বর্তমান পরিস্থিতিতে মহামারীর কারনে ঘরে নামাজ পড়ার ফজিলত হাদীসের প্রমাণ সহ।
করোনা বা মহামারীর কারনে ঘরে নামাজ পড়েও ৫০০ গুন সাওয়াব কিভাবে অর্জন করবেন
আপনারা জানেন মসজিদে নামাজ পড়ার ফজিলত একাকী নামাজ পড়ার চাইতে ২৭ গুন বেশী এটি বুখারী ও মুসলীম শরীফের হাদীসে জানা যায়। আবার অন্য একটি হাদীস যা মিশকাত শরীফে উল্লেখ আছে তার দ্বারা জানা যায় ঘরে নামাজ পড়লে ১ টি নেকি ওয়াক্তিয় মসজিদে পড়লে 25 গুন আর জুমা মসজিদে পড়লে ৫০০ গুন সাওয়াব পাওয়া যায়।
এখন গতকাল ইসলামীক ফাউন্ডেশন ও ধর্মমন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সার্কুলার দেয়া হয়েছে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। কোনো মুসল্লি মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।
এতে বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।
এখন আমরা যারা সাধারণ মানুষ আমাদের অবশ্যই সরকারী আইন যদি শরীয়তের বিরোধী না হয় তা মান্য করা ফরয, যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ৫৯ নং আয়াতে এরশাদ করেন
বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।' (সুরা নিসা : আয়াত ৫৯)
এ আয়াতে যে উলিল আমরের কথা বলা হয়েছে তা হল সরকার বা বিচারক, এখন আমাদের সরকার বাংলাদেশের আলেম ওলামা মুফতিয়ানে কেরামের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১টি মধ্যমপন্থা অবলম্বনপূবক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যারা নিয়মিত মুসল্লী তাঁদের জন্য খুবই কষ্টের, কিন্তু সার্বিক দিক বিবেচনা পূর্বক যেহেতু শীষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের মতামতের ভিত্তিতে সরকার ১টি সার্কুলার জারি করেছেন সেটি ফলো করাই হল এখন আমাদের জন্য উত্তম। আর যারা নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়েন ১ রাকাতে ২৭ গুন কিংবা জুমা মসজিদে ৫০০ গুন পযন্ত সাওয়াব কামাই করেন তারা মন খারাপ করার কোন কারন নাই, কেননা যারা নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়েন তারা এখন মসজিদে যাওয়ার একান্ত ইচ্ছা সত্বেও যেহেতু মসজিদে যেতে পারছেন না, তারা এখন ঘরে নামাজ পড়লেও মসজিদে নামাজ পড়ার সমান সাওয়াব হাছিল করতে পারবেন। এ ব্যপারে ১টি হাদীস প্রনিধানযোগ্য
যারা সরকারী বিধি নিষেধের কারনে মসজিদে যেতে পারছেন না তাদেরকে মহানবী (দঃ) সান্তনা দিয়ে বলেন
-
إِذَا مَرِضَ العَبْدُ، أَوْ سَافَرَ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا.
যখন বান্দা অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে তখন সুস্থ অবস্থায় বা বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে যে নেক আমল করত তার সওয়াব লেখা হতে থাকে (যদিও অসুস্থতা বা সফরের কারণে সে উক্ত নেক আমলগুলো করতে পারছে না)। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯৯৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৬৭৯
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল তখন আপনি যেহেতু নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েছেন এখন অস্বাভাবিক অবস্থায় একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্বেও যখন মসজিদে যেতে পারছেন না তখন আপনি ঘরে নামাজ আদায় করলেও মসজিদে নামাজ আদায় করার সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দান করবেন।

কোন মন্তব্য নেই