মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম চরিত্রটি সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক...





ইহুদী
খ্রিষ্টানের লাশ দেখে মহানবী (দঃ) কি করতেন তা জানলে অবাক হয়ে যাবেন

সারা
বিশ্ব আজ শোকাহত, মহামারীর থাবায় আজ পযন্ত প্রায় অধ লক্ষ লোক মারা গিয়েছে, বিশ্বের
উন্নত দেশ সমুহে আজ লাশ রাখার জায়গা নাই, হাসপাতালে জায়গা নাই, শুধু ইহুদী খ্রিষ্টানের
দেশ নয় মুসলিম দেশসমুহও হানা দিয়েছে এই ভাইরাসে,

ইহুদী
খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের শত্রু, তারা কখনোই মুসলমানদের কল্যানয় চায়নি, পাশ্ববর্তী দেশ
ভারতেও চলছে মুসলমানদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন,

আপনারা
জানেন ইতিমধ্যে ইতালিতে প্রায় ১৩ হাজার লোক মৃত্যু বরণ করেছে

স্পেন
যে দেশে আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে মুসলমানদেরকে বোকা বানিয়ে মসজিদে বন্ধি করে পুড়িয়ে
মেরেছিল সে স্পেন আজ মৃতুপুরিতে পরিনত হয়েছে, যে স্পেনে গত ৫শত বছর যাবৎ উচ্চ স্বরে
আযান দেয়া যেত না এই মহামারীতে সে স্পেনে মুসলমানরা একযোগে আযান দিয়েছে,

বর্তমান
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র আমেরিকাও এই মহামারীতে ধরাশায়ী প্রায় ২ লক্ষ ১৫ হাজার
লোক এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ হাজারেরও অধিক লোক মৃত্যু বরণ করেছে।


এভাবে
ফ্রান্স, লন্ডন, নেদারল্যান্ড, ইসরাইল, ‍সুইডেন সহ বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশ এই ভাইরাসে
আক্রান্ত আর এতে যারা মৃত্যু বরণ করছেন অধিকাংশই অমুসলিম,

গতকাল
দেখলাম করোনা ভাইরাসে ভারতে এক হিন্দু মৃত্যু বরণ করেছে তার ঘরের অন্যান্য হিন্দু আত্মিয়
স্বজনরা লাশ ফেলেই পালিয়েছে কিন্তু প্রতিবেশী মুসলমানরাই সে হিন্দুর সৎকার করল।
  
এখন
খ্রিষ্টান মরলে বা ইহুদী মরলে, হিন্দু মরলে আমরা যারা মুসলিম আমরা কি করব? আমাদের করনীয়
কি সে ব্যপারে  সবশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (দঃ)
আমাদেরকে কি শিক্ষা দিয়েছেন তা আমাদের জানা দরকার। ইহুদী খ্রিষ্টান তথা অমুসলিমরা যেহেতু
আমাদের শত্রু আজ তারা যখন মারা পরছে তখন আমরা কি খুশী হব? এ ব্যপারে ইসলামের শিক্ষা
আজ আমরা জানব।

হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ হযরত কায়েস ইবনে সাদ রা. একদিন বসা ছিলেন তারা তখন কাদিসিয়ায় থাকেন পাশ দিয়ে একটি লাশ নেয়া হচ্ছিল তা দেখে তারা দুজনই দাঁড়ালেন উপস্থিত লোকেরা তাদেরকে জানাল, ‘ এক অমুসলিমের লাশ’ তাঁরা তখন শোনালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়েও একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তিনি যখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, তো ইহুদির লাশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, أليست نفسا অর্থাৎ ‘সে মানুষ  ছিল তো?’ -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩১২
সাহাবী হযরত জাবের রা. বর্ণনা করেন, একদিন আমাদের পাশ দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন তাঁর দেখাদেখি আমরাও দাঁড়ালাম আমরা তাঁকে বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! তো এক ইহুদির লাশ!’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যখন কোনো লাশ নিতে দেখবে, তখন দাঁড়াবে’ -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩১১

অমুসলিমদের সাথে আচরণে ভদ্রতা সৌজন্য রক্ষা করার জন্যে ইসলাম যে উদার নির্দেশনা দেয়, উক্ত ২টি হাদীসই তার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট

সাহাবী হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, একজন প্রতিবেশীর ওপর আরেকজন প্রতিবেশীর কী হক রয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন,
 إِنِ
اسْتَقْرَضَكَ أَقْرَضْتَهُ وَإِنِ اسْتَعَانَكَ أَعَنْتَهُ وَإِنْ مَرِضَ عُدْتَهُ وَإِنِ احْتَاجَ أَعْطَيْتَهُ وَإِنِ افْتَقَرَ عُدْتَ عَلَيْهِ وَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ هَنَّيْتَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ عَزَّيْتَهُ وَإِذَا مَاتَ اتَّبَعَتَ جَنَازَتَهُ وَلَا تَسْتَطِيلُ عَلَيْهِ بِالْبِنَاءِ فَتَحْجُبَ عَنْهُ الرِّيحَ إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تُؤْذِيهِ بِرِيحِ قِدْرِكَ إِلَّا أَنْ تَغْرِفَ لَهُ وَإِنِ اشْتَرَيْتَ فَاكِهَةً فَأَهْدِ لَهُ ...

যদি সে তোমার কাছে ঋণ চায় তাহলে ঋণ দেবে, যদি তোমার সহযোগিতা চায় তাহলে তাকে সহযোগিতা করবে, যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে তার খোঁজখবর নেবে, তার কোনোকিছুর প্রয়োজন হলে তাকে তা দেবে, সে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার খোঁজখবর নেবে, যখন সে ভালো কিছু লাভ করবে তখন তাকে শুভেচ্ছা জানাবে, যদি সে বিপদে পড়ে তাহলে সান্ত্বনা দেবে, মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায়  শরিক হবে, তার অনুমতি ছাড়া তোমার ঘর এত উঁচু করবে না যে তার ঘরে বাতাস ঢুকতে পারে না, কোনো ভালো খাবার রান্না করলে তাকে এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে কষ্ট দেবে নাতবে যদি তার ঘরেও সে খাবার থেকে কিছু পৌঁছে দাও যখন কোনো ফল কিনে তোমার বাড়িতে নেবে তখন হাদিয়াস্বরূপ তাকে সেখান থেকে কিছু দেবে

প্রতিবেশী সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলার এই যে নির্দেশনা, তাতে মুসলিম-অমুসলিমের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এমনটি  বলা হয়নি- তোমার প্রতিবেশী যদি মুসলমান হয়, ধার্মিক হয়, ভালো মানুষ হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলবে বরং প্রতিবেশী যেমনই হোক, মুসলমান হোক কিংবা না হোক, তার অধিকার অকাট্য অনস্বীকার্য একজন মুসলমানকে অধিকার রক্ষা করেই জীবনযাপন করতে হবে
প্রতিবেশীর অধিকার সম্বলিত যেসকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেসবে মুসলিম-অমুসলিমের মাঝে যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি- সাহাবায়ে কেরামের জীবনী থেকেও এর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়
সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর ঘটনা একদিন তার ঘরে একটি বকরি জবাই করা হল খাবার রান্না হলে তিনি তার গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে কি খাবার দিয়েছ?’ এরপর তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, প্রতিবেশীর বিষয়ে জিবরাইল আমাকে এত উপদেশ দিচ্ছিলেন, আমি মনে করছিলাম, তিনি হয়ত তাদেরকে ওয়ারিশই বানিয়ে দেবেন’ -জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৯৪৩

হযরত উমর রা. বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে তার জন্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন- এই যে সহানুভূতি তিনি প্রকাশ করেছেন এটাই ইসলামের সৌন্দর্য আসল চরিত্র

অমুসলিমদের সাথে সুন্দর সৌজন্যপূর্ণ আচরণ রক্ষার শিক্ষাপ্রদানের পাশাপাশি ইসলাম তাকিদের সাথে বারবার নির্দেশও দিয়েছে- ‘কোনো মুসলমান যেন কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে’ এবং তাকিদও করেছে, সৌজন্য উদারতার নামে যেন নিজেদের দ্বীনদারি আক্রান্ত না হয় দ্বীনের বিষয়ে আপোস করা কোনোক্রমেই বৈধ নয় এমনিভাবে সদাচরণের ক্ষেত্রে কোনো অমুসলিমকে মুসলিম ভাই থেকে প্রাধান্য দেওয়াও বৈধ নয়

পবিত্র কুরআন হাদীসের কিছু নির্দেশনা এমনও রয়েছে, যেখানে সুস্পষ্ট ভাষায় অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সম্পর্ক  রক্ষা করতে বলা হয়েছে যেমন, সূরা আনকাবুতের ভাষ্য-
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِنْ جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا
আমি মানুষকে বাবা-মায়ের সাথে সুন্দর আচরণের আদেশ করেছি তবে তারা যদি তোমার উপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে, যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তাদের কথা মানবে না -সূরা আনকাবুত, আয়াত :

কুরআনে কারীমের আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যদি কোনো মুশরিক বাবা-মা তাদের মুসলিম কোনো সন্তানকে ইসলাম ধর্ম ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করতে বলে, তাহলে তাদের আদেশ কখনো মানা যাবে না কিন্তু এমতাবস্থায়ও তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে বাবা-মায়ের হক আদায় করতে হবে

শরীয়তের সীমা রেখায় থেকে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে যেমন অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়, তেমনি আচরণটুকুও অনেক সময় দাওয়াতের ভূমিকা পালন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন মহানুভব আচরণে মুগ্ধ হয়েও তো অনেকেই ইসলাম কবুল করেছেন এবং পরবর্তীতেও সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে যারাই ইসলামের সুন্দর আচারগুলো নিজেদের মাঝে লালন করে গেছেন, তাদের আচরণই নীরবে অমুসলমানদেরকে ইসলামের দিকে আহবান জানিয়েছে অনেক অমুসলিম এতে যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছে এবং আশ্রয় নিয়েছে ইসলামের শীতল ছায়ায়

আসুন
আজ আমরা এই বৈশ্বিক মহামারী থেকে বিশ্বের সকল মানবের জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন
এই মহামারী থেকে সারা বিশ্বের মানুষকে মুক্তি দান করেন। এবং যে সব লোক এ পযন্ত মৃত্যু
বরণ করেছেন তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য্য ধারনের শক্তি দেন। এবং যে সব মুসলমানগন
ইন্তেকাল করেছেন তাদেরকে যেন শহীদি মর্যাদা দান করেন। বিশেষ করে আমাদের এই বাংলাদেশকে
যেন এই দুর্যোগে ধৈর্য্যসহকারে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সহ সকল রাষ্ট্রিয় দিক নির্দেশনা
পালন করার তৌফিক দান করেন। আমিন।  

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.