মেধা বা বুদ্ধির গল্প। ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য চমৎকার গাইডলাইন। Ja...







জমাদিউল আউয়্যাল এর ২য় জুমা
বুদ্ধি বা আকল
বুদ্ধি বা মেধা, আকল,
প্রতিভা, বুঝ, প্রজ্ঞা এসব কি?
#মুজামুল ওয়াছিত এ আকলের পরিচয়ঃ আকলের মাধ্যমে সুন্দর-অসুন্দর, ভালো মন্দ ও
সত্য মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করার সক্ষমতা অর্জিত হয়।
#ইবরাহীম হারবী আহমদ বিন হাম্বল বলেন- আকল মুনষের একটি স্বভাবজাত অপরিহার্য
গুন।
# হযরত মুহাসাবী
বলেছেন
- জীবনের আঁধার অনিশ্চিত পথে মানুষকে যে আলো পথ দেখায়,
সেটাই মুলত আকল, মেধা ও বুদ্ধিমত্তা

আকলের বাড়ী কোথায়?
আকল কোথায় থাকে এই নিয়েও এখতেলাফ আছে
#ইমাম আহমদ ও ইমাম আজমের মতে আকলের বাড়ী হল মস্তিস্কে
যেমন আমরা বলি মাথায় বুদ্ধি আছে, ঘিলু আছে, ব্রেইন শাপ, এসব এ জন্যই বলি কারন
আমাদের বিশ্বাস হল বুদ্ধি থাকে মাথায়।
#ইমাম শাফেঈর মতে আকলের বাড়ী হল অন্তরে, ক্বলবে, তিনি দলিল হিসেবে কুরানের
আয়াত পেশ করেন ( ফাতাকুনা লাহুম কুলুবুন এয়াকিলুনা
বিহা)
অর্থ্যাৎ- অতএব, তাদের যদি অন্তরই থাকত, তা হলে তারা তা দ্বারা
অনুধাবন করতে পারত। (সুরা হজ্ব ৪৬)

মেধা বা বুদ্ধিকে আরবীতে কি বলে?
আরবীতে ৩টি শব্দ আছে জেহেন/ ফাহাম/ জাকাওয়াত এ ৩ টি শব্দ দ্বারাই মেধা বা
বুদ্ধিমত্বাকে বুঝানো হয়। যেমন আমরা দোয়া করার সময় বলি আল্লাহ (জেহেনান জাকিয়্যান,
ফাহমান কামেলান)

মেধাবী বা বুদ্ধিমান চিনার উপায়
#হযরত ইউসুফ
ইবনে হুসাইন বলেন
, আমি জুন্নুন মিসরীকে বলতে শুনেছি যার মধ্যে ৫টি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে, তুমি
তার বুদ্ধি ও সৌভাগ্যের ব্যপারে আশাবাদী হতে পারো
যেমন () মধ্যম গঠন () চঞ্চল চিত্ত
() জ্ঞানের প্রাচুর্য ()
নির্ভেজাল একত্ববাদ () উত্তম
জন্ম

# হযরত আলী
(রাঃ) বলেছেন, মানুষের বুদ্ধিমত্বা
লুকিয়ে থাকে তার জিহ্বার নিচে
এ কারণেই মানুষের বুদ্ধি পরিচয় পাওয়া যায় তার চুপ থাকা, যথাস্থানে স্বল্প কথা বলা দ্বারা বুদ্ধিমান প্রত্যেক কাজের শেষ পরিণতির চিন্তা করেই কদম বাড়ায় বুদ্ধিমানরা সব সময় কথা বার্তা, চালচলন, কাজে কর্মে সকলের প্রসংশা কুড়ান আর বোকারা দুর্নাম

# হযরত ওহাব
ইবনে মুনাব্বেহ বর্ণনা করেন
- হযরত লোকমান হাকিম তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন
হে বেটা
, কোন ব্যক্তির আকল ততক্ষন পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয়না,
যতক্ষণ পর্যন্ত না তার মাঝে ১০টি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়
()
অহংকার থাকবে না () মনের
দিক থেকে নিশ্চিত সঠিক পথে থাকবে
() দুনিয়া
থেকৈ শক্তি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবে
() সম্মানের
চেয়ে বিনয়টা বেশী প্রিয় হবে
() মিথ্যা
মর্যাদা পাওয়ার চেয়ে সাময়িক অপমানই কাম্য হবে
() দীর্ঘক্ষণ ফিকহের জ্ঞান অন্বেষনেও ক্লান্ত হবে না ()
বিত্তশালীর কাছে জরুরী কিছু চাওয়াকে লঞ্চনার মনে করবে না () অন্যরা তাকে খুব চিনবে কিন্তু সে নিজেকে প্রকাশ করবে
কম
() পৃথিবীর সকলকে তার থেকে ভালো মনে
করবে
(১০) প্রচুর দান করবে

আকল বা বুদ্ধির সৃষ্টিঃ
#আল্লাহ তায়ালা
কলম সৃষ্টি করে কলমকে বললেন যা হচ্ছে এবং কেয়ামত পযন্ত যা হবে তা লিখ
এরপর আল্লাহ সৃষ্টি করলেন আকল আল্লাহ বললেন আমার মর্যাদা ও বড়ত্বের কসম আমি যাকে ভালবাসব, তার মধ্যে তোমাকে (আকল) দান করব আর যার প্রতি রাগান্বিত হব, তার মধ্যে তোমাকে দেব
কমিয়ে
সুতরাং আকল বা বুদ্ধি এটা হল আল্লাহ নেয়ামত
# ইবনে আব্বাস
(রাঃ) বলেন, আল্লাহ আকল সৃষ্টি
করেন বলেন
, পিছে ঘোরো, আকল পিছে ঘোরল,
আবার বললেন সামনে ফিরো, সামনে ফিরল, এবার আল্লাহ বললেন আমি আমার সৃষ্টির মধ্যে তোমার চেয়ে সুন্দর কিছু সৃষ্টি করিনি
#হযরত লোকমান
হাকিম তাঁর ছেলেকে বলতে
, হে ছেলে, আল্লাহর
পক্ষ থেকে আকল বোধ বুদ্ধি চেয়ে নাও
কেননা মানুষের মধ্যে যে সবচেয়ে আকলমন্দ তার আমল সবচেয়ে সুন্দর আকল ও বুদ্ধীমত্বার সাথে আমল করার চেয়ে দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠ বলে
কিছু নেই

সন্তানকে কতবছরে স্কুলে দিবেন?
আপনার সন্তানকে অযথা মানসিক চাপ দিবেন না, তাঁদেরকে
হেসে খেলে বড় হতে দিন
, ৬ বছরের আগে অবুঝ শিশুটিকে স্কুলে দিবেন
না
, আপনি ঘরেই আপনার সন্তানকে অ-,
আলিফ বা- এক দুই, কয়েকটি
ছড়া
, ছোট ছোট সুরাগুলি, কলমা, এসব শিখান, ৭ বছর এর আগে নামাজের হকুমও দেননি কিন্তু
এখন ৩ বছরের বাচ্চাটিকেও বই এর চাপে অভিবাবকরা মানসিক ভাবে বেকার বানিয়ে ফেলছে

আকল বুদ্ধি বাড়ার আমল

খুব সহজে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির একটি আমল তুলে ধরব।

আমলটি হলো- যার স্মৃতিশক্তি দুর্বল তিনি নিজে অথবা তার পিতা-মাতা
প্রতিদিন প্রত্যেক নামাজের পর সূরা আলাম নাশরাহ পড়ে তার বুকে ফুঁ দিবে। সূরা পাঠ
করার শুরু ও শেষে একবার করে দরূদ শরিফ পড়বে। যদি শিক্ষার্থী সমঝদার হয়
, তবে প্রতিবার পড়তে বসার সময়, প্রত্যেক ক্লাসের
শুরুতে
, শিক্ষার প্রতিটি আসরের শুরুতে আগে-পরে দরূদ শরিফসহ এ
সূরা পড়ে নিজের বুকে ফুঁ দিবে। যে নিয়মিত এ আমল করবে
, আল্লাহর
রহমতে তার স্মৃতিশক্তি বাড়বে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুদ্ধিশক্তি বাড়িয়ে দিন আমিন


নবীদের বুদ্ধিমত্তা
# প্রতিবেশীর কষ্টের শেকায়েত করলে নবী করিম (দঃ) সকল মালপত্র নিয়ে রাস্তায়
নেমে  আসতে বুদ্ধি দিলেন, এলাকার সকলে যখন
এ ঘটনা দেখল, সকলে যখন প্রতিবেশীকে লানত দিতে লাগল, প্রতিবেশী নিজের ভুল বুঝতে
পেরে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী লোকটিকে কষ্ট না দেয়ার ওয়াদা করেন।
# ইবরাহিম (আঃ) হযরত ইসমাইল এর বইকে বললেন চৌখাট পরিবর্তন করে ফেলতে
#হযরত সুলায়মান ও আসল মা ও নকল মা
# প্রতিবেশীর হাস চুরি, অভিযৈাগ সুলায়মানের কাছে গেল, তিনি খুতবায় বললেন, কি ব্যপার
তোমাদের মধ্যে কেহ কেহ রাতে প্রতিবেশীর হাস চুরি কর আর মাথায় হাসের পালক নিয়ে
মসিজদে চলে আস, এমন সময় একজন মাথায় হাত দিয়ে মাথা পরিস্কার করতে লাগল,
সাহাবীর বুদ্ধিমত্তা
#সিংহ গর্তে পিছনে আরো ৪ জন সিংহ তাদের খেল, হযরত আলীর
বিচার ১ম যে পড়েছে সে পাবে এক চতুর্থাংশ, কারন তাকে বাঁচাতে গিয়ে ৩ জন, ২য় জন পাকে
এক তৃতীয়াংশ, কারন তাকে বাঁচাতে গিয়ে ২, ৩য় জন পাবে অর্ধেক, কারন তাকে বাঁচাতে
গিয়ে ১, শেষ জন পাবে পুরা ক্ষতিপুরণ, তারা মানল না, নবীজির কাছে গেল নবীজি বললেন
এই বিচার যথাথ হয়েছে।
সাবা
শহরের আবদুল্লাহ ইবনে আমের আযদায়ী একজন নেককার
ইদুরের নখ ও দাত লোহার তৈরী, ইদুরকে
বিড়ালটিও ভয়
- ছেলেকে বললেন চর দিতে, অপমানের
ধুয়া তুলে ঘর বিক্রী করে চলে গেলেন কয়েকদিন পরই মহা বন্যায় গোটা শহর ধ্বংস হয়ে গেল
এভাবেই আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে আল্লাহ গযব থেকে বাঁচিয়ে দিলেন
অষ্ট্রেলিয়ার দাবানল- হযরত ওমর
ও হযরত তামিম দারী

লোকমান
হাকিমেরে বুদ্ধিমত্বা
লোকমান হাকিমের মুনিব এর বাজী ধরা
এবং লোকমান হাকিমের বুদ্ধিমত্তায় মুনিবের জান বাঁচল, আর লোকমান হাকিমকে মুক্তকরে
দিল
মুনিব খেলায় এক লোকের সাথে বাজী ধরল
যে হারবে সে এই নদীর পানি পান করবে, অথব এর বিনিময়ে যা চাইবে তাই করতে হবে।
মুনিব হেরে গেল, এখন পানি পান করা
সম্ভব নয় তাই তাকে বলল তুমি কি চাও? সে বলল তোমার সব সমপদ দিয়ে দাও নতুবা তোমার
চোখ ২টি দাও, মুনিব বড়ই চিন্তিত, লোকমান বুদ্ধি দিল আপনি তাকে প্রশ্ন করুন নদীর
কোন ধারের পানি পান করবেন? যদি সে বলে পশ্চিম পারের আপনি তাকে বলুন তাহলে তুমি পূব
পারের পানিগুলি আটকে রাখ, আর যদি বলে পুব পারের তাহলে তুমি বলবে পশ্চিম পারের গুলি
আটকে রাখ,
যেহেতু তা সম্ভব নয় সুতরাং যেদিন
বাঁধ দিতে পারবে সেদিন পান করব, তখন সে লোকটি চুপষে গেল, আর এ খুশিতে মনিব
লোকমানকে আযাদ করে দিল।
বুদ্ধি বাড়ানোর উপায়
#বেশী বেশী বই পড়ুন, পাঠ্য বই ছাড়াও নানান ধরনের জ্ঞান
অর্জনের নিয়তে বই পড়ুন, কুরান হাদীস তফসীর পড়ুন, জ্ঞানীদের জীবনী পড়ুন।
#রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে যাবেন সকালে ভোরে জাগবেন, রাত জেগে
স্টাডি থেকে বিরত থাকবেন। দৈনিক ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাবেন
#মুভি, নাটক, গেইম, কাটুন এসব থেকে বিরত থাকতে না পারলে
বুদ্ধি বাড়বে না।
# প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে ধ্যান করুন, যাকে
বলা হয় মোরাকাবা, এই মোরাকাবার সময় আল্লাহেকে স্মরণ করুন।
# সামাজিকতার কারনেও বুদ্ধী বৃদ্ধি পায়, ২০০৮ সালের এক
গবেষণায় দেখা যায়
, যেসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সামাজিকতায় তেমন
অংশ নেন না
, তাদের মস্তিষ্ক সামাজিকদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে
ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
# নতুন কিছু শিখুন: নতুন
কোনো কাজ শেখার চেষ্টা করলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। এই যেমন ধরুন আপনি হয়তো কাগজের
প্লেন তৈরি করতে জানেন না। সেটা শিখে নিয়ে তৈরি করুন। কিংবা নতুন কোনো কাজ করতে
শুরু করুন। স্মৃতিশক্তি এতে বাড়বে।
#মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। মানসিক চাপ বাড়লে স্মৃতিশক্তি
কমতে শুরু করে। বন্ধু ও পরিচিতজনের সংখ্যা বাড়ান এবং তাদের সঙ্গে গড়ে তুলুন
গঠনমূলক সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক।




কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.