবূ বালতাআহ কর্তৃক লিখিত মক্কার কতিপয় মুশরিকের নামে পাঠানো চিঠি।
তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক তৎপরতার কিছু তথ্য উল্লিখিত ছিলো। তিনি হাতিবকে বললেনঃ এটা কি করলে? সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ব্যাপারে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিবেন না। কুরাইশদের সাথে আমার সম্পর্কযুক্ত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে আমি কুরাইশ বংশীয় নই। এখানকার বহু মুহাজিরদের মক্কার কুরাইশদের সাথে আত্মীয়তা রয়েছে। তারা তাদের মাধ্যমে মক্কায় অবস্থিত স্বীয় পরিবারের নিরাপত্তা বিধান করে থাকেন। কিন্তু আমার তাদের বংশগত আত্মীয়তা নেই। তাই আমি তাদের কিছু উপকার করে আমার পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার মনস্থ করেছিলাম। হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি কুফরী বশতঃ কিছু করিনি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তোমাদেরকে সত্যই বলেছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমাকে এই মুনাফিকের গর্দান কেটে ফেলার অনুমতি দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো। তুমি কি অবহিত নও যে, আল্লাহ নিজেই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ ‘‘তোমরা যা ইচ্ছে হয় করো, আমি তোমাদের অবশ্যই ক্ষমা করে দিয়েছি (আবু দাউদ ২৬৫০)
ক্ষমার ঘটনা-৬
#গনিমতের মাল বন্টনের ব্যপারে কটুক্তিঃ
'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুনায়নের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কিছু লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আকরা ইবনু হাবিসকে একশ' উট দিলেন, উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বণ্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সম্ভষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ আমি এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছাব।
রাবী বলেন, আমি তার কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা মূসা (আঃ) কে রহমত করুন, তাকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনো এ ধরনের কোন ব্যাপার তাকে জানাব না। (কেননা এতে তার কষ্ট হয়)। (মুসিলম-২৩৩৭)
ক্ষমার ঘটনা-৭
তায়েফের ঘটনাঃ তায়েফের রক্তে ভেজা মরুপথ। নবুয়্যতের দশম বছর। শাওয়াল মাসে নবী (সা.) খাদেম যায়েদ বিন হারেস (রা.) কে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ যান।
রাসূল (সা.) তায়েফবাসীর পাশে দশ দিন যাপন করেন। এ সময় তিনি তাদের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে দ্বীনের দাওয়াত পেশ করেন। কিন্তু তারা বলল, তুমি আমাদের শহর থেকে বেরিয়ে যাও।
এরপর ইতর ছেলেপেলেকে তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল। অশ্লীল গালমন্দ আর চ্যাঁচামেচি করল। এক সময় তারা রাসূল (সা.)-এর ওপর পাথর মারতে শুরু করল। নবীজির জুতা দুটি রক্তে লাল হয়ে উঠল।
যায়েদ বিন হারেস (রা.) তাঁকে পাথর বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে তাঁর মাথায়ও যখমের সৃষ্টি হল। এভাবে পাথর মারার ভেতরে দৌড়াতে দৌড়াতে তারা রবীআর দুই ছেলে উতবা ও শাইবার আঙুর বাগানে আশ্রয় নিলেন।
এরপর রাসূল (সা.) মক্কার পথ ধরলেন। তাঁর হৃদয়ে তখন হতাশার কালো মেঘ। তিনি যখন করনুল মানাযিল নামক মহল্লায় পৌঁছলেন তখন জিবরাঈল (আ.) পাহাড়ের ফেরেশতাকে নিয়ে তাঁর কাছে এলেন।
বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনুমতি দিন! তাদেরকে আবু কুবাইস ও কুআইকিয়ান পাহাড়ের মাঝে ফেলে এক চাপ দিয়ে শেষ করে দিই। রাসূলে কারিম (সা.) শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন, না! তাদেরকে মারবেন না। আমার একান্ত আশা; হয়তো আল্লাহ পাক তাদের বংশধরদের মধ্যে এমন অগণিত অসংখ্য মানুষ পাঠাবেন যারা একমাত্র আল্লাহতায়ালারই ইবাদত করবে। যারা তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুর শরিক করবে না। বুখারি শরিফ।)
ক্ষমার ঘটনা-৮
# বুড়ি মক্কা ছেড়ে যাচ্ছে, (বুড়ির বোঝা ও দয়াল নবীর কিসসা)
সম্মানিত শ্রোতামন্ডলী ঐ বুড়ি মহিলার কথা ভুলার মত নয় যিনি ঘরের সমস্ত মালপত্র বেঁধে ঘরের দরজায় বসেছিল, সে বুড়ি শুনেছে মক্কায় এক যাদুকর এসেছে, যে যাদুকর যার সাথেই সাক্ষাৎ করে তার ধর্ম ছিনিয়ে নেয়, বুড়ি সে যাদুগর থেকে পলায়ন করছিল এই ভয়ে যে সে যাদুগর তার বাব দাদার ধর্ম তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিবে। ঘরের সামনে সকল মাল নিয়ে বসা, সে রাস্তা দিয়ে হুযুর যাচ্ছিলেন বুড়ি হুযুরকে দেখে বলল ভাতিজা এই মালগুলি আমার মাথার উপর উঠিয়ে দাও, হুযুর যখন সে মালগুলি তুললেন দেখলেন খুবই ওজনী, এত ওজনী মাল বুড়ি উঠাতে পারবে না, তখন হুযুর বুড়িকে বলল এতো খুবই ওজন, আপনি যদি এজাজত দেন আমি আপনার এই মালগুলি আপনি যেখানে বলেন সেখানে দিয়ে আসব, বুড়ি খুবই খুশী মনে এজাজত দিল, হুযুর সকল সামান নিজের মাথার উপর তুললেন আর বুড়ির সাথে চলতে লাগলেন, হুযুর বুড়ীকে প্রশ্ন করল মক্কা ছেড়ে কেন যাচ্ছেন? বুড়ি বলল আমি শুনেছি মক্কায় এক যাদুকর এসেছে যে মানুষের ধর্ম লুটে নিচ্ছে। আমি সারা জীবন মুর্তি পুঁজা করেছি, আমার বাব দাদা মুর্তি পুঁজা করেছে। আমি চাইনা আমার এই বয়সে বাব দাদার ধর্ম আমার থেকে ছিনিয়ে যাক। তাই আমি মক্কা শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি, হুযুর বুড়ির কথা শুনে তার মাল ফেলে দেননি বরং যন্তের সাথে মাথায় করে বুড়ির সব মালামাল বহন করে নিয়ে গেলেন, বুড়ির গন্তব্যে তাঁর মালামাল পৌঁছে দিয়ে হুযুর চলে আসার সময় বুড়ি জিজ্ঞেস করল বেটা তুমি আমার জন্য এত কষ্ট করেছ তোমার নামটা বলো, যাতে আমি লোকদেরকে তোমার নাম বলে বলে প্রসংশা করতে পারি, আমি মক্কা থেকে এক যাদুকরের ভয়ে পালিয়ে এসেছি, সাথে সাথে আমি মানুষের কাছে এও যেন বলেতে পারি যে মক্কায় যাদুকর আছে সে মক্কায় তোমার মত উঁচু মনের নওজোয়ানও আছে, উদার পরোপকারী যুবকও আছে, আমি তাদের কাছে তোমার নাম বলে বলে তোমার কাসিদা বলব। বুড়ির কথা শুনে হুযুর (দঃ) হেসে দিলেন আর বললেন হে বুড়ি যে যাদুকরের ভয়ে তুমি মক্কা ছেড়ে এসেছ সে যাদুকর তোমারই সামনে দাঁড়ানো। বুড়ি বলল সত্যি সত্যি আপনিই মুহাম্মদ? হুযুর বললেন হ্যাঁ আমিই সে মুহাম্মদ। তখন বুড়ি বলল তাহলে আপনার যাদু আমার উপর ক্রিয়া করে ফেলেছে । সুবহানাল্লাহ। আপনি আর দেরি করবেন না আমাকে কলমা পড়িয়ে দিন। (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ)
ইসলাম ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানোর শিক্ষা দেয় না ইসলাম শিক্ষা দেয় ভালবাসা, মহব্বত। আজ মুসলমানদের মধ্যে হাজারো ফেরকা, ছোট ছোট বিষয়গুলি নিয়ে আজ মুসলমানরা দ্বিধা বিভক্ত, ইসলামের আসল শিক্ষা থেকে আজ আমরা অনেক দুরে সরে গেছি আজ তাই সারাবিশ্বে মুসলমানরা মার খাচ্ছে, আল্লাহ সারা বিশ্বের সকল মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্য হওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন।
ক্ষমার ঘটনা-৯
সৈয়দা জয়নাব- স্বামী আবুল আস-ইবনে আসওয়াদ,
নবী নিজের সন্তানের উপর অন্যায়কারীকেও ক্ষমা করেছেন, সৈয়দা জয়নাব (রাঃ) যিনি নবী করিম (দঃ) এর বড় সাহেবজাদি এর সাথে হযরত খাদিজা (রাঃ) এর ভাতিজা আবুল আস এর সাথে বিবাহ সংগঠিত হয়, নবী করিম (দঃ) এর নবুয়তের আগে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, সৈয়দা জয়নাব ও আবুল আস এর পারিবারিক জীবন খুবই সুখে শান্তি পেয়ার মহব্বতের সাথে অতিবাহিত হচ্ছিল, কিন্তু হুযুর (দঃ) যখন নবুয়তের ঘোষনা দিলেন সৈয়দা জয়নাব কলমা পড়ে ইসলাম কবুল করলেন, কিন্তু আবুল আস কলমা পড়তে দেরী করল, এমনকি বদরের ময়দানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আবুল আসও যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে, আর আবুল আস বদরের ময়দানে মুসলমানদের হাতে বন্ধি হয়ে গেল, বদরে যে সব কাফের কয়েদ হয়েছিল তাঁদের ব্যপারে সিদ্ধান্ত হল তাঁদের কাছ থেকে ফিদিয়া গ্রহণ পূর্বক তাঁদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে, প্রত্যেক কয়েদীর আত্মিয় স্বজনেরা ফিদিয়া দিয়ে দিয়ে কয়েদীদের ছাড়িয়ে নিয়ে গেল, এদিকে হযরত সৈযদা জয়নাব (রাঃ) মক্কা থেকে তাঁর স্বামীকে ছাড়ানোর জন্য তাঁর নিজের একটি স্বর্ণের হার ফিদিয়া স্বরুপ পাঠাল, সে হারটি যখন নবী (আঃ) এর মোবারক হাতে আসল নবী (দঃ) এর চোখে পানি চলে আসল। হারটি দেখে হুযুর (দঃ) চিনতে পারলেন, কারন এটি সেই হার যেটি হুযুর (দঃ) খাদিজা (রাঃ) কে গিফট দিয়েছিলেন, আর সৈয়দা খাদিজা নিজের বড় মেয়ের বিয়েতে তাঁকে গিফট দিয়ে দিলেন, আর আজ সে হার নবী করিম (দঃ) এর কাছে সৈয়দা জয়নাব (রাঃ) নিজের স্বামীর ফিদিয়া স্বরুপ পাঠালেন। নবী যখন কাঁদছে সাহাবাগণ প্রশ্নকরল এয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ)আপনি কাঁদছেন কেন? হুযুর (দঃ) জবাব দিলেন আমার এ হারটি দেখে খদিজার কথা মনে পড়ে গেল। তখন সাহাবাগণ পরামর্শ দিলেন যেন হারটিও ফেরত দিয়ে দেয় এবং আবুল আসকেও যেন ছেড়ে দেয়া হয়, তবে হযুর (দঃ) আবুল আসকে বললেন আমি তোমাকে ছেড়ে দিচিছ তবে শর্ত হল তুমি মক্কায় গিয়ে আমার মেয়ে জয়নাবকে হিজরত করার অনুমতি দিবে। হযরত জয়নাব যখন হিজরত করে আসছিলেন তখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন উটে চরে তিনি হিজরত করছিলেন কিন্তু একজন কাফের হযরত জয়নাবের উটের পায়ে এমন আঘাত করল উট থেকে হযরত জয়নাব নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর একটি পাজরের হাড্ডিও ভেঙ্গে গেল এবং গর্ভের সন্তানও নষ্ট হয়ে গেল, এমন অবস্থাতেই তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, কতই কষ্টের ছিল সে হিজরত, আর হযরত জয়নাব সারা জীবন সে ভাঙ্গা পাঁজরের ব্যথায় কাতরাতেন এবং সে ব্যথাতেই তিনি শহিদ হয়ে যান । যেখুন যার কারন হুযুরের সামনে এত কষ্ট পেয়ে সৈয়দা জয়নাব (রাঃ) শহিদ হয়ে গেলেন, সে ইবনে আসওয়াদ মক্কা বিজয়ের দিন হুযুরের সামনে এসে উঁচু আওয়াজে কলমা পড়ে দিল, আর হুযুর (দঃ) তাঁকেক্ষমা করে দিলেন।
ক্ষমার ঘটনা-১০
অস্ত্র ব্যবসায়ী সাফওয়ান ও ওমের
মক্কা বিজয়ের দিনে মহানবী (দ) যে ক্ষমা দেখিয়েছেন তা বিশ্বের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।
মক্কার এক লোকের নাম সাফওয়ান বিন ওমাইয়া সে ছিল অস্ত্রের ব্যবসায়ী সে অস্ত্র ভাড়া দিত, তার কাছে ওমের বিন ওহাব নামক এক গরিব লোক সাহায্যের জন্য আসল, তখন সে সাফওয়ান বিন ওমাইয়া ওমের বিন ওহাব কে একটি প্রস্তাব দিল বলল - আমার কাছে ১টি বিষ মাখা তরবারী আছে, সে তরবারী নিয়ে মদীনায় চলে যাও আর সেখানে সুযোগ মত মুসলমানদের নবীকে এই তরবারী দিয়ে হত্যা কর (নাউজুবিল্লাহ) যদি তুমি এ কাজ করতে পার তাহলে আমি তোমাকে এত বেশী দান করব তুমি সারা জীবন তোমার পরিবার পরিজন নিয়ে খেতে পারবে। লোভে পড়ে ওমের বিন ওহাব মদীনায় বিষাক্ত তরবারী নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল, কিন্তু সে সাহাবাগনের হাতে বন্ধি হয়ে গেল, হুযুর (দঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব কথা শিকার করল, সে বলল হুযুর আমি অভাবের তাড়নায় সাফওয়ান বিন ওমাইয়ার দ্বারা এখানে এসেছি, আপনি দয়া করে আমাকে মাফ করে দিন, হুযুর (দঃ) সেদিন সে জানের দুষমনকে মাফ করে দিলেন এবং তাকে মক্কায় পাঠিয়ে দিলেন, মক্কা বিজয়ের দিন সাফওয়ান ভয়ে জেদ্দা চলে গেল আর সেখান থেকে ইরান চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল তখন ওমের বিন ওহাব হুযুরের কাছে এসে বলল এয়া রাসুলাল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করেছেন আমাদের কবিলার সরদার সাফওয়ানকেও ক্ষমা করে দেন, সে আপনার ভয়ে মক্কা ছেড়ে ইরান চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, হুযুর বললেন আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিলাম, হযরত ওমের বিন ওহাব হুযুরের ক্ষমার সংবাদ নিয়ে যাওয়ার সময় প্রমাণ স্বরূপ হুযুর থেকে পাগড়ী মোবারকটিও নিলেন যা হুযুর মক্কা বিজয়ের দিন খুতবা দেয়ার সময় পড়েছিলেন, সে পাগড়িটি নিয়ে হযরত ওমের বিন ওহাব সাফওয়ানের কাছে গেলেন ক্ষমার বার্তা নিয়ে, সাফওয়ান ক্ষমার নিদর্শন দেখতে চাইলে ওমের হুযুরের দেয়া পাগড়ি দেখালেন, এটা দেখে সাফওয়ান হুযুরের কাছে আসলেন, হুযুর ক্ষমা করলেন আর ইসলামের দাওয়াত দিলেন, কিন্তু সাফওয়ান চিন্তা করার জন্য ২ মাসের সময় চাইল হুযুর তাঁকে বলল ২ মাস নয় বরং ৪ মাস সময় নাও আর ইসলাম সম্পর্কে ভাল করে জান তারপর ইসলাম ভাল লাগলে কবুল করিও। সুবহানাল্লাহ। আর সাফওয়ান ৪ মাসের ভিতরেই ইসলাম কবুল করলেন। এভাবে হুযুর (দঃ) জানের দুষমনকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন।
ঘটনা- এক বুযুর্গের ঘটনা
# এক বুযুর্গ হজ্বে মিনার ময়দানে এক দোকানের সামনে বসে আছেন এমন সময় উনার ব্যাগটি এক ঝাপটাবাজ নিয়ে দৌঁড় দিল, কিন্তু সে ছিনতাইকারী কিছুদুর যাওয়ার পর তার চোখ অন্ধ হয়ে গেল, সে লোকটি সামনে অগ্রসর না হয়ে সেখানেই বসে বসে কাঁদতে লাগল লোকজন তাঁকে প্রশ্ন করল তুমি কাঁদছ কেন? সে বলল আমি এক হাজ্বীর ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে আসছিলাম কিন্তু কিছুদুর আসার পর আমার চোখের জ্যোতি চলে গেল তাই আমি কাঁদছি, তাঁরা ছিনতাইকারীকে প্রশ্ন করল সে হাজ্বী কোথায় সে বলল পিছনে যে দোকান আছে তার সামনে আছে, তখন লোকেরা সে ছিনতাইকারীকে নিয়ে ঐ হাজ্বীর কাছে গেলেন আর তার বেগ ফিরিয়ে দিলেন এবং এ ছিনতাইকারীকে ক্ষমা করে দিতে বললেন, তখন বুযুর্গ বললেন আমি সে যখন আমার বেগ ছিনতাই করেছে তখনই ক্ষমা করে দিয়েছি, লোকেরা আশ্চর্য্য হয়ে হাজ্বীকে প্রশ্ন করল কেন? তখন বুযুর্গ হাজ্বী জবাব দিল আমি জানি কাল কেয়ামতের দিন হাশরের মাঠে আমার দয়াল নবী ততক্ষন পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষন আমরা গুনাহগারদের বিচার ফয়সালা শেষ হবে না, এখন আমি চিন্তা করছি আমি যদি আমার এই ছিনতাইকারী ছিনতাই করেছে সেটা তাকে মাফ না করি তার জন্য কাল হাশরের মাঠে বিচার ফয়সালা হবে আর সে বিচার ফয়সালার কারনে আমার দয়াল নবীর জান্নাতে যেতে দেরী হবে, তাই আমি এ ছিনতাইকারীকে সাথে সাথে ক্ষমা করে দিয়েছি যেন কাল কেয়ামতের ময়দানে আমার এ বিষয়টির কারনে আমার নবীর যেন জান্নাতে যাওয়া দেরী হয়ে না যায়। সুবহানাল্লাহ, কাশ আমাদের প্রত্যেকেরই চিন্তা ভাবনা যদি এমন হত তাহলে পৃথিবীতে এত মারা মারি হানাহানি থাকত না।
ঘটনা-১১,ক্ষমা করতে কষ্ট হলেও ক্ষমা করঃ
# ওয়াহশি যে হুযুরের চাচার কলিজা চিবিয়ে খেয়েছে, নবী তাঁকে মাফ করেছে তবে তাঁর চেহেরা দেখা পছন্দ করতেন না।
হযরত ওয়াহশি(রাঃ)যিনি হযরত হামযা(রাঃ)কে শহীদ করেছিলেন তাঁর বুক চিরে কলিজা বের করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তিনিও একজন সম্মানিত সাহাবী হয়ে যান ।
রাসুল(সাঃ)মক্কা বিজয়ের দিনে মাত্র পাঁচ জন ছাড়া বাকি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এই পাঁচ জনের যাকে যেখানে পাওয়া যাবে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এর মধ্যে ওয়াহশি একজন, হযরত হামযা(রাঃ)বুক চিঁরে কলিজা বের করেছিলেন এই ওয়াহশি ।ওয়াহশি চিন্তা করলেন এবার আর রক্ষা নেই, তাই মনে মনে ঠিক করে রাখলেন যেভাবেই হোক আল্লাহ্র রাসুল(সাঃ)এর সামনে যেয়ে ক্ষমা চেয়ে নেবো তিনি রহমতের নবী অবশ্যই খালি হাতে ফিরব না, এই আশা রেখে সাহাবীদের চোখ কে ফাঁকি দিয়ে একদিন হাজির হয়ে গেলেন রাহমা তুল্লিল আলামিনের দরবারে, তাঁকে দেখে নবিজী(সাঃ)জিজ্ঞেস করলেন কেন এসেছ? ওয়াহশি বললেন, ইসলাম গ্রহণ করার জন্য এসেছি, রহমতের নবী(সাঃ)তাঁকে মুসলিম বানিয়ে বললেন, সব সময় আমার সামনে আসবেনা কারন তুমাকে দেখলে পরে আমার চাচা হামযার কথা মনে পড়ে যায় । নবিজী আবার জিজ্ঞেস করলেন, কিভাবে মেরেছিলে আমার চাচাকে বল একটু শুনি? ওয়াহশি বললেন, আমি বল্লম দিয়ে আঘাত করি এর পর বুক কেটে কলিজা বের করে হিন্দা কে দেয় সে কলিজা চিবিয়েছে । নবীজির তখন চোখ থেকে পানি পড়ে দাড়ি মোবারক ভিজে যাচ্ছিল, এর পর ওয়াহশি দুহাত তুলে দোয়া করতে লাগলেন, বললেন, হে আল্লাহ! আমি যেই বল্লম দিয়ে ইসলামের একজন বীর সেনাকে শহীদ করেছিলাম সেই বল্লম দিয়ে যেন ইসলামের কোন দুশমনকে হত্যা করতে পারি, আল্লাহ্ তাআলা কবুল করে নিলেন তাঁর দোয়া। পরবর্তী হযরত আবু বকর(রাঃ)এর খেলাফতে ভণ্ডনবী দাবীদার মুসালাবা কাজ্জাবকে তিনি হত্যা করেন ।
খাটি নিয়তে প্রতিজ্ঞা করলেই সেই প্রতিজ্ঞায় আল্লাহই মদদ করেন ।
হাদীস যে মাফ করবে না তার শাস্তিঃ
#নবী করিম (দঃ) বলেন- কেহ কোন বান্দার কাছে যদি মাফ চাই আর সে বলে দেয় আমি তোমাকে মাফ করব না, নবী করিম (দঃ) বলেন সে যেন কেয়ামতের দিন আমার হাউজে কাউসারের সামনে না আসে। (অথ্যাৎ নবীজি এটা বুঝাতে চাচ্ছেন যে আমি তাঁর মুখ দেখতে চাই না)
# যে অন্যের প্রতি ১টি আঙ্গুল উঠায় সে খেয়াল করে না বাকী ৪টি আঙ্গুল তার দিকেই উঠে।

কোন মন্তব্য নেই