কুরআনের মর্যাদার ৫টি সেরা ঘটনা। কুরআনের ফজিলত। Juma khutba Nizam uddin J...


জমাদিউল আউয়াল-১৪৪২ হিজরী ১ম খুতবা

কুরআনের মর্যাদা, কুরআনের মাহাত্ব, কুরআন পাঠের ফজিলত



 (নাযযালনা আলায়কাল কিতাবা তিবিয়ানান লিকুল্লি শাই)

অর্থ- আমি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছি যাতে সবকিছুর বর্ণনা রয়েছে

 আসমানি কিতাব-১০৪টি তার মধ্যে কুরআন হল সর্বশ্রেষ্ঠ। যা আল্লাহ তায়ালা ২৩ বছরে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (দ) এর উপর নাযিল করেছেন।

 

কুরআন হল স্থায়ী মুজিজা- সকল নবীকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন মুযেজা দিয়েছেন যা ছিল সাময়িক, আর সে সব মুজেজার উপর আমরা ঈমান এনেছি আর আমাদের নবীকে আল্লাহ তায়ালা এমন এক মুযেজা দিয়েছেন যা কেয়ামত পযন্ত থাকবে।

কুরআনের কারনে মর্যাদা

 ###লবিদের কবিতা কাবাতে ঝুলানো হল ওকাজ মেলায় তার কবিতা শুনে তখনকার কবিরা তাকে সেজদা করে। তাকে ইমামুশ শুয়ারা বলা হয়। তার সে কবিতার পাশে সুরা কাউসার লটকানো হলে লবিদ তার কবিতা ছিড়ে দিল এবং বলল (মা হাজা লাইছা কালামুল বশর)

 ###সালাম বিন জুবায়ের ইহুদী ব্যবসায়ী, শাম থেকে মাল কিনে মদীনায় বিক্রী করতেন, একবার সে একটি গোলামও ক্রয় করল যার নাম সালেম। মদীনায় সব বিক্রী হল কিন্তু গোলাম বিক্রী হলনা, তাকে রুদ্রে দাঁড় করিয়ে রাখল, ৩ দিন রুদ্রে দাঁড় করিয়ে রাখায় তসবিতা নামক এক মেয়ে দয়া করে সে গোলাম কিনে নিল।

মক্কার এক ব্যবসায়ী আবু হুযায়ফা মদীনায় ব্যবসায়ীক কাজে আসলেন আর শুনলেন তসবিতা নামক নারীর দয়ার কাহিনি, আবু হুযায়ফা তসবীতাকে বিয়ে করল।

আবু হুযায়ফা তসবিতাকে নিয়ে মক্কায় আসলেন তখন নবীজি ইসলামের দাওয়াত দিচেছন, সেকথা শুনে আবু হুযায়ফা যিনি হযরত ওসমানের বন্ধু ছিলেন হযরত ওসমানের কথায় হযরত আবু হুযায়ফা তার স্ত্রী এবং গোলাম সালেম ইসলাম গ্রহণ করেন।

মুসলমান হয়ে সালেমকে আযাদ করে দিলেন, সালেম কান্না করতে লাগলেন কোথায় থাকবে সে কথা ভেবে, তখন আবু হুযায়ফা বলেন তুমি আযাব তবে আমাদের ঘরে থাকতে পারবে।

সালেম আযাদও হল কাজও নাই খানার ও চিন্তা নাই সে তাই নবীর সাথে থাকত আর কুরআন যা নাজিল হল তা হিফজ করত।সালেমের কন্ঠ ও তেলাওয়াত সুন্দর ছিল তাই সালেম যখন তেলাওয়াত করতেন নবীজি তা মনযোগ দিয়ে শুনতেন। সালেমের কন্ঠ ও তেলাওয়াত শুনে নবী একদিন কাঁদলেন আর দোয়া করলেন হে আল্লাহ তোমার শোকর এ জন্য যে তুমি সালেমের মত কারি আমার উম্মতের মধ্যে দান করেছ।

হিজরতের হকুম আসলে সাহাবাগন মসজিদে কুবাতে গিয়ে জমা হল, নবীজি তখনও মক্কায়, সকল সাহাবা সেখানে ছিল হযরত ওমরও ছিল হযরত ওমর বললেন আজ সালেম নামাজ পড়াবে, সালেম যখন নামাজের ইমামতি করছিল তখন ইহুদীরা দেখে আশ্চর্য্য হল এটাতো সেই সালেম যাকে গোলাম হিসেবে ৩ দিন পযন্ত কেহ ক্রয় করছিলনা।

এই ইজ্জত কিভাবে আসল? কুরআনের সম্পর্কের কারনে।

 ##সালতানাতে ওসমানিয়া ১২৯৯ সালে খেলাফতে ওসমানিয়া শুরু হয় ১৯২২ সালে শেষ হয়।এই খেলাফাতের প্রথম যিনি তিনি হলেন তগরুল এর ছেলে ওসমান। এই ওসমান খুব সৎ ছিল কিন্তু তাকে তার এলাকার লোকেরা তাকে বের করে দিল। তিনি তার পীরের কাছে আশ্রয় নিলেন, রাতে এক রুমে তিনি ঘুমাতে গেলেন কিন্তু ঘুম আসছিলনা, তখন উঠে কুরআন খুজছিলেন পড়ার জন্য দেখলেন তিনি দেখলেন তিনি েএতক্ষন যে দিকে পা দিয়েছেন সেদিকে কুরআন ছিল তাই কুরআন বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। এমন সময় পীর সাহেব এসে বললেন আমি স্বপ্নে দেখলাম কুরআন তোমার জন্য আল্লাহর বারেগাহে সুপারিশ করেছেন আর তোমাকে এই এলাকার বাদশাহ বানানোর জন্য। আল্লাহ সে সুপারিশ কবুল করেছেন।

 খুব অল্প দিনের মধ্যেই খলিফা ওসমান বাদশাহ হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ

 #খলিফা ওসমান ঘোষনা দিলেন জজ সহ সকলেই দাঁড়িয়ে কুরআন আনলে তখন তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান করবেন।

 # যারা কুরআনকে আদব করেছে তারা দুনিয়াতেও সম্মানিত, কবরেও সম্মানিত, আখেরাতেও সম্মানিত, এমন অনেক প্রমান আছে যারা কুরআনকে ভালোবেসেছে তাদের কবর থেকে খুশবু বের হত।

 কুরআন বোঝা নয় বরং সহজ

#কুরআন পড়ার সময় নাই, বাচ্চাদের মায়েরা বাচ্চাদের সব পড়ায় কিন্তু কুরআন পড়ায়না, মাথায় নাকি চাপ পড়বে।

 # অথচ আল্লাহ বলেন ওয়ালাকাদ এয়াচ্ছারনাল কুরআনা লিজজিকর (আমি কুরআনকে স্মরণ রাখার জন্য সহজ করে দিয়েছি।

 #ইমাম মুহাম্মদের ৭দিনে হেফজ করা,

 কোরআন তেলাওয়াত- ইমাম আবু হানিফা প্রতিদিন ১ খতম পড়তেন,


কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অফুরন্ত।

এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি)। 

হজরত আয়শা (রা.) রসুলুল্লাহ (সা.) থেকে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের জ্ঞানী হবে, কিয়ামতের দিন সে সম্মানিত ফেরেস্তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কোরআন শেখার চেষ্টা করবে, শিখতে শিখতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে অর্থাৎ শেখার জন্য সে চেষ্টা করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি)। 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পড়বে বিনিময়ে তাকে একটি সওয়াব দেওয়া হবে। আর প্রতিটি সওয়াব ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি)।

কিয়ামতের ভয়াবহ দিন যখন আপনজন ও ধনসম্পদ কোনো কাজে আসবে না, তখন কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তেলাওয়াত কর। কারণ কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম)। 

অন্য হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারী ও আদেশ-নিষেধ মান্যকারীকে বলবে, আমাকে চিনতে পারছো? আমি সেই কোরআন যে তোমাকে রোজার আদেশ দিয়ে দিনে পিপাসার্ত আর রাতে নামাজে রত রেখেছি। প্রত্যেক ব্যবসায়ীই তার ব্যবসার মাধ্যমে লাভবান হতে চায়। আজ তুমি সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছ। তারপর ওই বান্দার ডান হাতে বাদশাহি, বাম হাতে জান্নাতে বসবাসের পরোয়ানা দেওয়া হবে। মাথায় নূরের তাজ পরানো হবে এবং বলা হবে, কোরআন পড়তে থাকো আর উচ্চ মাকামে উঠতে থাকো।’ (মুসনাদে আহমাদ)।


কুরআন কেহ পরিবর্তন করতে পারবেনা

####কুরআন আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করেন- সুরা হিজরের ৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- (ইন্না নাহনু নাজ্জালনাজ জিকরা ওয়া ইন্না লাহু লাহাফিজুন)

ইমাম কুরতুবি এই আয়াতের ব্যাখ্যায়ে বলেন- খলিফা মামুনুর রশিদের দরবারে এক ইহুদী আসল সে হস্তলিপির উপর অভিজ্ঞ সে বিভিন্ন ধমগ্রন্থ পরিবতন করে বিক্রী করে, কুরআন পরিবতন করল কিন্তু হাফেজগন তা ধরে ফেলল।

সুরা হামিম সিজদার ৪২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন (লা এয়াতিহিল বাতিলু মিন বাইনি এয়াদাইহি ওয়ালা মিন খালফিহি) অর্থ্যাৎ কুরআনে কোন মিথ্যা সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে আসতে পারবে না।

 #### দুবলদের দিয়ে হেফাজত করছেন, যেমন দুবল পাখি দিয়ে আল্লাহ কাবা গৃহ হেফাজত করেছেন, দুবল লেংড়া মশার দ্বারা আল্লাহ নমরুদকে ধ্বংস করেছেন।


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.