আল্লাহর ভালবাসা পাওয়ার উপায় The way to get the love of Allah|| Juma Khut...







জমাদিউল আউয়্যাল-৩য় খুতবা
আল্লাহর সাথে মুহব্বত
(ওয়াল্লাজিনা আমানু আশাদ্দু
হুব্বান লিল্লাহ)
অর্থ্যাৎ- ঈমানদারদের
আল্লাহর সাথে গভির মুহব্বত হয়।

ভালোবাসা পবিত্র কোরআনে ৭টি পর্বে ৬৩ বার উল্লেখ হয়েছে বিশ্বাসী বা মোমিনদের ভালোবাসা সম্পর্কে ১৪টি আয়াত রয়েছে; কাফেরদের ভালোবাসা সম্পর্কে রয়েছে ১২টি আয়াত; আল্লাহ ভালোবাসেন না প্রসঙ্গে আছে ১৫টি আয়াত; আল্লাহ ভালোবাসেন প্রসঙ্গে আছে ৯টি আয়াত; ভুল করে ভালোবাসা সম্পর্কে বিবৃত আছে ৩টি আয়াত, ভালোবাসার অসার দাবি সম্পর্কে রয়েছে ১টি আয়াত; ভালোবাসার অন্যান্য প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে ৬টি আয়াত

বিশ্বাসী বা মোমিনদের ভালোবাসার ১৪টি আয়াত হল

আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবেযদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার নবী (সা.)-এর অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন(আলে ইমরান: ৩১) ইমানকে ভালোবাসা কুফরকে ঘৃণা করতে হবে (হুজুরাত: ) প্রভুর জিকরের ভালোবাসা মোমিনের হৃদয়ে থাকবে (ছদ: ৩২) ধ্বংসশীলদের ভালো না বাসাই যৌক্তিক (আনআম: ৭৬) ভালোবাসার জিনিস ব্যয় (দান) করা প্রকৃত কল্যাণ লাভের উপায় (আলে ইমরান: ৯২) আল্লাহর ভালোবাসায় দান করা মোমিনের পরিচয় (বাকারা: ১৭৭) আল্লাহর ক্ষমাকে ভালোবাসা বিশ্বাসীদের কাজ (নূর: ২২) বিজয়/সফলতাকে ভালোবাসা মানব স্বভাব (ছফ: ১৩) তোমরা তাদের (অবিশ্বাসী অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের) ভালোবাসো কিন্তু তারা তোমাদের ভালোবাসে না আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা  আল্লাহকে ভালোবাসে (মায়িদা: ৫৪) মোমিনগণ আল্লাহকে কঠিন ভালোবাসেন (বাকারা: ১৬৫) তাঁরা (মোমিনরা) মুহাজিরদের ভালোবাসেন (হাসর: ) হাজতবাসকে আমি (হজরত ইউসুফ .) মন্দ কাজ অপেক্ষা ভালোবাসি (ইউসুফ: ৩৩) ভালোবাসলেই হিদায়াত দেওয়া যায় না (কছছ: ৫৬)

অবিশ্বাসী অকৃতজ্ঞদের ভালোবাসা ১২টি আয়াত

অকৃতজ্ঞ অবিশ্বাসীরা ইমানের চেয়ে কুফরকে বেশি ভালোবাসে (তাওবা: ২৩) অবিশ্বাসীরা দুনিয়াকে ভালোবাসে (আলে ইমরান: ১৫২) অকৃতজ্ঞরা দুনিয়ার জীবনকে ভালোবাসে (নাহল: ১০৭) অবিশ্বাসীরা নগদকে ভালোবাসে (কিয়ামাত: ২০-২১; দাহর: ২৭) আল্লাহ আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসার চেয়ে অন্য কিছুকে ভালোবাসা মুনাফিকদের স্বভাব (তাওবা: ২৪) হিদায়াতের চেয়ে অন্ধত্বকে ভালোবাসে সংশয়বাদীরা (হামিম সাজদা: ১৭) সম্পদকে ভালোবাসে বোকারা (ফাজর: ২০) সম্পদের কঠিন ভালোবাসা নির্বোধদের কাজ (আদিয়াত: ) তোমরা (অশান্তিকারীরা) কল্যাণকামীদের ভালোবাসো না। (আরাফ: ৭৯) তারা (অহংকারীরা) কাজ না করেই প্রশংসা পেতে ভালোবাসে (আলে ইমরান: ১৮৮) যারা অশ্লীলতা প্রকাশে ভালোবাসে, তারা বিপথগামী (নূর: ১৯) কামনার ভালোবাসা পাপের কারণ (আলে ইমরান: ১৪)

আল্লাহ কি ভালবাসেন- কি কি ভালবাসেন না কুরানের আয়াত

• وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا
يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴿١٩٠ البقرة﴾

• إِنَّ اللَّهَ
لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا ﴿١٠٧ النساء﴾

• وَلَا
تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴿٨٧ المائدة﴾

• إِذْ قَالَ
لَهُ قَوْمُهُ لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ ﴿٧٦ القصص﴾

• فَانْبِذْ
إِلَيْهِمْ عَلَىٰ سَوَاءٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ ﴿٥٨ الأنفال﴾

• وَلَا تَبْغِ
الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ ﴿٧٧ القصص﴾

• وَلَا تَمْشِ
فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿١٨
لقمان﴾

• فَمَنْ عَفَا
وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ ﴿٤٠
الشورى﴾


• وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ
الْمُحْسِنِينَ ﴿١٩٥ البقرة﴾

• إِنَّ اللَّهَ
يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ ﴿٢٢٢ البقرة﴾

• بَلَىٰ مَنْ
أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ وَاتَّقَىٰ فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ ﴿٧٦ آل
عمران﴾

• فَإِذَا
عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ ﴿١٥٩
آل عمران﴾

• فَاعْفُ
عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٣ المائدة﴾

• وَإِنْ
حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
﴿٤٢ المائدة﴾

• فَأَتِمُّوا
إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَىٰ مُدَّتِهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ ﴿٤
التوبة﴾

• فَمَا
اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
﴿٧ التوبة﴾

• وَأَقْسِطُوا
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ﴿٩ الحجرات﴾

• أَنْ
تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ﴿٨
الممتحنة﴾

• إِنَّ اللَّهَ
يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا ﴿٤ الصف﴾


আল্লাহ তাআলা যা ভালোবাসেন না ১৫টি
আয়াত
আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না (বাকারা: ১৯০) আল্লাহ অবিশ্বাসী পাপীদের ভালোবাসেন না (বাকারা: ২৭৬) আল্লাহ অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের ভালোবাসেন না (আলে ইমরান: ৩২) আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না (আলে ইমরান: ৫৭ ১৪০; শুরা: ৪০) আল্লাহ গর্বিত উত্ফুল্লকারীদের ভালোবাসেন না (কছছ: ৭৬) আল্লাহ গর্বকারীদের ভালোবাসেন না (নিসা: ৩৬; লুকমান: ১৮; হাদীদ: ২৩) আল্লাহ অহংকারীদের ভালোবাসেন না (নাহল: ২৩) আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না (আনআম: ১৪১; আরাফ: ৩১) আল্লাহ আমানতের খেয়ানতকারীদের ভালোবাসেন না (আনফাল: ৫৮) আল্লাহ খেয়ানতকারী পাপীদের ভালোবাসেন না (নিসা: ১০৭) আল্লাহ খেয়ানতকারী কাফেরদের ভালোবাসেন না (হাজ: ৩৮) আল্লাহ কথায় (ভাষায়) মন্দ প্রকাশ করা ভালোবাসেন না (নিসা: ১৪৮) আল্লাহ ফ্যাসাদ বিপর্যয় ভালোবাসেন না (বাকারা: ২০৫) আল্লাহ ফ্যাসাদকারীদের (বিশৃঙ্খলাকারীদের) ভালোবাসেন না (মায়িদা: ৬৪; কছছ: ১২) (কারও অগোচরে তার দোষ চর্চা কোরো না; পশ্চাতে নিন্দা করা আপন ভাইয়ের লাশের মাংস ভক্ষণ করার সমতুল্য। গিবতকারীরা বা পরনিন্দাকারীরা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া ভালোবাসো কি? (হুজুরাত: ১২)

আল্লাহ যা ভালোবাসেন
৯টি আয়াত
আল্লাহ সৎ কর্মশীলদের ভালোবাসেন (বাকারা: ১৯৫; আলে ইমরান: ১৩৪ ১৪৮; মায়িদা: ১৩ ৯৩) আল্লাহ পবিত্রদের ভালোবাসেন (তাওবা: ১০৮) আল্লাহ তওবাকারী পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন (বাকারা: ২২২) আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন (আলে ইমরান: ৭৬; তাওবা: ) আল্লাহ ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের ভালোবাসেন (আলে ইমরান: ১৪৬) আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন (আলে ইমরান: ১৫৯) আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন (মায়িদা: ৪২; হুজুরাত: ; মুমতাহিনা: ) আল্লাহ মুজাহিদদের ভালোবাসেন (ছফ: ) আমি (আল্লাহ) তার মাঝে ভালোবাসা দিয়েছি (তহা: ৩৯)

আল্লাহ বান্দাকে কখন বলে
আমি তোমাকে ভালবাসি
আমরা নামাজ পড়ি, সিজদা, করি,
কাবার তাওয়াফ করি, তাহাজ্জুদ পড়ি, সব কিছু কারন একটাই আমরা আল্লাহকে ভালবাসি,
কিন্তু যাকে ভালবাসি সে যদি বলে দেয় আমিও তোমাকে ভালবাসি তাহলেতো আর কথাই নেই,
আমাদের সকলেরই আরজু আমি কে পরওয়ারদিগারকে ভালবাসি, সে ভালবাসার প্রমাণ দিতেই আমি
রাত দিন মেহনত করি, কিন্তু জানার ইচ্ছা জাগে সে পরোয়ারদিগারওকি আমাকে মহব্বত করেন?
হ্যাঁ আ্ল্লাহ তায়ালা বলেন যদি
তুমি জানতে চাও আমি তোমাকে মহব্বত করি কিনা তাহলে আমার নবীর চৌখাটে এসে যাও,
قُلْ إِن كُنتُمْ
تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ
ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।সুরা ইমরান :৩১ ]

তাওয়াক্কুলকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন
জুননুন মিসরী ও তাঁর মেয়ের ঘটনা
ঘটনা-
প্রখ্যাত বুযুগ জুননুন মিসরী মাছ শিকার করলেন কিন্তু সে মাছটির ঠোট নড়তে দেখে তাঁর
ছোট মেয়েটি মাছটি নদিতে ছেড়ে দিল, জুননুন প্রশ্ন করল মাছ ছাড়লে কেন? মেয়ে জবাব দিল
বাবা যে প্রাণী আল্লাহর জিকির করে তা কিভাবে আগুনে পুড়িয়ে খাব? আমরা বরং আল্লাহর
উপর তাওয়াক্কুল করি, তিনিই আমাদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন, সেদিন থেকে প্রতিদিন
তাঁদের জন্য আল্লাহ তায়ালা পক্ষ থেকে রিযিকের ব্যবস্থা হত, জুননুন মনে করত আল্লাহ
তায়ালা তার এবাদতে খুশি হয়ে এ নেয়ামত দান করছেন কিন্তু ১২ বছর পর সে মেয়েটি মারা
গেলে সে খাদ্য আসা বন্ধ হয়ে যায়, তখন জুননুন মিসরী বুঝতে পারলেন এ রিযিক আল্লাহ
তার মেয়ের তাওয়াক্কুলের কারনেই নাযীল করতেন।

• فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى
اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ ﴿١٥٩ آل عمران﴾


তাকওয়া ও আল্লাহর ভালবাসা
বুখারী
শরীফের হাদীসের মফহুম এক লোক গুনাহগার কিন্তু তাঁর অন্তরে আল্লাহর ভয় ছিল আল্লাহ
সে কারনে সে তাঁর মৃত্যুর আগ মুহুর্তে তার সন্তানদের অছিয়ত করল তার মৃত্যুর পর
তাকে যেন জ্বালিয়ে ছাই গুলি সমুদ্রে নিক্ষেপ করে, তার কথামত তার সন্তানরা তাই করল,
আল্লাহ তাঁকে প্রশ্ন করল তুমি কেন এমন করলে? সে জবাব দিল- হে প্রভু আমি গুনাহগার
আপনার পাকড়াও থেকে বাঁচার জন্যই আমি এমনটি করেছি, আল্লাহ তায়ালা সে বান্দা যে
আল্লাহকে ভয় করেছেন সে জন্য ক্ষমা করে দিলেন।
আল্লাহর নবীর তাকওয়া

একদিন হযরত আবু বকর (রা) রাসূল (সা)কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি দেখছি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে গেছেন তখন তিনি উত্তর দিলেন,সুরা ওয়াকিয়াহ, সুরা মুরসালাত, সুরা নাবা, কুব্বিরাত আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে

দেখুন আল্লাহর এত প্রিয় মাহবুব নবী, যার পূর্বের পরের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে তিনি বলছেন, আল্লাহর ভয়ে বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছেন তাহলে আল্লাহর রাসূল আল্লাহকে কেমন সীমাহীন ভয় করতেন!

সাবাহাবদের তাকওয়াব
আর মহান আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত যেমনআশারায়ে মুবাশশারাঅর্থাৎ বেহেশতের আগাম সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদেরও আল্লাহর ভয়ে নিজেদের সর্বনিম্ন স্তরের প্রাণী হিসেবে মনে করতেন হযরত আবু বকর (রা.) একদা একটি চড় পাখিকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, কী ভালো হতো যদি তোমার মতো চড় হতাম! আখেরাতে আমার হিসাব-নিকেশ হতো না! আর মাত্রাতিরিক্ত কান্নার কারণে হযরত ওমর (রা.) এর চেহারায় দাগ পড়ে গিয়েছিল তিনি কোরআনের আয়াত শুনে ভয়ে বেহুশ হতেন একবার মি থেকে তুলে একটি খড় হাতে নিয়ে বলেছিলেন, কতই না ভালো ছিল! যদি আমি পয়দা না হতাম

হযরত আলী (রা.) আল্লাহভীতি তথা তাকওয়া অবলম্বন করতে গিয়ে মলিন চেহারা ধারণ করেছিলেন যা শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত বহাল ছিল সময়কালে কেউ তাঁকে হাসতে দেখেননি

এক
মুহাদ্দিসের তাকওয়া ও হযরত ইউসুফ (আঃ) এর স্বপ্ন
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হযরত সুলাইমান ইবনে ইয়াসার হজ্জের সফরে যাচ্ছেন পথিমধ্যে তাঁর কাফেলা জঙ্গলে অবস্থান করলো সুলাইমানের সঙ্গীসাথীরা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে শহরের দিকে গেলো তিনি তাবুতেই রয়ে গেলেন অকস্মাৎ একটি নারী কণ্ঠের কমনীয় সুর কানে বিঁধলো এই নির্জন বনে নারী কোত্থেকে এলো!

বাহিরে বের হয়ে দেখলেন একজন রূপরী যুবতী দাড়িয়ে সুলাইমানকে দেখেই সে বললো, একটি কামনাদগ্ধ নারী একজন পুরুষের নিকট যা চায় আমি তোমার কাছে শুধু তাই চাই এই নির্জন প্রান্তরে এসো আমরা গোপন অভিসারের নাওয়ে ভেসে পড়ি আর তোমার রক্তেও তো কামনার আগুন জ্বলছে

মুহাদ্দিস সুলাইমান ইবনে ইয়াসার সাথে সাথে ইস্তিগফার পড়লেন বুঝে ফেললেন, নিভৃত জায়গায় একাকী পেয়ে শয়তান সারা জীবনের কামাই নষ্ট করার ফাঁদ পেতেছে কথা ভেবে তিনি এমন ভয়ানকভাবে কেঁদে উঠলেন যে, আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গেলো সে কি কান্না অশ্রুর বান ডেকেছে যেন সুলাইমানের দুচোখ হতে

এমনভাবে যুবককে কাঁদতে দেখে তরুণী ভয় পেয়ে গেলো একটুও দেরী না করে সে স্থান ত্যাগ করলো হযরত সুলাইমান ইবনে ইয়াসার মহান প্রতিপালকের শোকরিয়া আদায় করলেন

রাতে ঘুমের মাঝে স্বপ্নে দেখলেন হযরত ইউসুফ () এসেছেন নবী ইউসুফ () তাকে বলছেন, সুলাইমান! মোবারকবাদ! তুমি ওলী হয়ে সেই কাজ করেছো যা একজন নবী হিসেবে আমি করেছিলাম
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ও রুটি
ইমাম
আহমাদ বিন হাম্বল রহ,এর রুটি বানানোর জন্য খামিরের প্রয়োজন। ছেলে কাজি ছালেহ বিন
আহমাদের ঘর থেকে কিছু খামির এনে রুটি বানালো। ইমাম আহমাদের সামনে রুটি দেয়া হলো।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, খামির কোত্থেকে আনা হলো?

ছেলে বললো, কাজি সালেহর ঘর থেকে আনা হয়েছে।

ইমাম বললেন, সে তো এক বছর হলো কাজির পদে আছে। অর্থাৎ তার আয় রোজগারে হারামের
সম্ভাবনা আছে। কারণ বিভিন্ন সময়ে তাদের ঘুষ খেতে হয়। তাদের আয়কৃত বস্তু আমাদের
খাওয়া উচিৎ নয়।

এ বলে তিনি রুটি ছুয়েও দেখলেন না।

এরপর ইমাম আহমাদকে ছেলে জিজ্ঞেস করলো, আব্বাজান! রুটিগুলো তাহলে কী করা যায়?

ইমাম বললেন, রুটিগুলো রেখে দাও ভিখারীদের জন্য। কোন ভিখারী এলে তাকে বিস্তারিত সব
বলবে। বলবে খামির কাজি ছালেহ এর ঘর থেকে আসার কারণে ইমাম আহমাদ রুটিগুলো খান নাই।
এরপরও যদি ভিখারী রুটিগুলো চায় তাহলে দিয়ে দিবে।

চল্লিশ দিন পার হলো। দরজায় কোন ভিখারী এলো না। রুটিগুলো চল্লিশদিনে পঁচে নষ্ট হয়ে
গেলো। এখন কাউকে সেগুলো দেয়া যাবে না। ঘরের লোকজন রুটিগুলো নিয়ে দজলা নদীতে ফেলে
দিলো। নদীর মাছ সেগুলো খেয়ে নিলো।

এদিকে ইমাম আহমাদ রহ, শুনতে পেলেন নষ্ট রুটিগুলো দজলা নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। একথা
শোনার পর থেকে তিনি নদীর মাছ খাওয়াও ছেড়ে দিলেন। ইমাম আহমাদ রহ,এর মনে এই ভয়
সৃষ্টি হলো যে, না জানি কোন কোন মাছ রুটিটা খেয়েছে। এখন সে মাছটিই যদি আমার পাতে
চলে আসে তাহলে তো হারাম খাদ্য আমার পেটে চলে গেলোই।

আল্লাহ ভালবাসেন তা বুঝার
আরেকটি উপায় হল
 দুনিয়া থেকে আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়া
আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন তখন দুনিয়ার জিনিসের প্রতি তার অন্তরে আকর্ষণ কমিয়ে দেন।

যেভাবে ডাক্তার রোগীকে মাঝে মাঝে দাওয়াই হিসেবে পানি থেকে দূরে থাকতে বলে সেভাবে আল্লাহ তাকে দুনিয়ার জিনিস থেকে বাঁচিয়ে রাখেন
দুনিয়ার ধন-সম্পদ অর্থ-কড়ি পাওয়া জন্য তখন সে মরিয়া হয়ে পড়ে না। দুনিয়ার জীবনে সে তখন ততটুকু চায় যতটুকু একেবারে না হলেই নয়
সে জানে আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মূল্য একটা মশার ডানার সমান নয়। তখন সে এই দুনিয়ার জন্য বাঁচে না সে তখন পরকালের জন্য বাঁচে। পরকালের জীবনই তার একমাত্র লক্ষ্য হয়ে যায়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
"যখন আল্লাহ কোন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে দুনিয়াদারী থেকে ঠিক সেইরুপ বাঁচিয়ে নেন; যেরুপ তোমাদের কেউ তার রোগী ব্যক্তিকে পানি থেকে সাবধানে রাখে।"
[
তিরমিযী ২০৩৬, হাকেম ৭৭৬৪]


আল্লাহর
প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধির দোয়া

হাদিসে পাকে এসেছে, আল্লাহর নবি হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধিতে সবসময় একটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন প্রিয়নবি তা বর্ণনা করেন-
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَ حُبَّ مَنْ يُّحِبُّكَ
وَ الْعَمَلَ الَّذِىْ يَبْلُغُنِىْ حُبَّكَ


اَللَّهُمَّ اجْعَلْ
حُبَّكَ اَحَبَّ اِلَىَّ مِنْ نَفْسِىْ وَ اَهْلِىْ وَ مِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাইঁ ইউহিব্বুকা ওয়াল আমালাল্লাজি ইয়াবলুগুনি হুব্বাকা আল্লাহুম্মাযআল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাফসি ওয়া আহলি ওয়া মিনাল মায়িল বারিদি।(মিশকাত)
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ভালোবাসা লাভের আহ্বান করছি। তোমার সঙ্গে যেন আমার ভালোবাসা হয়ে যায়। তোমাকে যারা ভালোবাসে তাদের সঙ্গেও যেন আমার ভালোবাসা হয়ে যায়। আর যে কাজে তুমি পছন্দ কর সে কাজের সঙ্গে অর্থাৎ তোমার হুকুম-আহকামের সঙ্গে যেন ভালোবাসা হয়ে যায়
হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসা যেন আমার কাছে আমার নিজের চেয়েও বেশি হয়। আমার পরিবারকে যত বেশি ভালোবাসি তার চেয়েও যেন বেশি হয়। এমনকি ঠাণ্ডা পাণীয় থেকেও যেন তোমার ভালোবাসা আমার কাছে বেশি হয়।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.