নবী প্রেম এর আযব ঘটনা ১। A story of love for the Prophet || JA AL HAQ


হুদায়বিয়ার সন্ধির জন্য শর্ত নির্ধারণ হয়ে গেল শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত ছিল, কাফেরদের মধ্যে থেকে যদি কেউ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মদিনায় আশ্রয় নেয় তাহলে মুসলমাগণ তাকে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে আর যদি আল্লাহ না করুন, কোন মুসলমান মুরতাদ হয়ে  মক্কায় চলে আসে তাহলে মক্কাবাসী তাকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে না

এর কিছুদিন পর আবু বসির নামক এক সাহাবী মুসলমান হয়ে মক্কা থেকে পালিয়ে মদীনায় হাজির হলেন কাফেররা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুইজন ব্যক্তিকে মদীনায় রাসূল এর নিকট পাঠাল রাসূল চুক্তি মোতাবেক তাঁকে আগত দুইজন কাফেরের হাতে সোপর্দ করলেন আবু বসির বলতে লাগলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি মুসলমান হয়ে আপনার কাছে আসলাম, আপনি আমাকে তাদের হাতে সোপর্দ করছেন? রাসূল তাঁকে ধৈর্য্য ধারণ করার উপদেশ দিলেন এবং বললেন অনতিবিলম্বে তোমার জন্য আমার ডাক আসবে তোমার রাস্তা খুলবে

আবু বসির চলে যাওয়ার পর হুযুর (দ) এই আশেকে রাসুলের জন্য দোয়া করলেন কেঁদে কেঁদে দোয়া করলেন, আল্লাহ আবু বসিরকে তুমি রক্ষা করা তাকে সাহায্য কর।

আবু বসীর দুই কাফেরের সাথে ফিরে যাচ্ছেন। আর বার বার পিছনে ’ফিরে তাকাচ্ছিলেন, সকল সাহাবী কাঁদছিলেন- তারা যখন চোখের আড়াল হয়ে গেল আল্লাহর নবী কাঁদতে কাঁদতে জমিনে বসে গেলেন।

চলতে চলতে এক পর্যায়ে এক কাফেরকে বলল, বন্ধু! তোমার তলোয়ারটাতো খুব উন্নত মনে হচ্ছে।  কিছু কিছু মানুষ এমন থাকে যারা সামান্য সুনাম শুনেই গলে যায়, ফুলে যায়। লোকটি তলোয়ারটা খাপ থেকে বের করে বলতে লাগল আমি অনেক শত্রুর উপর এটাকে সফল প্রয়োগ করেছি। তুমি হাতে নিয়ে দেখ, তাহলে তুমিও বুঝতে পারবে

আবু বসীর তলোয়ারটা হাতে নিয়ে সেই কাফেরের উপরই সফল প্রয়োগ করলেন অর্থাৎ তাকে হত্যা করলেন। অন্য কাফেরটি এই অবস্থা দেখে খুব ভয় পেয়ে গেল। সে বুঝল- আমার সঙ্গীটিকে হত্যা করা হয়েছে এবার আমাকেও  হত্যা করা হবে তাই সে পালিয়ে গেল।

হযরত আবু বসীর মদীনা থেকে দুরে  সাগরের পাশে এক জায়গায় আস্তানা তৈরি করলেন

মক্কাবাসীদের যখন এই ঘটনা জানা হলো তখন আবু জান্দালও লুকিয়ে আবু বসীরের সাথে মিলিত হলেন। এমনিভাবে যেই মুসলমান হতো সেই আবু বসীরের দলে যোগ দিত। কারন হুদায়বিয়ার চুক্তি মত তারা মদীনায় যেতে পারতনা,  ধীরে ধীরে আবু বসীরের দলে ৩০০ জন জমা হল। সেখানে তাদের কোন খাবারের ব্যবস্থা ছিল না। চাষাবাদেরও কোন সুযোগ ছিলো না। যার কারণে কত কষ্টে যে তাদের দিনাতিপাত হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন।

কাফেরেরা আবু বসিরকে বলত তোমরা যার কলমা পড়েছ সেও তোমাদের আশ্রয় দিচ্ছে না, তখন আবু বসির জবাব দেন, আমরা সে নবীর জন্য কুরবান, তিনি আমাদের ধৈর্য্য ধারনের জন্য বলেছেন আমরা ধৈর্য্য ধারন করব, এবং তিনি বলে দিয়েছেন একদিন আমাদের ডেকে নিবেন সে দিনের জন্য অপেক্ষা করছি, কেননা আমার দয়াল নবীর জবান থেকে যা বের হয় তা তিনি পালন করেন এটাই আমাদের ঈমান।

 তবে মক্কার যেই জালেমদের জুলুমের কারণে তাদের এই কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল, সেই কাফেরদের তারা নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। মক্কার যেই কাফেলাই ব্যবসার কাজে এই পথ দিয়ে যেত, আবু বসীরের দল তাদের উপর হামলা করত। ফলে মক্কার কোরাইশদের এই পথে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল

মক্কার কোরাইশরা অতিষ্ট হয়ে মদীনায় রাসূল এর নিকট প্রতিনিধি প্রেরণ করলো। তারা রাসূল এর নিকট কাকুতি মিনতি করে এবং আল্লাহ আত্মীয়তার দোহায় দিয়ে অনুরোধ করলো, রাসূল যেন আবু বসীরের জামাতকে মদীনায় ডেকে নেন এবং চুক্তিনামা থেকে মুসলমানদের ফেরত দেয়ার শর্ত মওকুফ করে দেন। যাতে করে তাদের যাতায়াতের রাস্তা খুলে যায়

রাসূল তাদের এই অনুরোধ গ্রহন করলেন। তিনি আবু বসীরসহ সকলকে মদীনায় প্রবেশ করার অনুমতিপত্র লিখে আবু বসীরের নিকট প্রেরণ করলেন।

তখন আবু বসিরের সাখারাত চলছিল, আবু বসিরকে সকলেই বলল এটা তোমার শেষ সময় কিন্তু আবু বসির বলেন আমার নবী আমাকে কথা দিয়েছেন তিনি আমাকে ডাকবেন তার ডাক যতক্ষন আসবেনা ততক্ষন আমার মৃত্যু হবেনা, তোমরা দেখিও, আমার নবী আমাকে ডাকা পাঠাবেন।

ঠিকই হুযুরের লিখিত এই অনুমতিপত্র যখন আবু বসীরের হাতে গিয়ে পৌছাল তখন তিনি মৃত্যু শয্যায়। রাসূল এর চিঠি হাতে তিনি উচ্চস্বরে তকবীর দিতে লাগলেন আর উচ্চস্বরে কলমা পড়তে পড়তে তিনি ইন্তেকাল করলেন। (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)

এটাই হল সাহাবাদের ঈমান, হুজুরের প্রতি আকিদা, ইশক মহব্বত।


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.