রাতে মহাকাশ থেকেও দেখা গেলো পবিত্র কাবা! ৪০০ কিলোমিটার উপর থেকে আলোকিত মক্কা

 সুদূর মহাকাশ থেকেও উজ্জ্বল পবিত্র কাবা শরীফ: ৪০০ কিলোমিটার উপর থেকে মক্কা নগরীর দৃশ্য


সুদূর মহাকাশ থেকেও মুসলমানদের পবিত্র কেবলা কাবা শরীফ স্পষ্ট দেখা যায়। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে ভাসমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে তোলা একটি ছবিতে রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত এই পবিত্র স্থাপনাটিকে জলজল করতে দেখা গেছে। এটি মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

নাসার মহাকাশচারী ডন পেটিট অসাধারণ এই মুহূর্তের ছবিটি তুলেছেন। আইএসএস থেকে নিজের সর্বশেষ মিশন শেষে তিনি সম্প্রতি পৃথিবীতে ফিরেছেন। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, "মক্কার কক্ষপথ থেকে দেখা দৃশ্য; মাঝখানের উজ্জ্বল বিন্দুটি হল পবিত্র কাবা"।

কয়েকশো কিলোমিটার উপর থেকেও রাতের বেলা পবিত্র কাবা কীভাবে এতো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, তা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে আবেগ ও বিশ্বয় জাগিয়েছে। পাহাড় ঘেরা উপত্যকার মাঝখানে মক্কা নগরী অবস্থিত। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আলোকিত মসজিদুল হারাম যেন শস্যদানার মতো ঝলমল করছে। উচ্চমানের ক্যামেরার লেন্সেই মসজিদুল হারামের ২৪ ঘণ্টার আলোকসজ্জা স্পষ্ট বোঝা যায়, যা রাতেও কাবাকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলে ধরে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন দৃশ্য নিয়ে নানা রকম ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে। যেমন, অনেকের দাবি, কাবা শরীফ থেকে অলৌকিক রশ্মি বের হয়। যদিও ধর্মীয় দিক থেকে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বলছে, মসজিদুল হারামের বিপুল আলোকসজ্জা, সাদা মার্বেলের প্রতিফলন এবং ঘনবসতিপূর্ণ মক্কা নগরীর আলোকরাশি মিলেই এই অভূতপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়।

মহাকাশ থেকে শহর দেখতে এক ধরনের প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রতি ঘণ্টায় ২৮,০০০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। এমন দ্রুতগতির মধ্যে পরিষ্কার ছবি তোলার জন্য দরকার হয় বিশেষ সংবেদনশীল ক্যামেরা ও দীর্ঘ এক্সপোজারের কৌশল। ডন পেটিটের মতো অভিজ্ঞ নভোচারীরাই রাতেও এমন পরিষ্কার ছবি তুলতে পারেন। পৃথিবীর যেকোনো বড় শহরের মতোই মক্কা নগরী রাতের বেলায় এক আলোকিত দাগ হিসেবে স্পষ্ট দেখা যায়; আর সেই দাগের কেন্দ্রেই কাবা শরীফকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

মসজিদুল হারামের বিশাল আলো ও গম্বুজের কাঠামোর কারণে শুধু মক্কায় নয়, মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীর আরও অনেক বিখ্যাত স্থাপনা বিশেষভাবে চোখে পড়ে। রাতের আলোকসজ্জার কারণে মিশরের নীলনদকে জলজল করা সাপের মতো দেখায়। কায়রোর পিরামিড অঞ্চল ধরা পড়ে ফিকে আলোর বিন্দু হিসেবে। এছাড়া, দিল্লি, মুম্বাই, টোকিও, সিওল, দুবাই ও নিউইয়র্কের মতো নগরীগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। এমনকি চীনের গ্রেটওয়াল, আমাজন নদীর মোহনা বা দুবাইয়ের পামের মতো স্থাপনাও সঠিক আলো ও আবহাওয়ার সময় স্পষ্ট দেখা সম্ভব।

পবিত্র কাবা শরীফ মহাকাশ থেকে দৃশ্যমান; এটা কোনো অবিশ্বাস্য ঘটনা নয়। বরং এর মূল কারণ হলো আলোকিত মসজিদুল হারামের বিশাল বিস্তার, শহরের ঘন আলো এবং সাদা মার্বেলের প্রতিফলন। বৈজ্ঞানিক নানা ব্যাখ্যা থাকলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানরা এমন ছবি দেখে আবেগ ও গর্ব অনুভব করেন। কোটি মানুষের মনে এই অনুভূতি নিঃসন্দেহে আধ্যাত্মিক। পৃথিবীর অনেক উপর থেকে দেখা মসজিদুল হারামের রাতের আলো মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বের সকল মুসলমানরা পবিত্র কাবার দিকে মুখ করেই মহান আল্লাহর প্রার্থনা করে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.