কুরআনের আলোকে আউলিয়াদের কারামত। বড়পীরের জীবনী ও কারামত। Jumah Khutba Jaa...


কারামতে আউলিয়া

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সম্মানিত মুসল্লীবৃন্ধ আজ পবিত্র রবিউস সানির ২য় খুতবা, আজ বড়পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ) এবং আউলিয়া কেরাম এর কারামত সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ।

কারামত বলা হয় যা আউলিয়া কেরামগনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়, যা আমাদের সাধারণ জ্ঞানে বুঝে আসেনা, যদি এমন ঘটনা নবীদের থেকে প্রকাশিত হয় তাকে বলে মুজেজা, আর যদি অলিদের থেকে প্রকাশিত হয় তাকে বলে কারামত,

পবিত্র কুরআনে আউলিয়া কেরামের আলোচনা

প্রথমে আমরা দেখব পবিত্র কুরআনে আউলিয়া কেরামের কারামত সম্পর্কে কোন জিকির আছে কিনা,

হযরত মরিয়াম (আ) এর কারামত

আমরা জানি হযরত ঈসা (আ) এর মা হযরত মরিয়ম (আ) নবী ছিলেন না তবে অলি ছিলেন, সে মরিয়াম (আ) এর একটি কারামত ছিল তিনি যখন তার খালু হযরত জাকারিয়া (আ) এর জিম্মায় লালিত পালিত হচ্ছিলেন ‍উনার কাছে বেমউসুমি ফল ও খাদ্য আসত, যা দেখে হযরত জাকারিয়া (আ) ও বিষ্মিত হতেন, আর সে বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা সুরা আল ইমরানে এভাবে বয়ান করেন

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقاً قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هَـذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللّهِ إنَّ اللّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاء بِغَيْرِ حِسَابٍ

অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন ্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।" [ সুরা ইমরান :৩৭ ]

হযরত মরিয়াম (আ) এর পাকা খেজুরের কারামত

যখন হযরত ঈসা (আ) এর জন্মের সময় হল তখন একটি শুকনা খেজুর কান্ড থেকে ফল উৎপন্ন হয়ে তা সাথে সাথে পেকে যাওয়ার কারামত ও কুরআনে উল্লেখ আছে সুরা মরিয়মের ২৫ নং আয়াতে আল্লাহ এরশাদ করেন-

وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا

আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।সুরা মারঈয়াম ১৯:২৫ ]

হযরত আসেফ বির বরখিয়ার কারামত

হযরত সুলাইমান (আ) এর দাওয়াতে মালেকা বিলকিসের যখন আসছেন রানি বিলকিস সুলাইমান (আ) এর দরবারে আসার আগে তার সিংহাসনটি আনার জন্য প্রস্তাব করলে প্রথমে ইফ্রিদ নামক এক জিন বলল আমি ১ ঘন্টার মধ্যে সে সিংহাসনটি নিয়ে আসতে পারব, কিন্তু এত সময় দেয়া সম্ভব নয় এর চেয়ে দ্রুত আনতে হবে, তখন হযরত সুলাইমান (আ) এর প্রধানমন্ত্রী যিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানে জ্ঞানি ছিলেন, যার নাম হযরত আসেফ বিন বরখিয়া (রহ) তিনি বলেন হুযুর আমি চখের নিমিষেই শতশত মাইল দুর থেকে সাবা রাজ্য থেকে সিংহাসনটি নিয়ে আসতে পারব। সে কারামতের ঘটনা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বয়ানকরে বলেন

قَالَ الَّذِي عِندَهُ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ

কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব।সুরা নাম ২৭:৪০ ]

তফসিরের কিতাবে লিখা হয়েছে সে তখত ৮০ হাত লম্বা ৪০ হাত উঁচু ছিল,

এই ঘটনা থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়

হযরত সুলাইমান (আ) এর উম্মত যার সামান্য কিতাবের জ্ঞান ছিল তিনি মুহুর্তের মধ্যে শতশত মাইল দুর থেকে বিশাল সিংহাসন নিয়ে আসলেন, যা শক্তিশালি জ্বিনও করতে পারলনা, এতে বুঝা যায় আল্লাহর অলিগনের শক্তি জ্বিনদের চাইতে অনেক বেশী। আল্লাহর অলিগন মুহুর্তের মধ্যেই দুর দুরান্ত সফর করতে পারেন।

এখন যদি সুলাইমান (আ) এর যুগের অলির এমন শক্তি হয় মুহাম্মদে আরবীর উম্মতের অলির কত ক্ষমতা হতে পারে একবার অনুমান করে দেখুন।

বড়পীরের জ্ঞান কেমন ছিল?

একদিন তিনি ২০ হাজার আলেম সহ হজ্ব পালন করতে গেলেন, মক্কার যিনি গ্রান্ড মুফতি তিনি বড়পীরের শান শওকত দেখে প্রশ্ন করলেন আপনি কি আলেম? বড়পীর বললেন হ্যাঁ আমি আলেম, তখন মুফতি সাহেব বললেন চলুন আমরা একজাগায় বসে কিছু জ্ঞানের কথা বলি, তখন বড়পীর বললেন ঠিক আছে তবে কথা বলার আগে আপনাকে একটা প্রশ্ন করি মুফতি বললেন ঠিক আছে করুন, বড়পীর বললেন আমাদের নবীজি জীবনে যে সব গোসল করেছেন তার গোসলের পানির মধ্যে নিঃসন্দেহে ইন্তেকালের পর হযরত আলী যে গোসল দিয়েছেন সে পানি খুবই দামী, মুফতি সাহেব বললেন হ্যাঁ অবশ্যই দামী, এবার বড়পীর প্রশ্নকরলেন আচ্ছা যদি তাই হয় তাহলে নবীজির ইন্তেকালের পরের সে গোসলের পানি কোথায় গেল?

প্রশ্ন শুনে মক্কার মুফতি বড়ই হযরান, তিনি ১ দিনের সময় চাইলেন তিনি সরারাত সে প্রশ্নের উত্তর তালাশ করতে করতে শেষ রাতে ঘুমিয়ে গিলে নবীজি ও এক লোক সাথে স্বপ্নে দেখলেন সে নবীজিকে বলল এয়া রাসুলাল্লাহ আমাকে এক লোক প্রশ্ন করেছেন আপনার ইন্তেকালের পর গোসলের পানি গুলি কোথায় গেল? তখন হুযুর বললেন এই প্রশ্নে জবাব আমার পাশে যে দাঁড়িয়ে আছে তাকে কর, মুফতি দেখলেন নবীর পাশে একজন দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু তার চেহেরা ঠিক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা, তাকে প্রশ্ন করলে সে জবাব দিল নবীর গোসলের সে পানিকে আল্লাহর হকুমে বাতাসে বাস্পিভুত করে মেঘ খন্ডে রুপান্তরিত করা হল েএবং সে পানিকে বৃষ্টি করে যেখানে যেখানে কেয়ামত পযন্ত মসজিদ হবে সেখান সেখানে বষনের হকুম দেয়া হল।

পরের দিন মুফতি বড়পীরের সাথে বসলেন কিন্তু বড়পীর আগের প্রশ্ন যখন করছেন না তখন সে মুফতি নিজেই আগের প্রশ্নের জবাব দিতে চাইলেন কিন্তু বড়পীর সব ঘটনা এবং স্বপ্নের কথা হুবহু বলে দিলেন। এবং এও বললেন যে লোকটি তোমাকে উত্তর বলেছে সে কে জান? মুফতি অবাক হয়ে প্রশ্ন করল কে? হুযুর বড়পীর বললেন সেই হলাম আমি যে গতরাতে হুজুর (দ) এর সাতে তোমার ঘরে গিয়েছিলাম এবং তোমার প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলাম।

এখানে উল্ল্যেখ্য যে হযরত আল (রা) যখন দেখলেন হুজুরের শরীর থেকে সকল পানি বাস্পিভুত হয়ে গেল শুধু চোখের পালকে ২ কাতরা পানি তখন হযরত আলী (রা) সে দুই কাতরা পানি পান করে নিলেন, সে জন্য আলী বলতেন তোমাদের কার কি প্রশ্ন আছে আমাকে প্রশ্ন কর আমি সে প্রশ্নের জবাব দিব। হযরত আলী (রা) মানুষের বংশ পরিচয় নয় শুধু ঘোড়ার বংশ পযন্ত বলে দিতে পারতেন। সেটা প্রিয় নবীর চোখের ভ্রু মোবারকের সে পানির বরকত। সুবহানাল্লাহ।

 

হযরত শাহ আমানত (র) এর কারামত

হযরত শাহ আমানত চট্টগ্রাম আদালতে চাকরি গ্রহণ করেন, মহেশখালির এক লোক মামলার কাজে আদালতে আসেন তার উকিল বলে দেয় পরের দিন মামলার তারিখ, কিন্তু লোকটি মামলার নথিপত্র মহেশখালি রেখে এসেছিল, পরের দিন মামলার কাগজপত্র দেখাতে না পারলে বিপদে পরে যাবে, তাই রাতে গিয়ে সকালে মহেশখালি থেকে কাগজপত্র আনা তখনকার সময় অসম্ভব ছিল, তাই আদালতের বারান্দায় বসে বসে তিনি কাঁদছিলেন, তখন শাহ আমানত তার কান্নার কারন জিজ্ঞেস করলেন, সে সব কথা খুলে বলল, তখন শাহ আমানত তাকে নিয়ে সদরঘাট হাজির হন, এবং কণফুলি নদীর পানিতে নিজের গায়ের চাদরটি বিছিয়ে দিয়ে তাকে সে চাদরে উঠে চোখ বন্ধ করতে বলেন, যখনই সেটি চলা বন্ধ হবে তখনই সে নিজেকে নিজের এলাকার ঘাটে দেখতে পায় ঘরে গিয়ে কাগজপত্র নিয়ে আবার সে চাদরে আরোহন করে মুহুর্তেই তা আবার সদরঘাটে চলে আসে এবং সে পরের দিন সব কাগজপত্র নিয়ে আদালতে হাজির হয়,

উকিল হাকিম তার কাছে জানতে চাইলো সে অল্প সময়ে কিভাবে মহেশখালি থেকে নথিপত্রগুলি আনল? তখন সে সত্য বলে দিল শাহ আমানতের সে কারামত বলে দিল, যেদিন শাহ আমানতের এই কারামত প্রকাশিত হয়ে গেল সেদিন তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেন।

দুর থেকে সাহায্য করা

হযরত ওমর (রা) এয়া সারিয়া আল জাবাল

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হযরত ওমর (রা) জুমার দিন মিম্বরে খোৎবা দেওয়ার সময় হঠাৎ করে (এয়া সারিয়াল জাবাল) বলে ৩ বার ডাক দিলেন। খুতবা শেষে হযরত আবদুল রহমান বিন আউফ এর কারন জিজ্ঞেস করেন, তখন হযরত ওমর (রা) বলেন খোদার কসম আমি এমন বলতে বাধ্য হয়েছি কারন ইরানে আজার বাইজানে নাহাওয়ান্দ পাহাড়ী এলাকায় হযরত সারিয়া মুসলমান সৈন্যদের নিয়ে যুদ্ধাবস্থায় আছে। আমি তাদেরকে দেখলাম যে তারা পাহাড়ের  নিকটে যুদ্ধরত আছে। এদিকে কাফেরেরা তাদের সামনে পেছনে ঘেরাও করে রেখেছে। এটা দেখে আমি নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি। তাই ডাক দিয়ে বলে দিলাম হে সারিয়া ডাহাড়ের দিকে যাও। (মিশকাত ৫৪৬ পৃ)

হযরত সারিয়া (রা) বলেন আমরা সেদিন হযরত ওমরের আওয়াজ শুনে উনার নির্দেশনা মোতাবেক যুদ্ধ করে কাফেরদের পরাজিত করেছি।

দেখুন আল্লাহর হাবিবের সাথীর কারামত- মদীনা শরীফের মিম্বর থেকে দাঁড়িয়ে তিনি ইরানের যুদ্ধ পরিচালনা করছেন।

বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র) ও খরম

হযরত আবুল হাসান শতনুফী তার কিতাব বাহজাতুল আসরারের ১৯৮ পৃষ্ঠায় বড়পীরের একটি কারামতের কথা লিখেন-

৫৫৫ হি ৩রা সফর বড়পীর নিজ মাদ্রাসায় খরম পরিধান অবস্থায় অজু করছিলেন, অজুর মধ্যে হঠাৎ তিনি তার খরম ২টি খুলে নিক্ষেপ করেন আর সাথে সাথে খরম দুটি অদৃশ্য হয়ে যায়, মাদ্রাসার ছাত্রগন তা দেখতে পেলেন কিন্তু কেহ সাহস করলনা, প্রায় ১ মাস পর একটি কাফেলা আসল বড়পীরের সাথে দেখা করতে, তাদের কাছে সে খরম দুটি ছিল, ছাত্ররা তাদের কাছে খরমের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলল আমরা ৩রা সফর ডাকাত দল দ্বারা আক্রান্ত হই তখন আমরা বড়পীরের মাদ্রাসার জন্য কিছু মান্নাত করলাম এবং এই বিপদ থেকে উদ্ধারের দোয়া করলাম তখন এ ২টি খরম উড়ে গিয়ে পিটাতে পিটাতে ২ জন ডাকাতকে মেরে ফেলল তখন অন্যান্য ডাকাতরা আমাদের মালামাল ফেরত দিয়ে পালিয়ে গেল, আমরা মান্নতের সে জিনিষ নিয়ে বড়পীরের কাছে এসেছি, এবং উনার সে খরমগুলি ফেরত দিতে এসেছি।

বিশর হাফি ও অলি বিদ্বেষী ব্যবসায়ী

বাগদাদে অলি বিদ্বেষী এক ব্যবসায়ী ছিল। একদিন জুমার নামাজ আদায়ের পর হযরত বিশর হাফি কে দেখে যে তিনি নামাজ শেষ হওয়া মাত্র মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেন, এটা দেখে ব্যবসায়ী পিছু নিলেন, দেখলেন বিশর হাফি এক রুটির দোকান থেকে ৭টি রুটি নিয়ে দ্রুত হাটতে লাগলেন, ব্যবসায়ী মনে করল বিশর রুটি খাওয়ার জন্য কোন ঘাস ওয়ালা মাঠে যাচ্ছে, তাই তাকে ফলো করতে লাগলেন আর যখন রুটি খাবেন তখন ধরবেন প্রশ্ন করবেন যে রুটি খাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মসজিদ থেকে বের হয়েছে, কিন্তু কিছুক্ষন হাটার পর দেখতে পেলেন এক অপরিচিত গ্রাম সেখানে এক কুঁড়ে ঘরে ঢুকলেন এক বৃদ্ধ অসুস্থ লোককে রুটি গুলি দিলেন, আর তাকে ১টি রুটি নিজে খাওয়াচ্ছেন, যখন দেখলেন বিশর হাফি রুটি খাওয়াচ্ছেন সে একটু গ্রাম দেখার জন্য সে উঠানের বাহিরের দিকে গেলেন কিছুক্ষন পর এসে দেখে বিশর হাফি নাই তখন সে বৃদ্ধকে প্রশ্ন করল বিশর হাফি কোথায় বৃদ্ধ জবাব দিল তিনিতো বাগদাদ চলে গেছেন, লোক আবার প্রশ্ন করল বাগদাদ এখান থেকেকতদুর লোকটি বলল ৪০ মাইল, একথা শুনে লোকটি অবাক হয়ে গেল, বিশর হাফির অনুসরন করে কয়েক মিনিটে ৪০ মাইল এসে গেছেন! লোকটি আবার বৃদ্ধকে প্রশ্ন করল বিশর পুনরায় কবে আসবে? সে বলল আগামী জুমার দিন, তখন সে ব্যবসায়ী নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। এবং বিশর হাফি থেকে ক্ষমা চাইলেন।

আল্লাহর অলির সাথে দুষমনি

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। (বুখারী ৬০৫৮)

অলির পরিচয় কি?

অলির পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন

أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللّهِ لاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।সুরা ইউনুস ১০:৬২ ]

الَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ

যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে।সুরা ইউনুস ১০:৬৩ ]

لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لاَ تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।সুরা ইউনুস ১০:৬৪ ]

আল্লাহর অলিদের গুণাবলী

১। যিনি আল্লাহর অলি হবে তিনি অবশ্যই ঈমাদার হবেন

২। আল্লাহর অলিরা অবশ্যই মুত্তাকি হবেন, আল্লাহকে ভয় করবেন

৩। আল্লাহর প্রিয় হাবিব এরশাদ করেন- তারাই অলী আল্লাহ যাদের কে দেখলে খোদার কথা স্মরণ হয়” [তাবারানী ফিল কাবীর,হাদিস নং ১২৩২৫,

 

ওলী -আউলিয়া হলেন তারাই যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরন হয়,যাদের সান্ন্যিদ্দ্যে আসলে দুনিয়ার প্রতি মায়া মমতা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকেকবরের কথা স্মরন হয় তথা লোকটি এত আমল করে দুনিয়া আখিরাত এর উত্তম জিন্দেগী যাপন করতেছেনতাই আমাকে এপথে চলতে হবেযার প্রতিটি ক্রিয়াকলাপ বা কর্মসমূহ হয় আল্লাহ রাসূলকে রাজি-খুশি করার জন্য

আর যারা পীরখানা খুলে রেখে নিজেকে আল্লাহর অলি দাবী করেন, যেখানে গেলে আল্লাহকে স্মরণ দুরের কথা আল্লাহকে ভুলে যায়, আর এসব অলির দৃষ্টি থাকে শুধু ভক্তের পকেটের দিকে তারা আউলিয়া আল্লাহ নয় বরং তারা হলেন শয়তানের বন্ধু।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে প্রকৃত আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দার সানিধ্য হাসিল করার তৌফিক দান করুন। আউলিয়া কেরামের ছোহবতে থেকে আল্লাহকে জানার ও চিনার তৌফিক দান করুন। আমিন।

  

 


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.