রমজানের আগে মক্কা মদীনা সহ সব মসজিদ খুলে যাবে তবে ৩টি কাজ করতে হবে।Ramad...







এত দোয়ার পরও মহামারী যায়না কেন?
এত চেষ্টা তদবীর, সতর্কতা তবুও বেড়েই চলেছে, এদিকে রমজান মাসের বাকী
মাত্র ১৫দিন, মসজিদ সমুহে নানান বাধ্যবাধকতা, কি করলে রমজানের আগেই আমরা এই মসিবত
থেকে পানাহ পাব, কিভাবে কি করলে আল্লাহ আমাদের কথা শুনবে, কুরান হাদীস ও ঐতিহাসিক
কিছু বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে আজ আমরা প্রমাণ সহ সে পন্থা জেনে নিব।

আমরা আল্লাহর কাছে কিভাবে চাইব?

আপনারা দেখে থাকবেন ছোট বাচ্চা কিছু চাইল মা
প্রথমে বলেদেয় না দিব না, কিন্তু বাচ্চা বার বার চাইতে থাকে, মা তবুও দেয় না,
অবশেষে বাচ্চা যখন কান্না করতে থাকে, তখন মা সে জিনিষটি বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর না
হলে তা বাচ্চাকে দিয়ে দেয় এবং বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদরও করে দেয়। তেমনি ভাবে
আমাদেরও উচিত আল্লাহ কাছে বার বার চাইতে থাকা, না পেলে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে,
কান্না করে করে চাইতে থাকা, দেখবেন আপনি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে যে দোয়া করলেন তা
আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নিবেন বরং আপনার চোখের পানির কারনে আল্লাহ আপনাকে আপন করে
নিবেন, আপনাকে আরো বেশী দিবেন যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই আমাদের উচিত
নিরাশ না হয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দোয়া করতে থাকা।

দোয়া করা এবং দোয়া পড়া,  কিভাবে দোয়া করবেন?
দোয়াতে আরো একটি বিষয় প্রনিধানযোগ্য, তা হল কিছু
লোক দোয়া করেন, আর কিছু লোক দোয়া পড়েন। দোয়া পড়ার ফলে দোয়া কবুল হয় না। বরং দোয়া
করার ফলে দোয়া কবুল হয়। যেমন দোয়া পড়া হল (রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া…..) এভাবে
তোতা পাখির মত অর্থ না বুঝে শুধু পড়তে থাকা। এমন হাজারো লোক আছে যারা নামাজের পর এ
দোয়াটি পড়েন আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন এর অর্থ কি? সে বলতে পারবে না। আবার অনেকে
নামাজের পর হাত উঠায়ে দোয়া পড়ে, যদি কেহ তাকে প্রশ্ন করে আপনি এখন মুনাজাত করেছেন
তাতে আল্লাহ কাছে কি চাইলেন? সে বলবে জানি না। অথ্যাৎ অত্যন্ত অমনযোগীতার সাথে
অধিকাংশ মানুষ দোয়া করে থাকেন, যাকে দোয়া করা বলা যাবেনা, বলতে হবে দোয়া পড়া।
সুতরাং না বুঝে অমনোযোগিতার সাথে দোয়া পড়াতে কোন ফায়দা নাই। দোয়া করতে হবে অত্যন্ত
আন্তরিকতার সাথে, মনযোগসহকারী, কাকুতি মিনতি করে করে, চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে চাইতে
হবে। তাহলেই আমাদের দোয়া দ্রুত কবুল হবে।

দোয়াতে চোখের পানির গুরুত্ব
আল্লাহ তায়ালা বলেন (উদউ রাব্বাকুম তাদাররুয়ান
ওয়া খুফিয়া) আপন রবের কাছে কাকুতি মিনতির সাথে কেঁদে কেঁদে ও গোপনে গোপনে দোয়া
কর, আল্লাহ তায়ালার কাছে চোখের পানির অনেক মুল্য। গুনাহগারের চোখের পানি আল্লাহর
রাগের আগুনকে ঠান্ডা করে দেয়।

ঘটনা: এক বুজুর্গ তিনি খুবই দীলদরিয়া ছিলেন, তার কাছে যেই আসত তিনি
তাকে যা চাইত তাই দিয়ে দিতেন। নিজের কাছে না থাকলে অন্যের কাছ থেকে ধার করে হলেও তিনি
দিয়ে দিতেন। এভাবে দিতে দিতে তাঁর কর্জের ভোজা অনেক ভারি হয়ে গেল। তার জন্য আখেরী সময়
আসল তখন সকল পাওনাদার তার উঠানে এসে জমা হয়ে গেল, সে দিকে এক ছেলে হালওয়া বিক্রী করার
জন্য যাচ্ছে, সে বুজুগ সে ছেলেকে বলল তার কাছে যে হালওয়া আছে তা উঠানে বসে থাকা লোকদের
দিতে, ছেলেটি খুব খুশী হয়ে গেল কারন তার আর বাজারে গিয়ে বেঁচতে হবে না রাস্তাতেই তার
হালওয়া বিক্রী হয়ে গেল। হালওয়া যখন খাওয়ানো শেষ ছেলেটি বুজুর্গের কাছে গেল টাকার জন্য,
বুজুর্গ বল তুমিও ওদের সাথে বসে অপেক্ষা কর ওরা সবাই আমার পাওনাদার ওদেরকে যখন আমি
পাওনা মিটাব তখন তোমারটাও মিটিয়ে দিব। ছেলেটি এ কথা শুনে বলল হুযুর আমার মা আমার জন্য
অপেক্ষা করছে, আমি এক এতিম এ হালওয়া বেচা পয়সা দিয়েই আমার ঘরের চুলা জ্বলে, এতিম ছেলেটি
টাকার জন্য জারে কাতার কান্না করতে লাগল। বাচ্চাটি যখন কান্না করতে লাগল আল্লাহর রহমতের
দরিয়ায় জোশ এসে গেল, এমন সময় এক লোক আশরাফির থলে নিয়ে হুযুরের খেদমতে হাজির হল। সে
থলে নিয়ে হুযুর তা থেকে যত কর্জদার ছিল সকলের কজ এবং সাথে সে বাচ্চাটির কর্জও চুকিয়ে
দিলেন। পাওনাদারা প্রশ্ন করল হুযুর বাচ্চাটি কান্না করার সাথে সাথে আপনি এত পয়সা কোত্থেকে
জোগার করলেন? সে বুজুর্গ ব্যক্তিটি বললেন তোমদের মধ্যে যারা এখানে বসেছিলে তাদের মধ্যে
কেহই
  কান্নাকারী নাই, যখন
এ বাচ্চাটি কান্না করতে লাগল আল্লাহ তায়ালার রহমতের দরিয়ায় ঢেউ খেলে গেল এবং তাঁর কান্নার
বরকতে তাঁর অভাবও পুরন হল এবং সাথে সাথে তোমাদের সকলের প্রয়োজনও আল্লাহ মিটিয়ে দিল।
 

আন্তরিকভাবে দোয়া করার ফলে
দোয়া কবুল হওয়ার চমৎকার উদাহারন
ঘটনা: হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাওয়াফ করছিলেন, তিনি
দেখলেন এক অন্ধ লোক কাবা ঘরের সামনে বসে বসে দোয়া করছেন ‘আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি
দাও’, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তার সামনে গিয়ে বলল হে অন্ধ! তুমি কি জান, আমি কে? সে বলল
আপনি কে? হাজ্জাজ বলল আমি হলাম বাদশাহ হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন
খুবই কঠোর প্রকৃতির মানুষ, সকলেই তার ব্যপারে জানত।তিনি যা বলতেন তাই করতেন, অন্ধ
লোকটি হাজ্জাজের নাম শুনে ভয় পেয়ে গেল। হাজ্জাজ অন্ধকে বলল আমি শুনলাম তুমি
দৃষ্টির জন্য কবাঘরে বসে বসে দোয়া করছ, এখন আমি তাওয়াফ করছি আমার তাওয়াফ শেষ হওয়ার
আগে আগে যদি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরে না আসে তাহলে আমি তোমাকে কতল করার হকুম দিব। এ
কথা বলে অন্ধের পাশে ২ জন পুলিশ দাঁড় করিয়ে দিলেন যেন অন্ধ সেখান থেকে পালাতে না
পারে, এরপর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাওয়াফে লেগে গেলেন, এতক্ষন অন্ধ অমনোযোগিতার সাথে
দৃষ্টির জন্য দোয়া করছিল, কিন্তু যখন কতলের কথা শুনল সে ভয়ে কাপতে শুরু করল, আর দু
চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরতে লাগল, আর এত আন্তরিকভাবে দোয়া করতে লাগল ‘হে আল্লাহ
এতক্ষন আমি দৃষ্টির জন্য দোয়া করেছি, এখনতো আমার জীবন নিয়ে টানা টানি শুরু হয়েছে’,
সে অল্প সময়ে এত কাকুতির সাথে দোয়া করল যে হাজ্জাজ তাওয়াফ শেষ করে আসার আগে আগেই
আল্লাহ তায়ালা তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এসে
দেখলেন অন্ধ সত্যি সত্যি দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেয়েছেন। তখন হাজ্জাজ অন্ধকে বললেন,
আমি কতলের হুমকি দেয়ার আগে তুমি বসে বসে যে ভাবে দোয়া করছিলে আন্তরিকতা ছাড়া সে
স্টাইলে যদি তুমি কাবার সামনে বসে বসে তোমার পুরা জীবন দোয়া করতে তাহলে সে দোয়া
কবুল হত না, কারন তোমার সে দোয়া শুধু তোমার মুখ থেকে বের হচ্ছিল তাতে আন্তরিকতা
ছিল না। যখন জীবনের ভয় হল তখন তুমি যে দোয়া করেছ তা তোমার হৃদয়ের গভীর থেকে করেছ,
আর অন্তরের গভীর থেকে যে দোয়া করা হয় তা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। সুতরাং যখনই
আমরা দোয়া করব তখন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাকুতিমিনতির সাথে দোয়া করব। তাহলে তার
ফলাফল আমরা সহসাত দেখতে পাব।

দোয়া করার ষ্টাইল কেমন হওয়া উচিত?
দুনিয়ার কোন ফকিরকে দেখবেন সে যখন মাত্র ১টি
টাকা আপনার কাছে ভিক্ষা চায়তে আসে সে ভিক্ষা পাওয়ার জন্য ফাটা পুরানা কাপড় পরে,
চেহেরাকে মলিন করে, চাওয়ার সময় বেছে বেছে শব্দ বলে, যাতে আপনার অন্তরে তার
কথাগুলির এফেক্ট হয়, তারপর করুন স্বরে চাইতে থাকে। দুনিয়ার মাখলুকের কাছে ১/২ টাকা
ভিক্ষা চাইতে যদি এত কিছু লাগে তাহলে যিনি আমাদেরকে সবকিছু দিচ্ছেন সে মহান রবের
কাছে চাইতে কেমন নম্রতা অবলম্বন করতে হবে তা একবার চিন্তা করে দেখুন।

দোয়ার ভাষা কেমন হওয়া উচিৎ
দোয়া কবুল হওয়ার জন্য আরেকটি কৌশল হল ভাষার
মধ্যে অত্যন্ত নম্রতা থাকতে হবে। একটা উদাহারন দিলে বুঝতে পারবেন মসজিদে নববীর এক
কোনায় এক লোক দোয়া করছে (আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নাকা আনতাল্লাহ লা ইলাহা
ইল্লা আনতা) হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে এ জন্যই প্রার্থনা করছি তুমিই যে আমার
আল্লাহ, তুমি ছাড়াতো আমার আর কেউ নাই যে তার কাছে চাইব) হুযুর (দঃ) ফরমালেন ঐ
কোনাতে বসে থাকা লোকটিকে গিয়ে বল যে তার দোয়া কবুল হয়ে গেছে।
যখন কোন বান্দা এভাবে দোয়া করে (আল্লাহুম্মা
আনতা রাব্বি ওয়াআনা আবদুকা) হে আল্লাহ আমি তুমি আমার রব আমি তোমার বান্দাহ, এভাবে
যখন বলে তখন আল্লাহ সে বান্দার দোয়া কবুল না করে পারে না।
মুর্তির আগে হাত জোড় করে জুলাইখা আজিবন দোয়া করেছে
এয়া সানামু, আমাকে ইউসুফের সাথে মিলিয়ে দাও, এভাবে সে গোটা জীবনভর দোয়া করেছে,
দোয়া করতে করতে বৃদ্ধ হয়ে গেছে একদিন বয়সের ভাড়ে জিহ্বার আড়ষ্টতায় এয়া সানামু এর
স্থানে এয়া ছামাদু হে অমুখাপেক্ষি রব, বলে দিল তখন আল্লাহ তায়ালা জিবরিলকে নির্দেশ
দিল জিবরিল তাড়াতাড়ি যাও আমার ইউসুফের ঘোড়ার মোড় ঘুরিয়ে দাও আমার এ বান্দির সাথে
মিলিয়ে দাও, জিবরাইল বল এয়া রব সে তো আপনাকে ডাকেনি আল্লাহ বলল ভুলক্রমে হলেও
যেহেতু সে আমাকে আজ ডেকেছে, আজিবন মুর্তির কাছে চেয়েছে আজ আমার কাছে চেয়েছে, এখন
আমি যদি তার দোয়া কবুল না করি তাহলে সে কিভাবে বুঝতে পারবে সনম ও সমদ এর পার্থক্য।
তাই আসুন আমরা আল্লাহ যেভাবে পছন্দ করে সেভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ যেন
আমাদের জন্য আবার খানায়ে কাবার দরজা উম্মুক্ত করে দেন, মসজিদে নববীর দরজা খুলে
দেন, সারা বিশ্বের সকল মসজিদের বন্ধ দরজা মুসলমানদের জন্য খুলে যায়, বিশ্বের
তাগুতি শক্তিগুলি যেন তওবা করে নেয়, জালেমরা যেন তাদের জুলুম করা বন্ধ করে দেয়,
মুনাফিকরা যেন তওবা করে নেয়। আগামী রমজানে যেন মুসল্লীরা মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ
পড়তে পারে, তারাবীহ পড়তে পারে, আজ সে দোয়া করি।  


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.