আর্টিফিশিয়াল অলংকার ব্যবহার করলে কি গুনাহ হয়? Artificial Jewellrey | Jaa...


মহিলাদের যেসব অলংকার পরিধান করা হারাম

বাজারে হাজারো ধরনের অলংকারে ভরে গেছে, নানা ধরনের ডিজাইনের আর্টিফিশিয়াল অলংকার পাওয়া যায়, আর মহিলারা মনের ইচ্ছামত সে সব অলংকার কিনে ব্যবহার করে, মহিলাদের জন্য অলংকার ব্যবহার করা অবশ্যই জায়েজ, পুরুষদের জন্য কোন ধরনের অলংকার ব্যবহার করা জায়েজ নাই। কিন্তু মহিলাদের জন্য এসব অলংকার ব্যবহারের ব্যপারে ওলামায়ে কেরামের ২টি মত পাওয়া যায় তা আজ আমি তুলে ধরার চেষ্টা করব।

পুববর্তী ওলামার মতে লোহার অলংকার হলে তা ব্যবহার করা নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই গুনাহ। কারন তিরমিযি শরীফের ১৭৯২ নং হাদীসে আছে হযরত বুরায়দা (রা) হতে বর্ণিত এক লোক নবী (দ) এর কাছে আসল, তার হাতে একটি লোহার আংটি ছিল, তখন তিনি বললেন,  কি হল, তোমার পরনে জাহান্নামিদের অলংকার দেখছি। সুতরাং এই হাদীসে যেহেতু লোহার অলংকারকে জাহান্নামীদের অলংকার বলা হয়েছে এর উপর কিয়াস করেই আগের ওলামায়ে কেরাম লোহার অলংকারকে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই নিষেধ করেছেন এবং গুনাহের কাজ বলেছেন। কিন্তু নারীদের জন্য স্পষ্টভাবে কোন হকুম কুরআন ও হাদীসে নাই। শুধু কিয়াসের উপর ভিত্তি করেই আগের যুগের ওলামাগন ফতোয়া দিয়েছেন লোহার অলংকার মহিলাদের জন্য গুনাহের কাজ।   

কিন্তু লোহার অলংকার ব্যবহার বতমানে এত বেশী প্রচলন যে মহিলারা যে সব আটিফিশিয়াল জুয়েলারি ব্যবহার করে তাতে লোহা মিশ্রন থাকে এখন যদি ঢালাও ভাবে লোহার অলংকার ব্যবহার গুনাহ হবে বলা হয় তাহলে বেশীরভাগ মহিলাই গুনাহগার হবে। তাই একদল ওলামা নারীদের জন্য আটিফিশিয়াল অলংকার ব্যবহারকে জায়েজ ফতোয়া দিয়েছৈন আর লোহার অলংকার জায়েজ এর পক্ষে অসংখ্য হাদীস গ্রন্থে ১টি সহিহ হাদীস প্রসিদ্ধ যা বুখারী শরীফের ৪৬৫৯ নং হাদীসেও আছে- সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাযির হয়ে বলল, সে নিজকে আল্লাহর রাসূলের জন্য উৎসর্গ করার ইচ্ছা করেছে। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কোন মহিলার প্রয়োজন নেই। এক ব্যাক্তি তাঁকে বলল, একে আমার সঙ্গে শাদী করিয়ে দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তাকে একখানা কাপড় দাও। ঐ ব্যাক্তি তার অক্ষমতার কথা প্রকাশ করল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তাকে একখানা লোহার আংটি হলেও দাও। এবারেও লোকটি আগের মত অক্ষমতা প্রকাশ করল। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার কি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ আছে? লোকটি উত্তর করলঃ হ্যাঁ। আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে, তার বিনিময়ে তোমার নিকট এ মহিলাটিকে শাদী দিলাম। এ হাদীসের মধ্যে লোহার আংটি দেয়ার কথা খোদ নবী (দ) বলেছেন, তাতে বুঝা যায় মহিলাদের জন্য লোহার অলংকার ব্যবহার করা জায়েজ।

সুতরাং একটি হল ফতোয়া অন্যটি হল তাকওয়া, যেহেতু এক হাদীসে লোহার অলংকারকে জাহান্নামীদের অলংকার বলা হয়েছে, অপর হাদীসে লোহার আংটি দেয়ার কথা বলা হয়েছে তাতে লোহা জায়েজ বলে প্রমাণিত হয়, তাই কোন বোন যদি লোহার অলংকার ব্যবহার করে তাহলে সে গুনাহগার হবেনা, তবে যেহেতু এক হাদীসে একে জাহান্নামীদের অলংকার বলা হয়েছে তাই এর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা হবে তাকওয়া।

(ওয়াল্লাহু আলামু বিসসাওয়াব)

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.