মওতের পর যাদের চেহেরা কালো হয়ে যায় । কবরে কাদের চেহেরা কেবলা থেকে ঘুরে য...
হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ সে জালেম পূবসুরীদের গড়া
হকুমতের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাতে আদল ও ইনসাফ কায়েম করলেন, যিনি বাদশাহীর দায়িত্ব
গ্রহনের আগে ৬০ টি উটের বোঝা সম্পদ ছিল কিন্তু যখন আমিরুল মুমিনিন হলেন তখন ঈদের
আগে বাচ্চারা আবদার করল নতুন কাপড়ের, বাদশা ওমর বিন আবদুল আজিজের স্ত্রীর নাম হল
ফাতেমা বিনতে আবদুল মালিক, তিনি দুনিয়ার স্ট্যাটাসে সবচেয়ে বড় ঘরের নারী, তার
লেবেলের কোন নারী আজ পযন্ত দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল কারন ফাতেমা বিনতে আবদুল
মালিক এর দাদাও বাদশা, বাবাও বাদশা ৪ ভাই ছিল তারাও বাদশা, স্বামীও বাদশা ৭ জন
বাদশার সাথে এই নারীর সম্পক ছিল।
সে ফাতেমা স্বামীকে বলল বাচ্চারা ঈদের জন্য কাপড়
চাচ্ছে , হযরত ওমর বলল যে বেতন পাই তাতেতো ভালো খাবারও জোগাড় হয় না, কাপড় কোথা
থেকে কিনে আনব? হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ এমন এক বাদশা তার খেলাফাতের সময় মানুষ এতই
স্বচ্ছল ছিল ৩টি মহাদেশে জাকাত নেয়ার মত মানুষ পাওয়া যেত না। কিন্তু নিজে এতই
সততার সাথে জীবন যাপন করতেন বাচ্চাদের ঈদের কাপড় কিনে দেয়ার পয়সা ছিল না।
তখন বেগম
সাহেবা প্রস্তাব দিল আপনি রাষ্ট্রিয় কোষাধ্যক্ষ থেকে ১ মাসের বেতন এডভান্ড নিয়ে
নেন আর আমি ঘরে মজদুরি করে খাবারের আয়োজন করব। বাদশা কোষাধ্যক্ষ হযরত মোজাহেম
(রহঃ) এর কাছে প্রস্তাব পেশ করলে মোজাহেম বাদশাকে বললেন বাদশা সালামত আপনি যে ১
মাসের বেতন এডভান্স নিবেন আগামী ১ মাস যে আপনি জীবিত থাকবেন এবং ডিউটি করবেন তার
একটি গ্যারান্টি আপনি লিখিত দিয়ে দেন আমি আপনাকে ১ মাসের বেতন এডভান্স দিয়ে দিব।
বাদশা ১ শব্দও আর বললেন না ঘরে ফিরে গেলেন, আর বেগমকে বলে দিলেন বাচ্চাদের যেন বলে
দেয় তাদের পিতার এ বছর কাপড় কিনে দেয়ার সামথ নাই, অথচ সরকারী খাজানা এতই ভরপুর ছিল
জাকাত নেয়ারও কেউ ছিল না। ঈদের দিন যখন আশে পাশের বাচ্চারা বেড়াতে এল সকলে বাদশার
শাহজাদা শাহজাদিদের পুরাতন কাপড় দেখে যখন টিটকারী করল তখন শাহজাদা শাহজাদী জবাব
দিল আমার পিতা এমন সৎ ও আমানতদার বাদশা যে তিনি কোন মুসলমানদের সম্পদে খেয়ানত
করেননি, যদি খেয়ানত করতেন তাহলে আজ আমরাও নতুন কাপড় পরতে পারতাম আল্লাহর শুকর আমার
পিতাজি আমাদেরকে হারাম থেকে বাচিয়েছেন,
বাদশা যখন ঈদের নামাজ পড়ে আসলেন শাহজাদিরা মুখে রুমাল
রেখে বাবার সাথে কথা বলছিল, বাদশা ওমর তাদের প্রশ্ন করল তোমরা মুখে রুমাল কেন
দিয়েছ? তখন ঘরের বাঁধি কান্না জড়িত কন্ঠে বলল বাদশা সালামত আজ ঘরে কোন রান্না হয়নি
তাই শাহজাদিরা কাঁচা পেয়াজ দিয়ে রুটি খেয়েছে যার গন্ধ আপনার খারাপ লাগতে পারে তাই
তারা মুখে রুমাল দিয়ে আপনার সাথে কথা বলছে, এ কথা শুনে বাদশা অনেক কাঁদলেন আর
শাহজাদীদের বললেন হে আমার আদরের সন্তানেরা তোমাদের বাবা চাইলে তোমাদেরকে দুনিয়ায়
আরাম আয়েশের জি্ন্দেগী দিতে পারত জাহান্নামের বিনিময়ে কিন্তু আমি জাহান্নামের
আগুনকে খুবই ভয় করি যাতে তোমাদেরও দেখতে চাইনা আমিও যেতে চাই না।
সে ওমর বিন আবদুল আজিজ যখন মৃত্যু বরণ করছেন তখন তার
স্ত্রীর ভাই মাসলামা বিন আবদুল মালিক বোনের জামাইকে দেখতে আসল তখন বোনকে বলল আমার
ভাইসাবের কাপড় ময়লা হয়ে গেছে পরিবতন করে দাও, বোন বলল ঠিক আছে, ভাই চলে গেল পরের
দিন ভাই আবার আসল, দেখল বাদশার গায়ে সে পুরানা কাপড়, বোনকে প্রশ্ন করল বোন আপনি
কাপড় পরিবতন করে দেননি কেন? বোন কেঁদে বলল ভাই কিভাবে পরিবতন করব উনার কাছে যে এই
১টি কাপড় ছাড়া আর কোন কাপড়ই নাই। যিনি ৩ মহারাষ্ট্রের বাদশা, যার ন্যায় বিচারের
ফলে সারা রাজত্বীতে জাকাত নেয়ার মত গরীব লোক বাকী ছিল না, সে বাদশা আল্লাহকে রাজি
করার জন্য মৃত্যুর আগে নিজের খাজানায় শুধু ১ জোড়া কাপড়, শুধু আল্লাহকে রাজি করার
জন্যই তার এই কুরবানী। তাই যখন তার ডেডবডি কবরের নিকট নেয়া হল তখন সকলে দেখল একটি
কাগজ কোথা থেকে উড়ে এসে ওমর বিন আবদুল আজিজের লাশের উপর পড়ল, লোকেরা সে কাগজ নিয়ে
দেখল তাকে ১ পৃষ্ঠা লেখা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, অপর পৃষ্ঠায় লেখা (বারাআতুম
মিনাল্লাহে লি ওমরাবনে আবদিল আজিজে মিনান্নার) এটা ওমর বিন আবদুল আজিজের জন্য জাহান্নাম
থেকে মুক্তি পরোয়ানা।
ওমর বিন আবদুল আজিজ মৃত্যুর আগে অছিয়ত করে যান, আমি
আমার ৩ জন পূবপুরুষকে দেখেছি কবরে তাদের চেহেরা কেবলা থেকে ফিরানো ও প্রচন্ড কালো
হয়ে যেতে, আমার লাশ রাখার পরও তোমরা দেখবে আমার চেহেরার কি অবস্থা। অছিয়ত মত খলিফা
ওমর বিন আবদুল আজিজের চেহেরা দেখা গেল কেবলার দিকে ফিরানো আছে এবং ১৪ তারিখের
চাঁদের মত জ্বল জ্বল করে নুর বিকিরন করছে। সুবহানাল্লাহ।
বাদশা ওমর বিন আবদুল আজিজ ন্যায় পরায়ন বাদশা, উনার পূব
পুরুষও বাদশা ছিল যেমন অলিদ বিন আবদুল মালিক প্রতিদিন তাহাজ্জুদে ১০ পাড়া পড়ত,
কিন্তু কবরে রাখার পর দেখা গেল উনার চেহেরা কেবলা থেকে ঘুরে গেছে, কালো হয়ে গেছে।
এরপরের বাদশা সুলেমান বিন আবদুল মালিক তিনিও তাহাজ্জুদ গুজার বাদশা ছিলেন কিন্তু
মৃত্যুর পর কবরে তার চেহেরাও কেবলা থেকে ফিরে গেল কালো হয়ে গেল। তারা প্রজার উপর
জুলূম করেছে, রক্তকে পানির মত ভাসিয়েছে, হকুমতের জন্য শরীয়তকে কুরবান করে দিয়েছে,
তাই আল্লাহ তাদের নামাজ রোজাকে কবুল করেন নি।

কোন মন্তব্য নেই