নামাজে মন বসেনা কেন? নামাজে মন ধরে রাখার ১০টি উপায়। Namaz sikka Jaalhaq
১০টি কারনে নামাজে মন লাগেনা
পরিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে খুশু-খুজু তথা নামাজে একাগ্রতা খুবই জরুরি জিনিস। কিন্তু বহু নামাজি এ বিষয়ে উদাসীন। এর প্রতিকার কী? আজ ১০টি এমন কারন বলব যে
সব কারনে নামাজে মন বসেনা, যদি এসব কারনসমুহ দুর করতে পারেন তাহলে নামাজে আপনার মন
লাগানো সহজ হবে
১। নামাজের আগে শরীর পাক,
জায়গা পাক, কাপড় পাক হতে হবে, পরিপূর্ণভাবে অজু করতে হবে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর মন ও শরীর একত্র করে একাগ্রতার সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে (অন্য বর্ণনায় এসেছে যে নামাজে ওয়াসওয়াসা স্থান পায় না), তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় (অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়)।’ (নাসাঈ, হাদিস : ১৫১; বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)
২।নামাজের একাগ্রতা নষ্টকারী
হল শয়তান, সে জন্য নামাজে দাঁড়ানোর ৩ বার আউজুবিল্লাহিমিনাশ শায়তানির রাজিম পড়ে বাম
পাশে ৩ বার থু থু থু করবেন, মনে করবেন আপনি শয়তানের মুখে থুথু নিক্ষেপ করছেন।
৩। একাকি নামাজ পড়লে তাকবীরে
তাহরিমার পর ছানা পড়ে আউজুবিল্লাহি বিসমিল্লাহর
দ্বারা নামাজ শুরু করবেন।
৪। এমনভাবে নামাজ পড়তে হবে
যেন আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে যেন
তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন।’ (বুখারি,
হাদিস : ৫০; মুসলিম, হাদিস : ৮)
৫।নামাজে যা কিছু পাঠ করা
হয়, তা বিশুদ্ধ উচ্চারণে পড়ার চেষ্টা করুন। এটি অন্তরের উপস্থিতিকে আরো দৃঢ় করে। অন্তত
সুরা ফাতিহা ও তাসবিহগুলোর অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন, (ওয়ারাত্তিলিল
কুরআনা তারতিলা) ‘স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কোরআন তিলাওয়াত করো।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল,
আয়াত : ৪)
৬। নামাজে রুকু ও সিজদা সমুহা
ধীর স্থীরভাবে আদায় করুন এতে নামাজে মজা আসবে মন বসবে- আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিকৃষ্টতম চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে নামাজে চুরি করে।’ জিজ্ঞেস
করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! নামাজে কিভাবে চুরি করে? তিনি বলেন, ‘যে রুকু-সিজদা পূর্ণভাবে
আদায় করে না।’ (মুসনাদ আহমাদ, মিশকাত, হাদিস : ৮৮৫)
৭।নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহ
তাআলাকে ভয় করুন। ভাবুন, এই নামাজই হয়তো বা আপনার জীবনের শেষ নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর
কাছে জনৈক ব্যক্তি সংক্ষিপ্ত উপদেশ কামনা করলে তিনি তাকে বলেন, ‘যখন তুমি নামাজে দণ্ডায়মান
হবে তখন এমনভাবে নামাজ আদায় করো, যেন এটিই তোমার জীবনের শেষ নামাজ।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত,
হাদিস : ৫২২৬)
৮। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ আশা করুন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫)
এই বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ আমার প্রতিটি প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ নামাজে দাঁড়ালে সে মূলত তার প্রভুর সঙ্গে কথোপকথন করে। তাই সে যেন দেখে, কিভাবে সে কথোপকথন করছে।’ (মুসতাদরাক হাকেম, সহিহুল জামে হাদিস : ১৫৩৮)
৯।নামাজে নিজের গুনাহর কথা চিন্তা করে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার কথা ভেবে নিজের মাঝে ‘হায়া’ বা লজ্জাশরম নিয়ে আসুন। দণ্ডায়মান অবস্থায় একজন অপরাধীর মতো মস্তক অবনত রেখে এবং দৃষ্টিকে সিজদার স্থানের দিকে নিবদ্ধ রাখুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) (দাঁড়ানো অবস্থায়) সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন। (তাফসিরে তবারি : ৯/১৯৭)
১০।নিজের অন্তর থেকে দুনিয়ার
মহব্বতকে বের করে দিন, আল্লাহর পেয়ারা হাবিব ফরমান দুনিয়া হল মরা, আর এর উদাহারন কুকুরের
মত, আর দুনিয়ার মহব্বত সকল ফিতনার মুল, হারাম, খেয়ানত, চুরি, ধোকা, এসব কিছুর দিকে
আপনাকে দুনিয়ার মহব্বত নিয়ে যাবে তাই একে নিজের মন থেকে বের করে দিতে হবে -
এখন দুনিয়ার মহব্বত বের করার
উপায় কি? তারও কয়েকটি উপায় বলে দিচ্ছি
#এমন মুমুষ রোগীকে দেখতে
যান যার পুনরায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম,
# মৃত মানুষের জানাযায় দাফন
কাফনে উপস্থিত থাকুন
# কবরস্থানের জেয়ারত করুন
#বেশী বেশী কুরআন শরীফ তেলাওয়াত
করুন
# আল্লাহ ওয়ালাদের সান্নিধ্য
অর্জন করুন
তাহলে আপনার মন থেকে দুনিয়ার
মহব্বত দুর হয়ে যাবে, আর দুনিয়ার মহব্বত দুর হলেই আপনার নামাজে মন বসবে, কেননা হুযুর
(দ) এরশাদ করেন ২টি মহব্বত মানুষের অন্তরে একত্রহতে পারেনা, যার মনে দুনিয়ার মহব্বত
আছে তার মনে আখেরাতের মহব্বত থাকতে পারেনা, আর যার মনে আখেরাতের মহব্বত থাকে তার মনে
দুনিয়ার মহব্বত থাকতে পারেনা।

কোন মন্তব্য নেই