যে এমন বউ পেল সে আধা দ্বীন পেল।বিয়ের গুরুত্ব। আদর্শ স্ত্রী।Adorsho Nari ...
যে এমন বউ পেল সে আধা ঈমান পেয়ে গেল
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ رَزَقَهُ الله
امْرَأَةً صَالِحَةً فَقَدْ أَعَانَهُ عَلٰى شَطْرِ دِينِهِ فَلْيَتَّقِ الله فِي
الشَّطْرِ الْبَاقِي
আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যাকে পুণ্যময়ী স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার অর্ধেক দ্বীনে সাহায্য করেছেন। সুতরাং বাকী অর্ধেকের ব্যাপারে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত।
(ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৯৭২, হাকেম ২৬৮১, বাইহাক্বী, সঃ তারগীব ১৯১৬)
গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য
যেনা থেকে বাঁচার জন্য বিবাহ অনেক বড় একটি উদ্দেশ্য।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ২৫নং আয়াতে এরশাদ করেন:
فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ
أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ
مُسَافِحَاتٍ وَلاَ مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ
অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচা রিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না।
আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহপাক বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং বিয়ে না করে অবাধ যৌনসম্পর্ক স্থাপন করার প্রতি নিরুৎসাহিত করেছেন।
নৈতিক চরিত্র সংরক্ষণ, পবিত্রতা এবং সতীত্ব রক্ষার অন্যতম মাধ্যম বিয়ে। বিয়ে হচ্ছে নারী পুরুষের চরিত্রকে পবিত্র রাখার একমাত্র বৈধ উপায়। বিবাহের মাধ্যমে পাপ কর্ম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। জৈবিক চাহিদা পূরণ হয়। মনে প্রশান্তি আসে। বিয়ের ফজিলত অপরিসীম। বিয়ে করার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পথ সহজ হয়। ইসলামে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক যা প্রত্যেক নর-নারীর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, দয়াল নবী (দঃ) ইরশাদ করেন, হে যুব সমাজ তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে তাদের বিবাহ করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌন অঙ্গের পবিত্রতাকারী আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে। এ প্রসঙ্গে হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত কুমারিত্ব এবং অবিবাহিত নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের কোন নিয়ম ইসলামে নেই। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বে বিবাহ না করার পরিণতি সম্পর্কে প্রিয় নবী (দঃ) বলেছেন, যে লোক বিবাহ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করে না সে আমার উম্মতের মধ্যে শামিল নহে।
বিবিসি'র এক জরিপ রিপোর্টে উল্লেখ, আমেরিকায় কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাঙ্গনে অর্ধেক নারীই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। রিপোর্টে কর্মক্ষেত্র ও পড়াশোনার জায়গায় নারীরা উদ্বেগজনকভাবে অশ্লীল, নোংরা, অযাচিত স্পর্শ, যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। জরিপে প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী জানান, প্রতি ১০ জনে ১ জন নারী যৌন নিপীড়নের শিকার এবং কর্মস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক ৩০ শতাংশ নারী যৌন টার্গেটে পরিণত হয়। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে নারীরা ব্যাপকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার। এসব ঘটনার বেশিরভাগই হুমকি, সামাজিক হেনস্তা বা লজ্জার ভয়ে সেভাবে প্রকাশ হয় না। পাশ্চাত্য সমাজের এ ভয়াবহ কুৎসিত চিত্রকে আড়াল করে তথাকথিত নারীবাদীরা কী করে পশ্চিমা সমাজকে নারী অধিকারের মডেল বলে? তারা কি জানে! নারীর ইজ্জত-সম্মানের সুরক্ষা দিয়ে, তাদের ন্যায্য অধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তামূলক জীবন-যাপনের গ্যারান্টি শুধু ইসলামই দিয়েছে।
ইসলাম হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার আল্লাহতায়ালার প্রদত্ত জীবন বিধান। সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। ইসলামের শাশ্বত বিধান উপেক্ষা করে শান্তিময় জীবন সম্ভব নয়। আজকের নারী সমাজকে পাশ্চাত্যের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আত্মরক্ষা ও সুন্দর জীবন লাভের জন্য ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলা প্রয়োজন। তাহলে আমাদের পরকালীন জীবন হবে শান্তি ও মুক্তির অনবদ্য উপায়। আল্লাহর রাসুল হযরত নবী করিম (দঃ) এর বাণীর চেয়ে উত্তম ও গঠনমূলক নীতি আর কি হতে পারে। তিনি বলেছেন, বংশ মর্যাদা লাভের আশায়, নৈতিক চরিত্র পরিশুদ্ধ রাখা এবং আদর্শ পরিবার ও সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যেই বিয়ে করা উচিত। সুতরাং বিয়ে করার মাধ্যমে আমরা দ্বীনকে পূর্ণতা দিতে পারি, ব্যভিচার থেকে বাঁচতে পারি এবং মনের প্রশান্তি আনতে পারি।

কোন মন্তব্য নেই