বুদ্ধিজীবী ফ*হাদ মজ-হারের কুফরি ও বিভ্রান্তির খন্ডন || ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী || Abbasi

 বুদ্ধিজীবী ফ*হাদ মজ-হারের কুফরি ও বিভ্রান্তির খন্ডন || ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী || Abbasi 


 

ফরহাদ মাজহাররে যদি কাফের বলা না যায়, তো ফেরাউনরে কাফের বলবেন কেমন করে?, ঠিক।, ফরহাদ মাজহার খালেদ মহিউদ্দিনের সাথে টকশোতে চেয়ে কিছু আপত্তিকর কুফরি কথা বলেছে। ধর্ম অবমাননা শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এই বিধানকে অস্বীকার করে সে বলেছে, "হানাফী মাযহাবে ধর্ম অবমাননা শাস্তি মৃত্যুদন্ড এ কথা কোথায় আছে?", তারপরে ভন্ড বুদ্ধিজীবী বলছে, "কোরআন কোন দলিল নয়, কোরআন হচ্ছে শুধুই ওহী।", নাউজুবিল্লাহ।, ওর গলায় যদি ফাঁসি দেন, ওহী শব্দের অর্থ করতে পারবে সে?, না।, জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে বাউল বিতর্ক সহ বিভিন্ন বিতর্ক সামনে আসাকে সে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেছে, "বিতর্ক ছাড়া তো ইতিহাস আগায়নি।", এই কথাটাও তার ইসলাম বিরোধী একটি কুফরি মতবাদ।, ভন্ড ফরহাদ মাজহার খালেদ মহিউদ্দিনের সাথে টকশোতে চেয়ে কিছু আপত্তিকর কুফুরি কথা বলেছে। তাকে তো চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, সে তো রাজি না। এজন্য আমাকে তার ভন্ডামি ও কুফরির জবাব দিতে হচ্ছে।

সে বক্তব্য, এক লালনের একটি কথাকে সে উল্লেখ করছে। লালন বলেছে, "মানুষ আল্লাহ ডাকে, অথচ মানুষের মধ্যে আল্লাহ বিরাজ করেন।" বলেন, নাউজুবিল্লাহ। তাহলে সে বুঝাতে চাচ্ছে আল্লাহর জিকির করার দরকার নাই। নাউজুবিল্লাহ। অথচ আল্লাহ কোরআন শরীফে বলেছেন, "ইয়া আইয়্যুহা্ল্লা ঈমানদারগণ তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করো।", আর এ ভন্ড বুদ্ধিজীবী ভন্ড লালনের উক্তিকে প্রচার করে যে, "মানুষ আল্লাহকে ডাকে," তাহলে কি তার সন্দেহ কোরআনের প্রতি? নাকি? কথা বলেন। তাইতো বুঝা যায়, কোরআনের নির্দেশ তো আল্লাহকে জিকির করো, আল্লাহকে ডাকো। আস, তাইলে তার বক্তব্যটা কোরআন বিরোধী। কোরআন বিরোধী যার বক্তব্য, সে মুসলিম না কাফের? কাফের। যে মৌলভীগুলো আমারে অপবাদ দেয় আমি কথায় কথায় কাফের বলি, এই মৌলবীগুলো এখন চুপ কেন? ঠিক। আসলে কিছু ভন্ড মৌলভী যে অপপ্রচার করে, এগুলো একটা সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা। ঠিক। মুফ ফাউন্ডেশন, ইন্টারফেক্ট, খ্রিস্টানদের বিভিন্ন সংস্থা, এ কথিত সুফিবাদী এদের সমন্বিত চক্রান্ত হিসেবেই এই ভন্ড বক্তা স্কলাররা কিছু কুফরি আকিদা ও কুফরি কনসেপ্ট সমাজের মধ্যে ছড়ায় দিছে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে কথায় কথায় কাফের বলা যাবে না। যদি মানুষ কথায় কথায় কাফের হয়, কথায় কথায় কাফের বলা যাবে। কথা বুঝেন নাই?

এরপর আরেকটা শেরকি কথা, মানুষের মধ্যে আল্লাহ বিরাজ করেন। এ আকিদা যে রাখবে, সে কাফের হয়ে যাবে। হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ আকিদার কিতাবে এসেছে, "মানতা আল্লাহলাবিশ কাফ" যেই বিশ্বাস রাখলো যে আল্লাহ কোন ব্যক্তির ভিতরে বা বস্তুর ভিতরে প্রবেশ করছেন, সে কাফের হয়ে গেল।, অতএব এটা একটা কুফরি আকিদা। সর্বেশ্বরবাদী বা ওয়াহদাতুল উজুদে বিশ্বাসী যারা, তারা এই কথা প্রচার করে। আমরা মুসলমান, তাওহীদবাদী। আমরা ওয়াহদাতুল উজুদে বিশ্বাসী না। আমরা ওয়াহদাতুশ সুহুদে বিশ্বাসী। আর এই লালনপন্থী যারা কথিত সুফিবাদী ভন্ড জিন্দিক, এই ভন্ড বুদ্ধিজীবীর মত আরো যারা আছে, তাদের আকিদা হচ্ছে সর্বেশ্বরবাদী আকিদা। তারা মনে করতে চায় নাউজুবিল্লাহ, এ কথা মুখেও আনতে পারবো না তারা বলতে চায়, সবকিছুতে ঈশ্বর আছে। নাউজুবিল্লাহ। শিরক কুফরি আকিদা। সবকিছুতে আল্লাহ আছেন, এটা শেরকি মতবাদ। সবকিছু আল্লাহর, এটা হচ্ছে ওয়াহদাতুশ সুহুদ। আমরা ওয়াহদাতুশ সুহুদকে বিশ্বাস করি। ওয়াহদাতুল উজুদ একটা শেরকি মতবাদ, এটা কোন মুসলমান বিশ্বাস করতে পারে না। কথা বুঝতে পারছেন?

তারপরে ভন্ড বুদ্ধিজীবী বলছে, "কোরআন কোন দলিল নয়।" নাউজুবিল্লাহ। "কোরআন হচ্ছে শুধুই ওহী।" নাউজুবিল্লাহ। ওর গলায় যদি ফাঁসি দেন, ওহী শব্দের অর্থ করতে পারবে সে? না। কথা বলেন না। ফরহাদকে বলবো, তুমি বাংলাদেশে কোন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে আগে মক্তবটা পড়াশোনা করো। তোমার ইসলামের বেসিক নলেজ নাই।, তুমি আছো মার্কস নিয়া, বোদা নিয়া, কালমার্স নিয়া, কান্ট নিয়া, হ্যাগেল নিয়া। এই হ্যাগেল, স্যাগেল এগুলো মুসলমানের কাছে কোন গুরুত্ব নাই। আমি আগেই বলছি, এদের দর্শনের বইয়ের পৃষ্ঠায় আমরা ঝালমুড়ি খেতেও প্রস্তুত না। কিচ্ছু নাই ওখানে শেরেক ছাড়া, কুফর ছাড়া। তুমি মুখস্ত করো। কারণ তোমারে আমার মনে হয়, তুমি খ্রিস্টান। খ্রিস্টানদের প্রতি খুব প্রীতি তোমার, হিন্দুদের প্রতি খুব প্রীতি। দেখেন না পিছনে সরস্বতীর মূর্তি, সামনে লালনের দোতারা, বেহালা। ঠিক কিনা? এ হইছে মুসলমানদের বড় বুদ্ধিজীবী! বলে, "আমি নাস্তিক না।" তো আবু জেহেলও তো নাস্তিক ছিল না। আস্তিক মানেই তো মুসলিম না। আল্লাহর হাবিবের রেসালাতকে যে বিশ্বাস করবে না, উনার আনিত দ্বীন ইসলামকে যে সন্দেহ করবে, সে কাফের, কাফের, কাফের। ঠিক। নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার। নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসল্লাহ। আমরা বলি না, "তুমি নাস্তিক।" তা আবু জেহেলও তো নাস্তিক ছিল না। এমনকি ইবলিশও নাস্তিক না। ইবলিশও আল্লাহকে বিশ্বাস করে। অথবা নাস্তিক না হওয়াই মুসলিম হওয়ার পরিচয় বহন করে না। মুসলিম হতে হবে। তুমি যদি খ্রিস্টান হয়ে যাও, হিন্দু হয়ে যাও, আমাদের কোন আফসোস নাই। কিন্তু পরিচয় দিবা মুসলিম আর প্রচার করবা কুফুরি মতবাদ এই সুযোগ বাংলাদেশে দেওয়া হবে না।,

বাগ স্বাধীনতার দোহাই দিয়া বলে, "বাগ স্বাধীনতা কিতা? আমাকে রেস্ট করতে বলছো কেন? আমার কি বাক স্বাধীনতা নাই?" তার মানে ইসলামের পক্ষে বাক স্বাধীনতাকে মূল্যায়ন করো না। ইসলামের বিপক্ষে বাঘ স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দাও। বুদ্ধিজীবী দেখছি জীবনে! এইরকম ভন্ড বুদ্ধিজীবী দেখি নাই। বাউলার বাস্বাধীন আছে, আবুলের বাঘ স্বাধীনতা আছে, ফরহাদের বাঘ স্বাধীনতা আছে, কিন্তু আমার বাক স্বাধীনতা না ইসলামের পক্ষে। এটাই হচ্ছে পশ্চিমাদের বাঘ স্বাধীনতা নামের ভন্ডামি। যুবকরা রুখে দাঁড়ান, ইস্পাত কঠিন হন। বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না। যতদিন এ দেশ ইসলামের সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, এ দেশ কেউ দখল করতে পারবে না। ঠিক। আর ফরহাদের মত সিআই এর এজেন্ট যারা আমাদের সভ্যতাটাকেই পরিবর্তন করে দিতে চাচ্ছে বহুত্ববাদের নামে, বহু সংস্কৃতির নামে, বাঘ স্বাধীনতার নামে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে তখন কিন্তু নিজেরাই ধ্বংস হবেন না। আপনাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশটাকেও হারিয়ে ফেলবেন। আপনারা যেভাবে স্পেনের মুসলমানরা স্পেনকে হারিয়েছে, পূর্ব তিমুরের মুসলমানরা পূর্ব তিমুর হারিয়েছে, সুদানের মুসলমানরা তারফুরকে হারিয়েছে, ফিলিপাইনের মুসলমানেরা ফিলিপাইনকে হারিয়েছে।, মজবুত হন। সব আছে রাজনীতি নিয়া ভাবসাপ। কি একটা! সবাই ক্ষমতায় যাচ্ছে। সবাই, প্রত্যেক দলের নেতা স্বপ্ন দেখতেছে আগামীর প্রধানমন্ত্রী। পথে দেখেন না বাংলাদেশে কত বক্তা আর পীর সাহেব নির্বাচনে দাঁড়াইতেছে? জনগণ যা দেখে, মনে করে সবই আমার ভোটার। কিন্তু ভোটের পর দেখা যায়, জামানত নাই। পাশের আগেই বাস। ঠিক। জনগণের পালস বুঝলো না। পাওয়ার পলিটিক্স বুঝলো না। রাজনীতির মারপেজ বুঝলো না। গ্লোবাল পলিটিক্সকে এভয়েড করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু করা যায় না, তাই বুঝলো না। বা সব প্রচার করতেছে আর সব নির্বাচনে পাশ করে সবাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেছে। ফাঁকি দিয়া দেশটাই যায় কিনা, এই তো ভয় লাগে আমার। কথা বলেন।

আপনারা জানেন এই যে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যা হচ্ছে বাংলাদেশে, ওনার অসুস্থতা, বিদেশ যাবে কি যাবে না, তারেক রহমান আসবে কি আসবে না আমি শুরু থেকে এখানে পলিটিক্যাল কনসপিরেসি, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি। কিন্তু আপনারা তো সেদিক দৃষ্টি নাই, আপনাদের নেতাদেরও দৃষ্টি নাই। কেউ কেউ অপেক্ষায় আছে, "মাইনাস খালেদা, মাইনাস তারেক, মাঠঘাট আমাদের, আমরাই ক্ষমতায় চলে যাব।" যারা আশ্বাস দিছে পশ্চিমারা, ওরা ধোকাবাজ। ওরা সামনে দিয়া চমচম খাওয়ায়, পিছি দিয়া ছুরি মারে। অবস্থা যে হবে মিশরের মুরসির মত, সেই খবর নাই। সবকিছু আদায় টাদায় করে ফাঁসিতে লটকায় দিবে। ফাঁসিতে। এগুলো বুঝতে হবে আমাদেরকে। অনেকে বলে আমরা রাজনীতি করি না। আমরা রাজনীতি করি, রাজনীতি চর্চা করি। কারণ আমি আমার কওমকে তো বাদ দিতে পারি না, পারি? জাতিকে বাদ দিতে পারি? যে বাদ দিতে পারতাম, বহু আগে বাংলাদেশ ছেড়ে ভাগতাম, পালাইতাম। কিন্তু দায়বদ্ধতা আছে আমাদের। দায়বদ্ধতা আছে এই জাতির প্রতি, সেজন্য আমরা পালাতে পারি না। কথা বুঝেন নাই, প্রিয় বন্ধুগণ? তো যে কথা বলছিলাম, এই ফরহাদ বলে, "কোরআন কোন দলিল নয়, কোরআন হচ্ছে শুধু ওহী।" এটা তার আরেকটা কুফরি কথা। ওহী অর্থ 'আল-লামবিলখাফা', গোপনে কোন বার্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর নবীদের কাছে যে আসতো, ওইটাকে বলা হতো কি? ওহী। আল্লাহ দেড় হাজার বছর আগে নূর নবীজি মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করে ওহীর দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। উনার পরে আজ পর্যন্ত কোন প্রকারই নবী কিংবা রাসূল অবশ্যই আসে নাই, অবশ্যই এখনো নাই, কেয়ামত পর্যন্ত আসবে না। সেই ওহী হচ্ছে কোরআন। কি? তো ওহী মানে এই না যে দলিল থাকবে না।, কোরআন পুরাটাই তো দলিল। সে তো দলিল অর্থই বুঝে না। দলিল মানে নিদর্শন, দলিল মানে প্রমাণ। তো কোরআন শরীফে কোন বিষয়ের প্রমাণ নাই? আল্লাহ কোরআন শরীফে কি বলছেন? আল্লাহ বলেছেন, 'শাহরু রামাদাল্লা', কোরআনকে আল্লাহ বলছেন, নিদর্শন সমূহের আকর, দলিলে ভরপুর। সুবহানাল্লাহ। বলে, "কোরআন দলিল না!" কেমন পাঠা চিন্তা করেন। দাড়িগুলো ছোট হলে বলতাম ছাগলের মত, নাভি পর্যন্ত লম্বা দাড়ি! এতো পাঠার মত। কোরআন দলিল নয়? কোরআনের চেয়ে বড় দলিল আছে? সুবহানাল্লাহ। হানাফী, শাফী, মালিকী, হাম্বলী চারো মাযহাব একমত। আদিল্লাতুল ইসলামে আরবা, ইসলামে চারটা দলিল। তার প্রথমটাই হচ্ছে কোরআন, দ্বিতীয়টা হাদিস, তৃতীয়টা এজমা, চতুর্থটা কেয়াস। তো দলিলের ক্ষেত্রে প্রথম দলিলই তো কোরআন আসে। বলে, "কোরআন দলিল না!" সে কত বড় জিন্দিক, নাফরমান, মুরতাদ চিন্তা করুন! আর এই কথা বলার পর এখনো পর্যন্ত সরকার তারে গ্রেফতার করে নাই। তারপরে সে বলেছে ধর্ম অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এই বিধানকে অস্বীকার করে সে বলেছে, "হানাফী মাযহাবে ধর্ম অবমাননা শাস্তি মৃত্যুদন্ড এ কথা কোথায় আছে?" হানাফী মাযহাবের কয়টা কিতাব পড়ছে সে? কথা বলে। হানাফী মাযহাবের ফেকার যে প্রথম কিতাবগুলো মক্তবে আমরা পড়াই, 'তালিমুল ইসলাম', 'মালাবুদ্দ মিনহু' এগুলো পড়ছে নাকি?, কথা বলে না। ও তো হেগেলের বই পড়ছে। মেকিয়ালি, একুনাস এদের বই পড়ছে। ও তো ভালো মত তালিম ইসলামও পড়ে নাই। ও ইসলাম সম্পর্কে কথা বলবে কেন? এই অধিকারই তো তার নাই। কথা বলে না।

শুধু হানাফী মাযহাব নয়, চারো মাযহাবের মতে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তবে হানাফী মাযহাবের সুযোগ আছে। মুরতাদ যদি তওবা করতে চায়, তিনদিন টাইম দেওয়া হবে। কিন্তু যে সাতেম, অর্থাৎ মুরতাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে সাতেম, যে আল্লাহর শানে বেয়াদবি করে, রসূলুল্লাহর শানে বেয়াদবি করে, সে সাতেম। তার মৃত্যুদন্ড ওয়াজিব। তাকে মাফ করারও সুযোগ নাই। এটাই হানাফী মাযহাবের মুফতাবিহি কল। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে বাউল বিতর্ক সহ বিভিন্ন বিতর্ক সামনে আসাকে সে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেছে, "বিতর্ক ছাড়া তো ইতিহাস আগায়নি।" এই কথাটাও তার ইসলাম বিরোধী একটি কুফরি মতবাদ। যে বিষয়গুলো কোরআন হাদিসের দলিলে নিষ্পন্ন, ওই বিষয়ে বিতর্ক করার অধিকার কোন মুসলমানের নাই। কোন অধিকার নাই, বিতর্কের কোন সুযোগ নাই। এটা কেন বলে সে? এটাই হচ্ছে বহুত্ববাদ। সে এখন বাংলাদেশে চাচ্ছে বহুত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করতে। কি প্রতিষ্ঠা করতে? এটা একটা কুফরি মতবাদ। এ মতবাদকে আমরা বিশ্বাস করি না।,

এই যে ভন্ড বুদ্ধিজীবী এরকম নিকৃষ্ট পর্যায়ে নাস্তিক, বেইমান হইছে কাদের বই পড়ে? সে নিজেই বলছে, একজন হচ্ছে ইমানুয়েল কান্ট। বুঝলেন? ১৭৪৯ সালে তার জন্ম, সে ছিল ইহুদি। কি ছিল? তার লেখা বইটি সে পড়ছে। এর মধ্যে তার একটা মতবাদ ছিল 'গ্রাউন্ড ওয়ার্ক অফ মেটাফিজিক্স অফ মোরালস'। এ বিষয়ের উপর তার লেখালেখি আছে। তার দর্শনের মূল কথা ছিল, "সঠিক কাজ হলো সেই কাজ, যা সবাই করলে সঠিক হবে," মানে সর্বজনীন নীতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। আচ্ছা, সবাই মিলে যদি সমকামী হয়, এটা সঠিক কাজ হয়ে যাবে? কথা বলেন। সবাই মিলে যেই কাজ করে, ওটাই যদি সঠিক কাজ হয়, বাংলাদেশে অন্তত এক কোটি যুবক পাওয়া যাবে ইয়াবাকে পছন্দ করে। এটারে স্বীকৃতি দিতে হয়? না। চিন্তা করেন, ফরহাদের মাথার মগজ কি মাথায়? না হাটুতে? না আরো নিচে? আমি জানি না। কথা বলে। এইরকম ইমানুয়েল কান্টের লেখা এ ভয়াজ ফালতু জিনিস এগুলোরে লালন করে। কথা বুঝতে পারছেন? সবাই মিলে খারাপ কাজ করলে ভালো হয়ে যাবে? খারাপ চিরকাল খারাপই থাকবে। সে চাচ্ছে পশ্চিমাদের মত একটা নিকৃষ্ট উগ্র পশ্চিমা মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে। যেমন ইউরোপ আমেরিকায় ভাই-বোন ফিজিক্যাল রিলেশন করে, মা ছেলে ফিজিক্যাল রিলেশন করে।, এগুলো পশ্চিমা সমাজে কোন অন্যায় নয়। কারণ পশ্চিমা দর্শন গড়ে উঠেছে ইমানুয়েল কান্টের মত শয়তানের অনুসারীদের দ্বারা। সেই মতবাদ বাংলাদেশে আমদানি করতে চায়। দিবেন? কথা বলে না।

আরেকজন, আরেকজনরেও ঠাকুর মানে। এ হচ্ছে ফ্রিডরিক হেগেল। এর জন্ম ১৭৭০ সালে জার্মানে। সেও ছিল ইয়াহুদি। সেও ছিল কি? তার দর্শনের মূল ছিল আইডিয়ালিজম। কথা বুঝতে পারছেন? এবং হিস্টরিক্যাল ডায়ালটিক্স। ডায়ালটিক্স ভিত্তিক এটা। এগুলো ছিল তার দর্শনের মূল কথা। বুঝতে পারছেন? এই হেগেল বলে গেছে, সব বিষয় ত্রিমুখী প্রক্রিয়ায় বিকাশ পায়: থিসিস, এন্টিথিসিস, সিন্থেসিস। এগুলো হচ্ছে পশ্চিমা দার্শনিকদের উদ্ভট মনগড়া মতবাদ। কোরআন হাদিস দিয়ে যা প্রমাণিত, ওখানে তার বিপক্ষে কোন থিসিসও চলবে না। কোন থিসিস চলবে না। অতএব এইসব বস্তা পচা পশ্চিমা ইহুদি খ্রিস্টান দার্শনিকদের মতবাদ পড়ে সে নিজে হইছে এক ভন্ড বুদ্ধিজীবী। পাঠচক্রের মাধ্যমে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদেরকে গোমরাহ করতেছে, পথভ্রষ্ট করতেছে। আমি বাংলাদেশ সরকারকে বলব, "এই উম্মাত পাগল বুদ্ধিজীবীকে এখনি সামলান।" ঠিক। নতুবা দেশে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে এ ভন্ড বুদ্ধিজীবী ও অন্যান্য ভন্ড বুদ্ধিজীবীদের মতবাদ থেকে রক্ষা করুন।, বলুন, "আল্লাহুম্মা আমিন।", আমরা ইসলাম নিয়ে বেঁচে আছি, ইসলাম নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই, ইসলাম নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চাই।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.