বিশাল সুসংবাদ। কুরআনে উম্মতে মুহাম্মীর জন্য সর্ব শ্রেষ্ঠ সুখবর। Good new...
পবিত্র কুরআনে অনেক সুসংবাদ আছে তবে এমন একটি আয়াত আছে যা প্রত্যেক উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য অনেক বড় আনন্দের অনেক বড় আশার।
আমাদের নবীর ব্যপারে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুরা মুহাম্মদের ১৯ নং আয়াতে ঘোষনা দেন-
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ
জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার খেলাফে আউলা কাজের জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত। [ সুরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৯ ]
মুসলিম শরীফের হাদীসে উল্লেখ আছে।
হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) বয়ান করেন- একদিন নবী করিম (দ) সুরা ইবরাহিমের ৩৬ নং আয়াত তেলাওয়াত করলেন
رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيراً مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
পালনকর্তা, এরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে। অতএব যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার এবং কেউ আমার অবাধ্যতা করলে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [ সুরা ইবরাহীম ১৪:৩৬ ]
এর পর সুরা মায়েদার ১১৮ নং আয়াত তেলাওয়াত করলেন যাতে হযরত ঈসা (আ) এর কথা বয়ান হয়েছে-
إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ। [ সুরা মায়েদা ৫:১১৮ ]
এই ২টি আয়াত পড়ে হুযুর (দ) উপরের দিকে দুইহাত তুলে দোয়া করলেন হে আল্লাহ আমার উম্মত আমার উম্মত বলে কাঁদতে শুরু করলেন। তখন আল্লাহ ফরমালেন হে জিবরাইল মুহামম্দ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের কাছে যাও, আর তাঁকে জিজ্ঞেস কর তাঁকে কিসে কাঁদাচ্ছে? অতঃপর হুযুর (দ) এর কাছে হযরত জিবরাইল (আ) তশরিফ আনলেন্ এবং হুযুরের কাছে জিজ্ঞেস করলেন তাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? রাসুলুল্লাহ (দ) নিজের মনের কথা জানালেন, তখন আল্লাহ তায়ালা খবর দিলেন হে জিবরাইল মুহাম্মদ (দ) কে গিয়ে বল “অবশ্যই আমি অনতিবিলম্বে আপনাকে আপনার উম্মতের ব্যপারে খুশি করে দিব এবং আপনাকে অসন্তুষ্ট হতে দিবনা” (মুসলিম ২০২, সুনানে কুবরা নাসাঈ ১১২৬৯)
মুফাসিরিনে কেরাম বলেন কুরআনে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সবচেয়ে বড় সু সংবাদ হল সুরা দোহার ৫ নং আয়াত যাতে আল্লাহ মুহাম্মদ (দ)কে সু সংবাদ ও ওয়াদা দিয়ে বলেন ]
وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى
আপনার পালনকর্তা সত্বরই আপনাকে দান করবেন, অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন। [ সুরা দুহা ৯৩:৫ ]
আর আল্লামা নববী (রহ) মুসলিম শরীফের হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেন, যার সারসংক্ষেপ হল মুহাম্মদ (দ) কে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হতে দিবেন না, এর অথ হল আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদীর সকলকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (সহিহ মুসলিম শরাহ ২য় খন্ড ১০৭৯ পৃ)
তফসীরে কবিরের ১১ খন্ডের ১৯৪ পৃষ্ঠায় হযরত আলী ও হযর ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত - এই আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হুযুর (দ) কে তার উম্মত এর শাফায়াত এর ক্ষমতা দেয়া হবে, যখন এই আয়াত নাজিল হল তখন হুযুর (দ) ফরমালেন যদি আমার একজন উম্মতও দোযখে থাকে তাহলে আমি সন্তুষ্ট হব না।
অতএব উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সুরা দোহার ৫ নং আয়াত অনেক বড় একটি সু সংবাদ কারন আল্লাহ ওয়াদা করেছেন নবীকে সন্তুষ্ট করে দিবেন, আর দয়াল নবী বলছেন যতক্ষন আমার একজন উম্মতও দোযখে থাকবে ততক্ষন আমি খুশি হবনা সন্তুষ্ট হবনা।
যে নবী উম্মতের জন্য এত চিন্তিত আল্লাহ আমাদেরকে সে নবীর আদর্শকে ধারন করার তৌফিক দান করুন, দুনিয়াতে এমন কাজ যেন আমাদের দ্বারা সংগঠিত না হয় যাতে সে নবী যেন আমাদের সে কাজের কারনে লজ্জিত না হন।
Youtube link
https://www.youtube.com/c/jaalhaq
Blog
https://myjaalhaq.blogspot.com/
Facebook Link
https://www.facebook.com/Jaalhaqbd
Instagram Link
www.instagram.com/jaalhaq.bd/

কোন মন্তব্য নেই