সর্বকালের সেরা আমল। দোজাহানে সফলতার ৫টি আমল। ২য় পর্ব। 5 Amol for success...
রিযিকে বরকত ও বেবরকতির কারন ধারাবাহিক ২য় পর্ব
সর্বকালের সেরা আমল। দোজাহানে সফলতার ৫টি আমল। ২য় পর্ব।
৮ম আমল হল নবীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা
ব্যবসায় নবীর সাথে ধোকা করল এক বেদুইন ব্যবসায়ী, হযরত খুজাইমা ইবনে সাবিত আনসারি সাক্ষি দিল আর তার সাক্ষি দুইজনের সাক্ষির সমান হয়ে গেল।
একবার আল্লাহর হাবিব হুজুর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মদিনা শরিফের রাস্তায় বের হলেন। দেখলেন এক বেদুইন রাস্তায় একটা ঘোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘোড়াটি হুজুর রাসুলুল্লাহর (ﷺ) পছন্দ হয়ে গেল। তিনি ঘোড়াটি কিনে ফেললেন। আল্লাহর হাবিব (ﷺ) বেদুঈনকে বললেন, তুমি ঘোড়াটি নিয়ে এখানে দাড়াও আমি ঘোড়ার মূল্য নিয়ে ফিরছি।
এরই মধ্যে আরেক লোক এসে ঘোড়ার মালিককে জিজ্ঞেস করল, তুমি ঘোড়া নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে
আছ কেন? বেদুইন জবাব দিল, ইসলামের নবি হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কাছে ঘোড়াটি বিক্রি করে দিয়েছি, তিনি ঘোড়ার মূল্য আনতে বাড়ি গেছেন। আমি উনার জন্য অপেক্ষা করছি।
ঐ লোকের ঘোড়াটির প্রতি লোভ হয়ে গেল। সে বেদুঈনকে প্ররোচনা দিল। বলল, আমি তোমাকে বেশি মূল্য দিব, ঘোড়াটি তুমি আমাকে দিয়ে দাও।
বেদুঈন বলল, ঘোড়া তো আমি ইসলামের নবীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। ঐ ব্যক্তি বলল, কোন স্বাক্ষী ছিল তখন? বেদুঈন বলল, না। ঐ ব্যক্তি বলল, তাহলে তুমি অস্বীকার করে ফেল যে তুমি ঘোড়া বিক্রি কর নাই, তাহলেই তো হয়ে যায়। বেদুঈন তাই করল। সে আল্লাহর হাবিব (ﷺ) কে বলল আমি ঘোড়া আপনার কাছে বিক্রি করি নাই। লোকজন জড়ো হয়ে গেল।
বেদূঈন বলছে ঘোড়া বিক্রি করে নাই, আর হুজুর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলছেন ঘোড়া কিনেছেন এত টাকার বিনিময়ে। বেদুঈন বলল, আপনার পক্ষে কোন স্বাক্ষী আছে?
এমন সময় হজরত খুজাইমা ইবনে সাবিত আনসারী রাঃ বললেন, আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি হুজুর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এত টাকায় ঘোড়াটি এই বেদুঈনের কাছ থেকে কিনেছেন।
প্রিয়নবী (ﷺ) টাকা পরিশোধ করে ঘোড়াটি নিয়ে ফেরার পথে হজরত খুজাইমা ইবনে সাবিত আনসারী রাঃ কে বললেন, তুমি তো আমাকে ঘোড়াটি কিনতে দেখনি, সেই সময় তো তুমি ছিলে না সেখানে, তাহলে স্বাক্ষী কিভাবে দিলে?
হজরত খুজাইমা ইবনে সাবিত আনসারী রাঃ বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ (ﷺ)! আপনি ইসলামের ব্যাপারে যা যা দাবী করেছেন (আল্লাহ আছেন, ফেরেশতা আছে, বেহেশত আছে, দোজখ আছে, পরকাল আছে ইত্যাদি ইত্যাদি) সকল কিছু না দেখেই বিশ্বাস করে কালিমার স্বাক্ষ্য দিয়ে দিয়েছি, আর আপনি আজ সামান্য ঘোড়া কেনার দাবী করেছেন তার পক্ষে স্বাক্ষ্য দেব না?
হুজুর রাসুলুল্লাহ বললেন, (হে আমার সাহাবিরা! যেকোন বিষয় প্রমানে তোমাদের দুজনের স্বাক্ষ্য লাগে, কিন্তু) আমার খুজায়মা ইবনে সাবিতের একার স্বাক্ষ্য আজ থেকে তোমাদের দুজনের স্বাক্ষীর সমান।
এই ছিল আল্লাহর হাবিবের (ﷺ) প্রতি সাহাবায়ে কেরামের বিশ্বাস ও ভালবাসার অবস্থা।
(তথ্যসূত্রঃ সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০৯, নাসাই ফি সুনানিল কুবরা, হাদিস নং ৬১৯৮ তবে এখানে সংক্ষেপে এসেছে)
খুযায়মা ইবনে সাবিতের এক সাক্ষির অলৌকিক ফজিলত মহানবীর বাণীর মুজেজা
আল্লাহর প্রিয় হাবীব (দ) হযরত খুযায়মার একজনের সাক্ষিকে ২ জনের বরাবর বলে ঘোষনা করে দিয়ে রেখেছিলেন। আল্লাহর প্রিয় হাবিবের সে ঘোষনার আসল রহস্য উদঘাটন হল হুযুর (দ) এর ইন্তেকালের পর যখন হযরত আবু বকর (রা) ও ওমর (রা) ইয়ামামার যুদ্ধের পর হযরত যায়িদ ইবনে সাবিত (রা) কে দায়িত্ব দিলেন কুরআন বিভিন্ন ভাবে খেজুর পাতা, প্রস্তরখন্ড ও মানুষের বক্ষ থেকে সংগ্রহ করার জন্য।
সবগুলি আয়াত ২ জন এর সাক্ষির ভিত্তিতে তিনি সংগ্রহ করলেন কিন্তু শুধু সুরা তওবা শেষ ২ আয়াত একজন ছাড়া অন্য কারো কাছে পাওয়া গেল না একজনই এর সাক্ষি আয়াত দুটি হল
لَقَدْ جَاءكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। [ সুরা তাওবা ৯:১২৮ ]
فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি। [ সুরা তাওবা ৯:১২৯ ]
যেহেতু হযরত খুযায়মার একজনকে দুইজনের বরাবরে বলে মহানবী (দ) আগেই ঘোষনা করে গেছেন সেহেতু তার এই সাক্ষি এই আয়াত বিনা বাঁধায় গ্রহণীয় হয়ে গেল। মুলত আমার নবীজির সে ঘোষনা যদি না থাকত তাহলে এই আয়াত নিয়ে সন্দেহ দেখা দিত। সুবহানাল্লাহ।
(সুত্র বুখারী ৪৬২৩)
৯ম আমল হল আউলিয়াকেরামের প্রতি ভালবাসা
আল্লাহর আযাব আসার অন্যতম কারন হল আল্লাহওয়ালাদের সাথে বেয়াদবী করা
من عادى لي ولياً فقد آذنته بالحرب
যে অলিদের সাথে দুষমনি করে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর যুদ্ধ ঘোষণা (বুখারী মুসলিম)
মায়াজ বিন জাবালের কান্না
হযরত মায়াজ ইবনে জাবাল (রা) নবী পাক (দ) এর রওজার পাশে বসে কাঁদছে, এটি আবু দাউদ শরীফের হাদীস- এমন সময় হযরত ওমর (রা) সেখানে গেলেন প্রশ্ন করলেন হে মায়াজ কাঁদছ কেন? তিনি জবাব দিলেন নবী (দ) এর ২টি হাদীস আমাকে কাঁদাচ্ছে। (১) ছোট রিয়াকারীও শিরিক (২) যে অলির সাথে দুষমনি করেছে তার বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ।
হে ওমর আপনি বলুন আমি কিভাবে বুঝব কে আল্লাহর অলি? তখন হযরত ওমর (রা) ফরমালেন তোমার জন্য উত্তম হল সকলকেই সম্মান কর।
কিন্তু আফসুস আজ মানুষ কাউকেই ছাড়ছে না,
গউছে পাকের উপরও ফতোয়া, সাহাবাদের উপরও ফতোয়াবাজি চলছে, ইমাম আজম আবু হানিফার উপরও ফতোয়া লাগাচ্ছে।
ইমাম আবু হানিফার হাদীসের
সমাধান প্রথম ঈমানদার
আহলে হাদীস নামের একটি গ্রুপ ইমাম আবু হানিফা (রহ) এর বিরুদ্ধে বেশী বিষোধগার ছড়ায়, অথচ ইমাম আবু হানিফা (রহ) যেভাবে হাদীসের মধ্যে সামাঞ্জস্য বিধান করেছেন যে কেহ তা মানতে রাজি।
যেমন- ১ হাদীসে আছে সর্বপ্রথম ঈমান এনেছে আবু বরক, অপর হাদীসে খাদিজা, আরেক হাদিসা জায়েদ বিন হারেস, আরেক হাদিসে আলী, এখন অনেকে এসব ভিন্ন ভিন্ন হাদীস দেখে হাদীস মানা ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু ইমাম আবু হানিফা এমন সমাধান দিলেন যে কেউ মানতে রাজি
বয়স্কদের মধ্যে কে প্রথম ঈমানদার? আবু বকর।
গোলামদের মধ্যে কে প্রথম? জায়েদ
বাচ্চাদের মধ্যে প্রথম হযরত আলী।
ইমাম আবু হানিফা কোন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন হাদীস পাওয়া গেলে তার এমন সমাধান দিতেন যাতে মনে হয় কোন হাদীসে এখতেলাফ নাই।
আল্লাহ এসব আউলিয়াদের বিরোধীতা কের আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে বরবাদ হওয়া থেকে জাতিকে হেফাজত করুন।
ইমাম আবু হানিফার সমাধান
তকবীরে হাত তুলা
১ হাদীসে আছে তকবীরে তাহরিমার সময় কাঁধ পযন্ত, ২য় হাদীসে কানের লতি বরাবর, ৩য় হাদীসে কান বরাবর
এখন এমন সমাধান দিলেন যাতে ৩টি হাদীসের উপর আমল হয়ে যায়, হাত তুলবে আঙ্গুলের মাথা যেন কানের উপরের অংশ বরাবর হয়, বৃদ্ধা আঙ্গুল যেন লতি বরাবর হয়, আর হাতের কব্জি জেন কাঁধ বরাবর হয়। তাহলে ৩টি হাদীসের উপর আমল হয়ে গেল।
১০নং আমল : আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
(রিযিক ও হায়াতে বরকত, খারাপ মৃতু মুক্তি)
এ আমলের বদলা দ্রুত জুলুমের আযাব দ্রুত পাওয়া যায়
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের হক আদায়ের মাধ্যমেও রিজিক বাড়ে। যেমন : আনাস ইবন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন,
« مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ».
‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ [বুখারী : ৫৯৮৫; মুসলিম : ৪৬৩৯]
যে আত্মিয় আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করে তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখার নাম ছেলা রেহমি, যে আপনার সাথে সুব্যবহার করে তার সাথে সু ব্যবহার করলেন আর যে দুব্যবহার করলে তার সাথে সম্পক টিকিয়ে রাখার কোন চেষ্টা করলেন না তাহলে সেটা সেলা রেহমি নয়।
আত্মীয় প্রধানত দু’প্রকার। যথা- (১) রক্ত সম্পর্কীয় বা বংশীয়। যেমন পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, ভাইবোন, চাচা-চাচী, মামা-খালা ইত্যাদি। (২) বিবাহ সম্পর্কীয়। যেমন শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা ইত্যাদি।
১১নং আমল : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠেও রিজিকে প্রশস্ততা আসে। তোফায়েল ইবন উবাই ইবন কা‘ব রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন,
قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِى فَقَالَ « مَا شِئْتَ ». قَالَ قُلْتُ الرُّبُعَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ النِّصْفَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قَالَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِى كُلَّهَا. قَالَ « إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ »..
আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব আমার দু‘আর মধ্যে আপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, অর্ধেক? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দু‘আর পুরোটা জুড়েই শুধু আপনার দরূদ রাখব। তিনি বললেন,
قَالَ « إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ »..
তাহলে তা তোমার সকল সমস্যা সমাধানের এবং সকল অভাব ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। [তিরমিযী : ২৬৪৫; হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৬৭৭ (আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি ‘হাসান’ সহীহ।)]
১২তম আমল : গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর সদা অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করে যাওয়া।
এসবের মাধ্যমেও রিজিকের রাস্তা প্রশস্ত হয় ।
তবে সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা দুনিয়াতে চিরদিন থাকার জন্য আসি নি। তাই দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে উচিত হবে আখিরাতকে অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য দেয়া। আমাদের এহেন অবস্থা দেখে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ بَلۡ تُؤۡثِرُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا ١٦ وَٱلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓ ١٧ ﴾ [الاعلى: ١٦، ١٧]
‘বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ। অথচ আখিরাত সর্বোত্তম ও স্থায়ী।’ {সূরা আল-আ‘লা, আয়াত : ১৬-১৭}
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান জানতে হবে মানতে হবে যেমন আপনি জুতা পরিধান করছেন এই জুতা পরিধানের ব্যপারে ইসলামের বিধি নিষেধ আছে যেমন হাদীস শরীফের
৫ ধরনের জুতা পরিধানের
ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রথমত- ঐ সকল জুতা যা পরিধান করার উদ্দেশ্য হল নিজের প্রতিপত্তি প্রভাব খ্যাতি জাহের করা। প্রত্যেক ঐ জুতা যার দ্বারা মানুষের কাছে নিজের উচ্চ স্টাটাস নিজের খ্যাতি প্রকাশ করা উদ্দেশ্য হয়।সুনানে ইবনে মাজার ৩৬০৬ নং হাদীস
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ أَلْبَسَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ " .
রাসুলুল্লাহ (দ) এরশাদ করেন যে খ্যাতি প্রকাশ করার আশায় পোষাক পরিচ্ছেদ পরে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে অপমানের পোষাক পরিধান করাবেন।
দ্বিতীয়ত- ঐ সকল জুতা পরিধান করাও উচিত নয় যা হিংস্র পশুর চামড়া দিয়ে তৈরী। এই প্রকারের জুতা নারী পুরুষ কারো জন্য জায়েজ নাই।
সুনানে নাসাঈর ৪২৫৫ নং হাদীস
عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ وَمَيَاثِرِ النُّمُورِ
মিকদাম ইবন মা'দীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম বস্ত্র, স্বর্ণ এবং চিতাবাঘের চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
তৃতীয়ত- ঐ প্রকারের জুতা যাতে রেশম ব্যবহৃত হয়েছে। আর এ প্রকারের জুতা পুরুষের জন্য জায়েজ নাই। কেননা রাসুলুল্লাহ (দ) রেশম ও স্বর্ণ উম্মতের জন্য হারাম ঘোষনা করেছেন। যেমন নাসাঈ শরীফের ৫১৪৫ নং হাদীস
إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ حَرِيرًا فَجَعَلَهُ فِي يَمِينِهِ وَأَخَذَ ذَهَبًا فَجَعَلَهُ فِي شِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَيْنِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু রেশমী কাপড় তাঁর ডান হাতে নিলেন এবং কিছু স্বর্ণ তাঁর বাম হাতে নিলেন। তারপর বললেনঃ আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এই দু’টি বস্তু হারাম।
তবে নারীদের জন্য জায়েজ, তাদের জন্য স্বর্ণও জায়েজ রেশমও জায়েজ।
চতুর্থত- পুরুষরা নারীদের জুতা এবং মহিলারা পুরুষদের জুতা ব্যবহার করাও জায়েজ নাই। ইবনে হিব্বানের ৫৭৫১ নং হাদীস
(লায়ানা রাসুলুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর রাজুলা এয়ালবাসু লিবসাতাল মারআ, ওয়াল মারয়াতা তালবাসু লিবসাতার রাজুল) এমন পুরুষের উপর আল্লাহর রাসুলের লানত যে নারীদের পোষাক পরিধান করে, আর এমন নারীদের উপরও রাসুলুল্লাহর লানত যে পুরুষালি পোষাক পরিধান করে।
পঞ্চমত- এমন জুতা যার দ্বারা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে এমন জুতা পরিধান করাও জায়েজ নাই। যেমন মহিলারা উঁচু হিল ওয়ালা জুতা যা দ্বারা যে কোন সময় দুর্ঘটনা হওয়ার আশংকা থাকে।
যেমন সিলসিলাতু সহিহার 486 নং হাদীস হযরত আবু সাঈদ খুদুরী (রা) হাদীসের রাবি- হাদীসের মাফহুম হল বনি ইসরাইলের এক নারী ছিল যে বেটে ছিল। সে লম্বা নারীদের বরাবর হওযার জন্য লাকড়ি দ্বারা উঁচু ২টি জুতা তৈরী করল। আর সে আংটিতে খুশবু রাখত সে যখন বাজারে যেত সে তার দিকে লোকদের আকৃষ্ট করার জন্য তার খুশবু ওয়ালা আংটি নাড়াচাড়া করত, বনি ইসরাইলের লোকেরা সে নারীর নাম রাখল ফিতনা। তাই নারীদের এমন উঁচু হিলওয়ালা জুতা পরিধান করা খুশবু লাগিয়ে অন্যদের আকৃষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই