মৃ’ত্যুর ওয়াজ। মৃ’ত্যু যন্ত্রনা। অসংখ্য অজানা আযব তথ্য | Bangla waz | Ja...


প্রঃ মৃ’ত্যুর পর সমাজে ২০টি জঘন্য কুসংস্কার প্রচলন আছে সেগুলি কি কি?
প্রঃ মৃ’ত্যু কি নির্ধারিত?
প্রঃ মৃ’ত্যু কখন হবে তা কারা আগেভাগে বুঝতে পারে?
প্রঃ মৃ’ত্যুর আগে আজরাইল কিভাবে মানুষকে খবর পাঠায়
প্রঃ মহানবী (দ) কোন ধরনের মৃ’ত্যু থেকে পানাহ চেয়েছেন?
প্রঃ ডাক্তার বলেছেন রোগীর ৭দিন পর মৃ’ত্যু হবে তখন স্বজনদের কি করা উচিত?
প্রঃ মানুষের জন্য তওবার দরজা কখন বন্ধ হয়ে যায়?
প্রঃ ছাখারাত বা গড়গড় এর সময় তওবা কবুল না হওয়ার কারন কি?
প্রঃ ছাখারাতে শয়তান কি প্রতারণা করে ঈমান হারা করার চেষ্টা করে?
প্রঃ ছাখারাতের সময় ঈমান বাঁচানোর উপায় কি?
প্রঃ শয়তান কতক্ষন ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করেন?
প্রঃ ছাখারাতের সময় কলমা নসিব হওয়ার জন্য কি আমল করতে হবে?
প্রঃ মৃ’ত্যু যন্ত্রনার সময় আমরা যে ৬টি ভুল করি তা কি?
প্রঃ রূহ বের হয়ে গেলে ১১টি কাজ করতে হয় তা কি কি?
=======বিস্তারিত=============================
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
রবিউস সানি-৩ বিষয় মৃত্যু সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর
(কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মউত)
সম্মানিত মুসল্লীবৃন্দ আজ আমি মৃত্যু সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূণ বিষয় আলোচনা করব। যেহেতু প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যু স্বাধ আস্বাধন করতে হবে সেহেতু প্রত্যেকেরই এই বিষয়গুলি জানা খুবই জরুরী।

প্রঃ মৃত্যু কি নির্ধারিত?
উঃ হ্যাঁ মৃত্যু অবশ্যই নির্ধারিত, কে কখন মৃত্যু বরণ করবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত আছে, যেমন আল্লাহ তায়ালা কুরআনের সুরা ইমরানের ১৪৫ নং আয়াতে এরশাদ করেন
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلاَّ بِإِذْنِ الله كِتَابًا مُّؤَجَّلاً 
আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে।

প্রঃ মৃত্যু কখন হবে তাকি মানুষ বুঝতে পারে?
মৃত্যু কখন হবে মানুষ তা আগেভাগে জানতে পারেনা, তবে আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে জানান তারা জানেন, নবীগনের অনেকেই মৃত্যুর ব্যপারে জানতেন।
প্রত্যেক মানুষের কাছে আজরাইলে ৭টি ওয়ার্নিং লেটার
মালাকুল মউত আমাদের কাছে মৃত্যুর আগে ৭টি ওয়ার্নিং লেটার পাঠায় সে ওয়ার্নিং লেটারের ব্যপারে বেখবর- আসুন আজ আমরা সে ওয়ার্নিং লেটার সম্পর্কে জেনে নিই।
হযরত ওমরের ঘটনা- হযরত ওমর দরবারে বসা ছিলেন এমন সময় এক লোক এসে বলল (এয়া উমর লা তানছা মাওতাক) হে ওমর আপনি মৃত্যুকে ভুলে যাবেন না। এ কথা শুনে হযরত ওমর কাপতে শুরু করলেন আর তাকে বলতে লাগলেন ভাই আপনি প্রতিদিন আমার দরবারে আসবেন আর প্রতিদিন আমাকে এই পয়গাম শুনিয়ে যাবেন। সে লোক প্রতিদিন হযরত ওমরকে এই পয়গাম দিয়ে যেত, এভাবে ১ মাস যখন পুরন হল হযরত ওমর (রা) তাকে তার এই কাজের জন্য শুকরিয়া আদায় করল এবং তাকে ১ মাসের ডিউটির জন্য মসোহারাও দিলেন, এবং তাকে বললেন আগামী কাল থেকে তোমার আর আসতে হবেনা, তখন সে লোক বলল কেন? হযরত ওমর নিজের দাড়িতে হাত রেখে দেখান দেখ এইযে আমার ১টি দাঁড়ি সাদা হয়ে গেছে, সে জন্য তোমার পয়গাম আর প্রয়োজন নাই বরং আমার এই সাদা দাঁড়িই আমাকে প্রতিটি মুহর্তে মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিবে।  
এয়াকুব (আ) এর ঘটনা- হযরত এয়াকুব (আ) হযরত মালাকুল মউতের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছেন, আমার রূহ হঠাৎ কবজ করিওনা বরং আমার মৃত্যু আসার আগে আমার কাছে দুত পাঠিও, বেশ কয়েক বছর পর হযরত এয়াকুব (আ) এর কাছে মালাকুল মউত রূহ কবজ করতে হাজির হলেন, এয়াকুব (আ) বললেন তুমি আমার কাছে ওয়াদামত দুত পাঠাওনি কেন? তুমি না আমার সাথে ওয়াদা করেছ?
তখন মালাকুল মওত বললেন- (১) আপনার সামনে কত লোক মৃত্যু বরণ করেছেন এসবইতো আমার দুত ছিল, যারা জীবিতদের খবর দিয়ে গিয়েছে তোমাকেও মরতে হবে, 
(২) আপনার দাড়ি সাদা রং ধারন করেছে এটাও আমার দুত, (৩) যখন চোখের জ্যোতি কমতে থাকে, (৪) যখন শরীর দুবল হতে থাকে, (৫) কথা বলতে আটকে যেতে থাকে, (৬) যখন স্মরণশক্তি দুবল হতে থাকে তখন বুঝে নাও মৃত্যুর পরওয়ানা সন্নিকটে।
এই ডুবন্ত সূর্য আমাদেরকে মৃত্যুর পয়গাম দিয়ে যাচ্ছে, দুপুরে কেমন উজ্জ্বল কিরন দিচ্ছিল কিন্তু ডুবার সময় যেন ফেকাশে হলুদ রং ধারন করে ডুবে যাচ্ছে আর আমাদেরকে পয়গাম দিয়ে যাচ্ছে সকলকেই এভাবেই যেতে হবে।

প্রঃ মহানবী (দ) কোন ধরনের মৃত্যু থেকে পানাহ চেয়েছেন?
উঃ আমাদের প্রিয় নবী হঠাৎ মৃত্যু থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন (আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল মাউতিল ফাজাত) হে আল্লাহ আমি হঠাৎ মৃত্যু থেকে তোমার কাছে পানাহ চাই। 
এই দোয়া আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যেন আমরাও এই দোয়া করি, কারন হঠাৎ মৃত্যু হলে মানুষ তওবা সুযোগ পায়না। 

প্রঃ মানুষ যখন দুরারোগ্য ব্যধীতে আক্রান্ত হয়, ডাক্তার বলে দিয়েছেন কয়েকদিনের মধ্যে মৃত্যু বরণ করবেন তখন কি করবেন?
উঃ ডাক্তার যখন বলে দেন রোগী বেশী দিন বাঁচবেন না তখন আপনজনেরা রোগীকে তাঁর শেষ সময়ের কথা বলতে চায়না, কিন্তু ওলামায়ে কেরাম বলেন সে সারা জীবন বেপরোয়া জীবন যাপন করেছে, এখন যখন তার সময় শেষ তাই তাকে জানিয়ে দেয়া উচিত যেন সে তওবা করে নিতে পারে, নিজের পাওনা লোনদেনগুলি ক্লিয়ার করে নিতে পারেন। 

প্রঃ মানুষের জন্য তওবার দরজা কখন বন্ধ হয়ে যায়?
উঃ আল্লাহ তায়ালা তওবাকারীকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন, কিন্তু মানুষের জন্য এই তওবার দরজা একটি সময় বন্ধ হয়ে যায়, যেমন তিরমিযি শরীফের হাদীস নবী করিম (দ) এরশাদ করেন ( ইন্নাল্লাহা আযযা ওয়াজাল্লা এয়াকবালু তাওবাতাল আবদি মা লাম ইউগারগির) অর্থ্যাৎ আল্লাহ তায়ালা বান্দার তওবা ঐ সময় পর্যন্ত কবুল করেন যতক্ষন গড়দড়ি  শুরু না হয়, অর্থ্যাৎ ছাখারাত শুরু হওয়ার আগ পযন্ত আল্লাহ তায়ালা বান্দার তওবা কবুল করে থাকেন।

প্রঃ ছাখারাত বা গড়গড় এর সময় তওবা কবুল না হওয়ার কারন কি?
রূহ যখন বের হয় তখন গড়গড় শব্দ বের হয়, এবং তখন তার কাছে গায়েব প্রকাশ হয়ে যায়, সে লোক তখন ফেরেশতাদের দেখতে পায়। আলমে বরযখ দেখতে পায়, যেহেতু এই মুহুর্তে তার সামনে গায়েবের পর্দা খুলে যায় তাই এই সময় যদি কেহ তওবা করে তখন তার তওবা কবুল হয়না। 
এখন একজন লোকের হায়াত ৯৯ বছর আর সে সারা জীবন গুনাহ করল, আর যেদিন সে মৃত্যু বরণ করবে সেদিন দুপুরে সে তওবা করে নিল  এবং এর ১ ঘন্টা পরই সে মৃত্যু বরণ করল তখনও তার হুশ আছে গড়গড়ও আসেনি তাহলে তার তওবাও আল্লাহর বারেগাহে কবুল। 

প্রঃ ছাখারাতে শয়তানের কি প্রতারণা করে ঈমান হারা করার চেষ্টা করে?
উঃ সুনানে নাসাঈ ৫১০৩ নং হাদীস নবী করিম (দ) একটি দোয়া প্রায় সময় করতে যাতে তিনি বলতে (হে আল্লাহ মৃত্যুর সময় আমাকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচাও) (আউজুবিকা আন এয়াতাখাব্বাতানিয়াশ শায়তানু ইনদাল মউত) 
এই দোয়ার দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, শয়তান শেষ মুহুর্তেও মুমিনের ঈমান নিয়ে টানাটানি করে। 

প্রঃ ছাখারাতের সময় ঈমান বাঁচানোর উপায় কি? (ফখরুদ্দীন রাজি ও নজমুদ্দিন কুবরা) 
উঃ ছাখারাতের সময় ঈমান বাঁচাতে হলে আল্লাহ ওয়ালাদের ছোহবত এখতিয়ার করতে হবে।
হযরত ফখরুদ্দীন রাজি (রহ) যিনি তফসিরে কবির লিখেছেন, তাঁর যখন সাখারাত শুরু হল, তখন শয়তান প্রশ্ন করল আল্লাহ যে এক এর দলিল কি? আল্লামা ফখরুদ্দিন রাজি (রহ) ৩৬০টি দলিল দিলেন কিন্তু শয়তান সেও অনেক বড় আল্লামা সে ছিল ফেরেশতাদের শিক্ষক, সে সবগুলি দলিল খন্ডন করে দিলে, এমন সময় ফখরুদ্দিন রাজির পীর ছিলেন উনার মামা আল্লামা নজমুদ্দিন কুবরা (রহ) তিনি তার অজু করছিলেন তিনি অজুর পাত্রটি নিক্ষেপ করলেন আর উচ্চ আওয়াজে বললেন হে ফখরুদ্দিন বলে দাও আমি বিনা দলিলে আমার রবকে এক মানি। অতঃপর তিনি এ কথা বলে ইন্তেকাল করলেন। সে জন্য আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন (ওয়াকুনু মায়াস সোয়াদিকিন) তোমরা আল্লাহওয়ালাদের ছোহবত এখতেয়ার কর।
মাওলানা রুম (রহঃ) এর প্রসিদ্ধ শেয়ার প্রনিধানযোগ্য (এক যামানা সোহবতে বা আউলিয়া, বেহতরাছদ ছালে তাআত বেরিয়া) অথ্যাৎ আল্লাহওয়ালাদের সাথে এক মুহুর্তের ছোহবত শত বছরের বেরিয়া এবাদত থেকেও আফযল।

প্রঃ শয়তান কতক্ষন ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করেন?
উঃ শেষ মুহুত পযন্ত শয়তানের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা চলতে থাকে
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (র) এর ইন্তেকালের সময় নিকটবর্তী হলে তার সাহেবজাদা আবদুল্লাহ তার চিবুক বাধার জন্য কাপড় নিয়ে সামনে দন্ডায়মান, কিন্তু ইমাম আহমদ কতক্ষন বেহুশ হতেন আবার হুস আসত, যখন হুস আসত তখন বলত (লা বাদিন) এখনও নয়, এখনও নয়। তখন প্রশ্ন করা হলা আপনি কি বলছেন? তখন তিনি জবাব দিলেন, শয়তান আমাকে বলছে আফসোস আহমদ তুমি তো আমার হাত থেকে বেঁচে গেলে! আমি জবাবে বলছি না এখনও বাঁচি নাই, তোমার ধোকা থেকে আমি এখনো নিরাপদ নই। যতক্ষণ না আমি পরিপূর্ণ ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করি। 

প্রঃ ছাখারাতের সময় কলমা নসিব হওয়ার জন্য কি আমল করতে হবে?
উঃ কয়েকটি আমল করলে ছাখারাতের সময় কলমা নসিব হয়, খাতেমা বিল খায়ের হয় 
১) আযানের সময় চুপ করে আযান শুনা আযানের জবাব দেয়া এবং আযানের পর দোয়া পড়া
২) বেশী বেশী কলমার জিকির করা, তাহলে বেহুশের হালতেও জবান থেকে কলমা জারি হবে
৩)সদকা খয়রাত করা। হাদীস শরীফে আছে মেশকাত শরীফের রেওযায়েত (ইন্নাস সাদাকাতা তুদফিউ গাদাবার রাব্বি) নিশ্চয়ই সদকা আল্লাহর রাগকে দমন করে (ওয়া তাদফাউ মি তাতাস সুঈ) এবং খারাপ মৃত্য থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে ফেলে।
৪) ঈমানের শোকর আদায় করা সকাল সন্ধ্যা এই দোয়া পড়া (রাদিতু বিল্লাহি রাব্বা ওয়াবিল ইসলামি দিনা ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা)
৫) মিসওয়াক করা-  হাদীস পাকে আছে যে লোক অতি যন্তসহকারে মিসওয়াক করে, তার শেষ সময় মালাকুল মওত আসে এবং ২টি কাজ করেন যেমন শয়তানকে ভাগিয়ে দেন এবং
মৃত্যুপথযাত্রীকে কলমা মনে করিয়ে দেন।
ঈমানের মৃত্যুর গুরুত্ব সম্পর্কে ১টি ঘটনা
তাতারি জাতি যখন বাগদাদের সিংহাসনে আসীন হলো, তখন তারা নিজেদেরকে অতি মাত্রায় উঁচু মর্যাদার অধিকারী মনে করতে লাগল। একদিনের ঘটনা, জনৈক তাতারী শাহজাদা ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে বনে শিকারের জন্য যাচ্ছিল, এ সময় তার সাথে তার কুকুরটিও ছিল। চলার পথে একজন মুসলমান বুযর্গের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। সে ঐ বুযুর্গকে কাছে ডেকে বলল, বলুনতো আপনি ভালো নাকি আমার কুত্তা ভালো? মুসলমান বুযুগ জবাব দিলেন, আমার শেষ বিদায় যদি ঈমানের সাথে হয় তাহলে বলতে পারি আমি ভালো। অন্যথায় তোমার কুত্তাই ভালো। এ কথা শুনে সে বুযর্গের প্রতি আকৃষ্ট হল এবং তার কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে লাগল এবং এক পর্যায়ে মুসলমান হয়ে গেল। 
সে জন্য মনে রাখতে হবে শেষ ভালো যার সব ভালো তার।

মৃত্যু যন্ত্রনার সময় আমরা যেসব ভুল করি
১। মানুষ যখন মৃত্যুপথ যাত্রি হয় তাকে কেবলা মুখি করে শোয়াবেন, কিন্তু আমরা পশ্চিম দিকে তথা কেবলা যেদিকে সেদিকে মাথা দিয়ে শোয়ায়ে থাকি, নিয়ম হল উত্তর দিকে মাথা রেখে কেবলার দিকে যেন চেহেরা থাকে, অথবা পূব দিকে মাথার নিচে উঁচু করে বালিশ দিয়ে চেহেরা কেবলার দিকে করে দিবেন।
২। ছাখারাতের সময় তার পাশে কলমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পড়তে হবে পড়ুন পড়ুন বলা যাবেনা, বরং সে শুনে মত করে বড় আওয়াজে পড়তে থাকবে।

আবু জুরা (রহ) কে কলমার তলকীন
আবু জুরা (রহ) ১ লক্ষ হাদীস সুরা ফাতেহার মত মুখস্থ ছিল ‍উনার যখন ছাখারাত শুরু হল তখন উনার ছাত্ররা উনার পাশে বসে কলমার তলকিন কিভাবে দিবে তখন একজন কলমার হাদীসের সনদ পড়তে লাগল- আন ফুলান ইবনে ফুলান তখন তিনি সে সনদের দ্বারা বুঝতে পারলেন ছাত্ররা কোন হাদীস পড়তে চাচ্ছে, ছাত্ররা যখন সনদ পড়ে চুপ হয়ে গেল তখন তিনি পড়তে লাগলেন (আন মায়াজ ইবনি জবল (র) কাল কালা রাসুলুল্লাহি (দ) মান কানা আখিরু কালামিহি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দাখালাল জান্নাহ) এটা পড়েই ইন্তেকাল করে ফেললেন। সুবহানাল্লাহ।
৩। ছাখারাতের সময় বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার সময় তখন তার কাছে গিয়ে ছোট ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বাবা দেখ অমুক এসেছে তমুক এসেছে এসব বলা থেকে বিরত থাকবেন। কারন তখন অমুক তমুকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় নয় বরং আল্লাহর পরিচয়কে ধারন করে মৃত্যু বরণ করার সময়।
৪। মৃত্যু যন্ত্রনার চাইতে কোন যন্ত্রণা দুনিয়ার জমিনে আর নাই সে সময় কলমার তলকিন দেয়ার শিক্ষাই রয়েছে, তখন কিছু খাওয়ানো ও পান করানোর চেষ্টা করাটাও ভুল।
৫। ছাখারাতের সময় অনেক ডাক্তার আছেন রোগীকে নেশার/ ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে দেন, ডাক্তার বলে এতে তার কষ্ট কম হবে। অথচ মুমিনের ছাখারাতের সময় যে কষ্ট হয় তাতেও তার গুনাহ মাফ হয়। তাই ডাক্তারকে নেশার টিকা দিতে নিষেধ করবেন।
৬। এক্সিডেন্ডে মৃত্যু বরণ, পানিতে পড়ে মৃত্যু, সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যু, আগুনে জ্বলে মৃত্যু, ভবন ধ্বসে মৃত্যু, এসবই শহিদি মৃত্যু বলে খ্যাত তাই কেহ এ ধরনের মৃত্যু পেলে সেটাকে অপমৃত্যু বলাটা ভুল।

প্রঃ রূহ বের হয়ে গেলে করনীয় কি?
উঃমুসলিম শরীফে হাদীস খানা বণিত- মহানবী (দ) বলেন- যখন কারো মৃত্যু হয় তখন আপনজন হারারা ১টি দোয়া পড়বেন, এর ফলে আল্লাহ তায়ালা এই দোয়ার বরকতে  তোমাদেরকে সাওয়াব দান করবেন এবং যা হারিয়েছ তার চাইতে ভালো জিনিস দান করবেন,
(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না আলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজরিনি ফি মুসিবাতি ওয়াখলুফলি খাইরান মিনহা) 
অর্থ্যাৎ আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে, হে আল্লাহ আমার বিপদে আমাকে সাওয়াব দান কর এবং যা হারিয়ে গেছে তার চাইতে ভালো জিনিষ দান কর।
#তাহলে কারো সন্তান মারা গেলে আল্লাহ আরো উত্তম সন্তান দান করবেন। স্বামী মারা গেলে আরো উত্তম স্বামী দান করবেন।
# হযরত উম্মে সালমা (রা) তিনি বলেন আমার স্বামী আবু সালমার ইন্তিকালের পর আমি এই দোয়াটি পড়ি, তখন আল্লাহ আমাকে আমার স্বামীর চাইতে উত্তম স্বামী দান করেছেন- এই দোয়ার বরকতে আল্লাহর রাসুল (দ) কে আমার স্বামী রূপে দান করেছেন।
২। রূহ বের হবার পর একটি কাপড় দিয়ে থুতনির নিচ থেকে মাথা সহ বেঁধে দেয়া যাতে মুখ বন্ধ থাকে
৩।বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাহি রাসুলিল্লাহ বলতে বলতে সযন্তে মৃতের চোখ বন্ধ করে দেয়া
৪। হাত পা সোজা করে দেয়া, পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুলদুটি বেঁধে দেয়া
৫। উত্তর দিকে মাথা রেখে দক্ষিন দিকে পা রেখে চেহেরো কেবলার দিকে ঘুরিয়ে দেয়া
৬। পেটের উপর কোন ভারী জিনিষ রেখে দেয়া যাতে পেট ফুলে না যায়।
৭। মৃত্যুর পর গোসল কাফন দাফনের দ্রুত এন্তেজাম করা।
৮। মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির জন্য শোক করা জায়েজ, তবে বিলাপ করা জায়েজ নাই। বুক চাপড়ানো, কাপড় ছিড়া এসব করা জায়েজ নাই।
৯। যদি মৃতের সমস্ত শরীর কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকে তখন তার পাশে বসে কুরআন তেলাওয়া করা যাবে।
১০। যতদুর সম্ভব মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। যাতে সকলে জানাযায় উপস্থিত হয় এবং তার জন্য দোয়া করে।
১১। মৃতের আত্মিয় স্বজন বিদেশ থেকে আসবে এই জন্য লাশ ফ্রিজারে রেখে দিয়ে দাফনে দেরী করা জায়েজ নাই।
১২। এমনকি বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাবে বাহরুর রায়েকের ২য় খন্ডের ১৯৫ পৃ লিখা হয়েছে- কেহ শহরে মারা গেলে তার লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করাকে মাকরূহ তাহরিমি বলেছে, কারন এতে দেরী হয়। 

দ্রুত দাফন কাফনের হাদীস
#হযরত আলী রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রা. কে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে আলী! ৩টি জিনিসের ক্ষেত্রে বিলম্ব করবে না। ১. নামাযের যখন সময় আসবে তখন নামায আদায় করা থেকে দেরি করবে না। ২. মৃত ব্যক্তির জানাযা যখন উপস্থিত হবে তখন কাফন-দাফন সম্পন্ন করতে দেরি করবে না। ৩. কোন অবিবাহিতা মেয়ের জন্য যখন কোন উপযুক্ত পাত্র পাবে তখন তাকে পাত্রস্থ করা থেকে বিলম্ব করবে না।’ (তিরমিযী শরীফ, খ: ১, পৃ: ২০৬)
#হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার খাটলি নিয়ে দ্রুতবেগে যাও (কবরস্থ করার জন্য)। কারণ, মৃত ব্যক্তি যদি নেক্কার হয় তাহলে তো তোমরা তাঁকে কল্যাণের নিকটবর্তী করে দিলে, আর যদি সে নেক্কার না হয় তাহলে এক অকল্যাণকে তোমাদের কাঁধ থেকে নামিয়ে দিলে। (বুখারী শরীফ, খ: ১, পৃ: ১৭৬)

মৃত্যুর পর সমাজে প্রচলিত ২০টি কুসংস্কার
 মানুষ মারা গেলে আমাদের মুসলমান সমাজে বেশ কিছু কুসংস্কার প্রচলিত আছে যেমন
#স্ত্রী মারা গেলে স্বামী চেহেরা দেখতে পারবেনা মনে করা ভুল, অথচ শরীয়তের মাসায়ালা হল স্ত্রী মারা গেলে স্বামী স্ত্রীর চেহেরা দেখতে পারবে তবে বিনা পর্দায়/বাঁধায় ছুঁতে পারবেনা, স্ত্রীকে গোসল দেয়াতে পারবেনা, তবে খাট কাঁধে নিতে পারবে, এবং যেহেতু কাফনের কাপড় পরিধান করানো তখন স্বামী স্ত্রীকে ধরে কবরেও রাখতে পারবে। 
#স্বামী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীকে দেখতে পারবে মনে করাও ভুল, স্ত্রীর বেলায় মাসায়ালা হল ৪ মাস ১০ দিন পযন্ত ইদ্দত পালন না করলে আকদ ভঙ্গ হয়না তাই স্বামী মৃত্যু বরণ করলেও স্ত্রী দেখতে পারবে, গোসলও দেয়াতে পারবে। 
#মৃত ব্যক্তির পুরানো কাপড় পরিধান করলে নাকি হায়াত কমে যায়, আর সে কাপড় আবার ফকিরদের গরীবদের দিয়ে দেয়, তাহলে প্রশ্ন হল আপনি পরিধান করলে হায়াত কমবে গরীবদের হায়াত কি বাড়বে?
# কবর থেকে ফেরত আনা জিনিষ ঘরে ঢুকানো যাবেনা, যেমন লাই, বদনা ইত্যাদি এসব নাকি ঘরে আর ঢুকানো যাবেনা।
# মৃত ব্যক্তির জন্য যে ফাতেহা দেয় সে ফাতেহার জিনিষগুলি বাচ্চারা খেলে নাকি পড়ালেখা করতে পারবেনা, 
# কেহ যদি মৃত লোকের চেহেরা দেখে আসে কিংবা কবরে নামে তাহলে সে ঘরে ঢুকতে পারবেনা, তাকে গোসল করে ঘরে ঢুকতে হবে। মুমিন অপত্রিত হয়না, মুশরিক অপবিত্র হয় (ইন্নামাল মুশরিকুনা নাজাসুন)
# তাবিজ দিয়ে মৃত দেখতে গেলে তাবিজের গুন চলে যায়।
#মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়ার স্থানে ৪০ দিন পযন্ত বাতি জ্বালাতে হবে- এটা অপচয় আর অপচয় করা শয়তানের কাজ।
# ৪০ দিন পযন্ত গোসলের স্থানে কাটা দিয়ে রাখে, অনেকে ৪০ দিন পযন্ত গোসলের স্থানে পানি ছিটায়। এই পঁচা পানিগুলি নাকি ময়্যত এসে খায়।
#মৃত ব্যক্তির ঘরের ৪ দিনের দিন সব ধুয়ে ফেলতে হবে
# সামর্থ না থাকা সত্বেও ধার কয করে ৪ দিনের দিন মেজবানি দেয়া।, এটা যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে উত্তম কাজ কিন্তু সামর্থ্য না থাকলে মানুষ থেকে ধার কর্জ করে, চাঁদাকরে এসব মেজবানি করাতে কোন ফায়দা নাই।
# বয়স কম হলে ৪ দিনের ফাতেহা, বয়স বেশী হলে ৫ দিনের ফাতেহা, এটাও কুসংস্কার। যদি সামর্থ্য থাকে মৃতের জন্য ৪ দিনের দিন ফাতেহা দেয়াই উত্তম, কারন ৪ এর সাথে ইসলামের অনেক কিছুর সম্পর্ক আছে (৪কিতাব, ৪ রসুল, ৪ ফেরেশতা, ৪ খলিফা, ৪টি মাযহাব, ৪টি তরিকা)
# দাদা/নানা নানি মারা গেলে নাতি এসে খাটের উপর ছাতা ধরতে হবে।
#মৃত ব্যক্তির ঘরে মেহমান আসলে তারা সেদিন না গেলে ৪ দিন পযন্ত থাকতে হবে।
#গর্ভবতী নারী মারা গেলে তাকে তার স্বামী দেখতে পারবেনা।
এসবই কুসংস্কার আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এসব কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকার তৌপিক দান করুন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.