মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইাহে ওয়াছাল্লামের কোন স্ত্রীর জানাজার নামাজ হয়নি।...







প্রিয় নবীর স্ত্রীদের মধ্যে কার জানাজা পড়া হয়নি
সম্মানিত দশক মন্ডলী আজ আমি উম্মাহাতুল মুমিনীনদের ব্যবপারে
অজানা কিছু তথ্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছি,
প্রথমত- হযরত খদিজাতুল কুবরা (রাঃ) হুযুর (দঃ) এর নেকাহে আসা
সবপ্রথম উম্মুল মুমিনীন ছিলেন। শাদীর সময় নবীর বয়স ছিল ২৫ বছর খদিজার (রাঃ) বয়স ছিল
৪০ বছর। ইতিপূর্বে খদিজার (রাঃ) ২ বার শাদী হয়েছিল ১ম স্বামীর ঘরে ১টি কন্যা সন্তান
২য় স্বামীর ঘরে ১টি পুত্র সন্তান ছিল যার নাম ছিল হিন্দ (রাঃ) তিনি জমলের যুদ্ধে শহীদ
হন। হযরত খদিজা ও হযরত মারিয়া (রাঃ) এই দুইজন উম্মাহাতুল মুমীনীন থেকে হুযুর (দঃ) এর
সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। হযরত খদিজার সাথে হুযুর (দঃ) এর ২৫ বছরের সংসার জীবন কাটে।
খাদিজার (রাঃ) জীবদ্দশায় তিনি আর কোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি।
মুসলিম জীবনীকারদের বর্ণনামতে, খাদিজার মৃত্যুর পর নবী করিম দঃ আরও ১০ জন (মতান্তরে
১২ জন) স্ত্রী গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তার স্ত্রীর সংখ্যা সর্বমোট ১১ জন (মতান্তরে ১৩ জন)।
ইসলামে এককালীনভাবে চারটির অধিক বিয়ে নিষিদ্ধ হলেও কুরআনের সূরা আহযাবের ৫০-৫২ আয়াত
অনুযায়ী মুহাম্মাদ (দঃ) চারটির অধিক বিয়ের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন। স্ত্রীদের মধ্যে
শুধুমাত্র হযরত আয়েশা (রাঃ)ছিলেন কুমারী। বাকি সব স্ত্রী ছিলেন বিধবা । মুহাম্মাদ
(দঃ) এর জীবনকে প্রধান দুইটি অংশে ভাগ করা
হয়মক্কী জীবন এবং মাদানী জীবন মক্কী জীবনে তিনি দুইজনকে বিয়ে করেন তার বাকি সবগুলো বিয়েই ছিলো মাদানী জীবনে তথা হিজরতের পরে  আমাদের
প্রিয় নবীর
 বৈবাহিক জীবনে তালাক ছিল না

সাওদা বিনতে যামআ[সম্পাদনা]

হিজরতের পূর্বেই (আনুমানিক ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে) খাদিজা এর মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পরেই মুহাম্মাদ এর সাথে তার বিবাহ হয়

আয়িশা বিনতে আবু বকর[সম্পাদনা]

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের কন্যা আয়িশা। তাকে উম্মুল মুমেনিন বলা হয়ে থাকে। ইসলামী শরিয়তের বৃহদংশ তার মাধ্যমে স্বীকৃত। তার গৃহেই মুহাম্মাদের ওফাত হয়। তাকে জান্নাতুল বাক্বীতে দাফন করা হয়েছে

হাফসা বিনতে উমর[সম্পাদনা]

তিনি ইসলামের ২য় খলিফা উমর এর কন্যা। হাফসার প্রথম স্বামী খুনাইস ইবনে হুজাইফা মারা গেলে উমর খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে প্রথমে আবু বকর এবং পরে উসমান কে বিবাহের প্রস্তাব দেন; কিন্তু তারা কেউ- রাজী হন না। পরে হিজরী ২য় বা ৩য় সালে মুহাম্মদ তাকে বিবাহ করেন। কথিত আছে, তিনি অত্যন্ত ইবাদত গুজার ছিলেন। রাতে অধিকাংশ সময় আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করতেন এবং বেশির ভাগ দিন রোজা রাখতেন
ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি ৪১ অথবা ৪৫ হিজরিতে পরলোকগমন করেন

যয়নাব বিনতে খুযাইমা[সম্পাদনা]

মুহাম্মাদ উনাকে হিজরতের একত্রিশ মাস পরে ৩য় হিজরীর রমজান মাসে বিবাহ করেন মাত্র আটমাস তার বিবাহাধীনে থেকে বিয়ের পরবর্তী বৎসরেই ৪র্থ হিজরীর রবিউস সানি মাসে তার মৃত্যু হয়। শুধুমাত্র তিনি এবং খাদিজা এই দুজনই মুহাম্মাদ এর জীবদ্দশায় মারা যান। বিভিন্ন বর্ণনামতে, তিনি অত্যন্ত দানশীলা মহিলা ছিলেন। ইসলাম-পূর্ব যুগেও একারনে তাকে উন্মুল মাসাকীন (গরিবের মা) বলে ডাকা হতো

উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবী উমাইয়্যা[সম্পাদনা]

৪র্থ হিজরিতে তার প্রথম স্বামী আবু সালামা এক যুদ্ধে শদীদ হন। অত:পর, শাওয়াল মাসে মুহাম্মাদ তাকে বিবাহ করেন। তিনি মুহাম্মাদের স্ত্রীদের মধ্যে সব শেষে (মতান্তরে ৫৯ বা ৬২ হিজরিতে) মৃত্যুবরণ করেন

রায়হানা বিনত যায়েদ[সম্পাদনা]

রায়হানা বিনত যায়েদ ছিলেন বানু নাদির গোত্রের একজন ইহুদী নারী যিনি মুসলমানদের নিকট "উম্মুল মুমেনীন" (ইসলামের নবী মুহাম্মাদের স্ত্রী) হিসাবে সম্মাণিত

যয়নাব বিনতে জাহশ[সম্পাদনা]

তিনি মুহাম্মাদ এর ফুফাত বোন ছিলেন। তার প্রথম বিবাহ তিনি নিজ পালক পুত্র জায়েদ ইবনে হারিছা এর সাথে করান। পরবর্তিতে দাম্পত্যে বোঝাপড়া না হওয়ায় যায়েদ তাকে ৫ম হিজরিতে তালাক দেন। অত:পর যিলক্বদ মাসে আল্লাহ তাআলা তার বিবাহ সুরা আহযাব এর এক আয়াতের মাধ্যমে মুহাম্মাদ এর সাথে ঘোষণা করেন। তিনি অত্যন্ত দানশীলা ছিলেন বলে খ্যতিমান ছিলেন। ২০ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন

জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ ইবনে আবি যারার[সম্পাদনা]

জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্রের সঙ্গে দাঙ্গার ফলে আটক হওয়া যুদ্ধবন্দী, যিনি উক্ত গোত্রের সর্দারের কন্যা ছিলেন। তার স্বামী, মুস্তফা বিন সাফওয়ান, উক্ত দাঙ্গায় নিহত হন। মুহাম্মাদ জুয়াইরিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং জুয়াইরিয়াও রাজি হলেন[] যখন সবাই জানতে পারল যে বনু মুস্তালিকের সাথে ইসলামের নবীর বৈবাহিক আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে, তখন মুসলিমগণ উক্ত গোত্রের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করলেন[] এভাবে, জুয়াইরিয়ার সাথে মুহাম্মাদের বিয়ে ইতোপূর্বে তার দ্বারা বন্দী হওয়া প্রায় শত পরিবারের মুক্তির কারণ হয়ে উঠলো[]

রামালাহ বিনতে আবী-সুফিয়ান[সম্পাদনা]

তিনি উম্মে হাবিবা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের কন্যা ছিলেন এবং পিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি মুসলিম হন। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। হিজরতের পর তার স্বামী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, অপরদিকে তিনি ইসলামে অনড় থেকে যান। হিজরতে থাকাকালীন সময়ে তার স্বামীর মৃত্যু হলে মুহাম্মাদ তাকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। মুসলিমদের সাথে কুরাইশদের যুদ্ধ নিরসনকামী হুদায়বিয়ার চুক্তির পরপরই মুহাম্মাদ সমসাময়িক ইসলামের প্রতিপক্ষ কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের এই কন্যাকে বিবাহ করেন, যাতে করে মুসলিমদের সাথে কুরাইশদের তৎকালীন শত্রুতা আরও কমে আসে

সফিয়্যা বিনতে হুওয়াই[সম্পাদনা]

সাফিয়া বিনতে হুয়াই ছিলেন বনু নাদির গোত্রের প্রধান হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা। খন্দকের যুদ্ধে তার পিতা নিহত হন। তার প্রথম স্বামীর নাম সাল্লাম ইবনে মিশকাম। তার কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বনু নাদিরের সেনাপতি কেনানা ইবনে রাবিকে বিয়ে করেন। খায়বার যুদ্ধে বনু নাদির গোত্র পরাজিত হলে কেনানাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং সাফিয়াকে যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মুহাম্মাদ তাকে তার মালিক দিহইয়ার কাছ থেকে মুক্ত করেন এবং তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সাফিয়া তার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। মারটিন লিংসের তথ্যমতে, মুহাম্মাদ তাকে দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, একটি হল বনু নাদিরে ফিরে যাওয়া আর অপরটি হল ইসলাম গ্রহণ করে মুহাম্মাদকে বিয়ে করা। সাফিয়া দ্বিতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করে মুহাম্মাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন

মাইমুনা বিনতে হারিছ ইবনে হাযন[সম্পাদনা]

তার আসল নাম ছিলো বাররা। মুহাম্মাদ তার নাম পরিবর্তন করে মায়মুনা রাখেন হুদায়বিয়া চুক্তির সময়ে উক্ত মহিলা মুহাম্মাদকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং মুহাম্মাদ তা গ্রহণ করেন। চুক্তি শেষে তিনি মায়মুনাকে সাথে নিয়ে মদিনায় ফিরে যান

মারিয়া আল-কিবতিয়া[সম্পাদনা]

মারিয়া আল-কিবতিয়া ছিলেন একজন মিশরীয় কপ্টিক খ্রিস্টান দাসী, যাকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিনস্ত মিশরীয় সম্রাট মুকাউকিস মুহাম্মাদের নিকট উপহার হিসাবে প্রদান করেন[] মদিনায় ফেরার পথে মারিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ নামে মুহাম্মাদের একটি সন্তানের জন্ম দেন, যে কিনা শিশুকালেই মারা যায় এবং ইব্রাহিমকে জন্ম দেয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি দাসত্ব থেকে মুক্ত ছিলেন[] 

মহানবী (দঃ) এর প্রথম স্ত্রী ছিলেন হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ)
তিনি আমাদের নবীর হিজরতের প্রায় ৩ বছর আগে ৬১৯ খ্রিঃ মক্কায় ইন্তেকাল করেন আর
যেহেতু তখনও জানাযার বিধান নাজিল হয়নি সেহেতু মক্কার কবরস্থান জান্নাতুল মুয়াল্লায়
তাকে বিনা জানাযায় দাফন করা হয়।



1 টি মন্তব্য:

  1. According to Stanford Medical, It is in fact the SINGLE reason women in this country get to live 10 years more and weigh on average 42 pounds lighter than us.

    (By the way, it has totally NOTHING to do with genetics or some secret diet and EVERYTHING to do with "how" they eat.)

    BTW, What I said is "HOW", not "what"...

    Tap on this link to determine if this brief quiz can help you release your real weight loss possibility

    উত্তরমুছুন

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.