মেরাজের ঘটনা। আল্লাহকে মিথ্যা অপবাদ এর ব্যাখ্যা। Sobe Meraj || Lailatul ...







মেরাজের রাতে
নবী (দঃ) আল্লাহকে কপালের চোখে দেখেছেন বললে সে যেন আল্লাহকে মিথ্যা অপবাদ দিবে।

বুখারী
শরীফের ১টি হাদীস আছে যার মফহুম হল যদি কেহ বলে নবী করিম (দঃ) আল্লাহ তায়ালাকে নিজের
কপালের চোখে দেখেছেন সে আল্লাহকে অপবাদ দিবে।

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় নবী করিম (দঃ) আল্লাহকে
কপালের চোখে দেখেননি। এ হাদীসের বিপরীতে আরো ১টি হাদীস দেখা যায় যার রাবী হলেন হযরত
ইবনে আব্বাস (রাঃ) তিনি বলেন নবী করিম (দঃ) আল্লাহ তায়ালাকে নিজের কপালের চোখে দেখেছেন,
যখন একজন সাহাবী নবী করিম (দঃ) এর দিকে মনসুব করে কোন কথা বয়ানকরেন আর সৈয়্যদা আয়শা
যে কথা বলছেন তার নবীর বানী বয়ান করছেন না বরং এটা হল হযরত আয়শার নিজস্ব মতামত বয়ান
করেছেন। এটা হযরত আয়শার (রাঃ) নিজস্ব এজতেহাদি রায়।
সুতরাং এখানে ২টি জিনিষ উঠে এসেছে প্রথমত- একজন
সাহাবী নিজের মতামত নয় বরং নবী করিম (দঃ) থেকে শুনে তা বয়ান করছেন, আর ২য় জন নিজস্ব
মতামত পেশ করছেন, তাহলে এমন অবস্থায় কে কথাটি নবী করিম (দঃ) এর পক্ষ থেকে বয়ান সেটাই
প্রাধান্য পাবে।

আল্লাহকে স্বচক্ষে
দেখার হাদীসটি হল
ইবন আববাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أَتَانِي رَبِّي فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ،
قُلْتُ: لَبَّيْكَ رَبِّي وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ
الأَعْلَى؟ قُلْتُ: رَبِّ لاَ أَدْرِي، فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ
فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ فَعَلِمْتُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ
وَالمَغْرِبِ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، فَقُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ:
فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ الأَعْلَى؟ قُلْتُ: فِي الدَّرَجَاتِ وَالكَفَّارَاتِ،
وَفِي نَقْلِ الأَقْدَامِ إِلَى الجَمَاعَاتِ، وَإِسْبَاغِ الوُضُوءِ فِي
الْمَكْرُوهَاتِ، وَانْتِظَارِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ، وَمَنْ يُحَافِظْ
عَلَيْهِنَّ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ، وَكَانَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ
وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
».
একবার রাতে সুমহান বরকতময় আমার রব আমার কাছে সুন্দরতম রূপে এসেছিলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন, কী নিয়ে মালা--আলা (সর্বোচ্চ ফিরিশতা পরিষদ)- বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম: না। নবীজী বলেন: তখন তিনি আমার কাঁধের মাঝে তাঁর হাত রাখলেন। এমনকি এর স্নিগ্ধতা আমি আমার বুকেও অনুভব করলাম। এতে আসমান জমিনের যা কিছু আছে সব আমি জানতে পারলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন, কী নিয়ে মালা-আলায় আলোচনা হচ্ছে?আমি বললাম: হ্যাঁ, গুনাহের কাফফারা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করাও কাফফারা, জামাআতে পায়ে হেঁটে যাওয়া, কষ্টের সময় পরিপূর্ণভাবে উযু করাও কাফফারা। যে ব্যক্তি এই কাজ করবে তার জীবন হবে কল্যাণময়, আর মৃত্যুও হবে কল্যাণময়। যেই দিন তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করলেন গুনাহর ক্ষেত্রে তার অবস্থা হবে সেই দিনের মত।
তিরমিযী, হাদীস নং ৩২৩৪, তিনি হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন নাছির উদ্দীন আলবানীও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু
আনহু থেকে
বর্ণিত, তিনি
বলতেন,
«إِنَّ
مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَأَى رَبَّهُ مَرَّتَيْنِ: مُرَّةً
بِبَصَرِهِ، وَمَرَّةً بِفُؤَادِهِ».
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে দুবার দেখেছেন। একবার স্বচক্ষে আরেকবার অন্তর দিয়ে।মুজামুল আওসাত, হাদীস নং ৫৭৬১

উল্লিখিত হাদীসসমূহ
থেকে
কথা প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে
আল্লাহকে দুনিয়াতে
দেখেছেন হাফেয
ইবন রজব
হাম্বলী রহ.
বিষয়ে
একটি কিতাবও
রচনা করেছেন
কিতাবটির নাম:
(اختيار
الأولى في شرح حديث اختصام الملأ الأعلى).

আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের  কেয়ামতের দিন ক্ষমতা দিবেন আল্লাহকে দেখার, মেরাজের
দিন আল্লাহ তায়ালা যদি নবীকে ক্ষমতা দেন দেখার তাতে এতেরাজ কিসের? কিয়ামতের দিন আল্লাহকে
দেখার একটি সহিহ হাদীস হল-
আতা ইবন ইয়াযীদ
আল-লায়সী
থেকে বর্ণিত
আবু হুরাইরা
রাদিয়াল্লাহুআনহু
তাঁকে অবহিত
করেছেন যে,
«أَنَّ نَاسًا قَالُوا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ: يَا رَسُولَ اللهِ، هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ
رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ
الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ؟» قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «هَلْ
تُضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ؟» قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ
اللهِ، قَالَ: " فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ
».
কিছু সংখ্যক লোক রাসূলল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রভুকেদেখতে পাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোনোরূপ অসুবিধা হয়? তারা বললো, না হে আল্লাহর রাসূল। তিনি আবার বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোনোরূপ অসুবিধা হয়? সবাই বললো, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ঐরূপ স্পষ্টভাবেই আল্লাহকে দেখতে পাবে।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.