যখন কাবাকে ভেঙ্গে ফেলা হবে। কেয়ামতের আলামত। Sign Of Qayamat





যখন কাবাকে ভেঙ্গে ফেলা হবে। কেয়ামতের আলামত। Sign Of Qayamat

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:

(( اِسْتَمْتِعُوا بِهَذَا البَيْتِ، فَقَدْ هُدِمَ مَرَّتَيْنِ، وَيُرْفَعُ فِي
الثَّالِثَةِ )).
রাসুলে করিম (দঃ)
এরশাদ করেন (ইসতামতেউ বিহাজাল বায়ত) হে
লোক সকল এই
বায়তুল্লাহ থেকে উপকার
বা বরকত গ্রহণ
করে নাও, (ফাকাদ
হুদিমা মাররাতাইন ওয়া
ইউরফাউ ফিচ্ছালিছা) দুইবার
এই বায়তুল্লাহ ধ্বংসের
স্বীকার হয়েছে, ৩য়
বার যখন এই
বায়তুল্লাহ ধ্বংসের জন্য
আক্রমনের স্বীকার হবে
তখন এই বরকতময়
ঘরটি উঠিয়ে নেয়া
হবে। বায়তুল্লাহ তখন
আর আমাদের মাঝে থাকবে না।
ইচ্ছা করলেও এই
ঘরটিকে আর তাওয়াফ
করতে পারব না।
বায়তুল্লাহ কিভাবে ধ্বংস
হবে, কখন হবে,
কে বা করা
করবে এবং বর্তমান
সময়টাকি সেটা, সে
বিষয়ে আজ বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব
সহিহ হাদীসের আলোকে।

তার আগে বলে
রাখি- ১৪০০ বছর
আগে আমাদের প্রিয়
নবী যা যা
বলে গেছেন সবই
অক্ষরে অক্ষরে সংগঠিত
হচ্ছে, তাই আমারা
যারা ঈমানদার তাঁদের
ঈমান আরো বৃদ্ধি
পাচ্ছে, যদিও কিছু
কিছু ইসলাম বিদ্বেষী পোড়া কপাল তা
মানতে নারাজ, যেমন
ধরুন বর্তমানে একটি
ভাইরাসের কারনে মহামারীর কারনে মক্কা মদীনা
সহ সারা বিশ্বের
হাজার হাজার মসজিদে
তালা লাগিয়ে দেয়া
হয়েছে, আমাদের দেশেও
জুমা জামাত সীমিত
করে দেয়া হয়েছে,
এসব দেখে নাস্তিকরা অট্টহাসিতে ফেটে পরছে
আর মনে মনে
খুশী কারনে
যে মানুষ মসজিদে
যেতে পারছে না,
পক্ষান্তরে ঈমানদারগন এসব
ব্যপারে ১৪শত বছর
পূর্বেই যে আমাদের
প্রিয় নবী মহামারীর সময় কি কি
করতে হবে সে
নির্দেশনা দিয়ে গেছেন
তাই আজ আধুনিক
যুগের বিশেষজ্ঞরা আমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন পালন
করতে বলছেন, তা
দেখে আমাদের ঈমান
আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নাস্তিক ধরনের মানুষেরা মুসলমানদের কথার জালে
ফেলে নানান ধরনের
ইসলাম বিরোধী কথা
যুক্তি উপস্থাপন করে থাকে। এমন
সময়ে মুসলমানরা এই
কথার উপর সবচেয়ে
বেশি জোর দিয়ে
থাকে যে আল্লাহ
সব কিছুর উপর
ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ
সব কিছু রক্ষা
করবেন। ধরুন আপনার
জীবদ্দশায় কাবা শরীফ
ধ্বংস হয়ে গেলো,
তখন দেখবেন নাস্তিক
শ্রেণীর লোকেরা কত
উল্লাস করে এবং
তারা মুসলমানদের শুনিয়ে
শুনিয়ে বলবে, কোথায়
তোমাদের আল্লাহ? কোথায়
আজ তিনি? তোমাদের
আল্লাহর ঘর সাধারণ
মানুষে ধ্বংস করে
দিলো আর তোমাদের
আল্লাহ কিছুই করতে
পারলো না। বিশ্বব্যাপী যখন নাস্তিক
অন্য ধর্মের মানুষেরা এই ঘটনা নিয়ে
কথা বলবে, ব্যঙ্গ
করবে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবে এবং আপনি
নিজেই যখন টিভিতে
বা ইন্টারনেটে ভিডিওতে
দেখতে পাবেন সাধারণ
মানুষ আল্লাহর ঘরকে
ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ
করে ফেলছে তখন
আপনার নিজের ঈমানই
প্রশ্নের মুখে পড়বে।
দুর্বল ঈমানের অধিকারী
যারা এবং যাদের
কাবা ঘরের ভবিষ্যৎ
বিষয়ে জ্ঞান নেই
সেই দিন তারা
বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে
ঈমান হারা হয়ে
মৃত্যুবরণ করবে। মুসলমানরা সহজেই আল্লাহর উপর
থেকে বিশ্বাস হারাবে
কারণ তাদের মনে
ইস্পাত কঠিন বিশ্বাস
ছিল যে আল্লাহর
ঘরকে কেউ কোনও
দিন ক্ষতি করতে
পারবে না, কিন্তু
যখন তাদের সামনেই
কাবা গৃহ ধ্বংস
হবে তখন আল্লাহর
উপর তাদের ঈমান
দ্রুতই নষ্ট হয়ে
যাবে।

ঠিক অপর দিক
থেকে চিন্তা করে
দেখুন। ধরুন আপনার
কাবা ঘরের ভবিষ্যৎ
বিষয়ে হাদিস গুলো
জানা আছে এবং
আপনার জীবদ্দশায় কাবা
ঘর ধ্বংস হয়ে
গেছে। তখন নাস্তিক,
মুরতাদ, বা অন্য
ধর্মের মানুষদের কোনও
কথা, অপবাদ, চিন্তা,
চেতনা, বা বিদ্রূপ
কোনও কিছুই আপনার
ঈমান নষ্টের কারণ
হবে না। কারণ,
তখন আপনি নিজেই
জানতেন যে, এই সময়ে
কাবা ঘর ধ্বংস
হয়ে যাওয়ার কথা।
বরং এই বিষয়টি
তখন আপনার ঈমানকে
আরও মজবুদ করবে।
কারণ, তখন আপনি
নিজেই সত্যতা পাবেন
যে,হাজার বছর
আগে আল্লাহর রসূল
সা: যে বানী
দিয়ে গিয়েছিলেন সেটা
হাজার বছর পর
এসে সত্য হচ্ছে।তখন আপনার ঈমান আল্লাহ
তার রসূল
গনের উপর আরও
শক্ত হবে। তখন
আপনার ঈমান এই
ভেবে আরও মজবুদ
হবে যে হাদিসের
কথা যখন সত্য
হয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই
আল্লাহ আছে এবং
তিনি যুগে যুগে
যে সকল নবী-রসূল পাঠিয়েছিলেন তারাও নিশ্চয়ই সত্য।

এবার আসা যাক
আসল প্রসঙ্গে। কিয়ামতের অনেক আগেই পবিত্র
কাবা ঘরকে ভেঙ্গে
চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলা
হবে। এই অধ্যায়ে
আমরা আলোচনা করবো
কবে কিভাবে এবং
কে বা কারা
কাবা ঘরকে ধ্বংস
করবে। আমরা এটাও
জানার চেষ্টা করবো
কাবা গৃহ ধ্বংসের
পিছনে হাকিকত কি
আছে।

আবু বকর ইবনু
আবু শায়বা
ইবনু আবু উমার
আবু হুরাইরা রা:
হতে বর্ণিত, রসূল
মোহাম্মদ সা: বলেছেন
আবিসিনিয়ার এক ব্যক্তি
কাবা ঘরকে ধ্বংস
করবে। সেই ব্যক্তির পায়ের গোছা ছোট
ছোট হবে। (সহিহ
মুসলিমহাদিস নং
৭১৯৭ এবং .ফা. ৭০৪১)

রসূল মোহাম্মদ সা:
বলেছেন, যুল-সুওয়াইকাতাঈন নামক এক হাবশী
লোক কাবা ঘর
ধ্বংস করবে। (মুসনাদে
আহমদ)

উপরিউক্ত সহিহ হাদিস
২টি প্রমাণ করে
যে, আল্লাহর রসূল
সা: বলে গিয়েছেন
কিয়ামতের পূর্বে পবিত্র
কাবা ঘরকে ধ্বংস
করে ফেলা হবে।
আর এই ধ্বংসের
কাজটি করবেন আবিসিনিয়া থেকে আগত এক
ব্যক্তি এবং যার
নাম হবে যুল-সুওয়াইকাতাঈন। রসূলের
যুগে প্রচলিত আবিসিনিয়া নামক দেশটির বর্তমান
নাম ইথিওপিয়া। এটি
আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত একটি
দেশ। ইসলামের অতি
পরিচিত ব্যক্তি এবং
মুসলিম জাহানের প্রথম
মুয়াজ্জিন বেলাল রা:
এর জন্মভূমি ছিল
এই দেশটি। এছাড়া
রোমানদের পরাজিত করা
সেই বীর উসামা
বিন যায়েদ (রা.),
রসুলুল্লাহ (সা.) এর
পারিবারিক সেবিকা উম্মে
আয়মান (রা.)এই
ইথিওপিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। ইথিওপিয়া সেই
ঐতিহাসিক রাষ্ট্র যেখানে
মুসলমানরা মক্কার কুরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে
প্রথম হিজরত করেছিল।
রসুলুল্লাহ (সা.) হজরত
আলী (রা.) এর
বড় ভাই জাফর
ইবনে আবু তালিব
(
রা.) কে ৮০
জন মুসলমানসহ ইথিওপিয়ায় হিজরতের নির্দেশ দেন।
বর্তমানে ইথিওপিয়ার মোট
জনসংখ্যার ৬২% খ্রিষ্টান
৩২% মুসলিম।

তবে যখন কাবা
গৃহ ধ্বংস করা
হবে তখন আবিসিনিয়ার বর্তমান নাম ইথিওপিয়া অক্ষত থাকবে নাকি
এই রাষ্ট্র অন্য
কোনও শক্তিধর রাষ্ট্রের অধীনে থাকবে সেটা
এখন বলা সম্ভব
নয়।

ইমাম মাহদী আগমনের
পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র
কাবা ঘর অক্ষত
থাকবে। ইমাম মাহদি
পৃথিবী শাসন করবেন
অথবা
বছর এরপর দাজ্জালের আবির্ভাব এবং হযরত
ঈসা : এর
পৃথিবীতে পুনরাগমন ঘটবে।
ধারনা করা হচ্ছে
দাজ্জালের আবির্ভাব বা
হযরত ঈসা :
এর ইন্তেকালের পর
পরই কাবা শরীফকে
ধ্বংস করা হবে
পরিশেষে আমরা আলোচনা
করবো কেন কাবা
শরীফকে আল্লাহ তায়ালা
ধ্বংস হতে দিবেন
এবং কেন তিনি
তার নিজ গৃহকে
কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত
রাখবেন না। সত্যিকার ভাবে আল্লাহ কেন
কাবা শরীফকে ধ্বংস
হতে দিবেন সেটা
এক আল্লাহই ভাল
জানেন। তবে বিজ্ঞজনের কিছু কারন ব্যাখ্যা করেছেন যেমন

প্রথম কারণ হিসেবে
ওলামায়ে কেরাম বলেন
মুসলমানদের পরীক্ষা নেয়া।
কাবা শরীফকে যখন
ধ্বংস করা হবে
তখন ইসলাম বিরোধীরা ইসলামের বিরুদ্ধে এবং
আল্লাহর অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেক
বেশি উৎসাহ
ইস্যু খুঁজে পাবে।
মুসলমানরাও নিজ চোখে
দেখবে কাবা গৃহকে
চূর্ণ বিচূর্ণ করা
হচ্ছে কিন্তু কেউ
তা রক্ষা করছে
না। এমন অবস্থায়
অধিকাংশ মুসলিম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে
যাবে আসলে আল্লাহ
আছে কিনা বা
আমরা এতো দিন
যা শুনে এসেছি
সেটা মিথ্যা কিনা।
বতমান করোনা ভাইরাসের কারনে যখন মসজিদসমুহ বন্ধ রাখা হয়েছে
তখন ধরনের
একটি ধারনাই নাস্তিকরা মানুষের মাঝে জোরো
শোরে প্রচার করতে
ব্যস্ত, আর দুর্বল
ঈমানদারগনের জন্য এটা
অনেক বড় পরীক্ষা। অথচ মহানবী (দঃ)
বলেছেন শেষ জামানায়
ঈমান ধরে রাখা
হাতে আগুন রাখার
চেয়ে কঠিন হবে।
কারণ তখন অনেক
কিছুই উপস্থিত থাকবে
খুব সহজে ঈমান
নষ্ট করার জন্য।

কাবা ঘর উঠিয়ে
নেয়ার আরেকটি কারণ
হল- কাবা শরীফের
অপ্রয়োজনীয়তা। ঈসা :
এর পরের সময়টায়
নামাজ রোজা তো
দূরের কথা কারও
মুখ দিয়ে আল্লাহ
শব্দটিও বের হবে
না। তখন নামাজ
আদায়ের জন্য কেবলা
বা হজ্জ্ব করার
জন্য কাবা ঘরের
কোনও প্রয়োজন পড়বে
না। তখন কাবা
গৃহের দিকে মুখ
ঘুরানোর কোনও মানুষ
থাকবে না। আর
এই সমস্ত কারণেই
হয়তো আল্লাহ তায়ালা
তার পূর্বেই কাবা
ঘরকে পৃথিবী থেকে মুছে
দিবেন।

আশাকরি এবার আপনারা
ভবিষ্যতের কাবা ঘরের
ইতিহাস বিষয়ে অবগত
হয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা
আমাদের প্রত্যেককে এই
বরকতময় ঘরের তাওয়াফ
নসিব করুন, এই
ঘরটি উঠিয়ৈ নেয়ার
আগে আগে এর
থেকে অফুরান বরকত
হাসিল করার তৌফিক
দান করুন আমিন




কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.