মক্কা মদীনা জনশূন্য। মহানবীর (দ) আশ্চর্যজনক ভবিষ্যৎ বাণী।
মক্কা মদীনায় নামাজ বন্ধ এটা কি কেয়ামতের আলামত
বিশ্বে এক মহামারী দেখা দিয়েছে, যা ছোয়াছে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা
মত প্রকাশ করেছেন, এ পর্যন্ত এই মহামারীতে ১১ হাজারেরও বেশী লোক মৃত্যু বরণ করেছে,
প্রায় ২ লাখ.৭৫ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, সৌদি আরবেও আজ পযন্ত ৩৪৪ জনকে
এই ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত করা হয়েছে, তবে এখনো পযন্ত আল্লাহর রহমতে কেহ মৃত্যু বরণ
করেনি, আর এই মহামারীকে উপলক্ষ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন,
ওমরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন, মাতাফে তাওয়াফ সীমিত করে দিয়েছেন, হাজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া
বন্ধ করে দিয়েছেন, সবশেষে গতকাল জুমার নামাজও সীমিত পরিসরে আদায় করা হয়েছে।
মত প্রকাশ করেছেন, এ পর্যন্ত এই মহামারীতে ১১ হাজারেরও বেশী লোক মৃত্যু বরণ করেছে,
প্রায় ২ লাখ.৭৫ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, সৌদি আরবেও আজ পযন্ত ৩৪৪ জনকে
এই ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত করা হয়েছে, তবে এখনো পযন্ত আল্লাহর রহমতে কেহ মৃত্যু বরণ
করেনি, আর এই মহামারীকে উপলক্ষ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন,
ওমরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন, মাতাফে তাওয়াফ সীমিত করে দিয়েছেন, হাজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া
বন্ধ করে দিয়েছেন, সবশেষে গতকাল জুমার নামাজও সীমিত পরিসরে আদায় করা হয়েছে।
মক্কা মদীনা যে জনশূণ্য হয়ে গেছে, এমনকি কেহ কেহ আশংকা করছে
এ বছর হজ্বও হয়ত হবে না, এসব বিষয় বা ঘটনাকে অনেকে কেয়ামতের আলামত বলে প্রচার করছে,
আজ আসুন আমরা জেনে নিই মক্কা মদীনার ব্যপারে আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) কি কি ভবিষ্যৎ বানি
করেছেন এবং বর্তমানে মক্কা ও মদীনা শরীফে ওমরা জেয়ারত বন্ধ, ৫ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজেও
নানা ধরনের বাধ্যবাধকতা করা এসব কি কেয়ামতের আলামত কিনা তা বিস্তারিত জানব ইনশা আল্লাহ।
এ বছর হজ্বও হয়ত হবে না, এসব বিষয় বা ঘটনাকে অনেকে কেয়ামতের আলামত বলে প্রচার করছে,
আজ আসুন আমরা জেনে নিই মক্কা মদীনার ব্যপারে আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) কি কি ভবিষ্যৎ বানি
করেছেন এবং বর্তমানে মক্কা ও মদীনা শরীফে ওমরা জেয়ারত বন্ধ, ৫ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজেও
নানা ধরনের বাধ্যবাধকতা করা এসব কি কেয়ামতের আলামত কিনা তা বিস্তারিত জানব ইনশা আল্লাহ।
রাসূল সা. কিয়ামতের আলামত স্বরূপ কয়েকটি ঘটার কথা উল্লেখ করে গেছেন। সেসব ঘটনার একটি হলো মদীনায় ঈমানের প্রত্যাবর্তন।
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন,‘নিশ্চয় (কিয়ামতের পূর্বাক্ষণে) ঈমান মদীনা মুনাওয়ারার দিকে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করবে, যেমন সাপ তার গর্তে প্রত্যাবর্তন করে।’ (বুখারি : ১৮৭৬)
আলহামদুলিল্লাহ! উপরোক্ত হাদিসের উপসর্গ যে এখনই প্রকাশ পায়নি তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে কম বেশি সত্যিকারের মুমিন মুসলমান নেই। যেখানে কালেমার দাওয়াত অব্যাহত নেই। কম বেশি সব জায়গায় ঈমানদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিয়ামতের
পূর্বাভাসে আরো যে সকল হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো দাজ্জালের আবির্ভাব ও মক্কা
মদীনায় প্রবেশ করতে না পারা। এ হাদীস অনুযায়ী যখন পৃথিবী থেকে ঈমানদারদের সংখ্যা
কমে যাবে বা ঈমান মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন আবির্ভাব হবে এক ভয়ঙ্কর
কাফেরের। যার নাম হবে দাজ্জাল।
পূর্বাভাসে আরো যে সকল হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো দাজ্জালের আবির্ভাব ও মক্কা
মদীনায় প্রবেশ করতে না পারা। এ হাদীস অনুযায়ী যখন পৃথিবী থেকে ঈমানদারদের সংখ্যা
কমে যাবে বা ঈমান মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন আবির্ভাব হবে এক ভয়ঙ্কর
কাফেরের। যার নাম হবে দাজ্জাল।
সে
নিজেকে খোদা বা প্রতিপালক বলে দাবি করবে। এক চোখ বিশিষ্ট এই দাজ্জাল খোরাসান থেকে
বের হয়ে মসজিদে আকসা, তুর পাহাড়সহ সারা পৃথিবী চষে বেড়ালেও পবিত্র মক্কা মদীনায়
প্রবেশ করতে পারবে না।
নিজেকে খোদা বা প্রতিপালক বলে দাবি করবে। এক চোখ বিশিষ্ট এই দাজ্জাল খোরাসান থেকে
বের হয়ে মসজিদে আকসা, তুর পাহাড়সহ সারা পৃথিবী চষে বেড়ালেও পবিত্র মক্কা মদীনায়
প্রবেশ করতে পারবে না।
হযরত
আনাস ইবনে মালেক রা. এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরাশাদ করেন, ‘এমন কোনো শহর নেই,
যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না। তবে মক্কা মুকাররমা ও মদীনা মুনাওয়ারা ছাড়া। কেননা
মক্কা ও মদীনার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারারত থাকবেন। তার
পর মদীনা শরীফ তিনবার কেপে উঠবে। তখন সব কাফের ও মুনাফিক বের হয়ে যাবে।’ (বুখারি :
১৮৮১)
আনাস ইবনে মালেক রা. এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরাশাদ করেন, ‘এমন কোনো শহর নেই,
যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না। তবে মক্কা মুকাররমা ও মদীনা মুনাওয়ারা ছাড়া। কেননা
মক্কা ও মদীনার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারারত থাকবেন। তার
পর মদীনা শরীফ তিনবার কেপে উঠবে। তখন সব কাফের ও মুনাফিক বের হয়ে যাবে।’ (বুখারি :
১৮৮১)
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে দীর্ঘ বর্ণনা দেন। তাতে এ কথাও বলেন যে মদিনার প্রবেশপথে দাজ্জালের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। সেদিন একজন মানুষ যে শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হবে, সে দাজ্জালের কাছে গিয়ে বলবে যে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি ওই দাজ্জাল, যার ব্যাপারে আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.) সাবধান করেছেন। দাজ্জাল তার সঙ্গীদের বলবে, আমি যদি তাকে হত্যা করে আবার জীবিত করতে পারি, তবে কি তোমরা আমার প্রভুত্বে সন্দেহ করবে? তারা বলবে, না। তখন সে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে আবার জীবিত করবে। ওই ব্যক্তি বলবে, আল্লাহর কসম! আমি এখন আরো নিশ্চিত হলাম যে তুমি দাজ্জাল। তখন দাজ্জাল বলবে, তাকে আমি হত্যা করব। কিন্তু সে আর তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৮২)
হেজাজ থেকে আগুন বের হবে
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ হেজাজের জমিন থেকে এমন ভয়াবহ আগুনের আবির্ভাব হবে না, যার ফলে বুসরার উটের গর্দানও আলোকিত হয়ে যাবে।’ (বুখারি : হাদিস : ৭১১৮)
মক্কার দিকে অগ্রসরমাণ শত্রুবাহিনী ভূমিধসে পতিত হবে
হজরত উম্মে সালামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘জনৈক আশ্রয় গ্রহণকারী বাইতুল্লাহ শরিফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তখন তাকে পাকড়াও করার জন্য সৈন্য পাঠানো হবে। কিন্তু ওই দল যখন বাইদা নামক স্থানে এসে পৌঁছবে, তখন ভূমিধসে সবাই তলিয়ে যাবে। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের মধ্যে যদি কেউ এমন হয় যে সে এই দলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেনি; বরং তাদের জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে, তাদেরও কি এ শাস্তি দেওয়া হবে? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সবাই ভূমিধসে পতিত হবে, যদিও কিয়ামতের দিন যার যার নিয়তের ওপর ফায়সালা করা হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৮২)
কিয়ামতের আগে কাবা শরিফ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘(কিয়ামতের পূর্বে) কাবা শরিফকে হাবশার (বর্তমানে আবিসিনিয়া) জনৈক ব্যক্তি ধ্বংস করবে, যার পা চিকন হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৫৯১)
আবু দাউদ ও অন্যান্য হাদিসের কিতাবের বর্ণনায় রয়েছে যে ওই ব্যক্তি কাবা শরিফের গুপ্তধন আত্মসাৎ করার জন্য কাবা শরিফ ধ্বংস করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩০৯)
মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে, ওই ব্যক্তি কাবা শরিফের গিলাফ ও অন্যান্য সম্পদ কেড়ে নেবে। যেন আমি দেখছি, জনৈক টাকমাথা ও বাঁকা পাবিশিষ্ট ব্যক্তি কোদাল ও কুঠার দিয়ে কাবা ঘরে আঘাত করছে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭০৫৩)
হজরত সাউবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের গুপ্তধন নিয়ে তিন ব্যক্তি যুদ্ধ করবে, যারা সবাই খলিফার সন্তান, কিন্তু ওই ধন তারা একজনও পাবে না। অতঃপর পূর্বদেশ থেকে কালো পতাকাবাহীরা বের হবে, যারা তোমাদের এমনভাবে হত্যা করবে, যা এর আগে কেউ করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো কিছু কথা বলেন, যা আমার এখন স্মরণে নেই। অতঃপর বললেন, যখন তোমরা তাকে দেখবে, তার হাতে বাইআত গ্রহণ করবে, বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে এসে হলেও, কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলিফা মাহদি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৮৪)
এ হাদিসে গুপ্তধনের ব্যাখ্যায় আল্লামা সিন্দি (রহ.) বলেন, এর দ্বারা আরবের রাজত্ব বোঝানো হয়েছে। ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এখানে বাহ্যত গুপ্তধন দ্বারা কাবা শরিফের গুপ্তধনই উদ্দেশ্য হওয়া বোঝা যায়। সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বোঝা যায় যে কিয়ামতের আগে ওই কালো পতাকাবাহীরা ইমাম মাহদির সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং মাহদির দলভুক্ত হবেন। (হাশিয়াতুস সিন্দি আলা ইবনে মাজাহ : ২/৫১৮)
কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে যুগে যুগে সে-ই আব্বাসী খেলাফতের শুরুলগ্ন থেকে অনেকেই নিজেদের ওই দল বোঝানোর জন্য কালোপতাকা নিয়ে অভিযানে নেমেছে। কেউ বা নিজেকে মাহদিও দাবি করে বসেছে, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং ওই দলের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। ইমাম মাহদির ব্যাপারে অনেক হাদিসেই বিভিন্ন আলামত ও অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন তিনি নিজেকে গোপন রাখবেন, তবে নেককাররা তাঁকে চিনে ফেলবেন। তিনি হজরত হাসান (রা.)-এর বংশের হবেন, তাঁর নাম মুহাম্মদ হবে, তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ হবে ইত্যাদি। তাই যুগে যুগে যারা নিজেকে মাহদি পরিচয় দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিভিন্ন অভিযানে লিপ্ত হয়েছে, তারা ভ্রষ্টতা ও ভ্রান্তির শিকার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, অনেকে উল্লিখিত হাদিসকে সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে চায়। শুধু ১টি হাদীসকে মাথায়
রেখে ফয়সালা দিলে হবে না মক্কা ও মদীনা শরীফের সকল হাদিস কেয়ামতের সকল আলামত সামনে
রেখেই যে কোন মন্তব্য করতে হবে। আমার গবেষনায় বর্তমানে যে তাওয়াফ বন্ধ, মসজিদ বন্ধ
এটা যদিও সাময়িক একটা সতর্কতামুলক কাজ এর সাথে ইমাম মাহদীর আগমন কিংবা কেয়ামতের
আলামতের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না, বাকী আপনারা জ্ঞানে যদি এ বিষয়ে কোন
গবেষনালব্দ তথ্য থাকে তাহলে কমেন্টে শেয়ার করবেন।
রেখে ফয়সালা দিলে হবে না মক্কা ও মদীনা শরীফের সকল হাদিস কেয়ামতের সকল আলামত সামনে
রেখেই যে কোন মন্তব্য করতে হবে। আমার গবেষনায় বর্তমানে যে তাওয়াফ বন্ধ, মসজিদ বন্ধ
এটা যদিও সাময়িক একটা সতর্কতামুলক কাজ এর সাথে ইমাম মাহদীর আগমন কিংবা কেয়ামতের
আলামতের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না, বাকী আপনারা জ্ঞানে যদি এ বিষয়ে কোন
গবেষনালব্দ তথ্য থাকে তাহলে কমেন্টে শেয়ার করবেন।

কোন মন্তব্য নেই