কুরআনে ১০০টি নবীর বিষ্ময়কর শান। কুরআনে শানে মোস্তফা। Shane Mustafa| Mila...


সম্পূর্ণ কুরআনে ২০ জায়গায় আল্লাহ ও রাসুলের এতায়াতের কথা একসাথে এসেছে, ১৮ জায়গায় শুধু রাসুলের এতায়াতের কথা এসেছে, কিন্তু কোথাও একা আল্লাহর এতায়াতের কথা কুরআনে আসেনি।

এর কারন হিসেবে ওলামায়ে কেরাম জবাব দিয়েছেন- যদি আল্লাহ শুধু একটি আয়াতে নিজের এতায়াতের একক জিকির করতেন তাহলে অনেকে এই ১টি আয়াতকে কেন্দ্র করেই শুধু আল্লাহর এতায়াত করত রাসুলের এতায়াত ছেড়ে দিত, কেননা আল্লাহর শান ও মান সর্বোদ্ধে ও উঁচু, আল্লাহ খালেক রাসুল মাখলুক, এখন অনেকে সুযোগ পেত যেহেতু ১টি আয়াতে শুধু আল্লাহর এতায়াতের কতা এসেছে সেহেতু আল্লাহর এতায়াত করলেই হবে রাসুল এর এতায়াতের প্রয়োজন নাই, সে সুযোগসন্ধ্যানিদের পথ বন্ধ করে দেয়ার জন্যই আল্লাহ একক ভাবে আল্লাহর এতায়াতের কথা কুরআনে কোথাও উল্লেখ করেননি।

এবং এটাও বড় ম্যাসেজ যে শুধু আল্লাহকে মানার দ্বারা মুসলমান হওয়া যায়না, এখনও খ্রিষ্টানদের এক দল এবং ইহুদীরা আল্লাহকে এক মানে কিন্তু তারা মুসলমান নয় কারন তারা মোস্তফাকে মানে না, আল্লাহকে মানতে হলে মোস্তফার মাধ্যমে মানতে হবে।

 

যখন নবীর কথাবার্তার বিষয় আসল

নবী নিজের মনগড়া কোন কথাই বলে না যাই বলেন তা আল্লাহর অহি, নবীর কথা মুলত অহি-

وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى

এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। [ সুরা নাজম ৫৩: ]

إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى

কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়। [ সুরা নাজম ৫৩: ]

 

সম্পূণ কোরআনে ১০০টি জায়গায় আল্লাহ তায়ালা নিজের এবং নিজের হাবিবের জিকির একসাথে করেছেন।

কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই তৌহিদ বেশী বুঝতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন, তারা মনে করেন যদি রাসুলের নাম আল্লাহর সাথে জোড়া লাগানো হয় তাহলে শিরিক হয়ে যাবে নাউজুবিল্লাহ যদি রাসুলের নাম আল্লাহ নামের পাশে লেখাতে শিরিক হয় তাহলে সারা কুরআন শিরিকে ভরে আছে, মায়াজাল্লাহ আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম

কিছুদিন আগে আপনারা হয়ত জেনেছেন উত্তর বঙ্গের একটি মসজিদের মেহরাবে কলমা লিখা হয়েছে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) সেখানে একটি গ্রুপ সে কলমাকে ভেঙ্গে ফেলেছে

অনেকে বলে আমরা আল্লাহর সাথে নবীকে মিলিয়ে ফেলি, যারা একথা বলেন তারা ভুল বলেন কারন মিলানো হয় তাকে যে পৃথক ছিল, আল্লাহতো তার হাবিবকে পৃথকই করেননি নিজ থেকে জুদাই করেননি সেখানে মিলানোর প্রশ্ন কিভাবে আসবে?

এখন যারা আমাদেরকে অপবাদ দেয় যে নবীকে আমরা আল্লাহর সাথে মিলিয়ে ফেলি তাদের জ্ঞাতাথে কুরআনের কিছু আয়াত তেলাওয়াত করছি তারপর আপনারাই চিন্তা করে দেখুন আমরা মিলিয়েছি নাকি স্বয়ং আল্লাহ মিলিয়েছেন

১। মাই ইউতিয়িল্লাহা ওয়া রাসুলুহু

এতায়াতের ব্যপারে আল্লাহ রাসুলকে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন

২। অবাধ্যতার ব্যপারে আল্লাহ রাসুলকে নিজের সাথে জুড়ে দিয়েছেন

সুরা নিসার ১৪ নং আয়াত

وَمَن يَعْصِ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا

যে কেউ আল্লাহ রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। [ সুরা নিসা :১৪ ]

৩। ফয়সালার বিষয়ে আল্লাহ নিজের সাথে রাসুলের নাম জুড়ে দিয়েছেন

فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ

তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- [ সুরা নিসা :৫৯ ]

৪। জিহাদের ব্যপারেও আল্লাহ আপন হাবিবকে জুড়ে দিয়েছেন

إِنَّمَا جَزَاء الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ

যারা আল্লাহ তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে [ সুরা মায়েদা :৩৩ ]

৫। গনিমতের মালের মালিকানার ব্যপারে আল্লাহ তার হাবিবকে নিজের সাথে জুড়ে দিয়েছেন

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنفَالِ قُلِ الأَنفَالُ لِلّهِ وَالرَّسُولِ

আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। [ সুরা আনফাল : ]

৬। ডাকে সাড়া দেয়ার ব্যপারেও আল্লাহ তার হাবিবকে নিজের নামের সাথে জুড়ে দিলেন

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَجِيبُواْ لِلّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُم لِمَا يُحْيِيكُمْ

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর, যখন তোমাদের সে কাজের প্রতি আহবান করা হয়, যাতে রয়েছে তোমাদের জীবন। [ সুরা আনফাল :২৪ ]

৭। চুক্তিভঙ্গের কারনে সম্পকচ্ছেদ করার ঘোষনার ব্যপারেও আল্লাহ তার হাবিবকে নিজের নামের সাথে জুড়ে দিলেন- যেমন

يرَاءةٌ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ

সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। [ সুরা তাওবা : ]

৮। আজান বা ঘোষনা দেয়ার ব্যপারে আল্লাহ তার হাবিবকে নিজের নামের সাথে জুড়ে দিলেন

যেমন এরশাদ হল

وَأَذَانٌ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الأَكْبَرِ أَنَّ اللّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ

আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও

৯। কোন কিছু হারাম ঘোষনা করার ব্যপারেও আল্লাহ তার রাসুলের নামকে নিজের সাথে জুড়ে দিয়েছেন

وَلاَ يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللّهُ وَرَسُولُهُ

আল্লাহ তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না [ সুরা তাওবা :২৯ ]

১০। কিছু দান করার ব্যপারে আল্লাহ তায়ালা আপন হাবিবের নামকে নিজের নামের সাথে জুড়ে দিয়েছেন

وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوْاْ مَا آتَاهُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُواْ حَسْبُنَا اللّهُ سَيُؤْتِينَا اللّهُ مِن فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللّهِ رَاغِبُونَ

কতই না ভাল হত, যদি তারা সন্তুষ্ট হত আল্লাহ তার রসূলের উপর এবং বলত, আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, আল্লাহ আমাদের দেবেন নিজ করুণায় এবং তাঁর রসূলও, আমরা শুধু আল্লাহকেই কামনা করি। [ সুরা তাওবা :৫৯ ]

দেখুন এই আয়াতে আল্লাহই শিখাচ্ছেন-

مِن فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ

আল্লাহ তার রাসুলের ফজলে-করুনায়, আর আমরা বলি আল্লাহর ফজলে

১১। সন্তুষ্টি বা খুশি করার বিষয়েও আল্লাহ তার হাবিবের নাম নিজের সাথে বয়ান করেছেন

يَحْلِفُونَ بِاللّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِن كَانُواْ مُؤْمِنِينَ

তোমাদের সামনে আল্লাহর কসম খায় যাতে তোমাদের রাযী করতে পারে। অবশ্য তারা যদি ঈমানদার হয়ে থাকে, তবে আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে রাযী করা অত্যন্ত জরুরী। [ সুরা তাওবা :৬২ ]

১২। ধনী করে দেয়ার বয়ান করতে গিয়েও আল্লাহ তার হাবিবের নামকে সাতে জুড়ে দিয়েছেন

أَنْ أَغْنَاهُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ مِن فَضْلِهِ

আল্লাহ তাঁর রসূল তাদেরকে সম্পদশালী করে দিয়েছিলেন নিজের অনুগ্রহের মাধ্যমে। (সুরা তওবা ৭৪)

আজ যদি কেহ বলে রাসুল এর অনুগ্রহ রাসুলের অছিলায় তাহলে তার উপর শিরিকের ফতোয়া চলে আসবে, অথচ দেখুন আল্লাহেই আমাদেরকে কুরআনে বয়ান করছেন আল্লাহ তার রসুল সম্পদ শালী করে দিয়েছেন

১৩। (ইজা দুউ ইলাল্লাহি ওয়া রাসুলিহ) যখন আল্লাহ তার রাসুলের দিকে ডাকা হয়

১৪। (ইজা কাদাল্লাহু ওয়া রাসুলুহু আমরান) যখন আল্লাহ তার রাসুল ফয়সালা করে দেয়

১৫। (ইন্নাল্লাজিনা ইউজুনাল্লাহা ওয়া রাসুলাহ) যে আল্লাহ রাসুলকে কষ্ট দেয়

১৬। (লিতুমিনু বিল্লাহি ওয়ারাসুলিহি ওয়া তুয়াজ্জিরুহু ওয়াতুয়াক্কিরুহু ওয়াতুসাব্বিহুহু বুকরাতাও ওয়া আছিলা) আল্লাহ নিজের তাজিম সম্মানের সাথে আপন হাবিবের তাজিম সম্মানকে জুড়ে দিয়েছেন

এভাবে শত শত স্থানে আল্লাহ তায়ালা নিজের সাথে তার মাহবুবের জিকির করেছেন, শুধু এবাদত ছাড়া বাকী সবকিছুতেই মুলত আল্লাহ তায়ালা তার হাবিবের বয়ান নিজের বয়ানের সাথে জুড়ে দিয়েছেন

অনুসরন, ফয়সালা, জিহাদ, গনিমতের মালের মালিকানা, ডাকে সাড়া দেয়া, সম্পকচ্ছেদ, হারাম ঘোষনা, দান করা, সন্তুষ্টি বা খুশি, ধনী করা, সম্মান দেয়া সব ক্ষেত্রেই আল্লাহ তায়ালা তার রাসুলের জিকির একসাথে করেছেন।

এখন যারা কথায় কথায় শিরিক শিরিক বলে তাদের মুলত কুরআনের জ্ঞান নাই, নবীর শান বয়ান করলেই যারা বলে নবীর শান বয়ান করতে করতে আল্লাহর উপর তুলে ফেলছে তাদের ধারনাই নাই নবীর শান আল্লাহ এত উঁচু করেছেন যে উচ্চতা সম্পর্কে দুনিয়ার কোন মাখলুকের কোন ধারনাই নাই

ইবনে তাইমিয়ার বাণী

যারা নবীর শান শুনলেই শিরিক শিরিকের জিকির করে তারা আল্লামা ইবনে তাইমিয়াকে বেশী মানেন- উনি বলেন আস সারিমুল মাসলুল কিতাবে ৪১ নং পৃষ্ঠায় লিখেন- (ফাকাদ আকামাহুল্লাহু মাকামা নাফসিহি ) অর্থ্যাৎ আল্লাহ তায়ালা রাসুলককে আপন কায়েম মকাম বানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ রাসুলে পাককে নিজের জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

নির্দেশ দেয়ার ব্যপারে, নিষেধ করার ব্যপারে, খবর দেয়ার ব্যপারে, বয়ান করার ব্যপারে, আল্লাহ তার রাসুলকে নিজের কায়েম মকাম বানিয়ে দিয়েছেন।

 

তাই শেখ সাদী (রহ) নবীর শান বয়ান করতে গিয়ে বলেন

বাদ আজ খোদা বুজুর্গ, তুই কিসসা মুখতাসার অর্থাৎহে সরকারে কায়েনাত! আপনার মর্যাদা আর কতটুকুই বলতে পারব, সংক্ষেপে এতটুকুই বললাম, আল্লাহর পরেই আপনার স্থান।


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.