প্রত্যেক স্বামী স্ত্রীর জন্য ১৫টি আমল করা খুবই জরুরী। কুরআন সুন্নাহর আলো...


আফসুস! স্বামীরা স্ত্রীর সাথে জরুরী ১৫টি আমল করেনা- কুরআন সুন্নাহর আলোকে

আজকাল প্রতিটি ঘরেই স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া, অশান্তি, এসব কারনে মামলা মোকাদ্দমা অবশেষে তালাক পযন্ত হয়ে যায়, আর এর পিছনে একটি কারন হল আমরা জানিনা স্বামী স্ত্রীর সাথে কেমন আচরন করবে, স্ত্রী জানেনা স্বামীর সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে, আজ আমি স্বামীদের জন্য  কুরআন সুন্নাহর আলোক ছোট ছোট ১৫টি আমলের কথা বলব যা করা খুবই জরুরী।

একটি কথা মনে রাখবেন ইসলামই হল আল্লাহর মনোনিত ধর্ম। আর আল্লাহ তায়ালা এবং তার প্রিয় হাবিব (দ) যে জীবন বিধান দিয়েছেন সেটা যদি ফলো করা হয় তাহলে দাম্পত্য জীবন ১০০% সুখের হবে। যদি শরীয়ত মত জীবন যাপন করেন তাহলে দেখবেন স্বামী স্ত্রী দুজনের মনে আল্লাহ কত সুন্দর ভালোবাসা সৃষ্টি করেন। তাদের বন্ধন কত মজবুত করে দেন।

বিয়ে হওয়ার পরপর স্বামী স্ত্রীর প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তা সারা জীবন জিবীত রাখা জরুরী এবং সময় সময় তা স্মরণ করা জরুরী। সে ভালোবাসার দিনগুলি আলোচনার দ্বারা বন্ধন অটুট থাকে। এমন যেন না হয় বিয়ের প্রথম প্রথম গভীর ভালোবাসা দিন যত গড়াতে থাকে তত যেন দুরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। এই আচরন খুবই বিপজ্জনক।

শরীয়ত বলে- যখন ঘরে প্রবেশ কর হাসি মুখে প্রবেশ কর, কপাল যেন কুচকে না থাকে, বিসমিল্লাহ পড়ে প্রবেশ করবে এবং স্ত্রীকে মহব্বতভরা সালাম দিবে। আর স্ত্রী যতই কাজে ব্যস্থ থাকুক, নিজের কাজকে কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ রেখে স্বামীর মহব্বতভরা সালাম কবুল করবে।

স্বামী নিজের স্ত্রীকে ১০-১৫ মিনিট ফোকাস এটেনশন দিবে। তার কাছে প্রশ্ন করুন, সারা দিন কেমন কেটেছে, কিভাবে কেটেছে, আর সে যখন বলে তখন তা মনযোগ দিয়ে শুনবেন। স্বামী যদি স্ত্রীর ভালো মন্দ জানার চেষ্টা না করেন তাহলে স্ত্রী তার মনের কথা ভালো মন্দ কথা কার কাছে বলবে? স্ত্রীর কথা শুনার সময় এমন যেন না হয় এক কানে শুনে অন্য কানে বের করে দিবেন।

শরীয়ত স্ত্রীকে ফুলের সাথে তুলনা করা হয়েছে, তাই ফুলের কাছে কখনো কখনো ফুলের উপহার নিয়ে আসবেন।

এক বর্ণনায় আছে- হযরত আলী (রা) একদিন হযরত সৈয়্যদুনা ফাতেমা (রা) কে দেখে বলতে লাগলেন- (ইন্নান নিসায়া শায়াতিনুন খুলিকনা লানা) নারীরা শয়তান হয় আল্লাহ আমাদের জন্য এদের সৃষ্টি করেছেন।

তখন হযরত ফাতেমা (রা) এটা শুনে মন খারাপ করেননি বরং জবাবে বললেন- (ইন্নান নিসায়া রিয়াহিনা খুলিকনা লাকুম) নারীরা ফুলের মত হয় আল্লাহ তায়ালা আপনাদের জন্যই একে সৃষ্টি করেছেন,  আর আপনাদের মধ্যে সকলের মন চায় এ ফুলের সুঘ্রাণ নিতে।

তখন আলী (রা) হেসে বললেন হে ফাতেমা তোমার জবাব আমার কথা থেকেও অনেক উত্তম।

আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত নারীকে ফুলের মত সৃষ্টি করেছেন, যদি তার জন্য ফুলের তুহফা নিয়ে আসেন সেটাও মহব্বত প্রকাশের একটি মাধ্যম।

একটি কথা মনে রাখবেন নারীদের ফিতরত হল, স্বামী যখনই কোন উপহার নিয়ে আসে তখন স্ত্রীর কাছে তা এক নম্বরই হয়, তাই ছোট হলেও ১ নম্বর বড় হলেও ১ নম্বর, তাই ঘন ঘন ছোট ছোট উপহার দেয়াই হল বুদ্ধিমানের কাজ।

স্ত্রী যখন পরিপাঠি হয়ে উপস্থিত হয় তখন সে চায় তার স্বামী তার ব্যপারে কিছু বলুক, তাই স্বামীর তখন উচিত স্ত্রীকে সুন্দর লাগছে সেটা বলা। স্ত্রীকে সুন্দর লাগছে এটা বলা একটি সুন্নত আমল।

আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দ) এর মোবারক জিন্দেগীতে এর উদাহারন পাওয়া যায়, পেয়ার মহব্বতের কথা বলা, এতে স্বামী স্ত্রীর অন্তরে মহব্বত গভীর হয়ে যায়।

স্বামীদের আরো ১টি অভ্যাস হল তারা স্ত্রীর কোন কথা শুনার সময় ৫% মনযোগ দিলেও মনে করে সে পুরাপুরি মনযোগ দিচ্ছে, অথচ প্রত্যেক স্ত্রী তার স্বামী ফুল এটেনশন কামনা করে,  তাই প্রয়োজনে যে কোন সময় কথা বলার সময় স্ত্রীর হাতে হাত রেখে কথা বলুন।েএতে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়।

আপনি অফিসে কিংবা যে কোন কাজে গেলে মাঝে সুযোগ বুঝে সংক্ষেপে একটি কল করে স্ত্রীর খবরাখবর নেয়া খুবই উপকারী এবং জরুরী। কিছু লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করে নিন যাতে আপনি ফিরার সময় নিয়ে যেতে পারেন।

স্ত্রীকে প্রতিদিন বলুন যে আপনি তাকে ভালোবাসেন। হাদীস শরীফে আছে নবী (দ) বলেন হে হুমায়রা তুমি আমার কাছে মাখন ও খেজুর মিলিয়ে খাওয়ার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। তখন হযরত আয়শা জবাব দিলেনেএয়া রাসুলুল্লাহ আপনিও আমার কাছে মাখন ও মধু মিলিয়ে খাওয়ার চেয়েও বেশী পছন্দনীয়।

দেখুন স্ত্রীর প্রতি মহব্বত প্রকাশ করা সেটাও সুন্নত, আর সে কাজটি আপনি কথা ও কাজে প্রকাশ করতে হবে।

তেমনি ভাবে স্বামী যদি কোন কাজে শহরের বাহিরে সফরে যায় তখন তার উচিত সর্বক্ষন নিজের ফোনকে অন করে রাখা, যাতে স্ত্রী যে কোন মুহুর্তে যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারে।

স্বামীর উচিত নিজের স্ত্রীর জন্য ভালো কাপড় পরিধান করে পরিপাঠি ভাবে চলে এবং খুশবু লাগায়, এক সাহাবী উন্নতমানের খুশবু লাগাতেন, সে সাহাবী বলতেন আমি উন্নত মানের খুশবু লাগায় কারন আমার স্ত্রী যেন আমার কাছে এসে মুতমাইন হয়ে যায়।

অনেক স্বামী ঘরে গম্ভীর হয়ে থাকে, ঘরে স্ত্রীর সাথে খুনশুটি করা, হাসি মজা করা যাতে মন খুশিতে ভরে যায়, আবার হাসি মজার মধ্যে যাতে মিথ্যা কিংবা মনে কষ্ট যায় এমন কিছু না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অনেক স্বামী আছে স্ত্রীকে ভালোবাসে কিন্তু মানুষের সামনে স্ত্রীকে হালকা করে ইনসাল্ট করে, অথচ উচিত হল মানুষের সামনে স্ত্রীকে ভালো নামে ডাকা, বিশেষ করে সন্তানদের সামনে এ ব্যাপারে বেশী সতক থাকা জরুরী। সন্তানদের কাছে স্বামী স্ত্রীকে একে অপরকে সম্মান দেখাতে হবে। যাতে সন্তানরাও সম্মান করা।


কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.