বিয়ে ও মহরের সঠিক নিয়ম। বিয়ের ওয়াজ। ইসলামে পাত্রী দেখার নিয়ম। Jumah bang...
কুরআন সুন্নার আলোকে বিয়ে
ও মোহরানার সহিহ বিধান ও বর কনে বাছাই করার ১০০% সঠিক নিয়ম
(ফানকিহু মা তাবা লাকুম মিনান্নীসাঈ মাছনা ওয়া ছুলুছা ওয়া রুবায়া)
অর্থ্যাৎ তোমরা নারীদের মধ্য থেকে যাদের পছন্দ হয়, তাদেরকে বিয়ে করে নাও, দুই, তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত (সুরা নিসা)
প্রঃ বিয়ে কত প্রকার ও কি কি?
বিয়ে ৫ প্রকার
(১) ফরয- যদি শক্তি সামর্থ্য থাকে, বিয়ে না করলে যেনাতে লিপ্ত হবে এমন শতভাগ বিশ্বাস থাকে তখন বিয়ে করা ফরয
(২) ওয়াজিব- যদি শক্তি সামর্থ্য থাকে, বিয়ে না করলে যেনাতে লিপ্ত হওয়ার সন্দেহ হয় তখন বিয়ে করা ওয়াজিব
(৩) সুন্নত- যদি শক্তি সামর্থ্য থাকে, তবে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সন্দেহও না থাকে তখন সুন্নত
(৪) মাকরূহ- শক্তি আছে কিন্তু ভরন পোষন দিতে পারবেনা বলে সন্দেহ হয় তাহলে বিয়ে করা মাকরুহ, তখন রোজা রাখবে
(৫) হারাম- শক্তিও নাই সামর্থ্যও নাই তখন বিয়ে করা হারাম।
প্রঃ বিয়ে জায়েজ কেন?
বিয়ে জায়েজ হওয়ার কারন হল এর দ্বারা অনেকগুলি উপকার হয় যেমন
(১) মানব জাতির বংশের পর্যায়ক্রমতা রক্ষা হয়
(২) সন্তানাদি লাভ হয়
(৩) রাসুলের (দ) উম্মত বৃদ্ধি হয়, আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) উম্মতের আধিক্যের কারনে কেয়ামতের দিন গৌরব করবেন
(৪) নেক সন্তান মৃত্যুর পর মা বাবার জন্য দোয়া করবে
প্রঃ বিয়ের দ্বারা কি কি ফজিলত অর্জিত হয়?
(১) চরিত্রের হেফাজত করা সম্ভব হয় যেমন মেশকাত শরীফের হাদীস আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) এরশাদ করেন
( ফাল এয়াতাযাওয়্যাজু ফাইন্নাহু আগাদ্দু লিল বাছারি, ওয়া আহছানু লিল ফারাজি) অর্থ্যাৎ বিয়ের দ্বারা লজ্জাস্থান তথা চরিত্রকে হেফাজত করা সম্ভব হয়।
(২) বিবাহ দ্বারা অর্ধেক ঈমান সুদৃঢ় হয় যেমন আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) এরশাদ করেন মেশকাত শরীফের ২৬৭ নং পৃষ্ঠায় হাদীস খানা এসেছে (ইজা তাজাওয়্যাজাল আবদু ফাকাদ ইসতাকমালা নিসফুদ্দীন) যে ব্যক্তি বিয়ে করে নিল সে নিজের অর্ধেক ধর্মকে সুদৃঢ় দুর্গের মধ্যে রক্ষা করে নিল।
(৩) বিবাহের দ্বারা আল্লাহর হকুম মান্য করা হয় কারন আল্লাহ তায়ালা কুরআনের সুরা নিসায় এরশাদ করেন (ফানকিহু মা তাবা লাকুম মিনাননিসা) তোমরা নারীদের থেকে যাদের পছন্দ বিয়ে কর।
(৪) বিয়ের দ্বারা আল্লাহ শান্তি দান করেন- মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً
অর্থাৎ ‘আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা রুম : আয়াত ২১)
(৫) বিবাহের দ্বারা রুজি রোজগারে বরকত লাভ হয়
আল্লাহ বলেন-
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [ সুরা নুর ২৪:৩২ ]
(৬) বিবাহের দ্বারা নবীর সুন্নত পালন হয়
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, `বিয়ে হলো আমার সুন্নাত যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত তরিকা ছেড়ে চলবে সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (বুখারি)
কোন ধরনের নারী বিয়ে করবেন?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " تُنْكَحُ النِّسَاءُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদেরকে (সাধারণত) চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। তার ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, তার রূপসৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারী। তবে তুমি দ্বীনদার নারী বিয়ে করো। অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হবে (বুখারী ২০৪৭)
জন্মের আগে সন্তানের প্রতি এহসান
হযরত আবুল আসাদ দুয়াইলী (রহ) আরবের একজন বড় আলেম তিনি তার সন্তানদের বলেন আমি জন্মের আগে এবং জন্মের পর তোমাদের উপর এহসান করেছি, তখন সন্তানেরা প্রশ্ন করলেন আব্বা আপনি আমাদের জন্মের পর এহসান করেছেন তা বুঝে এসেছে কিন্তু জন্মের আগে এহসান করেছেন কিভাবে? তখন আবুল আসাদ জবাব দিলেন - আমি যখন বিয়ের জন্য কনে তালাশ করছিলাম তখন অনেক সুন্দরী কনে পেয়েছিলাম কিন্তু আমি আমার নফসের খায়েশ এর পরিবর্তে আমার বংশ যেন ভালো হয় আমার সন্তানেরা যেন সু সন্তান হয় তাই আমি সৌন্দর্য্যকে দেখিনি বরং সততা বুদ্ধিমত্তা ও ধার্মিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছি।
কুমারী নারী- অপর হাদীসে কুমারী নারী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারীকে বিবাহ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
আল্লাহ রাসুল বলেন নাসাঈ শরীফের হাদীস
تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ
এমন নারীকে বিয়ে কর যে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মাতের কাছে তোমাদের সংখ্যাঘিধক্যের কারণে গর্ব করবো।
৩টি বস্তু মানুষের সৌভাগ্যের প্রতিক
নবী করিম (দ) বলেন ৩টি জিনিষ মানুষের সৌভাগ্যের প্রতিক (১) ভালো বাসস্থান (২) ভালো স্ত্রী (৩) ভালো বাহন
যে নারী বিয়ে করলে ঘরে অশান্তি হবেনা
যে নারীর ৪টি গুন থাকবে সে কখনো পেরেশান হবেনা
আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) একবার সাহাবায়ে কেরামকে কয়েকটি শিক্ষা দিলেন, যদি সে শিক্ষার উপর আমরা কায়েম থাকি তাহলে আমাদের ঘরে কখনো ঝগড়া বিবাদ হবেনা।
আর সে শিক্ষা কি?
আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) ফরমালেন (তাযাওয়্যাজুল আবকার) তোমরা বিয়ে করা কুমারী নারীদের। আর তাদের গুণ বয়ান করে বলেন (ফাইন্নাহুন্না আ’যাবু আফওয়াহা) তাদের কথা বার্তা খুবই মধুর হবে।
এখন একজন মেয়ে যদি সব সময় নবীর এই শিক্ষাটি মাথায় রাখে এবং সারা জীবন কথা বার্তা মধুর ভাষায় বলে, যে কোন পরিস্থিতিতে নিজের ভাষাকে তিক্ত না করে, স্বামীর সাথে যে কোন অবস্থায় সত্য ও সুন্দর ভাষায় কথা বলে তাহলে এমন নারী কখনো পেরেশান হবেনা। দুঃখী হবেনা।
২য় গুণ হল (ওয়া আসখানু আকবালান) সে নারী স্বামীকে উষ্ণ সম্ভাষন জানাবে। যখনই স্বামী বাহির থেকে আসবে তখন তাকে হাসি মুখে স্বাগতম জানাবে, এর উদাহারন হযরত উম্মে সুলায়ম (রা) এর ঘটনা প্রসিদ্ধ, তিনি নিজের সন্তান মারা যাওয়া সত্বেও স্বামী হযরত আবু তালহা (রা) সফর থেকে আসার পর স্বামীকে সে সংবাদ দিলেন না, বরং প্রথমে স্বামীকে হাসি মুখে বরণ করেছেন, ভালো রিসিপশন দিয়েছেন, খানা পেশ করেছেন, এ ধরনের নারী কখনো জীবনে দুঃখী হবেনা। আল্লাহর নবী উম্মে সুলায়ম (রা) এর এমন আচরনে আনন্দিত হলেন এবং তাদের জন্য দোয়া করলেন যার বরকতে তাদের ঘরে পরবর্তীতে আরো ৯ জন ছেলে জন্ম গ্রহণ করেছেন যারা প্রত্যেকেই হাফেজে কুরআন হয়েছেন। সুবহনাল্লাহ।
৩য় গুণ হল (ওয়া আকাল্লু খিব্বান) যে নারী ধোকা দেয়না, যে কোন অবস্থায় স্বামীর সামনে সত্য উপস্থাপন করে, মিথ্যা ও ধোকার আশ্রয় না নেয়, সে নারীও কখনো জীবনে পেরেশানির সম্মুখিন হবেনা।
৪র্থ গুণ হল (ওয়া আরদ্বা বিল এয়াসির) যে নারী কম জিনিষেই খুশি হয়ে যায়, যে নারীকে আল্লাহ শোকর করার তৌফিক দিয়ে দেয় সে জীবনে কখনো দুঃখী হবেনা। পেরেশান হয়না।
যদি ও ইসলামী বিধান মোতাবেক স্ত্রীর যাবতীয় ভরন-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর উপর অরপিত, তথাপিও স্ত্রীকে স্বামীর সমার্থের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা তার দায়িত্ব। যে স্ত্রী স্বামী অল্প দিলেই তাতে খুশী থাকে সে স্ত্রীর স্বামী কখনো বিপদগামী হয় না। তাই অল্পেতুষ্ট স্ত্রী স্বামীর জন্য অনেক বড় আশির্বাদ ও নিয়ামত, এবং স্বামীর প্রকৃত বুদ্ধ ও কল্যানকামী।
এনগেজমেন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা অভিশাপ
আগের জামানায় এনগেজমেন্ট এর নিয়ম ছিল ছেলের পক্ষ মেয়ের পক্ষের কাছে যেত আর বলত
বলত।(নুহিব্বুল খাইর, ওয়া নাজিদু ফিকুমুল খাইর, ওয়া লায়াল্লাল্লাহা এয়াজমাউনা আলা খাইর) আমার নেকির সাথে খুবই ভালোবাসা, নেকিকে আমি খুব পছন্দ করি, আর আমি দেখেছি আল্লাহ তায়ালা আপনাকে অনেক নেকির তৌফিক দিয়েছেন, আমার দোয়া হল আল্লাহ তায়ালা আমাদের দুই ঘরকে আত্মিয়তার বন্ধনে মিলিয়ে দিন। এবং আমরা মিলেমিশে আল্লাহর এবাদতও করব এবং সুন্দর জিন্দেগী অতিবাহিত করব।
এই প্রস্তাব শুনে ২য় পক্ষ বলত (আলা খাইরে তায়ের) অত্যন্ত চমৎকার আপনার প্রস্তাব। এভাবেই এনগেইজমেন্ট হয়ে যেত।
হাদীসের ভাষা হল اخف الخطوبة (আখফুল খেতবাত) তোমরা এনগেজমেন্টকে গোপনে কর।
এনগেইজমেন্ট এর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কজদার হয়ে যাওয়া এটা শরীয়ত নয়।
বরকতময় নারীর ৩টি চিহ্ন
কোন মেয়ে বরকতময় কিনা তার চিহ্ন হল- (তাইছিরা খিতওয়াতিহা) যার এনগেইজমেন্ট সহজে হয়ে যায়।
ওয়া তাইছিরা ছাদাকিহা - যার মহর সহজে আদায় হয়ে যায়।
ওয়া তাইছিরা রেহিমিহা- আর তাকে আল্লাহর আওলাদ জলদি দিয়ে দেন
আল্লাহর দ্বীনের সহজতাকে গ্রহণ করুন। নিজেকে নিজে বিপদে মসিবতে নিক্ষেপ করবেন না।
বিয়ের মোহরানা আদায় করার বিধান কি?
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এরশাদ করেন তোমরা স্ত্রীদের খুশি মনে মহর দাও (ওয়া আতুন নিসায়া ছাদুকাতিহিন্না নিহলাহ)
আমরা এই মহর দেয়ার সম্পর্কে বিধান কি তা জানিনা। মনে রাখবেন-
মহর সাধারাণত ২ ধরনের হয়ে থাকে (১) মুয়াজ্জাল (আইন) দিয়ে। (২) মুআজ্জাল (হামজা) দিয়ে। এটি নিকাহ নামার ১৪ নম্বরে উল্লেখ থাকে।
মুয়াজ্জাল হল স্ত্রী স্বামীর কাছে মহরানা যে কোন সময় দাবী করতে পারবে।
আমাদের সাধারণ লোকের মধ্যে একটি ভুল ধারনা প্রচলিত আছে এই মহর বিয়ের প্রথম রাতেই স্ত্রীকে দিয়ে দিতে হবে, অথবা মাফ চেয়ে নিতে হবে। নাহয় স্ত্রীর সাথে তায়াল্লুক স্থাপনের দ্বারা গুনাহগার হবে, কিংবা এতে কোন সন্তান হলে তাতে এর এফেক্ট পরবে। এমনটি নয়। এসবই ভুল ধারনা। আবার অনেকে মনে করে যেহেতু প্রথম রাতেই দিতে হবে, এখন স্বামী যেহেতু দিতে সক্ষম নয় তাই আগে স্ত্রীর কাছে মাফ চেয়ে নাও তারপর তায়াল্লুক কায়েম করা এই ধরনের খেয়ালও ভুল। স্বামী প্রথম রাতে দিতে না পারলে স্ত্রী সেক্ষেত্রে সম’য় দিবে।
মুলত মুয়াজ্জাল মহরের উদ্দেশ্য হল- স্ত্রী যখনই চাইবে তখনই এই মহর স্বামীর কাছে চাইতে পারবে, আর যদি স্বামী সে মহর আদায় না করে তাহলে স্ত্রী স্বামীকে কাছে আসতে বাঁধা প্রদান করতে পারবে, এবং স্বামী যদি স্ত্রীকে সফরে নিয়ে যেতে চায় তাতে স্ত্রী না করতে পারবে। এটা করলে স্ত্রী গুনাহগার হবেনা। আর এটাই হল মহরে মুয়াজ্জালের হকুম।
আর যদি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ১ বার তায়াল্লুক কায়েম হয়েও যায় তবুও স্ত্রীর সে মহরের হক থেকে যাবে, ১০ বার কায়েম হলেও সে মহর স্ত্রী দাবী করতে পারবে, স্বামীকে যে কোন সময় কাছে আসতে বাধা দিতে পারবে, সফরে যেতে না করতে পারবে, যতক্ষন স্বামী এই মহরে মুয়াজ্জাল আদায় করবেনা।
আর ২য় যেটা হামজা দিয়ে মুআজ্জাল সেটা হল মেয়াদী যেমন ১০ বছর পর মহর দিবে এমন যদি লেখা থাকে তাহলে স্ত্রী মেয়াদের আগে মহর দাবী করতে পারবেনা। আর যদি মেয়াদ লেখা না থাকে তাহলে
তবে আল্লাহ না করুক যদি কখনো তালাক হয়ে যায় তখন স্ত্রী এই মহর দাবী করতে পারেন। অথবা স্ত্রী মারা গেলে তখন স্বামী স্ত্রীর ওয়ারিশদের তা আদায় করবে, আর স্বামী মারা গেলে স্বামীর সম্পদ থেকে প্রথমে স্ত্রীকে মহর আদায় করা হবে, মহর দেয়ার পর বাকী যে সম্পদ থাকবে তাই পুনরায় ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন হবে।
# এখন যারা ৫০ লাখ ৬০ লাখ ১ কোটি মহর দিয়ে বিয়ে করছেন যখন মারা যাবেন তখন এত সম্পদ কি রেখে যেতে পারবেন? একবার চিন্তা করবেন।
মহরের সর্বনিন্ম পরিমাণ কত?
আহনাফের মতে মহরের সর্বনিন্ম পরিমাণ হল ১০ দেরহাম, আর ১০ দেরহাম ৩২ গ্রাম রুপার দামের বরাবর, সে হিসেবে বর্তমানে ৩২ গ্রাম রুপার দাম প্রায় ৪.৫ হাজার টাকা।
মহর কত হওয়া উচিত?
মহরের সর্বনিন্ম পরিমাণ নির্ধারিত হবে বেশীর ক্ষেত্রে কত নির্ধারন করবে তার কোন পরিমাণ নিদৃষ্ট নাই, এই ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ সম্মতিক্রমে, খুশি মনে যা ভালো মনে করবে তাই নির্ধারণ করবে, যাতে জুলুম না হয়। তবে কনে পক্ষ যদি মনে করে মহর বেশী হলে মেয়ের জন্য সিকিউরিটি হবে এমন ভেবে জোর জবরদস্থি খুব বেশী মহর লিখিয়ে নেয় তা উচিত নয়। বরং উভয় পক্ষের খুশি ও সম্মতিতে যা নির্ধারন হবে তাই উত্তম, আবার আজকাল শুধু মহর দেয়ার নিয়তে নয় বরং মানুষকে শুনানোর জন্যও লিখিয়ে থাকে এটাও উচিত নয়।
সিকিউরিটির জন্য বেশী মহরের ক্ষতি
যারা ৫০ লাখ ১ কোটি মহর লিখায় যখন বনিবনা হয়না, স্বামী স্ত্রীকে ছাড়তে চায় কিন্তু মহর বেশী হওয়ার কারনে ছাড়তে পারেনা তখন নানা রকম নির্যাতন শুরু করে দেয়, আর স্ত্রী তখন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীকেবলে আমি তোমার কাছে মহর চাইনা বরং আমাকে তালাক দিয়ে দাও, অর্থ্যাৎ খোলা চায়। তাই অতিরিক্ত মহর হওয়ার ক্ষতিই বেশী।
ইসলামী শরীয়তের আলোকে ছেলে মেয়ের বিয়ের উপযুক্ত সময় কোনটি? তাড়াতাড়ি বিয়ে বনাম দেরিতে বিয়ের উপকারিতা ও ক্ষতিসমুহ কি? বেকার ছেলের বিয়ের ব্যপারে ইসলামের বিধান কি?
মনে রাখবেন যখন একজন ছেলের বয়স ১৫ বছর হয়ে যায় তখন আমাদের শরীয়ত তাকে এডাল্ট বলে, অর্থ্যাৎ শাবালক গণ্য করে। সুতরাং বয়সের দিক থেকে কমপক্ষে ১৫ বছর হতে হবে। তবে আমাদের দেশের আইনে কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
আর বিয়ে কখন করতে হবে?
বিয়ের জন্য ৩টি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে
(১) ছেলে তার স্ত্রীর জন্য ভরন পোষন প্রোভাইট করার উপযুক্ত হতে হবে, আর ভরন পোষনের মধ্যে ৩টি জিনিষ শামিল
(ক) বাসস্থান (খ) পোষাক (গ) খাবার
বাসস্থানের জন্য এটা শর্ত নয় যে সে আলাদা জায়গা কিনে ঘর তৈরী করতে হবে বরং যদি জয়েন্ট ফ্যামেলি হয় তাহলে সে তার স্ত্রীকে আলাদা রুম প্রোভাইট করতে সক্ষম হবে, যাতে স্ত্রী নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করতে পারে, এটাই বাসস্থান বলে গন্য হবে।
২) ২য় গুরুত্বপূণ বিষয় হল ছেলে মেডিক্যালি ফিট হবে এবং স্ত্রীর যে হক আছে তা আদায় করতে সক্ষম হবে,
৩) ৩য় গুরুত্বপূণ বিষয় হল সে সাবালেগ হবে।
অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষতি
খুব অল্প বয়সে বিয়ে করিয়ে দেয়া বালেগ হওয়ার আগে বিয়ে করিয়ে দেয়া মুলত এমন যেন ছোট বাচ্চার হাতে খেলনা দিয়ে দেয়া, সে বুঝতেই পারেনা কি করবে কি করবে না, কিভাবে ঘর চালাবে, কিভাবে মেজাজ বুঝবে, কিভাবে কারো ফিলিংসকে বুঝে শুনে চলবে, এসব না জানার ফলে ক্ষতি হয়।
আবার বিয়ে করতে এত দেরী করে ফেলা যে ছেলে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাবে, যখন সে ভরন পোষনও দিতে সক্ষম, স্ত্রীর হক আদায় করতে সক্ষম তখন বিয়েতে দেরী করা গুনাহে পরিণত হবে।
বেকারের বিয়ে করানো
আর বেকার ছেলে যে কোন কাজ কাম করেনা, কামাই রুজি করেনা, নিজে স্ত্রীর ভরন পোষন দিতে সক্ষম নয় তাহলে তার জন্য বিয়ে করা মাকরুহে তাহরিমি। আর যদি ১০০% একিন হয় যে সে ভরন পোষন দিতে পারবেনা তখন বিয়ে করা কবিরা গুনাহ হবে।
বিয়ে করিয়ে দিলে ছেলে কাজ করবে
অনেক ছেলের মা বাবা যুক্তি দেয় ছেলে কাজ কাম করে না কামাই রুজি করেনা, বিয়ে করিয়ে দিলে কাজ করবে কামাই করবে, কাজে লেগে যাবে, তাদের কাছে প্রশ্ন আপনি কি আপনার মেয়ের বিয়ে একজন বেকারের সাথে দিবেন? আপনার মেয়ের জামাই কিছু করেনা এখন আপনার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে সে বেকার জামাই কামাই রুজিতে লেগে যাবে এমনটি চিন্তা করে কি আপনি আপনার মেয়েকে কোন বেকারের হাতে তুলে দিবেন? কখনো দিবেন না, বরং তখন আপনি ছেলের কাছে জিজ্ঞেস করবেন বল তোমার সেলারি কত? ঘর আছে কিনা? এভাবে নিজের মেয়ের বিষয়ে যাচাই বাছাই করি, কিন্তু অপরের মেয়ের জিন্দেগী নষ্ট করার জন্য অনেক মা বাবা উঠে পরে লাগে। সে জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে বেকার ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দিলে সে যদি স্ত্রীকে ভরন পোষন দিতে না পারে তাহলে সে ছেলেও গুনাহগার হবে সাথে সাথে পিতা মাতাও গুনাহগার হবে।
বেকার ছেলের বউকে যদি
ছেলের বাবা ভরন পোষন দিবে বলে
আর যদি ছেলে এখন কামাই করেনা, কিন্তু ছেলের পিতা যদি মালদার হয় আর ছেলের পিতা নিজ ছেলের বউ এর জিম্মাদারী নিয়ে নেয়, ছেলে এখনও কামাই করেনা পরে পিতার কারবারে শামিল হবে এ ধরনের ক্ষেত্রে শরীয়তের পক্ষ থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। আসল কথা হল মেয়ের ভরনপোষন, যাতে মেয়ের কোন কষ্ট না হয়। তাই ছেলে যদিও বেকার হয় কিন্তু তার পিতা যদি ছেলের বউ এর ভরনপোষনের জিম্মাদারি নিয়ে নেয় তাহলে তখন শরীয়ত এই বিয়ের অনুমতি দেয়। এতে কোন ধরনের বাঁধা নাই।
যদি সন্তান গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে, তখন গুনাহ থেকে বাঁচানোর জন্য প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দেয়ার ব্যপারে ওলামায়ে কেরাম তাকিদ করেন।
ম্যাচিউর ও দেরীতে বিয়ের ক্ষতি
ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন আজকাল প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর ম্যাচিউর হওয়ার অপেক্ষায় ছেলে মেয়ে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়, আর এত বেশী ম্যাচিউর হয়ে যায় যে মেয়ে শশুড় বাড়ী গিয়ে শাশুড়বাড়ীর নিয়মে চলতে চায়না বরং নিজের মত করে শাশুড়বাড়ীর সবাইকে চালাতে চায় ফলে সংসার ভেঙ্গে যায়, বর্তমানে দেরীতে বিয়ে হওয়ার ফলে তালাকের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ আগেকার দিনে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে বিয়ে হয়ে যেত তালাকের নাম গন্ধও মানুষ পেত না, ছেলের বউকে স্বামী শাশুড় শাশুড়ি মনের মত করে গড়ে নিত, তখনকার পরিবারসমুহ সারা জিন্দেগী হাসিখুশি মহব্বতের সাথে কাটিয়ে দিত, আজকাল যতই মানুষ দেরীতে বিয়ে করছে ততই ঝগড়া বিবেধ বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিণতিতে তালাকের লিস্টও দিন দিন বড় হচ্ছে।
বিয়ের আগে ডেটিং
যারা আমাদেরকে এসব কালচার শিখাচ্ছে; বিয়ের আগে কয়েক বছর একে অপরের সাথে ডেটিং কর, ছেলে মেয়ে একে অপরকে বুঝ, তাদের মকসদ এটা নয় যে বিয়ের পর তারা সুন্দর ভাবে সংসার করুক, এসব কালচার এসেছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে, তারা ছেলে মেয়েকে একে অপরকে বুঝার কথা বলে ডেটিং এর নামে বয় ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ডের চক্করে মুসলমান সমাজ ও পরিবারকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত করতে চায়।যার পরিণতি হল তালাক।
পশ্চিমারা ২য় কালচার স্টাবলিস্ট করেছে তা হল দেরীতে বিয়ে করা।
তাই মুসলিম পরিবারের উচিত এসব গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের কালচারকে খতম করা, এবং ম্যাচিউর হওয়ার চক্করে দেরীতে বিয়ের প্রোগ্রাম বাতিল করে, উপযুক্ত পাত্র পাত্রি পেলে বিয়ে করিয়ে দেয়া। ছেলে কখন কামাবে সেদিকে তাকিয়ে না থেকে বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই ছেলের জন্য বউ নিয়ে আসাই এ যুগের ফিতনা ও গুনাহ থেকে বাঁচা সম্ভব।
আগে সকালে ২টি পরটা দিয়ে চলত এখন নতুন বউ আনলে ১টি পরটা না হয় বেশী বানাতে হবে আর ১টি পরটা বেশী বানালে কি কিয়ামত এসে যাবে? তাই ছেলে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ছেলের বাবা যদি ছেলের বউ এর ভরন পোষনের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে ছেলে ডেটিং এ যাওয়ার আগে বিয়ে করিয়ে দেয়াই উত্তম,
এতে আল্লাহ বরকত ও সচ্ছলতা দান করার ওয়াদাও করেছেন যেমন সুরা নুরের ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [ সুরা নুর ২৪:৩২ ]
সুতরাং আসুন ডেটিং বয়ফ্রেন্ড গালফ্রেন্ড এর বিষবাস্প থেকে আমাদের সমাজ ও পরিবারিক ব্যবস্থাকে বাঁচাই, পিতা সামথবান হলে সন্তান উপযুক্ত হলে উপযুক্ত পাত্রির সাথে বিয়ের দ্রুত ব্যবস্থা করি। এবং বিয়েকে সহজ করে আল্লাহর কৃত ওয়াদা মত সুখ স্বচ্ছলতার জিন্দেগী যাপন করি।
বিয়ের আগে হবু বর থেকে
অবশ্যই ৬টি পরীক্ষা নিবেন
বিয়ের আগে কুফু দেখতে হয়, কুফু না মিললে সেখানে বিয়ে দেয়া উচিত নয়, যদিও কোন অপারগতার কারনে কুফু না মিললেও বিয়ে দেয়া জায়েজ, তবে কুফুর মিল ছাড়া বিয়ে সম্পাদন উচিত নয়।
যে ৬টি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে তা হল
(১)ছেলে খান্দান কেমন বরাবর অথবা উঁচু স্তরের কিনা, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে খান্দান খারাপ হলে ছেলের মধ্যে খান্দানি খারাপ অভ্যাস প্রভাব বিস্তার করে, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাও দেখা যায় খান্দান খারাপ হলেও ছেলে শিক্ষা দীক্ষায় স্বভাব চরিত্রে উত্তম হয় তখন এ বিষয়ে ছাড় দেয়া চলে।
(২) তারপর ছেলের পেশা দেখতে হবে,
(৩) তারপর ছেলে বুদ্ধি ও জ্ঞানবান কিনা দেখতে হবে, আপনার মেয়ে খুবই জ্ঞানবান, ব্রিলিয়েন্ট কিন্ত মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন একদম বেওকুফ ধরনের ছেলের সাথে তখন সমস্যা আসবেই।
(৪) তারপর ধন-সম্পদের কুফু দেখতে হবে, আর ধন দৌলতের ব্যপারে ব্যাংক বেলেন্স দেখতে হবে না বরং দৌলতের ব্যপারে এ বিষয়টি দেখতে হবে যে সে ছেলে মেয়ের অন্যান্য আত্মিয় স্বজন বা খান্দানের মেয়েদের মত মহর আদায় করতে সক্ষম কিনা।
(৫) তারপর ছেলের ধর্ম দেখতে হবে ছেলে মুসলমান কিনা অবশ্যই দেখতে হবে, আজকাল যে সব বিশেষ করে এক ধরনের নামধারী মুসলমানরা হিন্দুকে বিয়ে এসব বিয়ে বাতিল কোন মুসলমানের সাথে কোন মুর্তিপুঁজারীর বিয়ে শুদ্ধ হবে না এটা হবে জেনা। এবং সর্বশেষ যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে তা হল
(৬) ছেলের দ্বীনদারী দেখতে হবে, মেয়ে দ্বীনদার কিন্তু ছেলে কোন প্রকাশ্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত তাহলে সে ছেলে ঐ মেয়ের উপযুক্ত নয়। যেমন আপনার মেয়েকে জেনে শুনে কোন শরাবীর সাথে বিয়ে দিতে পারেন না এতে আপনার মেয়ের জীবন বরবাদ হয়ে যাবে।
ছেলের দ্বীনদারী দেখার গুরুত্ব ও ঘটনা
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব তাবেয়ী (রহ) এর অপরূপ সুন্দরী কন্যা ছিল হাফেজে কুরআন, অসংখ্য হাদিসও সে মেয়ের মুখস্থ ছিল তার কন্যার জন্য তৎকালিন বাদশা আবদুল মালেক বিন মারওয়ান নিজের ছেলে শাহজাদা ওলিদের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু বাদশা ছিল জালেম, এমন জালেম যে তার মৃত্যুর পর যখন তাকে কবরে রাখা হয় তার চেহেরা কেবলা থেকে ফিরে যায়.
হযরত সাঈদ নিজের মেয়েকে এত বড় ঘরে বিয়ে দিলেন না, কিন্তু বিয়ে দিলেন একজন ধার্মিক ফকিরের ঘরে, কারন তিনি নিজের মেয়ের জন্য বিত্তবৈভবের চাইতে দ্বীনদারিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বিয়ে অনুষ্ঠানে যে সকল কাজ করলে
সংসারে নেমে আসে মহা অশান্তি
আজ বিয়ে অনুষ্ঠানসমুহে দেদারছে চলছে গুনাহসমুহ এমন সব গুনাহ যা কিয়ামতের আলামত হিসেবে চিহ্নিত। হ্যাঁ আপনি জানেন সব কিছু, কিন্তু তবুদও আপনার সন্তানের বিয়েতে আপনি এসব কাজের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছেন। হে আমার ভাই, হে আমার বোন, আপনি কি এর জবাব দিতে পারবেন? কবরে যখন আমার নবী আপনার সামনে উপস্থিত হবে তখন আপনি কি জবাব দিবেন? হাশরে আমার পেয়ারা নবীর সুপারিশ ব্যতীত যখন সকলে অসহায়, তখন আপনি কি করবেন? আজ আপনার টাকায় আপনার সন্তানের বিয়েতে সকল না জায়েজ কাজ অনুষ্ঠিত হল, আপনি ছাড় দিলেন কেন? আপনার এ ছাড়ের কারনে আপনার উপর কি ফেরেশতারা অসন্তুষ্ট হয়নি? অসন্তুষ্ট হয়টি আপনার সৃষ্টি কর্তা? নারাজ হয়নি রহমতে দো আলম? তাহলে জেনে বুঝে কেন লক্ষ লক্ষ টাকা হারাম কাজে ব্যয় করলেন?
যৌতুক
যৌতুক হল হিন্দুয়ানি প্রথা, মহানবী বলেন (মান তাশাব্বাহা বিকাউমিন ফাহুয়া মিনহুম) যে যে জাতির সাথে সামাঞ্জস্য রাখবে সে সে জাতির অন্তর্ভূক্ত।
(যৌতুকলোভী চোর): হযরত সুফিান সাওরী (রহ) বলেন যে, যখন কোন বিবাহকারী ব্যক্তি এ কথা মনে করে যে, তার স্ত্রী তার বাবার বাড়ী থেকে কি এনেছে? তখন তুমি এ কথা জেনে রাখ যে ঐ ব্যক্তি চোর।
হযরত ফাতেমাকে যৌতুকের জবাব- মাদারেজুন্নবুয়তের ২য় খন্ডের ৪৯ পৃষ্ঠায় আছে, মহানবী (দ) ফাতেমাকে হযরত আলীর সাথে বিয়ে দেয়ার সময় হযরত আলী (রা) নিজের লৌহ বর্ম ৪৮০ দেরহাম দিয়ে বিক্রী করে তা মহানবীর কাছে দেন, কারন হযরত আলীর অভিভাবকও ছিলেন মহানবী, আর মহানবী (দ) সে টাকা দিয়েই (ক) চকি (খ) চামড়ার বিছানা (গ) মশক (ঘ) ২টি মাটির কলসি (ঙ) যাতার কল কিনে দেন। অতেএব যারা বলে মহানবী (দ) হযরত আলীকে আসবাব পত্র দিয়েছেন তা ভুল বরং হযরত আলীর (রা) টাকায় মহানবী অভিভাবক হিসেবে এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
মিউজিক
আপনি কি জানেন না? মিউজিক শরীয়তে হারাম তাহলে কেন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আপনার সন্তানের বিয়ে অনুষ্ঠানে মিউজিক প্রোগ্রামের আয়োজন করলেন?
আপনি কি জানেন না মিউজিক এমন এক অভিশাপ যে ঘরে মিউজিক প্রোগ্রাম হয় সে ঘরের বরকত দুর হয়ে যায়। আপনার সন্তানের বিয়েতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মিউজিক পার্টি দিয়ে বউ আনলেন যখন ঘরের বরকত চলে গেল তখন নতুন বউকে দোষারুপ করা আরম্ভ করা শুরু করে দিলেন, এখন সকলে বলাবলি করছেন আমার ছেলের বউ অপয়া, অলুক্ষুনে, অথচ আপনার ঘর থেকে বরকত চলে যাওয়ার এন্তেজামতো আপনি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিয়ের দিনই সেড়ে ফেলেছেন।
পুরুষের জন্য মেহেদী
আপনি কি জানেন না? পুরুষের জন্য মেহেদী ব্যবহার জায়েজ নাই, তবুও আপনার ছেলে মেহেদী পড়েছে।
নবী করিম (দঃ) এর জামানায় এক হিজরা ছিল যে নিজের হাতে মেহেদী লাগিয়েছিল, শরীয়তে হিজড়ারা পুরুষের হকুমের অন্তভূক্ত, হিজরাটি মেয়েলি সাজসজ্জা করত তাই প্রিয় নবী সে হিজড়াকে মদিনা থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
পুরুষের স্বর্ণ ব্যবহার
আপনি জানেন না ছেলের জন্য স্বণ পরিধান করা হারাম, তবুও আপনার ছেলেকে তার শশুড়বাড়ীর লোকেরা সবাই এসে স্বণের আংটি পড়িয়ে দিল। অথচ নবী করিম (দঃ) একদিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে এক হাতে সোনা নিলেন অন্য হাতে রেশম নিলেন, আর ফরমালেন এ ২টি জিনিষ আমার উম্মতের পুরুষেদের জন্য দুনিয়ার জমিনে হারাম। এটি জান্নাতে জান্নাতি পুরুষরাও পরিধান করবে ইনশাআল্লাহ, তবে দুনিয়ায় স্বণ পুরুষদের জন্য হারাম। সুতরাং কিছুক্ষনের জন্য হলেও যদি বিয়ে উপলক্ষে আপনার সন্তান বিয়ে অনুষ্ঠানে স্বণ ব্যবহার করে সে জন্যও শাস্তি ভোগ করতে হবে।
কাবিন মহরানা
আপনি কি জানেন না জুলূম করা হারাম? অথচ এ বিয়ে উপলক্ষে এক পক্ষ অপর পক্ষের সাথে যে সব দেন দরবার করে যা দেখে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে বন্ধ কর এসব রসম ও রেওয়াজ। কাবিন এর টাকা দিতে পারবে কিনা তার চিন্তা নাই লক্ষ কোটি টাকার কাবিন, আর সে রেফারেন্স ধরে গরীবের ছেলেরা বিয়ে করতে পারছে না। রেফারেন্স দেয় আমার পাশের বাড়ীর চৌধুরীর মেয়ের বিয়ে দিয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা কাবিন দিয়ে আমার মেয়ে কম কিসের তার জন্য ৬০ লক্ষ কাবিন দিতে হবে। এসব হল হারাম প্রতিযোগিতা। এসব রসমের কারনে আজকাল বিয়ে করাটা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে আর জেনার মত জঘন্য নোংড়া কাজ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হালাল ও সুন্নত কঠিন হয়ে যাচ্ছে হারাম কাজ সহজ হয়ে যাচ্ছে।
একই রং এর কাপড়
এখনতো নতুন বেদয়াত চালু হয়েছে সকলে একই কালারের কাপড় পরিধান করতে হবে, এক কালারের কাপড় পরিধান না করলে আপনি ষ্টেইজে উঠার যোগ্যতা হারাবেন। আপনার পকেটে টাকা থাক না থাক আপনাকে আপনার আত্মিয়ের বিয়েতে যাওয়ার জন্য আপনার সন্তানকে এক কালারের কাপড়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।ধনীরা ফ্যাশন করে আর গরীবরা সে ফ্যাশনকে অনুকরণ করতে গিয়ে নাকের পানি চোখের পানি এক করে।
বেপর্দাগীরি
তাছাড়া এক একটি বিয়ে অনুষ্ঠান যেন এক একটি সিনামা হল, এতে দিন দিন বেপর্দেগি বাড়ছে যা বলার ভাষা আমার নাই। বিয়ে অনুষ্ঠানে শত শত এগানা বেগানা নারী পুরুষ একত্র হয় নারীরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে পার্লারে সাজগোজ করে আর সে নাজায়েজ সাজ সজ্জার উপরতো বোরখা পড়াটা যেন জঘন্য অপরাধ তাই কারো গায়ে বোরখা নামক বস্তুটি আর দেখা যায় না। কেহ যদি একান্ত বোরখা পরিধানও করেন তিনি যেন সে অনুষ্ঠানে বেমানান এক জগদ্ধল পাথর, সকলের কাছে তিনি যেন এক অসহ্য যন্ত্রনা, সকলের দৃষ্টিতে তিনি যেন এক গেঁয়ো ভুত। । এভাবে আজ বিয়ের আসরসমুহ বেপর্দেগী বেহায়াপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নাউজুবিল্লাহ।
স্টেইজে নববধু ও ক্যামেরা
ঘোমটা দেয়া পর্দানশীন বউ সে দৃশ্য এখন যেন সোনার হরিন, বিয়ে অনুষ্ঠানে আগত হাজার হাজার মেহমান সকলের সামনে সাজসজ্জা করে বসে আছেন নববধু আর সকলে সে নববধুর রুপ সৌন্দর্য্য দেখছে আর এক একজন একেক কমেন্ট করছে। তার উপর নতুন অভিষাপ হল আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন উচ্চ রেজুলেশন সম্পন্ন ক্যামরা ওয়ালা তাদের কাজ হল সে নতুন বউটিকে নানান এঙ্গেলে ছবি তোলা, স্বামী স্ত্রী দুজনকে কেমরাম্যান জড়িয়ে ধরার জন্য বলছে তারাও জড়িয়ে ধরে ধরে সবার সামনে ছবির পোঁচ দিচ্ছে। আর এসবের জন্য হাজার হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছে ক্যামরাম্যান।
গভীর রাত পর্যন্ত পটকা বাজনা
অনেক বিয়েতে গভির রাতে এত পটকা বাজি করা হয় তাতে এলাকাবাসী প্রতিবেশী সহ ছোট বড় সকলেই ভিতসন্ত্রস্ত্র হয়ে যায় যা শরীয়ত সমথন করে না।
তেমনি ভাবে কনেকে সাজানো মেহেদী লাগানো অলংকার পরিধান করানো এসবই জায়েজ তবে সে সব সাজগোজ হবে শুধু নববধুর স্বামীর জন্য, নববধুকে সাজিয়ে বাজারের পন্যের মত পদশন করানোর জন্য নয়।
বিয়ের পর পরিবারে অশান্তির কারন
আজ আমাদের পরিবার সমুহে অশান্তি বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মনোমালিন্য, কিংবা বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ, কিংবা বউ ননদের যুদ্ধ, এমনকি কয়েকমাসের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ এর ঘটনা ঘটতে দেখা যায় যা আমাদের সমাজে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তখন আপনি বুঝতে পারেন না কেন এমন হচ্ছে। আর বলতে থাকেন মনে হয় কেহ যাদু করেছে, এসব বাজে চিন্তা না করে ভাবুন আপনি কিংবা আপনার সন্তানের বিয়েতে এমন কোন কাজ কি হয়েছে যাতে আল্লাহ আল্লাহ রসুল নারাজ হয়েছে, আপনাদের আচরনে কি কোন লোক কষ্ট পেয়েছেন কিনা ভেবে দেখুন। তওবা করুন নিজের আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবকে বিয়ে অনুষ্ঠানের এসব না জায়েজ কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখুন, নিজে সুখে থাকুন পরিবারকে সুখে রাখুন সমাজ ও রাষ্ট্রকে শান্তিতে রাখুন।

কোন মন্তব্য নেই