সন্তানকে গোপন গুনাহ থেকে বাঁচানের উপায়। গুনাহের ক্ষতিসমুহ। 8 ways to sa...
আমাদের পেরেশানি শেষ কেন হয়না? গুনাহের ক্ষতিসমুহ
সন্তানকে গোপন গুনাহ থেকে বাঁচানের উপায়
وَذَرُواْ ظَاهِرَ الإِثْمِ وَبَاطِنَهُ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُواْ يَقْتَرِفُونَ
তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। [ সুরা আন’য়াম ৬:১২০ ]
গুনাহ বলে আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলের হকুমের অবাধ্য হওয়া, নবী (দ) এর সুন্নতকে তরক করা, আর গুনাহের একটা আছর আছে তা হল গুনাহ কোন না কোন ভাবে মানুষকে পেরেশান করে রাখে।
সফলতার সাথে গুনাহ
কেহ যদি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সফলতানের সাথে গুনাহ করে, কেহ না জানে মত গুনাহ করে, কেহ বুঝতে না পারে মত গুনাহ করে, গোপনে করে, প্রকাশ্যে করে, যতই দক্ষতা ও সফলতার সাথে করুকনা কেন গুনাহ তাকে পেরেশান করবেনই।
গুনাহ জাহাজের নোঙ্গরের মত
#গুনাহের শুরু সুতার মত অতি নরম হয় কিন্তু গুনাহের শেষ পরিণতি জাহাজের নোঙ্গরের মত অতি শক্ত ও কঠিন হয়।
#মানুষ গুনাহের শুরুতে এমনই চিন্তা করে যে একটু করে নিই পরে ছেড়ে দিব, কিন্তু ওয়াক্তের সাথে সাথে সে গুনাহ এমন শক্ত মজবুতভাবে তাকে কব্জা করে ফেলে সে গুনাহ ছাড়তে চায় কিন্তু গুনাহ তাকে ছাড়ে না। যেভাবে জাহাজের নোঙ্গর জাহাজকে নড়তে দেয়না তেমনি গুনাহও গুনাহগারকে নড়তে দেয়না।
গুনাহ ক্যন্সারের মত
#গুনাহের উদাহারন ক্যান্সার রোগের মত, যে অংশে ক্যান্সর হয় তার একটাই চিকিৎসা যে সে অংশকে কেটে ফেলা। যদি শুরুতেই একে কাটা না হয় তাহলে এই ক্যান্সর বাকী অংশেও বিস্তার লাভ করবে।
ছোট গুনাহকে অবহেলা করিওনা
মানুষ বলে ছোট গুনাহ, কিন্তু ওলামায়ে কেরাম বলেন ছোট হউক কিন্তু দেখা উচিত এই ছোট গুনাহ দ্বারা যার নাফরমানি করা হচ্ছে তিনি কত মহান, তাছাড়া কংকর ছোটই হয় আর এই কংকর দ্বারাই পাহাড় হয়ে যায়। বালু কনা ছোট হয় কিন্তু জমা হয়ে টিলা হয়ে যায়। যে লোক গুনাহকে হালকা মনে করবে সে লোক তার বরবাদির রাস্তা পরিস্কার করল। সে জন্য আল্লাহ ওয়ালারা গুনাহকে ভয় করে, গুনাহের দিকে তাদের চিন্তাও যায়না কারন তারা যানে এর দ্বারা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত নারাজ হয়ে যাবেন।
ইমাম নওবী রহ. সহীহ মুসলিম এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন:
رُوِيَ عَنْ عُمَر وَابْن عَبَّاس وَغَيْرهمَا رَضِيَ اللَّه عَنْهُمْ : لا كَبِيرَة مَعَ اِسْتِغْفَارٍ ، وَلا صَغِيرَة مَعَ إِصْرَار
উমর রা. এবং ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে। তারা বলেছেন: ইস্তিগফার তথা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা হলে কোনো কবীরা (বড়) গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না আর কোনো গুনাহ বারবার করা হলে তা আর সগীরা (ছোট) থাকে না।"
গুনাহের ৪টি কারন এবং তার জবাব
মানুষ ৪টি কারনে গুনাহ করে আল্লাহ তায়ালা সে ৪টি কারনের জবাব পবিত্র কুরআনে দিয়ে দিয়েছেন
প্রথম কারন হল- মানুষ মনে গুনাহ করার সময় মনে করে আমাকে কেহ দেখছে না, আর এর জবাবে আল্লাহ তায়ালা বলেন
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। [ সুরা ফা’জর ৮৯:১৪ ]
মিরছাদ অর্থ- একজন শিকারী যেমন তার শিকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাকিয়ে থাকে, এমনকি শ্বাস পর্যন্ত বন্ধ করে নেয়, এত গভির দৃষ্টিপাতকে মিরছাদ বলে, আল্লাহ আমাদের প্রতি এমনই গভীর সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
দ্বিতীয় কারন হল- গুনাহ করার ২য় কারন হল মানুষ মনে করে যে এমনভাবে গুনাহ করেছি যে কাউকে বুঝতেও দিইনি।
আল্লাহ এমন চিন্তার জবাবও দিয়েছেন
يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন। [ সুরা মু’মিন ৪০:১৯ ]
তৃতীয় কারন হল- মানুষ মনে করে গুনাহ করার সময় আমার সাথে আর কেহ ছিলনা , আল্লাহ এটারও জবাব দিয়ে দিলেন
وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। [ সুরা হাদীদ ৫৭:৪ ]
চতুর্থ কারন হল- মানুষ যখন বেহায়া ও বেপরোয়া হয়ে যায়, এর জবাবে আল্লাহ বলেন
وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ
আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর। [ সুরা হুদ ১১:১০২ ]
কেয়ামতের দিন গুনাহের ৪ সাক্ষি
কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা গুনাহগারের বিপক্ষে ৪টি সাক্ষি হাজির করবেন
১) কিরামান কাতিবিন- (কিরামান কাতিবিনা এয়ালামুনা মা তাফয়ালুন)
২) আমলনামা- (ওয়া উদিয়াল কিতাব, ফাতারাল মুজরিমিনা মুশফিকিনা মিম্মা ফিহ) গুনাহগার যখন তার আমলনামা দেখবে তখন সে ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে যাবে। তখন গুনাহগার বলবে (ওয়া এয়াকুলুন এয়া ওয়াইলাতানা মালি হাজাল কিতাব) হায় আমি কমবখত! এটা কেমন কিতাব (এয়া ইউগাদিরু সাগিরাতান ওয়ালা কাবিরাতান ইল্লা আহসাহা)যা ছোট বড় কোন গুনাহ বাদ রাখেনি
৩) ৩য় সাক্ষি আল্লাহ জমিন থেকে নিবেন (এয়াউমা ইজিন তুহাদ্দিসু আখবারাহা, বিআন্না রাব্বাকা আউহালাহা) জমিন সাক্ষি দিবে বলবে আমার পিটের উপর অমুক জায়গায় এই গুনাহ করেছে
৪) ৪থ সাক্ষি মানুষের শরীরের অংগ প্রতঙ্গ , (সামউহুম ওয়া আবসারুহুম ওয়া জুলুদুহুম বিমা কানু এয়াকসিবুন) চোখ, কান, মুখ এসব কিছুই তার বিরুদ্ধে সাক্ষি দিবে।
এখন কেহকি নিজের শরীরের অঙ্গ থেকে, ফেরেশতা থেকে জমিন থেকে লুকিয়ে গুনাহ করতে পারবে?
গোপন গুনাহ সম্পর্কে রাসুলের (দ)হুশিয়ারি
রাসূল (সাঃ) বলেছেন: ‘আমি আমার উম্মতের কিছু মানুষ সম্পর্কে জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার (বিখ্যাত পাহাড়) শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। হজরত সাওবান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বললেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক, যারা একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কর্মে (গোপন গোনাহ) লিপ্ত হবে। ’ [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৪৫]
‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত সে, যে মানুষের সামনে ভালো আমল করে, কিন্তু যে মহান সত্তা তার শাহ রগ থেকেও অধিক নিকটবর্তী, তার সামনে বদ আমল করে।’ বলা হয়, ‘গোপন গোনাহ ও অবাধ্যতার কারণে মানুষের খারাপ মৃত্যু (অপমৃত্যু) হয়।’
যে আল্লাহকে ভুলে যায় তার শাস্তি
কুরানের সবচেয়ে ভয়ানক শব্দ
যারা গুনাহ করে মুলত তারা আল্লাহকে ভুলে যায়-
সন্তান যখন বিদেশে যায় তখন মা বলে বিদেশ গিয়ে আমাদের ভুলে যেও না, সকাল সন্ধ্যা ফোন করিও, কিন্তু সন্তান বিদেশে গিয়ে অনেক সময় মা বাবাকে ভুলে যায়, কিন্তু মা বাবা সন্তানকে ভুলেনা,
তেমনি আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বলেন (ওয়ালা তাকুনু কাল্লাজিনা নাসুল্লাহ, ফাআন সাহুম আনফুসাহুম) তুমি আমাকে ভুলে যেওনা, যদি ভুলে যাও তাহলে তাকে আমি একটা কঠিন শাস্তি দিব- (১) নং শাস্তি ফাআন সাহুম আনফুসাহুম (আমি তোমাকে ভুলিয়ে দিব নিজেকে) আত্মভোলা করে দিব,
মুফাসসসিরিনে একরাম বলেন কুরআনে করিমের এই শব্দটি খুবই ভয়ানক একটি শব্দ
যেমন আমাদের দেশে শক্ত ভাষায় বকা দিলে বলে তোরে এমন মার দিব তোর বাবার নাম ভুলে যাবি।
তখন তার ঈমানের কথা তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়, তার নামাজের কথা তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়, তার জিকিরের কথা তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়,
সুতরাং যারা নামাজ পড়ে না কুরআন ভুলে গেছে এটা তার প্রধান অপরাধ না বরং এটা সে আল্লাহকে ভুলে গেছে, তাই আল্লাহ তায়ালাকে সে নামাজ কুরআন ভুলিয়ে দিয়েছেন।
অনেক সময় লোকে কি বলবে এ ভেবে মসজিদে চলে আসে কিন্তু মসজিদে এসেও সে আল্লাহকে ভুলে থাকে,
(২) নং শাস্তি- (ওয়া উলাইকা হুমুল ফাসিকুন) যে আমাকে ভুলে যায় আমি তাকে বলে দিই এই লোক ফাসেক।
(৩) নং শাস্তি- (ওয়াকাজালিকাল এয়াউমা তুনসা) হাশরের ময়দানে আমি তোমাকে ভুলে থাকব,
হাশরের ময়দানে যাকে আল্লাহ মনে করবেন না তাকে কি করবেন?
(ওয়ামান আ-রাদা আন জিকরি ফাইন্না লাহু মাঈশাতান দানকা) যে আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে যায় আল্লাহ তায়ালা বলেন আমি তার দুনিয়াকে সংকির্ণ করে দেই।
দুনিয়াতে তার অনেক কিছুই আছে কিন্তু তবুও যেন তার কিছুই নাই।
পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ওয়ালা বাহ্যিক দুনিয়াতে যদি তার কিছুই না থাকে তবুও তার যেন সবকিছুই আছে।
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন (এয়া ইবনে আদম ইজা ওয়াজাত্তানি ওয়াজাত্তা কুল্লা শাই)হে বনি আদম যদি তুমি আমাকে পাও তাহলে তুমি যেন সব পেয়ে গেলে। (ওয়া ইজা ফাতাত্তানি ফাতাত্তা কুল্লা শাই) আর যদি তুমি আমাকে হারাও তাহ’লে তুমি সর্বহারা।
গুনাহ হয়ে গেলে তওবা করে তাজদিদে ঈমান করতে হবে
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা ও তজদিদে ঈমান
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বানিয়েছেন আল্লাহর জন্য, নাহয় আমাদের সাধ্য ছিলনা মুমিনের ঘরে জন্ম গ্রহণ করার, আল্লাহ আমাদেরকে মুমিনের ঘরে জন্ম দিয়ে জন্ম সুত্রে ঈমানদার বানিয়েছেন, সে ঈমানকে আমাদের মাঝে মাঝে নবায়ান করা দরকার।
পরিস্কার করা দরকার, যেমন পরিস্কার করে
#ফলের দোকানদার সদা একটা তোয়ালে হাতে রাখে, #দোকানদার তার দোকানের গ্লাস পরিস্কার রাখে # রিক্সাওয়ালা তার রিক্সার চাকা পরিস্কার রাখে এভাবে প্রত্যেকে নিজ নিজ বস্তুগুলি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখে,
ভিসাধারীরা ভিসা নবায়ন করে, গাড়িওয়ালা গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন করে, দোকানের কাগজপত্র নবায়ন করে, তেমনি আমরা যারা ঈমানদার আমাদেরকে মাঝে মাঝে আমাদের ঈমানকেও নবায়ন করতে হবে-
আল্লাহর রাসুল (দ) বলেন (জাদ্দিদু ঈমানাকুম) তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন কর সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন (কাইফা নুজাদ্দিদু ঈমানানা) আমরা আমাদের ঈমানকে কিভাবে নবায়ন করব? রাসুল (দ) বলেন (ফাকসিরু বিকওলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বেশী বেশী করে বলবে এটা তোমাদের ঈমান নবায়ন হবে।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সহজ
আপনারা দেখবেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা খুবই সহজ, এতে ঠোটের হরফ নাই, তাই কারো যদি ঠোট না থাকে সেও এই কলমা বলতে পারে,
যদি ঠোটের হরফ লাগল তাহলে আইসিইউতে থাকা রোগী মুখে গ্যাসের ফাইপ লাগানো থাকে তাহলে সে কিভাবে কলমা পড়ত?
পৃথিবীতে এমন একটি বাক্য বলুন যে বাক্য বলতে ঠোট লাগে না?
যেমন আপনি দাত দিয়ে আঙ্গুল কামড়ে ধরে আব্বা বলেন, মা বলেন, পানি, কিন্তু আঙ্গুল কামড়ে ধরে যদি আপনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে পারবেন,
তেমনি আপনি ঠোট বন্ধ রাখেন এবার নিজেরা কলমাটা ট্রাই করেন। আপনি কলমা পড়তে পারবেন, কিন্তু এভাবে পৃথিবীর আর কোন বাক্য আপনি বলতে পারবেন না।
যার দাত সবগুলিই পড়ে গেছে সেও কলমা বলতে পারবে, কারন এই কলমাতে দাতের হরফ একটাও নাই, ঠোটের হরফ একটাও নাই।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর মধ্যে ৩টি হরফ (লাম, আলিফ, হা)
কেন নাই? যদি কলমাতে আইন থাকত তাহলে কি আমাদের দেশের সাধারন পাবলিক কলমাটি শুদ্ধভাবে পড়তে পারত? আরবীতে ২৯টি হরফ ১৭টি স্থান থেকে বের হয় তার মধ্যে অনেক হরফ এমন আছে যেগুলি অনারবিদের জন্য খুবই কষ্ঠের হবে তাই আল্লাহ তায়ালা এ জাতিয় হরফ কলমা তৈয়্যবার মধ্যে দেননি।
এই কলমা এতটা সহজ কিন্তু এর দাম কত? ১ বার বললে ১০ দুনিয়া পর্যন্ত জান্নাত।
আধুনিক বিজ্ঞানিরা আবিস্কার করেছেন, আল্লাহ শব্দটি বললে মানুষের হার্টের সংকোচন এবং সম্প্রসারনের সবচেয়ে বেশী হয়, তাই যারা এই কলমা বেশী বেশী পড়বে তার হার্টের সমস্যা সবচেয়ে কম হবে।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাত
চাবির যেমন দাঁত আছে লা ইল্লাল্লাহর দাঁত আছে, আর সে দাঁত গুনাহের কারনে ক্ষয় হয়ে যায়,
দুনিয়াতে কোন তালার চাবি যেমন ক্ষয় হয়ে গেলে আমরা চাবির মিস্ত্রীর কাছে নিলে সে কি করে প্রথমে আগুনে গরম করে তার পর রেত দিয়ে ঘষে ঘষে দাত বের করে, এভাবে বার বার গরম করে করে সে দাত বের করার চেষ্টা করে আর এক সময় তালা খুলে যায়, তেমনি আমরা যারা গুনাহ করতে করতে কলমার দাত নষ্ট করে ফেলেছি আমাদেরকেও আগুনের আযাব দিয়ে দিয়ে দাঁত বের করা হবে। নাউজুবিল্লাহ।
সে জন্য আমাদেরকে কলমার দাঁত ঠিক রাখতে হবে, গুনাহ থেকে বাঁচতে হবে।
গোপন গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার উপায়
গুনাহসমুহ থেকে সবচেয়ে মারাত্মক হয় গোপন গুনাহ, আর এই গোপন গুনাহ বর্তমানে সকলের পকেটে পকেটে আজ থেকে ২০ বছর আগেও মানুষ কল্পনা করেনি যে মানুষ পকেটে করে নাচ গান নাটক সিনেমা নিয়ে নিয়ে ঘুরবে, এসব নিয়ে মসজিদে ঢুকবে, এসব নিয়ে আল্লাহর ঘর খানায়ে কাবায় ঢুকবে, দেখুন আজ যারা চলে যাচ্ছে, মুরুব্বীরা দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছেন তারা পার হয়ে যাচ্ছেন আর আমাদের েএয়ং জেনারেশনকে মোবাইলে রেখে যাচ্ছেন,
এর থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কয়েকটি কাজ করতে হবে
এক. আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দোয়া। তিনি যেন তার অবাধ্যতা, নাফরমানি ও সব ধরনের গোনাহ থেকে রক্ষা করেন।
দুই. নফস তথা আত্মার সঙ্গে মোজাহাদা (লড়াই) করা, মনের কুমন্ত্রণা দূর করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা।
তিন. কিয়ামতের দিন গোপন গোনাহকারীদের আমলগুলো ধূলিকণার মতো উড়িয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করা।
চার. আল্লাহ তাআলার উপস্থিতির কথা চিন্তা করা। তিনি আমাকে সর্বদা দেখছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁকে ভয় করা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘...নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১)
পাঁচ. গোনাহ করার সময় এ কথা চিন্তা করা, কেউ কি দেখলে আমি এমন গোনাহ করতে পারতাম? এভাবে নিজের ভেতরের লজ্জাবোধ জাগ্রত করা। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার পরিবারের কোনো প্রভাবশালী সদস্যকে যেমন লজ্জা পাও, আল্লাহকে (কমপক্ষে) তেমন লজ্জা করো।’ (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭/৮৯)
ছয়. এ চিন্তা করা, গোনাহরত অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে কিভাবে আমি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করব? মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিকে (কিয়ামতের দিন) ওই অবস্থায় ওঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২০৬)
সাত. আল্লাহর নিয়ামত ও জান্নাতের সুখ-শান্তির কথা স্মরণ করা এবং জাহান্নামের আজাব ও ভয়ানক শাস্তি কল্পনা করা।
আট. অবসরে জিকির ও ফিকিরে থাকার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِّأُوْلِي الألْبَابِ
নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। [ সুরা ইমরান ৩:১৯০ ]
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىَ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও। [ সুরা ইমরান ৩:১৯১ ]
গোপন গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে একাকী না থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেম-উলামারা। ভালো মানুষের সান্নিধ্যে থাকা, অবসর সময়ে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও ইসলামী বই বেশি বেশি অধ্যয়ন করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। [ সুরা তাওবা ৯:১১৯ ]
গুনাহগারের কালো অন্তরে ৩টি ক্ষতিহয়
গুনাহগার গুনাহ করতে করতে যখন তার অন্তর কালো হয়ে যায় তখন, তার কাছে (১) ভালো কথা ওয়াজ নসিহত ভালো লাগে না (২) যিনি ভালো কথা বলেন তাকেও ভালো লাগেনা (৩) কোন এবাদতে মজা লাগেনা।
অথচ রাসুলুল্লাহ (দ) বলেন নামাজ হল আমার জন্য কুররাতু আইনি চোখের প্রশান্তিদাতা। রাসুলের সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল নামাজ, আজ মুসলমানের নামাজ মজা লাগে না, কারন কি?
চোখের খেয়ানত হচ্ছে তাই নামাজ মজা লাগে না, কানের খেয়ানত হচ্ছে তাই নামাজ মজা লাগে না, জবানের খেয়ানত হয় তাই নামাজ মজা লাগেনা, দিল দেমাগের খেয়ানত হয় তাই নামাজ মজা লাগেনা।
যারা চোখের হেফাজত করেন, তাদের জিজ্ঝেস করেন নামাজে মজা কত? সিনামা চালায়না তাদের প্রশ্ন করা নামাজে মজা কত? যাদের দাঁড়ি সাদা হয়ে সারাক্ষন কুরআন তসবিহ আর জিকিরে কাটায় তাদের জিজ্ঞেস করেন নামাজে মজা কত।
যারা যত বেশী গুনাহ মুক্ত তাদের কাছে নামাজ এবাদত তত বেশী মধুর।
এক বুযুর্গ বলেন
যখন বান্দা গুনাহ করে তখন একটা ছোট অবুজ বাচ্চা তাকিয়ে থাকলেও তার সামনে গুনাহ করতে শংকাবোদ করে, অথচ আল্লাহ তায়ালা যে দেখছেন তার কোন টেনশনই নাই, তাহলে কি সে একটা অবুজ ছোট বাচ্চার চাইতেও আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে? নাউজুবিল্লাহ!
বান্দা গুনাহ করার সময় মাখলুকের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় কিন্তু খালেকের দৃষ্টির আড়ালে কি যাওয়া সম্ভব?
وَذَرُواْ ظَاهِرَ الإِثْمِ وَبَاطِنَهُ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُواْ يَقْتَرِفُونَ
তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। [ সুরা আন’য়াম ৬:১২০ ]
যারা গুনাহ করে কিন্তু তা থেকে ফিরে আসেনা তারা যে কোন ধরনের পেরেশানির সম্মুখিন হবেন এতে কোন সন্দেহ নাই।
গুনাহের কারনে যে সব ক্ষতি হয় তার আংশিক
১। (হিরমানুল নিয়ামাতিল ইলম) ধর্মীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়াঃ
গুনাহ করার কারণে মানুষ (মানবজাতি) ধর্মীয় ইলম থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। কেননা, ইলম হচ্ছে নূর বা আলো। যে নূর আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির অন্তরে দিয়ে থাকেন, কিন্তু গুনাহ করার কারণে অন্তরের সে নূর নিভে যায়।
যেমন- ইমাম শাফী (রাহ.) জনৈক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি দেখছি যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমার অন্তরে নূর দিয়েছেন অতএব, সে নূরকে গুনাহর দ্বারা নিভিয়ে দিও না।
(২) রিযক-জীবিকা হতে বঞ্চিত হওয়াঃ
যেমন- হাদীস শরীফে এসেছে যে, নিশ্চয় মানুষ কৃত গুনাহের কারণে রিযক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যেমন তাক্বওয়ার (আল্লাহ ভীতির) কারণে রিযিকের প্রাচুর্যতা হয়।
(৩) অন্তরে ভীতি অনুভব হওয়াঃ
গুনাহগার গুনাহ করার কারণে অন্তরের মধ্যে ভয়-ভীতি অনুভব করে।
(৪) গুনাহগারের কাজসমূহ কঠিন হয়ে যায়ঃ
গুনাহকারী গুনাহ করার কারণে যে দিকে যায়, সেদিকে তাঁর সকল কাজ সমূহ কঠিন হয়ে যায়। গুনাহকারী যে দিকেই যায় না কেন, তার প্রত্যেকটি বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। (আল্লাহ্ তায়ালা সকলকে হেফাযত করুক) আমীন।
(৫) ইবাদতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ঃ
অনেক গুনাহগার ব্যক্তি স্বীয় গুনাহর কারণে ভালো কাজ ও আনুগত্য করার তাওফীকে ধন্য হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যে ভাল কাজগুলো দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সব চেয়ে সর্বোত্তম হতো।
(৬) গুনাহ মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ধ্বংস করে দেয়ঃ
কেননা আকল (বিবেক-বুদ্ধি)এর জন্য রয়েছে একটি আলো, সে গুনাহ জ্ঞানের আলোকে নিভিয়ে দেয়। যখন জ্ঞানের আলো নিভে যায় তখন তাঁর বিবেক-বুদ্ধি দুর্বল ও অসম্পূর্ণ হয়ে যায়। যেমন- কেউ সুন্দর করে বলেছেন-
অর্থাৎ- মানুষ বিবেকহীন না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তায়্লাার নাফরমানী করে না। কেননা এ কথা সূর্যের মত সুস্পষ্ট যে, যখন তাঁর বিবেক-বুদ্ধি থাকবে, তখন তার বিবেক বুদ্ধি তাকে নাফরমানী করা থেকে বাধা প্রদান করবে।
(৭) নিশ্চয় যখন গুনাহ বেশি হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা গুনাহগারের অন্তরের মধ্যে মোহর লাগিয়ে দেন।
যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। [ সুরা মুতাফফিফীন ৮৩:১৪ ]
অর্থাৎ গুনাহকারীর কৃত অবিরাম গুনাহর কারণে তার অন্তরে মরিচা লেগে গেছে।
(৮) গুনাহের কারণে আয়ু হ্রাস পায় এবং হায়াতের বরকত কমে যায়।
কেননা সৎ আমলের ওসীলায় আয়ু বৃদ্ধি হয় এবং নাফরমানীর কারণে আয়ু হ্রাস পায়। অতএব, বান্দা যখন আল্লাহ্ তায়ালার আনুগত্য থেকে দূরে সরে যাবে, এবং একের পর এক নাফরমানী করতে থাকে, তখন তাঁর জীবন তার ধ্বংসের কারণ হয়ে যায়।
(৯) জনৈক ব্যক্তির জন্য ইব্রাহিম বিন আদহাম (রাহ.)এর নসীহতঃ
এক ব্যক্তি ইব্রাহীম বিন আদহাম ( রাহ.) এর নিকট এসে বলল, হে আবু ইসহাক! (ইসহাক ইব্রাহিম আদহামের ছেলের নাম) আমি পাপের দ্বারা নিজের উপর জুলুম করেছি। অতএব, আমাকে নসীহত করুন! ইব্রাহীম ( রাহ.) বললেন, যদি আমার নিকট থেকে পাঁচটি জিনিস তুমি গ্রহণ করে নাও এবং তার বাস্তবায়ন করতে পার, তবে কোন পাপ কখনো তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। সে ব্যক্তি তখন জিজ্ঞেস করলো, জিনিসগুলো কি কি? ইব্রাহীম (রাহ.) বললেন- তা হলো, যখন তুমি আল্লাহ্ তায়ালার না-ফরমানী করতে ইচ্ছে করবে, তখন তার প্রদত্ত জীবিকা ভক্ষণ করবে না! লোকটি তা শুনে বললো, তাহলে আমি খাবো কোথা থেকে? যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তো তাঁর (আল্লাহ্র) জীবিকা। তখন ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, এটা কি ভাল যে, তুমি আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা খাবে এবং তাঁরই অবাধ্যতা করবে? সে বললো, না।
দ্বিতীয়টি বলুন, ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, যখন তুমি আল্লাহর অবাধ্যতা করার ইচ্ছা করবে, তখন তাঁর যমীনে বসবাস করবে না। লোকটি বলল, এটাতো প্রথমটির চেয়ে আরো কঠিন। তাহলে থাকবো কোথায়? ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, এটা কি ভাল যে, তুমি আল্লাহ্ তায়ালা প্রদত্ত জীবিকা খাবে, তাঁর যমীনে বসবাস করবে, আবার তাঁরই অবাধ্যতা করবে? লোকটি বলল, না।
তৃতীয়টি বলুন, ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, যখন তুমি আল্লাহর না-ফরমানী করার ইচ্ছে করবে, তখন এমন স্থানে আত্মগোপন করবে, যেখানে তিনি তোমাকে দেখতে পাবেন না। লোকটি বললো, কোথায় যাবো? তিনি তো প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য সবকিছুর খবর রাখেন। ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, এটা কি ঠিক যে, তুমি আল্লাহর দেওয়া রিয্ক খাবে, তাঁর যমীনে বসবাস করবে আবার তাঁরই অবাধ্যতা করবে? অথচ তিনি তোমাকে দেখছেন। লোকটি বললো, না।
চতুর্থটি বলুন, ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, যখন মালাকুল মাউত (ফেরেশতা) তোমার আত্মা ছিনিয়ে নিতে আসবেন, তখন তাঁকে বলবে, আমাকে তাওবা ও নেক আমল করার জন্য সুযোগ দিন।
লোকটি বলল, ফেরেশতা আমার এ প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না এবং আমাকে সুযোগও দেবেন না। ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, তুমি যখন তাওবা করার ও প্রত্যাবর্তনের জন্য মৃত্যকে দূর করার ক্ষমতা রাখো না, তখন তাঁর অবাধ্যতা কেমনে করো?
লোকটি বললো পঞ্চমটি বলুন। ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, যখন কিয়ামতের দিবসে জাহান্নামের প্রহরীরা তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চাইবেন, তখন তুমি তাঁদের সাথে যাবে না। লোকটি বললো, তাঁরা তো আমাকে ছাড়বে না এবং আমার কোন কথাই শুনবেন না। ইব্রাহিম (রাহ.) বললেন, তাহলে তুমি মুক্তির আশা কেমনে করছো? লোকটি বলালো, এই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি আমার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হচ্ছি। এরপর থেকে যুবকটি নিয়মিত আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হয়ে গেল।
নাফরমানী সম্পর্কে মূল্যবান মতামতঃ
১. প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযি.) বলেন, গুনাহের দ্বারা মুখ কালো হয়ে যায়। অন্তর অন্ধকার হয়ে যায়। জীবিকার বরকত হ্রাস পায় এবং তার ব্যাপারে সৃষ্ট জীবের (আল্লাহর মাখলুকাতের) অন্তরে ঘৃণা জন্মে।
২. ফুযাইল ইবনে আয়াজ (রাহ.) বলেন, তুমি গুনাহকে যে পরিমাণ ছোট মনে করবে সে পরিমাণ গুনাহ আল্লাহর নিকট বড় হবে।
৩. ইমাম আহমদ (রাহ.) বলেন- আমি বেলাল বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন যে, গুনাহ ছোট হওয়ার দিকে দৃষ্টি কর না, বরং যাঁর নাফরমানী করছ, তাঁর বড়ত্বের দিকে দৃষ্টিপাত কর।
৪. ইয়াহ্ইয়া বিন মুআজ আর রাজী (রাহ.) বলেন, আমি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করি যে, স্বীয় দোয়ায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে থাকেন এই বলে- অর্থাৎ- হে আল্লাহ্! আমার দ্বারা আমার দুশমনদেরকে খুশি করবেন না। অথচ যে ব্যক্তি গুনাহ করে, সে নিজের দুশমন শয়তানকে খুশী করছে।
হাসান বসরী (রাহ.) বলেন যে, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কাজ প্রবণ। অতএব, মন যখন তোমাকে ইবাদাত হতে ফিরিয়ে রাখে, তখন তুমি মনকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখ। সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে যে, তুমি মনকে লাগাম পরাও বা কন্ট্রোল কর, তোমার মুখের দিক হতে, যাতে সে মুখের মাধ্যমে কোন প্রকার গুনাহ করতে না পারে।
গমের বদলে যব রোপন
আপনি কি আল্লাহর হুকুমের অমান্য করে রহমতের আশা করছেন?
জনৈক ব্যক্তির এক বিচক্ষন জ্ঞানী সেবক ছিল। সেবকটি তার জমিতে ফসলের কাজ করতো। একদা তার মালিক তাকে বললেন, এবার জমিতে গম রোপন করবে। সে করলো কি গমের স্থলে গম রোপন না করে করলো যব রোপন….।
যখন গম কাটার সময় হলো মালিক এসে দেখলেন যে গমের স্থানে গম না হয়ে যবের ফসলে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মনিব বললেন, আমি বলেছিলাম গম রোপন করতে, তুমি যব রোপর করলে কেন? তদুত্তরে গোলাম বললো, আমি যব রোপন করার পর আশা করেছিলাম যে গম ফসল হবে।
মনিব রাগান্বিত হয়ে বললেন, ওরে বোকা যব রোপন করলে কি কখনো গম হবে?
এরপর বিচক্ষণ গোলাম বললো – হে মনিব! আপনি কি আল্লাহর নাফরমানী করে তাঁর রহমতের আশা করছেন? আল্লাহর নাফরমানী করে কি জান্নাতের আশা করছেন? গোলামের কথা শুনে মনিব খুবই প্রভাবিত হলেন, তার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হলো। সাথে সাথে আল্লাহর দরবারে অতীতের গুনাহর জন্য ক্ষমা চাইলেন এবং আল্লাহর নিকট তাওবা করলেন এবং গোলামকে বললেন যে, আমি তোমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদ করে দিলাম।
অতএব, যে ব্যক্তি যে রকম কাজ করবে সে রকম ফল পাবে। প্রত্যেক ব্যক্তি, জাতি/ গোষ্ঠী, স্বীয় কর্মানুসারে ফলাফল পাবে। যার কর্ম ভাল তার ফলাফলও ভাল, যার কর্ম খারাপ তার ফলাফলও খারাপ। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন কারো সাথে বিন্দু পরিমাণ জুলুম পছন্দ করেন না।
গুনাহের ক্ষতিসমুহ আমি সংক্ষিপ্তাকারে আবার বলছি
(১) ইলম (দ্বীনের জ্ঞান) থেকে বঞ্চিত হওয়া,
(২) অন্তরে একাকিত্ব অনুভব করা,
(৩) কাজকর্ম কঠিন হয়ে যাওয়া,
(৪) শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া
(৫) আল্লাহর আনুগত্য থেকে বঞ্চিত হওয়া,
(৬) বরকত কমে যাওয়া,
(৭) কাজে সমন্বয় না হওয়া,
(৮) গুনাহর কাজে অভ্যস্থ হয়ে যাওয়া,
(৯) আল্লাহর ব্যাপারে পাপীর অনাসক্তি সৃষ্টি হয়,
(১০) লোকজন তাকে অশ্রদ্ধা করে,
(১১) জীবজন্তু তাকে অভিশাপ দেয়,
(১২) সে সর্বদা অপমানিত হতে থাকে,
(১৩) অন্তরে মোহর পড়ে যায়,
(১৪) লানত (অভিশাপের) মাঝে পড়ে,
(১৫) দুয়া কবুল হয় না,
(১৬) জলে ও স্থলে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়,
(১৭) আত্মমর্যাদাবোধ কমে যায়,
(১৮) লজ্জা চলে যায়,
(১৯) নিয়ামত দূর হয়ে যায়,
(২০) আজাব নেমে আসে,
(২১) পাপীর অন্তরে সর্বদা ভয় নেমে আসে,
(২২) সে শয়তানের দোসরে পরিণত হয়,
(২৩) তার জীবন সমাপ্ত হয় মন্দের উপর এবং সর্বশেষ
(২৪) পরকালীন আজাবে নিপতিত হয় ।
★গুনাহ বা পাপকাজ ত্যাগ করার বা বিরত থাকার উপকারী দিকগুলো----
(১) সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়,
(২) মানুষের অন্তরে মর্যাদা লাভ হয়,
(৩)লোকদের কাছ থেকে সাহায্য এবং নিরাপত্তা লাভ,
(৪) লোকেরা যদি গীবত করে থাকে, তাহলে তার সম্মান রক্ষা পায়,
(৫) আল্লাহ তার দুয়া কবুল করেন,
(৬) আল্লাহর নৈকট্য হয়,
(৭) ফেরেশতাদের নৈকট্য হয়,
(৮) মানুষ ও জিনদের মধ্য থেকে যারা শয়তান তারা দূরে সরে যায়,
(৯) লোকেরা তাকে সাহায্য করার জন্য, তার চাহিদা পূরণ করার জন্যে এবং তার সাহচর্য ও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগীতা করবে,
(১০) সে মৃত্যুকে ভয় করবে না, বরং আল্লাহর সাথে সাক্ষাত লাভের জন্য ও তার কাছ থেকে পুরষ্কার পাওয়ার জন্যে খুশি হবে,
(১১) এই দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হবে এবং পরকালকে অনেক মূল্যবান মনে করবে,
(১২) পরকালে অনেক বড় রাজত্ব ও মর্যাদা পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করবে,
(১৩) আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ ফিরে পাবে,
(১৪) ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে,
(১৫) আরশ বহনকারী ফেরেশতা ও আরশের চারপাশে আল্লাহর প্রশংসাকারী ফেরেশতাদের দুয়া লাভ করবে,
(১৬) কেরামান কাতেবীন দুইজন ফেরেশতা তার উপরে খুশি থাকবে এবং তারা তার জন্যে দুয়া করবে,
(১৭) জ্ঞান, বুদ্ধি ও ঈমান বৃদ্ধি পাবে,
(১৮) আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হবে,
(১৯) আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আশা রাখবে,
(২০) তওবাহ করে পবিত্র জীবন-যাপনের উপরে সন্তুষ্ট থাকবে,
(২১) আল্লাহ তাকে এমন সুখ ও শান্তি দান করবেন, যা সে যখন পাপ কাজে লিপ্ত ছিলো তা থেকে বঞ্চিত ছিলো ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে, যে তার অন্তরের বিরুদ্ধে জিহাদ করে ।” সহীহাহঃ ১৪৮১
রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ “হিজরত হচ্ছে তোমার মন্দ কাজ বর্জন করা ।” মুসনাদে আহমাদঃ ১৭০২৭
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ “সর্বোত্তম মুহাজির হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু বর্জন করে চলে ।”
পরিশেষে, মহান আল্লাহ তায়ালার আলীশান দরবারে কায়মনো বাক্যে ফরিয়াদ জানাই, তিনি যেন আমাদের সকলকে গুনাহ ছেড়ে তার দিকে রুজু হওয়ার এবং খাঁটিভাবে তাওবা করার তাওফীক দান করেন।

কোন মন্তব্য নেই