বিয়ে করার সঠিক বয়স কত? বেকার ছেলে বিয়ে করলে কি হয়? Bangla Islamic Vide...


ইসলামী শরীয়তের আলোকে ছেলে মেয়ের বিয়ের উপযুক্ত সময় কোনটি? তাড়াতাড়ি বিয়ে বনাম দেরিতে বিয়ের উপকারিতা ও ক্ষতিসমুহ কি? বেকার ছেলের বিয়ের ব্যপারে ইসলামের বিধান কি?

সম্মানিত দর্শক শ্রোতা মন্ডলী আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমতুল্লাহ! আজ আমরা ছেলে মেয়ে কখন বিয়ের উপযুক্ত হয় তা জানব, বেকার যুবককে বিয়ে করিয়ে দেয়া কতটুকু শরিয়ত সম্মত, তাড়াতাড়ি বিয়ে করার উপকার ও ক্ষতি কি? দেরীতে বিয়ে করার উপকার ও ক্ষতি কি তা বিস্তারিত কুরআন ও হাদীস ও বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের মতামতের ভিত্তিতে আলোচনা করব। এই আলোচনার প্রতিটি লাইন খুবই গুরুত্বপূণ তাই সম্পূণ আলোচনা না শুনে আপনি বিষয়টি বুঝতে পারবেন না। তাই শেষ পযন্ত প্রতিটি লাইন মনযোগ দিয়ে শুনার অনুরোধ রইল।
মনে রাখবেন যখন একজন ছেলের বয়স ১৫ বছর হয়ে যায় তখন আমাদের শরীয়ত তাকে এডাল্ট বলে, অর্থ্যাৎ শাবালক গণ্য করে। সুতরাং বয়সের দিক থেকে কমপক্ষে ১৫ বছর হতে হবে। 
আর বিয়ে কখন করতে হবে?
বিয়ের জন্য ৩টি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে 
(১) ছেলে তার স্ত্রীর জন্য ভরন পোষন প্রোভাইট করার উপযুক্ত হতে হবে, আর ভরন পোষনের মধ্যে ৩টি জিনিষ শামিল (ক) বাসস্থান (খ) পোষাক (গ) খাবার 
বাসস্থানের জন্য এটা শর্ত নয় যে সে আলাদা জায়গা কিনে ঘর তৈরী করতে হবে বরং যদি জয়েন্ট ফ্যামেলি হয় তাহলে সে তার স্ত্রীকে আলাদা রুম প্রোভাইট করতে সক্ষম হবে, যাতে স্ত্রী নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করতে পারে,  এটাই বাসস্থান বলে গন্য হবে।
২) ২য় গুরুত্বপূণ বিষয় হল ছেলে মেডিক্যালি ফিট হবে এবং স্ত্রীর যে হক আছে তা আদায় করতে সক্ষম হবে, 
৩) ৩য় গুরুত্বপূণ বিষয় হল সে সাবালেগ হবে। 
খুব অল্প বয়সে বিয়ে করিয়ে দেয়া মুলত এমন যেন ছোট বাচ্চার হাতে খেলনা দিয়ে দেয়া, সে বুঝতেই পারেনা কি করবে কি করবে না, কিভাবে ঘর চালাবে, কিভাবে মেজাজ বুঝবে, কিভাবে কারো ফিলিংসকে বুঝে শুনে চলবে, এসব না জানার ফলে ক্ষতি হয়।
আবার বিয়ে করতে এত দেরী করে ফেলা যে ছেলে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাবে, যখন সে ভরন পোষনও দিতে সক্ষম, স্ত্রীর হক আদায় করতে সক্ষম তখন বিয়েতে দেরী করা গুনাহে পরিণত হবে।
আর বেকার ছেলে যে কোন কাজ কাম করেনা, কামাই রুজি করেনা, নিজে স্ত্রীর ভরন পোষন দিতে সক্ষম নয় তাহলে তার জন্য বিয়ে করা মাকরুহে তাহরিমি। আর যদি ১০০% একিন হয় যে সে ভরন পোষন দিতে পারবেনা তখন বিয়ে করা কবিরা গুনাহ হবে।
অনেক ছেলের মা বাবা যুক্তি দেয় ছেলে কাজ কাম করে না কামাই রুজি করেনা, বিয়ে করিয়ে দিলে কাজ করবে কামাই করবে, কাজে লেগে যাবে, তাদের কাছে প্রশ্ন আপনি কি আপনার মেয়ের বিয়ে একজন বেকারের সাথে দিবেন? আপনার মেয়ের জামাই কিছু করেনা এখন আপনার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে সে বেকার জামাই কামাই রুজিতে লেগে যাবে এমনটি চিন্তা করে কি আপনি আপনার মেয়েকে কোন বেকারের হাতে তুলে দিবেন? কখনো দিবেন না, বরং তখন আপনি ছেলের কাছে জিজ্ঞেস করবেন বল তোমার সেলারি কত? ঘর আছে কিনা? এভাবে নিজের মেয়ের বিষয়ে যাচাই বাছাই করি, কিন্তু অপরের মেয়ের জিন্দেগী নষ্ট করার জন্য অনেক মা বাবা উঠে পরে লাগে। সে জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে বেকার ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দিলে সে যদি স্ত্রীকে ভরন পোষন দিতে না পারে তাহলে সে ছেলেও গুনাহগার হবে সাথে সাথে পিতা মাতাও গুনাহগার হবে।
আর যদি ছেলে এখন কামাই করেনা, কিন্তু ছেলের পিতা যদি মালদার হয় আর ছেলের পিতা নিজ ছেলের বউ এর জিম্মাদারী নিয়ে নেয়, ছেলে এখনও কামাই করেনা পরে পিতার কারবারে শামিল হবে এ ধরনের ক্ষেত্রে শরীয়তের পক্ষ থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। আসল কথা হল মেয়ের ভরনপোষন, যাতে মেয়ের কোন কষ্ট না হয়। তাই ছেলে যদিও বেকার হয় কিন্তু তার পিতা যদি ছেলের বউ এর ভরনপোষনের জিম্মাদারি নিয়ে নেয় তাহলে তখন শরীয়ত এই বিয়ের অনুমতি দেয়। এতে কোন ধরনের বাঁধা নাই।
যদি সন্তান গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে, তখন গুনাহ থেকে বাঁচানোর জন্য প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দেয়ার ব্যপারে ওলামায়ে কেরাম তাকিদ করেন।
ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন আজকাল প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর ম্যাচিউর হওয়ার অপেক্ষায় ছেলে মেয়ে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়, আর এত বেশী ম্যাচিউর হয়ে যায় যে মেয়ে শশুড় বাড়ী গিয়ে শাশুড়বাড়ীর নিয়মে চলতে চায়না বরং নিজের মত করে শাশুড়বাড়ীর সবাইকে চালাতে চায় ফলে সংসার ভেঙ্গে যায়, বর্তমানে দেরীতে বিয়ে হওয়ার ফলে তালাকের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ আগেকার দিনে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে বিয়ে হয়ে যেত তালাকের নাম গন্ধও মানুষ পেত না, ছেলের বউকে স্বামী শাশুড় শাশুড়ি মনের মত করে গড়ে নিত, তখনকার পরিবারসমুহ সারা জিন্দেগী হাসিখুশি মহব্বতের সাথে কাটিয়ে দিত, আজকাল যতই মানুষ দেরীতে বিয়ে করছে ততই ঝগড়া বিবেধ বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিণতিতে তালাকের লিস্টও দিন দিন বড় হচ্ছে।
যারা আমাদেরকে এসব কালচার শিখাচ্ছে; বিয়ের আগে কয়েক বছর একে অপরের সাথে ডেটিং কর, ছেলে মেয়ে একে অপরকে বুঝ, তাদের মকসদ এটা নয় যে বিয়ের পর তারা সুন্দর ভাবে সংসার করুক, এসব কালচার এসেছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে, তারা ছেলে মেয়েকে একে অপরকে বুঝার কথা বলে ডেটিং এর নামে বয় ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ডের চক্করে মুসলমান সমাজ ও পরিবারকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত করতে চায়।যার পরিণতি হল তালাক।
পশ্চিমারা ২য় কালচার স্টাবলিস্ট করেছে তা হল দেরীতে বিয়ে করা। 
তাই মুসলিম পরিবারের উচিত এসব গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের কালচারকে খতম করা, এবং ম্যাচিউর হওয়ার চক্করে দেরীতে বিয়ের প্রোগ্রাম বাতিল করে, উপযুক্ত পাত্র পাত্রি পেলে বিয়ে করিয়ে দেয়া। ছেলে কখন কামাবে সেদিকে তাকিয়ে না থেকে বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই ছেলের জন্য বউ নিয়ে আসাই এ যুগের ফিতনা ও গুনাহ থেকে বাঁচা সম্ভব। 
আগে সকালে ২টি পরটা দিয়ে চলত এখন নতুন বউ আনলে ১টি পরটা না হয় বেশী বানাতে হবে আর ১টি পরটা বেশী বানালে কি কিয়ামত এসে যাবে? তাই ছেলে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ছেলের বাবা যদি ছেলের বউ এর ভরন পোষনের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে ছেলে ডেটিং এ যাওয়ার আগে বিয়ে করিয়ে দেয়াই উত্তম, 
এতে আল্লাহ বরকত ও সচ্ছলতা দান করার ওয়াদাও করেছেন যেমন সুরা নুরের ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [ সুরা নুর ২৪:৩২ ]
সুতরাং আসুন ডেটিং বয়ফ্রেন্ড গালফ্রেন্ড এর বিষবাস্প থেকে আমাদের সমাজ ও পরিবারিক ব্যবস্থাকে বাঁচাই, পিতা সামথবান হলে সন্তান উপযুক্ত হলে উপযুক্ত পাত্রির সাথে বিয়ের দ্রুত ব্যবস্থা করি। এবং বিয়েকে সহজ করে আল্লাহর কৃত ওয়াদা মত সুখ স্বচ্ছলতার জিন্দেগী যাপন করি।

সুত্র লিংক উর্দু
https://www.youtube.com/watch?v=GEJwQXNijJE
https://www.youtube.com/watch?v=Qv0o0qXPgvc

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.