কিছু লোককে আল্লাহ রিযিক কমিয়ে দেন কেন?
কিছু লোককে আল্লাহ
রিযিক কমিয়ে দেন কেন?
ওয়ালাও বাছাতাল্লাহুর
রিজকা লি ইবাদিহি- যদি আল্লাহ তার বান্দাদের রিযিককে খোলা রাখতেন, বেহিসাব রিযিক দিয়ে
দিতেন, (লা বাগাও ফিল আরদ) তারা পৃথিবীতে বিদ্রোহী
হয়ে যেত।
প্রত্যেক বান্দা
যদি তার চাহিদার চাইতে বেশী পেয়ে যেত, তার ধারন ক্ষমতার চাইতে বেশী পেয়ে যেত তাহলে
তার ঈমানও হেফাজতে থাকত না। হতে পারে যদি এমন বেহিসাব ধদ দৌলত পেয়ে যেত তারা আল্লাহর
নাফরমানির শেষ দরজায় পৌঁছে গিয়ে ফেরাউন বা কারুনের মত আচরণ করত।
আল্লাহ যেহেতু
বান্দার ঈমান ও আমলকে হেফাজত কারী তাই আল্লাহ বান্দাকে ততটুকু দেন যতটুকু সে বরদাশ
করতে পারে।
চিন্তা করুন একজনকে
আল্লাহ মাল দৌলত বে হিসাব দিয়ে দিল কিন্তু তার স্ত্রীকে যদি নাফরমান বানিয়ে দেন তাহলে
সে মাল দৌলত কি তার কোন উপকারে আসবে? সন্তান নাফরমান হয়ে গেল তখন সম্পদের কিইবা মুল্য?
কারো কোটি টাকার সম্পদ কিন্তু দুনিয়ায় সে মান সম্মান হারিয়ে ফেলল তখন সে কোটি টাকার
কি কোন মূল্য আছে?
সে জন্য আল্লাহ
তায়ালা বান্দাকে মাল দৌলত ততটুকু দেন যতটুকু সে বরদাশ করতে পারবে। আর এ পরিমাণ নিয়ে
সে যাতে নেকীর জীবন যাপন করতে পারে। যেখানে আল্লাহ দেখতে পান এই বান্দার যদি কিছু বেশী
হাছিল হয় তাহলে সে নাফরমান হয়ে যাবে তখণ আল্লাহ তাকে রিযিক কমিয়ে দেন। যাতে নিজের মান
সম্মান নিয়ে নেকীওয়ালা জীবন অতিবাহিত করে।
আজকালকার জামানায় রিযিক
মানুষের কাছে বেশী গরুত্বপূণ। সকলেই রিযিক তালাশে ব্যস্ত। সকলেই চাই গাড়ী বাড়ী জায়গা
জমি, সন্তানকে ডাক্তার বানাবো ইঞ্জিনিয়ার বানাবো শুধু সকলের একই ফিকির। ইতিহাসে রুজি
রোজগারকে এত গুরুত্ব দিতে কোথাও দেখা যায় না যতটুকু গুরুত্ব বতমান জামানায় দেয়া হচ্ছে।
খাবার টেবিলে এখন ১ প্রকার তরকারী হয় না ১০/২০/৩০ প্রকারের খাবার নিয়ে বসে বসে খাচ্ছে
আর আল্লাহর নাশুকরী করছে। বতমান যুগে বেশী খেয়ে মৃত্যু বরণ করার সংখ্যা বেশী পরিলক্ষিত
হয়, ব্লাড প্রেসার লবনাক্ত খাবার বেশী খাওয়ার কারনে হয়, সুগার মিষ্টি বেশী খাওয়ার কারনে
হয়, হাই ক্লোলেষ্ট্রল চবি বেশী খাওয়ার কারনে হয়, বেশী খেয়ে খেয়ে মরে যাচ্ছে তবুও মানুষ
আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ। অথচ একসময় মানুষ খেতে না পেয়েই মারা যেত। আল্লাহ আমাদেরকে
অনেক নেয়ামত দিয়েছেন যা গুনে শেষ করা যাবে না, তাই আমাদের উচিত আল্লাহর শোকর আদায় করা।

কোন মন্তব্য নেই